বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৮৯ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০০৭ সালের গেরুয়া বিপ্লবের পর এবার সামরিক বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করছে অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীসহ নিজ বামার গোত্রের লোকজনকেও। প্রতিরোধ ও প্রতিপক্ষ হিসেবে ২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিআরপিএইচ (নির্বাসিত আইনসভা) গঠন করেন এনএলডির নির্বাসিত পার্লামেন্ট সদস্যরা এবং পরে ১৬ এপ্রিল বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) গঠন করে এনএলডি। অন্যদিকে সামরিক বাহিনী তাদের স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপান্তর করে। এখন সামরিক বাহিনী এবং জাতীয় ঐক্য সরকার—দুটি বিপরীতমুখী পক্ষই বৈধতা পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোন পক্ষ এগিয়ে তা সময়ই বলে দেবে।

অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি

অভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করলে পিডিএফের (পিপলস ডিফেন্স ফোর্স) সঙ্গে লড়াইসহ গণ-প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের প্রতি জান্তার সহিংস প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার লঙ্ঘন শুরু হলে এনইউজি ‘গণ-প্রতিরোধ যুদ্ধ’ ঘোষণা করে ৭ সেপ্টেম্বর। ফলে সামরিক স্থাপনা, সামরিক ব্যক্তি ও তাঁদের দোসরদের ওপর হামলা আরও তীব্র হয়।

সামরিক প্রকিউরমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, সিআইডি অফিস, মিলিটারি গোয়েন্দা অফিস, পাওয়ার সাপ্লাই অথোরিটি অফিসে বোমা বিস্ফোরিত হয়। এ পর্যন্ত হাজারের অধিক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তা ছাড়া এনইউজির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য সামরিক বাহিনী ত্যাগ করে পিডিএফে যোগদান করেন।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে জান্তার ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন অনেকেই। বিভিন্ন অঞ্চলের ইন্টারনেট ও মুঠোফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। স্যাগাইং, শিন, মান্দালয়, মাগওয়ে রাজ্যে পিডিএফ দমনে অন্যতম নৃশংস সামরিক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল থান হ্লাইং; যিনি একই সঙ্গে মিয়ানমারের পুলিশ প্রধান এবং উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

কাচিন, কারেন, শান স্টেটগুলোর পুরোনো সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠীগুলো এনইউজিকে সমর্থন করলেও এর ছায়াতলে না এসে স্বতন্ত্রভাবে জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। আবার মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠী ‘ওয়া স্টেট আর্মি’ কোনো পক্ষে অবস্থান না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

রাখাইনের ‘আরাকান আর্মি’ সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অঘোষিত শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত আরাকান রাজ্য গঠনে মনোনিবেশ করছে। ২৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের জান্তা সরকার ১ অক্টোবর ২০২১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পাঁচ মাসের দীর্ঘ একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে, যদিও তা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, বাস্তব ক্ষেত্রে জান্তার পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। মূলত জান্তা শাসনবিরোধী মিলিশিয়াদের দমন করার দিকে মনোনিবেশ করতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের অর্থনৈতিক অবস্থা

সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এবং সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো বিশেষ করে মিয়ানমার ইকোনমিক করপোরেশন (এমইসি) ও মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেডের (এমইএইচএল) ওপর নানান ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কিরিন ও টেলিনরের মতো বিভিন্ন বড় কোম্পানি মিয়ানমার থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে ও এখনো নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক রিজার্ভ আটকে রাখায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখন প্রচুর ডলার সংকটে পড়েছে।

ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন নতুন বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) না আসায় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মুদ্রার মূল্যমান কমে এখন ১ ডলার সমান ২ হাজার ৭০০ কিয়াট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্য সরকার যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক রিজার্ভ নিজেদের অনুকূলে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করছে। সিডিএমে (সিভিল ডিসওবিডিয়েন্ট মুভমেন্ট) অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্য সরকার।

আসিয়ানের ভূমিকা

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা ও করণীয় নিয়ে ২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল আসিয়ানের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান অংশগ্রহণ করলেও গণতন্ত্রপন্থী সিআরপিএইচের কোনো প্রতিনিধিকে ডাকা হয়নি। মিয়ানমারের সামরিক প্রধানকে, ‘সরকারপ্রধান’ সম্বোধনসূচক সরকারি চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেয় থাইল্যান্ড।

অন্যদিকে অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক কারাবন্দীকে মুক্তি দিতে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া নিজ নিজ বক্তব্য দেয়। পরে আগস্ট মাসে মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনতে ব্রুনেইয়ের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরউইন ইউসুফকে আসিয়ানের বিশেষ দূত হিসেবে মনোনীত করলেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। সামরিক বাহিনীর অসহযোগিতার কারণে আসিয়ানের বিশেষ বৈঠকে গৃহীত পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তাই অক্টোবরের শেষার্ধে অনুষ্ঠেয় আসিয়ান সম্মেলনে, সামরিক জান্তাপ্রধানকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে, যা সামরিক বাহিনীর জন্য হবে একটি বড় ধাক্কা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ভূমিকা

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে জান্তা মনোনীত প্রতিনিধিকে গ্রহণ না করে, অং সান সু চির সরকারের সময়কালে নিয়োগ করা কূটনীতিক খা মো তুনকে নীরব থাকার শর্তে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আপাতত গ্রহণ করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট ক্রিডেনশিয়াল কমিটি। এপ্রিলে সু চিপন্থী খা জার মিন নামের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে, সামরিক বাহিনী তাঁদের অনুগত চিট উইনকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মনোনীত করলে তাঁকে এখনো গ্রহণ করেনি যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে এনইউজি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে প্রতিনিধি অফিস প্রতিষ্ঠা করেছে। ৬ অক্টোবর, ফরাসি সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে এনইউজিকে স্বীকৃতি দিতে ভোট দেয়।

যদি ফরাসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভোট অনুমোদন করে, তাহলে ফ্রান্স প্রথম দেশ হবে যা আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের ছায়া সরকারকে স্বীকৃতি দেবে। মিয়ানমারের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে ছায়া সরকার এবং তার সংসদীয় কমিটিকে সমর্থন করার বিষয়ে ৭ অক্টোবর একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। পক্ষে ৬৪৭টি এবং বিপক্ষে ২টি ভোটের বিপরীতে প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার।

চীনের ভূমিকা

চীন তার ভূ-কৌশলগত কারণে জান্তার পক্ষাবলম্বন করলেও সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য এনএলডিকে আমন্ত্রণ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। সামরিক অভ্যুত্থানের পরও চীন তার ‘চায়না-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডর’ এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)’-এর অংশ হিসেবে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি পাওয়ার প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্প, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে অনুমোদন করে নিয়েছে।

সম্প্রতি ‘কিয়াকফো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা করেছে। চীন তার বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নের জন্য ভূ-রাজনীতির অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

রাশিয়ার অবস্থান

২২ থেকে ২৪ জুন রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক মস্কো সম্মেলনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। রাশিয়া তার দেশে উৎপাদিত অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সরাসরি সমর্থন করছে। গণতন্ত্রপন্থী জাতীয় ঐক্য সরকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।

ভারতের ভূমিকা

রোহিঙ্গা গণহত্যা-পরবর্তী মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনীত জাতিসংঘের সব প্রস্তাবে ভারত ভোটদানে বিরত থেকে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সেনা অভ্যুত্থান ও সেনা বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে কিছু বিবৃতি দিলেও সামরিক সরকারবিরোধী বা এনইউজির পক্ষে কোনো অবস্থান নেয়নি। জাস্টিস ফর মিয়ানমার (জেএফএম), মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবসা পর্যবেক্ষণকারী একটি সক্রিয় গ্রুপের তথ্যানুসারে ভারতীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারক ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড (বিইএল) জুলাই মাসে রিমোট নিয়ন্ত্রিত একটি এয়ারডিফেন্স স্টেশন মিয়ানমারে রপ্তানি করেছে এবং প্রতিনিয়ত অস্ত্র ব্যবসা করে যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী চীন থেকে সংগৃহীত ভ্যাকসিনের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ লাখ মানুষকে সম্পূর্ণ টিকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে। এখনো মোট ৬ শতাংশ জনগণ সামরিক বাহিনীর গৃহীত টিকা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের ‘কোভ্যাক্স’ কর্মসূচি থেকে ৬০ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করে সাধারণ জনগণকে দেবে বলে আগস্টের শেষার্ধে ঘোষণা দিয়েছিল জাতীয় ঐক্য সরকার। তারা ইতিমধ্যে এথনিক হেলথ অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কমিটি’ গঠন করেছে।

অনলাইন লটারি ও বার্মিজ ডায়াসপোরার চাঁদা থেকে সংগৃহীত অর্থের ৩০০ মিলিয়ন ডলার, সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠীর আওতাভুক্ত অঞ্চলের প্রায় ১১ লাখ সাধারণ জনগণের ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণে খরচ করা হবে বলে সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে ঘোষণা দিয়েছে এনইউজির অর্থমন্ত্রী তিন তুন নাইং।

রোহিঙ্গা ইস্যু

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের আশায় সামরিক অভ্যুত্থানের পরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বললেও ২০ মে চীনভিত্তিক ফনিক্স টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুরো বিষয়টি উল্টে ফেলেন সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং। অন্যদিকে ৩ জুন বিবৃতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে বলে তাদের পলিসি প্রকাশ করে এনইউজি। বিষয়টিকে অনেক মানবাধিকার সংগঠন প্রশংসা করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে এনইউজি।

তা ছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যাসহ মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে (আইসিজে) তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, দেশের ভেতরে নিজ অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে স্বীকৃতি লাভের আশায় সামরিক বাহিনী এবং এনইউজি, দুই পক্ষই নিজ নিজ কৌশল গ্রহণ করছে। সহিংস পন্থা প্রয়োগের কারণে অভ্যন্তরীণ অবস্থান আপাতত সামরিক বাহিনীর দখলে থাকলেও এনইউজি সমর্থিত গণ-প্রতিরোধ বাহিনীও হার না মানার পণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এনইউজির তৎপরতা পরিলক্ষিত হলেও সামরিক বাহিনীর বন্ধুবর রাশিয়া ও চীনের ভেটো দেওয়ার কারণে এনইউজির সার্বিক স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয় কতটা আলোর মুখ দেখবে, সে সন্দেহ তো রয়েই যাচ্ছে। গণতন্ত্র নাকি স্বৈরতন্ত্র; কোনটির জয় হয় তা-ই এখন দেখার বিষয়।

তন্ময় চৌধুরী স্বাধীন গবেষক
ctonmoy 555 @gmail. com

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন