বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভারতকে এসব ‘বড় ছবি’ মাথায় রেখে একটি জটিল নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ হাসিলের জন্য দিল্লিকে এ ক্ষেত্রে তার অসংলগ্ন মানসিকতাকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চায়না, সাউথ আফ্রিকা জোট) এবং এসসিও (সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা)-তে ভারতের সদস্যপদ সাহায্য করবে। সেই আলোকে মস্কোর মধ্যস্থতায় ভারত ও চীনের কৌশলগত যোগাযোগ পুনঃপ্রবর্তনের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

দিল্লির মধ্য এশিয়ার নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তকে ভারতের একান্ত একক ঘটনা হিসেবে ধরা যাবে না। এটি যে ভারতের নিজস্ব আগ্রহের বাইরেরও বেশি কিছু তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর থেকে অনুমান করা যায়। গত ১০ নভেম্বর দিল্লিতে পুতিন ও মোদির মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে তা এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে যোগ দেওয়া রাশিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিকোলাই পাত্রুশেভের উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার চিন্তাধারায় নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে। ইন্দো-রাশিয়ান পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঐতিহ্যগত গভীরতা সামগ্রিকভাবে দিল্লির আঞ্চলিক কৌশলে গতিশীলতা এনে দিয়েছে। এটি চীনের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনার ওপর একটি শান্ত প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্য এশিয়া এবং আফগানিস্তান বিস্তীর্ণ স্থলবেষ্টিত একটি অঞ্চল যেখানে রাশিয়া এবং চীন বড় খেলোয়াড়ের ভূমিকা রাখছে। এ অঞ্চলে ভারতের সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই কিন্তু তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে। চীন ও রাশিয়া—এ দুই বড় শক্তির সহযোগিতা ছাড়া দিল্লির মধ্য এশিয়াবিষয়ক কৌশল কার্যকর হতে পারবে না। সে কারণে এ দুই দেশের সঙ্গে ভারতের অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে। এর জন্য ভারত আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থাকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া টাপি (তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ইন্ডিয়া) এবং ইপি (ইরান-পাকিস্তান-ইন্ডিয়া) গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের ফাইলগুলো ভারতের পুনরায় খোলার প্রয়োজন হতে পারে। এ দুটো পাইপলাইনের সঙ্গেই পাকিস্তান জড়িত আছে।

এ উভয় পাইপলাইন নির্মাণে সহায়তা করার জন্য রাশিয়া তৈরি আছে। অন্যদিকে চীনও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধা দেখছে। এতে সব পক্ষেরই লাভ। একইভাবে ভারত যদি ঘুরিয়ান (হেরাতের কাছে) থেকে উত্তর আফগানিস্তানজুড়ে ৬০০ কিলোমিটার রেলপথের কাজে যুক্ত থাকে, তাহলে সেটিও সব পক্ষের লাভ নিশ্চিত করবে। এই রেল চালু হলে একদিকে তা আফগানিস্তানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে রেল সংযোগটি চাবাহার বন্দর থেকে মধ্য এশিয়া অঞ্চলে এবং রাশিয়া ও চীনসহ বাইরের দেশগুলোতেও পণ্য পরিবহনের সুবিধা দেবে।

সাম্প্রতিক খবরাখবর থেকে বোঝা যায়, বিশকেকের নতুন নেতৃত্ব কিরগিজ অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণের অনুমোদন দিতে প্রস্তুত। এ রেলপথ হলে তা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে উজবেক রেল গ্রিডের সঙ্গে চীনকে সংযুক্ত করবে। এ যোগাযোগের মধ্যে ভারতকে যুক্ত থাকতেই হবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে ভূ-অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে চারটি ‘সি’-এর ওপর ভারত গুরুত্বারোপ করছে বলে জানিয়েছেন। এ চার ‘সি’ হলো কমার্স (বাণিজ্য), ক্যাপাসিটি এনহান্সমেন্ট (সক্ষমতা বাড়ানো), কানেকটিভিটি (সংযুক্ততা) ও কন্ট্যাক্ট (কূটনৈতিক যোগাযোগ)।

২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অতিথি হিসেবে যখন মধ্য এশিয়ার পাঁচ নেতা উপস্থিত হবেন, তখন এ ধারণা তাঁদের জানিয়ে দেওয়াই হবে দিল্লির প্রধান কাজ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

  • এম কে ভদ্রকুমার ভারতের সাবেক কূটনীতিক, যিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান-পাকিস্তান-আফগানিস্তানবিষয়ক ডেস্কে কাজ করেছেন

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন