স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যাপক আকারে র্যাপিড টেস্টিং জরুরি
জুলাই মাসের ৮ তারিখে সরকারিভাবে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের চার মাস পূর্ণ হলো। স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমনিতেই নড়বড়ে ছিল, তা কোভিডের চাপে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুঃসংবাদ পাচ্ছি, যেমন, গর্ভবতী নারী থেকে শুরু করে ডায়ালাইসিসের রোগী, যাঁরা কোভিডে আক্রান্ত নন, তাঁদের অনেকেও খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন, কিংবা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এর অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে, যেকোনো রোগী হাসপাতালে গেলে তিনি কোভিডে আক্রান্ত কি না, সেটি নিশ্চিত না হয়ে কোনো হাসপাতালে ভর্তি করা হবে না। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত নন, এমন রোগীদের সেবা পাওয়ার বেলায় ব্যাপক বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে।
এই সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে যে করোনাকালের সাত মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষাপদ্ধতি এখনো অপর্যাপ্ত এবং হয়রানিমূলক রয়ে গেছে। পিসিআর টেস্ট, যেটিকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বলা হয়, সেটি বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এই টেস্টের ফলাফল পেতে সময় লাগে, উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান আর উন্নত প্রযুক্তি লাগে। সংকটাপন্ন রোগী, যাঁর হাসপাতালে চিকিৎসা ছাড়া উপায় নেই এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন, তাঁর জন্য দরকার তাৎক্ষণিক ফলাফল। তাঁকে এই পিসিআর টেস্ট কী করে সাহায্য করবে!
অথচ কোভিড-১৯ টেস্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই প্রাণঘাতী সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার খুব সহজ সমাধান রয়েছে। অল্প খরচে, অল্প সময়ে খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, আর সেটি হলো র্যাপিড বা দ্রুত-শনাক্তকরণ টেস্ট।
র্যাপিড (অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি) এবং পিসিআর টেস্ট কী, কীভাবে ও কেন
বেশ কয়েক ধরনের র্যাপিড টেস্ট এখন বিশ্ববাজারে পাওয়া যাচ্ছে এবং এগুলো অনুমোদিত। আমরা জানি যে র্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যায়। অ্যান্টিজেন টেস্টকে কোভিড শনাক্তকরণের একটা প্রাথমিক সহায়ক পরীক্ষা হিসেবে সহজেই ব্যবহার করা যায়। আর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয় কারও সংক্রমণ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য। কোভিড-১৯–এর রোগীদের সংক্রমণের অন্তত পাঁচ–সাত দিন পর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এর আগে অ্যান্টিবডি টেস্ট করলে ফলাফল নেগেটিভ আসবে। অ্যান্টিবডি টেস্ট দিয়ে করোনা শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
এই র্যাপিড টেস্টের ব্যবহার সম্বন্ধে আরেকটু পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নব্য গঠিত হেলথ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি ওয়েবিনার থেকে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাই একই সুরে বলেন যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে টেস্টিং ব্যাপক আকারে বাড়াতে হবে এবং এর জন্য পিসিআরকে সহায়তা দিতে র্যাপিড টেস্টের কোনো বিকল্প নেই। এই তিনজন প্রথিতযশা ও অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী হলেন ভাইরোলজিস্ট নজরুল ইসলাম (বিএসএমএমইউ), ইমিউনোলজিস্ট শওকত হাসান (বারডেম হাসপাতাল) এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক বেনাজির আহমেদ। তাঁরা এই কথাও জোর দিয়ে বলেন যে জনগোষ্ঠীতে রোগ প্রতিরোধের স্তর নির্ধারণের জন্য অ্যান্টিবডি টেস্টও অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যান্টিবডি টেস্ট করলে কারও আগে সংক্রমণ হয়েছিল কি না, সেটি বোঝা যাবে। সেই সঙ্গে বোঝা যাবে তাঁর শরীরে করোনা প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কি না। এই তথ্যগুলো জানা থাকলে তখন একজন সাধারণ রোগীর চিকিৎসা পেতে এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা দিতে যে ভয়, আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে যে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুগুলো ঘটছে, তার একটি বড় অংশ এড়ানো সম্ভব হবে। শুধু তা–ই নয়, ইএলআইজেডএ পদ্ধতির অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে প্লাজমাদাতা সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে, যেটি করোনা চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে।
তবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন এই র্যাপিড টেস্ট পিসিআর টেস্টের বিকল্প নয়। বরং ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পিসিআর টেস্টের ওপর চাপ কমাতে এই টেস্টগুলো সহায়ক হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু তা–ই নয়, এই বিশেষজ্ঞরা এ দুটি টেস্ট কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটি সম্বন্ধেও পরিষ্কার পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন।
ধরা যাক যেকোনো হাসপাতালে একজন রোগী এলেন। পিসিআর পরীক্ষার কারণে তাঁকে ফিরিয়ে না দিয়ে প্রথমেই তাঁকে অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে হবে। অ্যান্টিবডি টেস্টে পজিটিভ এলে বোঝা গেল যে তিনি কোভিডে আক্রান্ত ছিলেন কিন্তু এখন সেরে উঠেছেন, কারণ তাঁর শরীরে কোভিড প্রতিরোধের নমুনা পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে সেই রোগী যদি ক্যানসার আক্রান্ত হন, ডায়ালাইসিসের রোগী হন বা অন্য যে সমস্যায় হাসপাতালে এসেছেন; সেটির চিকিৎসা দিতে ওই হাসপাতালের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে কিন্তু তখন আর পিসিআর টেস্টের জন্য সময় বা অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে না। রোগীর চিকিৎসাও সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করা যাচ্ছে। আর রোগীর যদি অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতা না থাকে, তাহলে প্লাজমা সংগ্রহেও তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন।
অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলে কিন্তু ধরে নেওয়া যাবে না যে তিনি কোভিডে আক্রান্ত হননি। কারণ আগেই বলা হয়েছে যে সংক্রমণের পাঁচ–সাত দিন পার না হলে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে কোনো লাভ নেই। তখন দ্বারস্থ হতে হবে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার। অ্যান্টিজেন টেস্টে পজিটিভ এলে তাঁর কোভিড ধরে নেওয়া যেতে পারে। কারণ অ্যান্টিজেন টেস্ট, যা তুলনামূলকভাবে কম সূক্ষ্মভেদী (সেনসিটিভ), এতে পজিটিভ পাওয়া গেলে পিসিআর পরীক্ষায় পজিটিভ হবেই। তাই অ্যান্টিজেন টেস্টে পজিটিভ এলে তাঁকে করোনা আক্রান্ত ধরে নিয়ে করোনার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কিন্তু আর পিসিআর টেস্ট লাগছে না। তার ওপর কয়েক মিনিটে পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া যায় বলে প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে এটির ব্যবহার হওয়াটা জরুরি। রক্তের নমুনা নিয়ে এটা করা হয় বলে পরীক্ষাকারীর জন্য পিসিআরের তুলনায় এতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা প্রায় নেই, এবং রোগীর জন্যও এটা কম পীড়াদায়ক।
পিসিআর টেস্টের ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি সংক্রমণের কোন পর্যায়ে করা হচ্ছে, নমুনা ঠিকভাবে সংগৃহীত ও পরিবাহিত হচ্ছে কি না এবং টেকনিশিয়ান কতটা দক্ষ, তার ওপর অনেক সময়ই নির্ভর করে এর ফলাফল যথার্থ হচ্ছে কি না। এই কারণেও দেখা যায় অনেক রোগী পজিটিভ হিসেবে ধরা পড়ছেন না। আমরা অনেক বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি যে একাধিকবার পরীক্ষার ফল ত্রুটিপূর্ণভাবে নেগেটিভ এসেছে।
অন্যদিকে যদি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে, তাহলে কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে রোগীর করোনা নেই (যদিও ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা)। তখন তাকে কোভিডের লক্ষণ, তাঁর গতিবিধির ইতিহাস বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যান্য লক্ষণ যদি মিলে যায়, তাহলে পিসিআর টেস্ট করে আরও নিশ্চিত হতে হবে। ওপরের এই পদ্ধতি অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে পিসিআর টেস্ট সব রোগীর জন্য করা লাগছে না। তাই বলা যায়, এই পদ্ধতি অনুযায়ী বাংলাদেশে পিসিআর টেস্ট সীমিত আকারে রেখেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতিতে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করা সম্ভব। এর আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে এই টেস্টগুলো করতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না, খুব উন্নত প্রযুক্তি কিংবা দক্ষ জনশক্তিরও প্রয়োজন নেই। তাই খুব সহজেই এটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামেও শুরু করে দেওয়া খুবই সম্ভব।
অনতিবিলম্বে র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি টেস্ট কেন চালু করা দরকার
র্যাপিড টেস্ট পিসিআরের মতো অতটা নির্ভরযোগ্য না এবং এটা করার পরও একটা অংশকে পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে, তারপরও কেন আমরা র্যাপিড টেস্টের পক্ষে? কারণ, র্যাপিড টেস্ট করার পর একটা বড় অংশকে আর পিসিআর পরীক্ষায় যেতেই হবে না। যাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া যাবে, তাঁরা নিশ্চিন্তে অন্য সব কাজ করতে পারবেন, অন্য রোগের চিকিৎসাও গ্রহণ করতে পারবেন। যাঁদের শরীরে অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি মিলবে, তাঁদের আইসোলেশনে পাঠাতে হবে, চিকিৎসার জন্য তাঁদের পৃথক করোনা ওয়ার্ডে রাখতে হবে।
তা ছাড়া উত্তরোত্তর ও দ্রুত গবেষণার মাধ্যমে র্যাপিড টেস্টেরও সক্ষমতা বাড়ছে, কাজেই শিগগিরই যে র্যাপিড টেস্টগুলো পাওয়া যাবে, তার রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা হয়তো পিসিআর টেস্টের প্রায় সমতুল্য হবে। জোনিংয়ের মাধ্যমে যেসব এলাকা লাল বা হলুদ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, সেখানে র্যাপিড টেস্ট বাড়িতে বাড়িতে করা যাবে, এলাকার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে, ১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে, এবং কাদের আইসলেশনে বা হাসপাতালে নিতে হবে, তা নির্ধারণ করা যাবে সহজেই। এভাবে বেশ বড় একটা অংশের মানুষের বেলায় ব্যয়বহুল এবং প্রাণসংশয়কারী দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পিসিআর টেস্টের প্রয়োজন সীমিত করে নিয়ে আসা যাবে।
বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি দুই ধরনের কিট তৈরি করে পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। বিএসএমএমইউ পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর অ্যান্টিজেন কিটের অনুমোদন দেয়নি এবং অ্যান্টিবডি কিটটিও যথেষ্ট মানসম্পন্ন নয় বলে রায় দিয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিটটিকে আরও উন্নত করে পুনর্মূল্যায়নের জন্য জমা দিয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এটি মানের দিক থেকে উত্তীর্ণ হলে দেশের অনেক সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষা করা যাবে, এবং নিঃসন্দেহে আমরা বাংলাদেশে এই অতিমারির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে এবং জোনিং আরও নিপুণভাবে করার কাজে একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী পরীক্ষণপদ্ধতির সুফল পাব।
এখন অনেক দেশই অ্যান্টিজেন টেস্টকে অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছে। জার্মানি অ্যান্টিবডি টেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গত ৯ মে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। যেমন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ ১৫ জুন থেকে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় সফল ভিয়েতনামের বড় সাফল্য এই র্যাপিড পরীক্ষার মাধ্যমে হয়েছে। তবে এটাও সত্যি যে অনেক দেশেই এখনো র্যাপিড টেস্টের প্রচলন ঘটেনি। এদের মধ্যে অনেকগুলো ধনী রাষ্ট্র, স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত। ব্যয়বহুল পিসিআর টেস্ট বহুল পরিমাণে করতে এসব দেশ সক্ষম। শুধু তা–ই নয়, কোভিডের কারণে সেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়নি। অ্যাম্বুলেন্সে ঘুরে ঘুরে রোগীদের চিকিৎসার অভাবে করুণ মৃত্যুর নজির এসব দেশে নেই। তাই আমাদের মতন ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশে এই মুহূর্তে এসব দ্রুত ও কম খরচের পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
এই অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশে জাতীয় পরামর্শক কমিটি ৩ জুন সুপারিশ করে বাংলাদেশে দ্রুত র্যাপিড টেস্ট প্রচলনের জন্য। দেড় মাস অতিক্রান্ত, অথচ এই সুপারিশ এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রাণঘাতী মহাসংকটের বিবেচনায় এই ধরনের বিলম্ব ঘটানো প্রতিদিন হাজারো মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার শামিল। ২৮ জুনের সংবাদ অনুযায়ী অ্যান্টিবডি টেস্ট সরকার অনুমোদন দিয়েছে, কিন্তু আমরা এর তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ এখনো দেখছি না। অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্টের চূড়ান্ত অনুমোদন কোথায় এবং কেন আটকে আছে, তা আশা করি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা খতিয়ে দেখবেন।
এখন বাংলাদেশে এই মহামারি যেই ভয়াবহ প্রাণঘাতী সংকট তৈরি করেছে, সেই বিবেচনায় এই র্যাপিড টেস্টের নামের মতন করেই অতি দ্রুততায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে, প্রতিটি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ দ্রুততম সময়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, করোনা নামক মহাশত্রুর এখনো অনেক কিছুই অজানা। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতন একটি প্রতিষ্ঠানও এই সংকটে কোনো কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পুরো ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তনের নজির রেখেছে। তাই এই অতিমারির মহাসংকটে প্রতিটি দেশকে নিজের সক্ষমতার বিচারে, নিজস্ব সংকটের আলোকে সমাধানের কথা চিন্তা করে সমাধান নিতে হবে। এবং আমাদের দেশেই বিশ্বমানের বিজ্ঞানীরা রয়েছেন, এ বিষয়ে সৎ ও অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ দেওয়ার মতো।
করোনা মোকাবিলায় এর মধ্যেই আমরা বেশ কিছু অতি বিপজ্জনক ভুল করে ফেলেছি। আর ভুলের কোনো সুযোগ নেই। আশা রাখছি র্যাপিড টেস্টের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল কালক্ষেপণ না করে, কোনো প্রকার সাহেদ চক্রের পাল্লায় না পড়ে, অতিদ্রুত সঠিক সিদ্ধান্তটি নেবে।
রুশাদ ফরিদী, হাসিবুদ্দিন হোসেন, মাহরুখ মহিউদ্দীন লেখকত্রয় হেলথ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। (পূর্ণাঙ্গ আলোচনাটি দেখুন fb/health_alliance_bangladesh)