বাংলাদেশের সুকুক কেন প্রত্যাশার জায়গাটা পূরণ করতে পারল না

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ‘সারা দেশের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ যখন তার প্রথম ৮,০০০ কোটি টাকার সার্বভৌম সুকুক ইস্যু করে, তখন তা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ইসলামি অর্থায়নের এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু পাঁচ বছর পর এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুমোদিত ১০,০০০ কোটি টাকার ‘বিশেষ সুকুক-১’সহ একাধিক ইস্যুর অভিজ্ঞতায়—চিত্রটি এখন অনেকটাই হতাশাজনক। সুকুক কার্যকর হলেও, এর মাধ্যমে যে প্রাণবন্ত বাজার গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

এর অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে পাওয়া যায় সুকুক ইস্যুর সূচনালগ্নে গৃহীত এক মৌলিক নীতিনির্ধারণে, যা কার্যত এই বাজারের বিস্তারকে একটি নির্দিষ্ট সীমায় আবদ্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে ইস্যুকৃত প্রায় সব সার্বভৌম সুকুকই একই ছকে আবদ্ধ: সরকার তার বিদ্যমান সম্পদ—যেমন পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, প্রাথমিক বিদ্যালয় বা গ্রামীণ সড়ক—একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক সংস্থা (এসপিভি) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে; পরে ইজারা-কাঠামোয় সেই সম্পদ আবার সরকারের কাছেই ফিরে আসে; এর বিপরীতে সরকার পূর্বনির্ধারিত ভাড়া, যা মূলত প্রচলিত আয়ের হারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, সুকুকধারীদের পরিশোধ করে।

পারিভাষিক শব্দগুলো বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তা মূলত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্পদ ব্যবহার করে একটি বিক্রয় এবং লিজব্যাক ব্যবস্থা, যেখানে মেয়াদ শেষে সমমূল্যে সেগুলো পুনঃক্রয় করার প্রতিশ্রুতি থাকে। আর্থিক পরিভাষায়, এ ধরনের সুকুককে অ্যাসেট-ব্যাকড না বলে অ্যাসেট-বেসড বলা হয়। যদিও উভয় ক্ষেত্রেই অন্তর্নিহিত সম্পদ বিদ্যমান রয়েছে, তবু সেই সম্পদের কার্যপ্রণালিতেই তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নিহিত রয়েছে।

অ্যাসেট-ব্যাকড (সম্পদ সমর্থিত) কাঠামোতে, বিনিয়োগকারীরা প্রকৃতপক্ষে অন্তর্নিহিত সম্পদের মালিক হন এবং এর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি ও সুবিধাগুলোও বহন করেন। অ্যাসেট-বেসড (সম্পদভিত্তিক) কাঠামোয় সম্পদটি মূলত একটি আইনগত অবয়ব হিসেবে কাজ করে; ফলে প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে সরকারের ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা পূরণের সক্ষমতার ওপর।

অন্য কথায়, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত প্রচলিত ট্রেজারি বন্ডের পরিবর্তে ইজারা-কাঠামো ব্যবহার করেছে। ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নির্ধারিত সাম্প্রতিক কয়েকটি ইস্যুও তুলনীয় প্রচলিত পেপারের গতিপথ ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেছে। ফলে সার্বিক বিচারে প্রধান পার্থক্যগুলো মূলত বাহ্যিক বলেই প্রতীয়মান হয়। যদিও এই কাঠামোর প্রণেতাদের আন্তরিকতা বা এটিকে সমর্থনকারী ফতোয়াগুলোর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করা আমার উদ্দেশ্য নয়, তবু সমস্যার আসল উৎস নিহিত রয়েছে এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায়।

এটি মূলত একটি কৌশলগত সমস্যা—যা আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সুকুক বাজারে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করে আসছি যে একই ধরনের ত্রুটির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে সুকুক ইস্যুপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সেই সমস্যার মূল কারণ নিহিত নকশা ও অবকাঠামোর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে। সুকুক ইস্যু করতে ইচ্ছুক সরকারগুলো একটি বিকল্পের মুখোমুখি হয়। সুবিধাজনক পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হয় পূর্ববর্তী প্রচলিত অবকাঠামোর সঙ্গে সুকুক-কাঠামোকে খাপ খাইয়ে নেওয়া—যেখানে আধুনিক এসপিভি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান সম্পদের বিক্রয়-লিজব্যাক বিন্যাস এবং প্রচলিত বন্ডের আচরণ অনুকরণে অন্তর্নিহিত পুনঃক্রয় শর্ত সংযোজিত করা হয়।

কৌশলগত পথ হলো নতুন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করা, যাতে সুকুক তার নিজস্ব কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারগুলো সাধারণত সুবিধাবাদী পথই বেছে নেয়, কারণ তা তুলনামূলকভাবে সহজ ও দ্রুততর। বাংলাদেশও সেই পথ অনুসরণ করেছে।

সুবিধার পাশাপাশি এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে: সম্পদভিত্তিক সুকুক সরকারি মালিকানাধীন সম্পদের প্রাপ্যতার দ্বারা সীমিত; সম্পদের মূল্যায়ন ও পুনঃক্রয় বিধান নিয়ে বারবার শরিয়াহসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়; ব্যাপক আইনি নথিপত্রের প্রয়োজন পড়ে এবং একটি কার্যকর বাজার গড়ে তুলতে এগুলো ঘন ঘন বা পর্যাপ্ত পরিমাণে ইস্যু করা সম্ভব হয় না। তারা সরকারি বাজেটে অর্থায়ন করে কিন্তু বাজার তৈরি করে না।

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। তাই সুকুকের প্রচলিত ঋণকে ইসলামি রূপে উপস্থাপনের একটি সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখা যায়, যা ধীরে ধীরে এটিকে সরকারি ঋণের আরেকটি নামমাত্র রূপে পরিণত করবে। অথবা এটি সুকুককে তার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, এটিকে একটি রূপান্তরমূলক মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগিয়ে একটি গভীর, বিস্তৃত ও তারল্যপূর্ণ পুঁজিবাজার গড়ে তোলা, যার অভাব বাংলাদেশে গত পাঁচ দশক ধরে বিদ্যমান রয়েছে।

অন্যদিকে যদি সুকুক নতুন সম্পদ—যেমন সড়ক, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বিদ্যালয় ইত্যাদি অধিগ্রহণ বা নির্মাণে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হতো, তবে সেই সুকুকগুলো সংশ্লিষ্ট পুনঃক্রয় চুক্তি ছাড়াই প্রমিত কাঠামো ব্যবহার করতে পারত। এতে শরিয়াহসংক্রান্ত আপত্তির সম্ভাবনাও প্রায় থাকত না। আর নির্দিষ্ট সময় অন্তর একাধিক মেয়াদে এগুলো ইস্যু করা সম্ভব হতো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় সীমাহীন পরিসরের কারণে এর পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণযোগ্য হতো। তাই প্রথমটি একটি অর্থায়ন কৌশল প্রদান করে; দ্বিতীয়টি একটি আয়ের হারভিত্তিক বক্ররেখা বা ইল্ড কার্ভ গঠন করে।

‘ইল্ড কার্ভ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ, বাংলাদেশ আরও বৃহত্তর একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—ঋণ দায়বদ্ধতা মূল্যায়ন ও তা আত্তীকরণে সক্ষম একটি পুঁজিবাজারের অনুপস্থিতি। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সামগ্রিক বাজারমূল্য জিডিপির মাত্র প্রায় ৬-১০ শতাংশ, যা তুলনাযোগ্য অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। অপরদিকে করপোরেট বন্ড বাজার প্রায় অনুপস্থিত—৪০০ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি অর্থনীতিতে হাতে গোনা কয়েকটি বন্ডই লেনদেন হয়। ফলে করপোরেট ঋণ, অবকাঠামো তহবিল ও পেনশন দায়বদ্ধতার মূল্য নির্ধারণের জন্য কোনো ঝুঁকিমুক্ত নির্দেশক মানদণ্ড বিদ্যমান নেই।

আরও পড়ুন

সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও সহজ সুকুক ইস্যুর একটি ধারাবাহিকতা সেই নির্দেশক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে—যা একটি গভীর ও তারল্যপূর্ণ পুঁজিবাজার গড়ে তুলবে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শরিয়াহসম্মত উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা উন্নত করবে এবং সঞ্চয় প্রবাহকে আকৃষ্ট করবে। বর্তমান সম্পদভিত্তিক মডেলটি এই ফলাফলের প্রায় কোনোটি অর্জন করতে সক্ষম নয়; অথচ প্রস্তাবিত নতুন সম্পদ মডেলটি এসব ফলাফলের সবকটিই বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে।

সৌভাগ্যবশত, এখানে একটি উল্লেখযোগ্য কিন্তু এখনো অপূর্ণ চাহিদা বিদ্যমান। তুলনামূলক প্রচলিত মাধ্যমগুলোর চেয়ে কম হারে রিটার্ন প্রদান সত্ত্বেও বাংলাদেশের সুকুকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে, যা স্পষ্টভাবে বিনিয়োগের বিকল্প সীমিত থাকা এক বৃহৎ শরিয়াহ-সংবেদনশীল পুঁজির ভান্ডারের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশে মোট ব্যাংকিং সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীভূত এবং তাদের ব্যালান্স শিটে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত তারল্য অব্যবহৃত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সুদভিত্তিক সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া বর্তমানে প্রণীত ইসলামিক পেনশন পণ্যের ক্ষেত্রে চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি।

সমস্যাটি চাহিদার ঘাটতি নয়, বরং সেই চাহিদাকে একটি কার্যকর বাজারে রূপান্তর করার সক্ষমতাসম্পন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতি। এমন একটি কাঠামোর বিকাশই হবে প্রকৃত অর্থে অর্থবহ কাঠামোগত সংস্কার। অস্থায়ী বিক্রয় ও ইজারাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে বাস্তবায়নের পরিবর্তে, বাংলাদেশের উচিত আয়-উৎপাদনকারী সম্পদ দ্বারা মূলধনীকৃত একটি স্থায়ী করপোরেট সত্তা—একটি সার্বভৌম অর্থায়ন করপোরেশন—প্রতিষ্ঠা করা। এই করপোরেশনের মাধ্যমে সরকার মুরাবাহা, ইজারা ও ইস্তিসনার মতো প্রতিষ্ঠিত ইসলামি আর্থিক চুক্তি ব্যবহার করে প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতে পারত।

এই সত্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু বিদ্যমান সরকারি সম্পদের ওপর নির্ভর না করে, বরং নতুন উন্নয়ন সম্পদের ধারাবাহিক সংযোজনের সহায়তায় একটি পূর্বাভাসযোগ্য সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদের সুকুক ইস্যু করতে পারবে। একটি পরিচালন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ও মেয়াদে সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং ধারাবাহিক ইস্যুর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য বেঞ্চমার্ক ‘ইল্ড কার্ভ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

তবে এই মডেল সম্পূর্ণ নতুন বা নজিরবিহীন নয়। এটি যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের গিল্ট ইস্যু করার পদ্ধতিগত কাঠামোর সঙ্গে ব্যাপকভাবে তুলনীয় একই কাঠামোর মাধ্যমে ইসলামি অর্থায়নের নীতিমালা বাস্তবায়ন করে। একই ধরনের রূপান্তর বা ভ্যারিয়েশন মিসর ও জর্ডানের মতো সার্বভৌম ইস্যুকারীদের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা করা হয়েছে।

এই মডেল বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের বর্তমান পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে এবং এর জন্য দেশের রাজস্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রয়োজন হবে। এই সংস্কারগুলোর মধ্যে থাকবে: বার্ষিক বাজেটে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত উন্নয়ন ব্যয়ের সঙ্গে সুকুক ইস্যুকে সরাসরি সংযুক্ত করা; অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় নিশ্চিত করা; এবং ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ বোর্ডগুলো থেকে পৃথক, স্বাধীন ও বিধিবদ্ধ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আনুষ্ঠানিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্স বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশ ব্যাংকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শরিয়াহ উপদেষ্টা বোর্ড গঠন এ ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এর স্বাধীনতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিয়মকানুন প্রতিপালন নিশ্চিত করার কর্তৃত্বই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এটি একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পরিণত হবে, নাকি কেবল একটি প্রতীকী নামেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।যেসব উপকরণ তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, সেগুলো টিকিয়ে রাখার সপক্ষে কেবল অসুবিধাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো উচিত নয়। সুবিধাবাদী পন্থাটি আপাতদৃষ্টিতে আকর্ষণীয় মনে হলেও, এতে প্রতিটি পৃথক ইস্যুকেই সফল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়। তথাপি, সামগ্রিকভাবে এ ধরনের ইস্যুগুলো কার্যকর, তারল্যপূর্ণ বা টেকসই কোনো বাজার গড়ে তুলতে সক্ষম হয় না।

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। তাই সুকুকের প্রচলিত ঋণকে ইসলামি রূপে উপস্থাপনের একটি সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখা যায়, যা ধীরে ধীরে এটিকে সরকারি ঋণের আরেকটি নামমাত্র রূপে পরিণত করবে। অথবা এটি সুকুককে তার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, এটিকে একটি রূপান্তরমূলক মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগিয়ে একটি গভীর, বিস্তৃত ও তারল্যপূর্ণ পুঁজিবাজার গড়ে তোলা, যার অভাব বাংলাদেশে গত পাঁচ দশক ধরে বিদ্যমান রয়েছে।

  • এম. কবির হাসান নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সের অধ্যাপক

    মতামত লেখকের নিজস্ব