ক্রেমলিনের বক্তৃতায় ইউক্রেনকে একটি ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ জাতি’ বলে উল্লেখ করার বিষয়টি এখন পশ্চিমে উপহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি সত্যি যে বেশির ভাগ রাশিয়ান তাদের প্রতিবেশী ইউক্রেনের অধিবাসীদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ চোখেই দেখে। সেটি কেবল আদর্শগত কারণে নয়, সত্যিকার অর্থেই তারা সেই চোখে দেখে, কারণ তাদের প্রায় সবারই এ দেশে (ইউক্রেনে) আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব রয়েছে।

পুতিনের পক্ষে তাঁর দেশবাসীর কাছে এ যুদ্ধকে ‘বিক্রি করা’ কঠিন কাজ হবে। কারণ, এটি ক্রিমিয়ার দখলের মতো ব্যাপার নয়। ক্রিমিয়া দখল প্রায় রক্তপাতহীন ছিল এবং স্পষ্টতই সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় লোকজন তাদের পতাকার পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু আজ ইউক্রেনীয়রা সত্যিকারের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। তারা রাশিয়ার আগ্রাসনকে সমর্থন করছে না। তার মানে এখানে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা আছে।

প্রত্যাশিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ নাগরিকদের আয় কমা এবং সঞ্চয়ের ক্ষতির ন্যায্যতা প্রমাণ করা পুতিনের জন্য কঠিন হবে। মস্কোর লোকেরা ইতিমধ্যে রুবলের মূল্য পতনের আশঙ্কায় বিদেশি মুদ্রা বিতরণকারী ক্যাশ মেশিনে দীর্ঘ লাইন দেওয়া শুরু করেছে।

পুতিনের পক্ষে তাঁর দেশবাসীর কাছে এ যুদ্ধকে ‘বিক্রি করা’ কঠিন কাজ হবে। কারণ, এটি ক্রিমিয়ার দখলের মতো ব্যাপার নয়। ক্রিমিয়া দখল প্রায় রক্তপাতহীন ছিল এবং স্পষ্টতই সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় লোকজন তাদের পতাকার পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু আজ ইউক্রেনীয়রা সত্যিকারের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। তারা রাশিয়ার আগ্রাসনকে সমর্থন করছে না। তার মানে এখানে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা আছে।

যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেন সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে, তাহলেও কি রাশিয়ান অর্থনীতি ঘাম না ঝরিয়েই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে মোকাবিলা করে যেতে পারবে? এ অবরোধ মাথায় নিয়ে রাশিয়ানরা কি আগের মতো তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে পারবে?

অবরোধ যদি থেকে যায়, তাহলে আমরা নিজেদের আরও অন্ধকার, আরও অনেক বেশি অশুভ জগতে খুঁজে পাব, যেখানে আগ্রাসন এবং নিষ্ঠুরতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হয়। পুতিন যুক্তিপূর্ণ ছিলেন কি না, তা আমরা শিগগিরই দেখতে পাব।

আমরা এখনো জানি না কীভাবে এ উত্তেজনা শেষ হবে। কিন্তু আমরা জানি (খুবই সম্ভবত) ইউক্রেনের পরাজয়ের ফল কয়েক দিন আগে রাশিয়া যেমনটি হবে বলে দাবি করেছিল, তার চেয়ে অনেক ধ্বংসাত্মক হবে।

অনেক পরে হলেও একটা সময় শ্রেণিবদ্ধ গোপন নথিগুলোকে সর্বজনীন ডোমেইনে রাখা হবে। তখন আমরা জানতে পারব ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার পশ্চিমা মিত্ররা কী ভূমিকা পালন করেছিল। তারা কি সর্বশক্তি দিয়ে পুতিনকে প্রতিহত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উৎসাহিত করেছিল, নাকি তাঁকে সমঝোতার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করার পরও তিনি একগুঁয়ে সংকল্পের কারণে যুদ্ধে নেমেছিলেন।

রাশিয়ার আজকের এ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার পেছনের কারণগুলোর দিকেও তাকানো দরকার। রাশিয়ার অনেক কর্মকর্তা ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিমাদের সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টার ফলে সেখানে জাতীয়তাবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান ঘটবে। পুতিন নিজেও তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় বলেছেন, রাশিয়াকে পশ্চিমারা ক্রমাগত একঘরে করে রাখার চেষ্টা করে গেছে। তিনি তাঁর বক্তৃতায় স্মরণ করেছেন, তিনি একবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, রাশিয়াও ন্যাটোতে যোগ দিতে পারে কি না, কিন্তু ক্লিনটনের কাছ থেকে তিনি কোনো উত্তর পাননি। এসব আচরণ পুতিনকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

লিওনিড রাগোজিন লেখক ও লাটভিয়ার রাজধানী রিগাভিত্তিক একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন