বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যবহারের তথ্য নিংড়ে নিয়ে বিক্রি করে। তাঁর বক্তব্যেও প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত মেলে যে, শুধু বাণিজ্য জগৎই নয়, অগণতন্ত্রী সরকারগুলোও ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের প্রতিপক্ষের তথ্য হাত করে নিতে পারে। মারিয়া রেসা দ্বিতীয় কথাটি বলেছিলেন যে, ফেসবুক প্রকৃত সত্য প্রকাশ না করা বা এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বড়ই একচোখা। হাউগেন ও ম্যাকনামির স্বীকারোক্তিতেও সে প্রমাণই মিলল।

চটকদারি ও তর্ক-বিতর্ক উসকে দিতে পারা, চমকদার বিষয়কে ছড়িয়ে দিতে পারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপন ব্যবসা সূত্র। নিষিদ্ধ নেশার প্রতি নেশাসক্তের যে রকম আকর্ষণ, সে রকম আকর্ষণী শক্তি অর্জন করা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবসার জন্যই প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন পেতে মাধ্যমটিকে নিশ্চিত করতে হয় যে, বিলিয়ন বিলিয়ন নাগরিক অসহায় পতঙ্গের মাকড়শার জালে আটকে পড়ার মতো অন্তর্জালের এ জালে জড়িয়ে আছে।

চটকদারি ও তর্ক-বিতর্ক উসকে দিতে পারা, চমকদার বিষয়কে ছড়িয়ে দিতে পারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপন ব্যবসা সূত্র। নিষিদ্ধ নেশার প্রতি নেশাসক্তের যে রকম আকর্ষণ, সে রকম আকর্ষণী শক্তি অর্জন করা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবসার জন্যই প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন পেতে মাধ্যমটিকে নিশ্চিত করতে হয় যে, বিলিয়ন বিলিয়ন নাগরিক অসহায় পতঙ্গের মাকড়শার জালে আটকে পড়ার মতো অন্তর্জালের এ জালে জড়িয়ে আছে।

অতথ্য এবং অপতথ্যসহ গুজব ও ঘৃণাবাদী কল্পতথ্য বাতাসের আগে ছড়ায়। কিন্তু ফেসবুক অ্যালগরিদম সেগুলোর প্রচার আটকায় না। ফেসবুক প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রথাগত সংবাদমাধ্যম নয়, ফলে এর জবাবদিহির দায়ও প্রাতিষ্ঠানিক কড়াকড়ি বা নিয়ম-নৈতিকতায় শৃঙ্খলিত নয়। অতথ্য, অপতথ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ গুজব, মিথ্যাবাদ এবং ধোঁকাবাজি বা হোক্স। তার সঙ্গে রাজনৈতিক কূটচাল যুক্ত হলে সেটি হয়ে ওঠে হেমলক বিষ। কারণ, রাজনৈতিক ভেদবুদ্ধিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের বা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত উসকে দেওয়ার ঘৃণা-বিদ্বেষ কৌশলই প্রধান।

সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ক্রীড়নকেরা যে শুধু এবারই ফেসবুক ও অনলাইনকে ব্যবহার করেছে, তা নয়। এর আগেও প্রতিটি ঘটনায় সেটি দেখা গেছে। বাংলাদেশের পর ত্রিপুরায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মুসলিমবিরোধী সহিংসতা; গত কয়েক বছরে ভারতে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে, গোরক্ষার নামে, গোমাংস বহনের দায়ে, লাভ-জিহাদের অজুহাতে ছাড়াও নানা ছুতোয়-অছিলায় মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ ও নিবর্তনযজ্ঞের আয়োজন-মঞ্চায়ন সবকিছুই ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে নৃশংস মুসলিম নিধনযজ্ঞের আয়োজকদেরও আশ্রয় হয়ে উঠেছিল এই মাধ্যমটি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমবিরোধী ঘৃণা উসকে দিতে জান্তা এবং সরকারপক্ষ পুরো এক দশক ফেসবুককেই ব্যবহার করেছিল। ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে মাদক ও মাফিয়া নির্মূলের নামে প্রতিপক্ষদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের আগে এর পক্ষে ফেসবুকে সফল জনমত তৈরি করে নিয়েছিল।

যেসব দেশে অগণতন্ত্রমনস্ক ও ক্ষমতালোভী ফন্দিবাজ সরকার জেঁকে বসে আছে, সেগুলোর প্রায় সব কটিতেই সরকার-পোষ্য অনেকগুলো সুবিশাল চক্রকে সরকারের গুণগানের পেছনে নিয়োজিত করে রাখা হয়। তারা নানান রকম চমকদার, চটকদার কাণ্ডকীর্তি করেন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

মেক্সিকো, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার শাসকদের পাশাপাশি বলিভিয়ার অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয় সমাজতন্ত্রী ইভো মোরালেসও এই তালিকায় নাম লেখানো ব্যক্তি। ২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিস বলিভিয়া গেলে তাঁকে মোরালেস একটি ‘কমিউনিস্ট ক্রুসিফিক্স’ উপহার দিচ্ছেন—এ রকম একটি আলোকচিত্র লাতিন আমেরিকা ও আমেরিকার সামাজিক মাধ্যমে ভরে উঠল। হাতুড়ি-কাস্তের মাঝে যিশু ক্রুশবিদ্ধ, বিষয়টি খ্রিষ্টধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্বময় চার্চতন্ত্র তো বটেই, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বড় অংশই পোপের এই অবিবেচকসুলভ উপহার গ্রহণকাণ্ডের বিপক্ষে উষ্মা প্রকাশ করেন। পরে জানা গেল, পোপ উপহারটি মোটেই নেননি। পরের বছর ভাইরাল আরেকটি ছবিতেও দেখা যাচ্ছিল মোরালেসের সঙ্গে বসে পোপ ঠোঁটে চুরুট তুলেছেন। বলা হলো, মোরালেসের সমাজতান্ত্রিক শাসনের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য তিনি তেমনটি করেছেন। পরে জানা গেল গোটা বিষয়টাই‘ফেইক’।

মোরালেসকাণ্ডের পর কট্টর ডানপন্থীদের কয়েক শ ফেসবুক গ্রুপ গজিয়ে উঠল। পোপ ফ্রান্সিসকে সমাজতন্ত্রী হয়ে ওঠার দায়ে দায়ী করে সেগুলোতে মুড়ি-মুড়কির মতো ঘৃণা-তিরস্কারের চর্চা চলতে থাকল। যেখানে শ্রদ্ধার আকর পোপ পর্যন্ত ঘৃণার বলি হয়ে উঠতে পারেন, সেখানে অন্য দশজনের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

দুই.
‘এলিফ্যান্ট ইন দ্য রুম’ একটি ইংরেজি প্রবাদ। ভাবার্থ ‘সমস্যা ভয়াবহ কিন্তু আলাপ-আলোচনা কম’ এমন বিষয়। ‘ইনফোডেমিক’ সে রকম একটি শয়নকক্ষের হাতি। শয়নকক্ষে একটি হাতি আটকে থাকা যে রকম অস্বস্তিকর সমস্যা, সে রকম। ২০২০-২১ সালের কোভিড মহামারির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পায়ে পা মিলিয়ে সমানতালে তথ্য-মহামারিও মানুষকে বিপর্যস্ত করেছে। বিষয়টি আর অনালোচিত রাখার সুযোগ নেই। সে তাগিদ হতে ২০২২ সালে গ্রিসে ‘ফেইক নিউজ’ বিষয়ে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন চলছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফেইক নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেশন অ্যান্ড মিস ইনফরমেশন’ শিরোনামের কনফারেন্সটির প্রস্তাবনায় স্পষ্ট যে অপ-তথ্য দুনিয়াময় যেসব বিপদ বয়ে আনতে পারে, সেগুলো এখনই চিহ্নিত না করা গেলে মানবজাতিকে নানা রকম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

‘ইনফোডেমিক’ ইংরেজি ‘ইনফরমেশন’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ইনফো’ এবং ‘প্যান্ডেমিক’-এর শেষাংশ ‘ডেমিক’ শব্দ দুটির জোড়। ভাবার্থ ‘তথ্য মহামারি’। ‘অ-তথ্য মহামারি’ বলা চলে, ‘অনর্থ মহামারি’ও বলা চলে। ২০০৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি কলামে ডেভিফ রথকফ যখন ‘ইনফোডেমিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন অনেকেই এই শব্দের আবিষ্কার অপ্রয়োজনীয় ভেবেছিলেন। ২০২১ সালে এসে শব্দটি প্রায় সব কটি বিশ্বসেরা অভিধানে জায়গা করে নিয়েছে। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ এ বছরই ‘ইনফোডেমিক’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বেশ কয়েকটি বক্তৃতায় একটি বাক্য ব্যবহার করেছেন। বাক্যটি ছিল—‘আমরা যুগপৎ কোভিড মহামারি এবং তথ্য-মহামারির বিপজ্জনক চাপ সামলে কাজ করে যাচ্ছি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ইনফোডেমিক’-এর একটি সংজ্ঞাও দাঁড় করেছে—‘কোনো সমস্যার কালে মাত্রাতিরিক্ত তথ্য-অপতথ্যের অবাধ প্রবাহ’।

২০০৩ সালের দিকে যখন সার্স ভাইরাস সংক্রমণের সময়েও সেটি নিয়ে নানা রকম আজগুবি বানোয়াট তথ্যে সামাজিক মাধ্যম টইটম্বুর হয়ে উঠছিল। এবার কোভিডকালেও তথ্যের নামে গুজবই বেশি ছড়িয়ে পড়ছিল। ঠিক যেন আরেকটি মহামারি। গুজবগুলোর মধ্যে ছিল করোনার টিকার মাধ্যমে শরীরে একটি মাইক্রোচিপ প্রতিস্থাপন করে গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য চুরি করা হবে, অথবা টিকা দিলে পুরুষত্বহানি ঘটবে। কোভিড একটি জীবাণু অস্ত্র, চীন দুনিয়ার দখল নিতে অস্ত্রটি ছেড়েছে—এ রকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ভালো রকম হালে পানি পেয়ে গেল। সঙ্গে যুক্ত হলো অনেকের অবিশ্বাস ও সন্দেহ। যেমন কোভিড বলে আসলে কিছু নেই, এটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধ বিক্রির বুদ্ধি। সার্সের সময়কালেও এ রকম অসংখ্য বয়ানকে তথ্যের রূপ দেওয়া হয়েছিল।

দেশে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হচ্ছে। সেই সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাংবাদিক গুম, খুন জেল-জরিমানা ও কালো আইনের বিস্তার। ‘ফেইক নিউজ’ও গুজব নিয়ন্ত্রণের নামে যেসব আইন তৈরি হচ্ছে, সেগুলো ফেইক নিউজ নিয়ন্ত্রণের বদলে মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও প্রতিচিন্তা দমনের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বিশ্লেষণী স্বাধীন সাংবাদিকতাচর্চা মৃতপ্রায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অজনপ্রিয় সরকারগুলো নিজেদের আত্মগর্বী প্রচার-প্রচারণার জন্য নিজেরাই ফেইক নিউজ উৎপাদন ও প্রচারের কাজটি করে চলছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করে বসলেন, কোভিড তেমন কিছু নয়, বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাঁর অন্ধ অনুসারীরাও তিন কদম আগ বাড়িয়ে মাস্ক পরবে না, সামাজিক দূরত্ব মানবে না, এ রকম দাবি নিয়ে রাস্তার দখল নিয়ে বসেছিল বেশ কয়েক দফা। ব্রাজিলের বালসোনারো এমন অপতথ্যে আস্থা রেখেছিলেন যে, রোগটি সাধারণ ফ্লুয়ের মতো। তিনি ভয় পান না। ফলাফল দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিল সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের দেশ। গোমূত্র পানে কোভিড সারবে তথ্যটি ভারতে এতটাই প্রচার পেয়েছিল যে, বোতলে গোমূত্র বিক্রয়ের বাজার ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। আরও অসংখ্য টোটকা চিকিৎসার বয়ান এসেছে ধর্মগুরু, সাধু ও রজনীতিকদের মধ্য থেকে। লোকে সেসব অনুসরণ করেছে এবং মৃতের মিছিলকে দীর্ঘ করেছে। বাংলাদেশেও ‘কোভিড সর্দিকাশির মতো’ বা ‘কোভিডকেও পরাজিত করব’ ভাষ্যগুলো অসংখ্য মানুষের মধ্যে কোভিড বিষয়ে ভুলভাল ধারণা সৃষ্টি করেছিল।

অতথ্য-মহামারি হতে পরিত্রাণের উপায় কি? প্রথাগত সংবাদমাধ্যম ইন্টারনেটের প্রভাবে এবং রাজনৈতিক কারণে আগের জৌলুশ হারাচ্ছে। দেশে দেশে রাজনীতির ধামাধরা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতের পুতুলেও পরিণত হচ্ছে। ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ ধারণাটি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রায় তিরোহিত। সংবাদকর্মীদের বৈশ্বিক মুখপত্র সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট দেখিয়েছে যে, বর্তমান সময়টি সত্যান্বেষী সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার ক্ষয়কাল। দেশে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হচ্ছে। সেই সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাংবাদিক গুম, খুন জেল-জরিমানা ও কালো আইনের বিস্তার। ‘ফেইক নিউজ’ও গুজব নিয়ন্ত্রণের নামে যেসব আইন তৈরি হচ্ছে, সেগুলো ফেইক নিউজ নিয়ন্ত্রণের বদলে মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও প্রতিচিন্তা দমনের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বিশ্লেষণী স্বাধীন সাংবাদিকতাচর্চা মৃতপ্রায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অজনপ্রিয় সরকারগুলো নিজেদের আত্মগর্বী প্রচার-প্রচারণার জন্য নিজেরাই ফেইক নিউজ উৎপাদন ও প্রচারের কাজটি করে চলছে।

এসব প্রতিকূলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদপত্রগুলোই এখনো পর্যন্ত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের চেষ্টা করে চলেছে। ‘ফেইক নিউজ’ চিহ্নিত করার কাজটি সহজ নয়। তবুও প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যপ্রবাহের মুখে ছাঁকনি এঁটে ধরার কাজটিও প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতাকেই করতে হচ্ছে। গত এক-দেড় শ বছরে কখনোই সম্ভবত প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সামাজিক মাধ্যমের অতথ্য মহামারির দ্বিমুখী সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার হতে হয়নি। আশার কথা, ইনফোডেমিক আলোচিত হচ্ছে, এবং সামাজিক মাধ্যমের অতথ্য আসক্ত ব্যক্তিরা সচেতন হচ্ছেন। বিনা প্রশ্নে বা নির্বিচারে অতথ্যে বিশ্বাস রাখা এবং লাইক-শেয়ার করা কমছে। দিন শেষে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার জন্য, সামাজিক সুস্থিতির জন্য ও তথ্য-সন্ত্রাস বন্ধের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদপত্রের কাছেই ফিরে যেতে হবে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র প্রতিযোগিতায় হেরে যাবে, টিকে থাকবে না। ইনফোডেমিক বিষয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গবেষণা, আলোচনা ও ভাবনা শুরু হওয়াতে এই লক্ষণটিই জোরদার যে মূলধারার যোগাযোগ মাধ্যম আবারও স্বমহিমায় ফিরবে। সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন আবারও পাঠক-দর্শকের তথ্যনির্ভরতার আশ্রয় হয়ে উঠবে।

হেলাল মহিউদ্দীন অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সদস্য, সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন