এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার: প্রতিশ্রুতির জোয়ার বনাম বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে, ৩০ জানুয়ারিছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এনসিপির ৮৬ পৃষ্ঠার ইশতেহারকে অতিসংক্ষিপ্ত আকারে নির্মোহ পর্যালোচনা করাই এ লেখার উদ্দেশ্য।

নির্বাচনী ইশতেহারে ভালো কথা বলতে কেউই পিছপা হয় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভালো কথা আর বাস্তবায়ন হয় না আমাদের দেশে। ফলে এ কথা বলতেই হয়, এনসিপি তার ইশতেহারে জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের হিসাব, সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দের বিস্তারিত প্রকাশ করা, এনআইডি দিয়ে সব সেবা পাওয়া, জাতীয় নিম্নতম মজুরি, বছরে ১৫ লাখ দক্ষ প্রবাসী কর্মী তৈরি, প্রবাসীদের ট্রাভেল মাইলস দেওয়া, ডায়াস্পোরা ডিজিটাল সার্ভিস, দেশীয় বীজ গবেষণা, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয়ের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো ‘প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে ভালো ও বাস্তবসম্মত। কিন্তু বাস্তবায়ন হওয়ার আগপর্যন্ত এগুলো আসলে স্রেফ প্রতিশ্রুতিই।

এনসিপি ইশতেহারে আওয়ামী লীগ আমলের সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার কথা বললেও কাঠামোগত গণহত্যায় যে হাজারো মানুষ মারা গেল রানা প্লাজা, তাজরীন, হাশেম ফুডসে, কিংবা চকবাজারে, সেগুলো নিয়ে তাদের কোনো আলাপই নেই। আলাপ নেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘটা সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাসের বিচার নিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে ঘটা মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো নিয়ে কোনো আলাপ নেই।

এনসিপি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি তিন বছর সরকারি চাকরির পে স্কেল হালনাগাদ করার কথা বলেছে। ভালো কথা। কিন্তু প্রশ্নটা হলো, তাহলে বেসরকারি খাতের কী হবে? অন্যদের সঙ্গে এই বৈষম্য কেন? ইশতেহারের বিস্তারিত সংস্করণে তারা শাস্তিপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজদের সরকারি কাজে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করবে বলেছে। প্রশ্নটা হলো, কেন সব ক্ষেত্রেই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়? তারা পে স্কেলে সরকারি ও মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার কথা বলেছে। তাহলে অন্য ধর্মের পুরোহিত, ভান্তে, পাদরিদের ব্যাপারে এনসিপির মাথাব্যথা কই?

এনসিপির ইশতেহারে দুই হাজারটি নাগরিক সেবাকেন্দ্র খোলার কথা আছে, যেখানে উদ্যোক্তা ফির বিনিময়ে ওই সব সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সরকারি পরিচালন ব্যয়ের বোঝা সরাসরি নাগরিকদের ওপর চাপানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি কার্যত নাগরিক সেবা প্রাপ্তিকে একপ্রকার বেসরকারীকরণ করার উদ্যোগ, অথচ ওই সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাটা সরাসরি সরকারের কাজ। টিসিবির বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ট্রাকের বদলে নিবন্ধিত মুদিদোকানে নিয়ে যাওয়ার আলাপটাও শুনতে ভালো হলেও বাস্তবে সেই দোকান থেকে যে টিসিবি পণ্য বেশি দামে বিক্রি হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? এ ক্ষেত্রে দোকানদারদের মনিটরিং করার কোনো মেকানিজম ইশতেহারে নেই।

আরও পড়ুন

এলডিসি উত্তরণের পর পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে যেখানে নিজেদের সক্ষমতার বিকাশ ঘটানো জরুরি, সেটা করার বদলে এনসিপি আগাম এফটিএ বা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করার কথা বলছে তাদের ইশতেহারে। ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের ক্ষেত্রে দুর্বল দেশের যে দুরাবস্থা তৈরি হয়, সেটা তারা কীভাবে সামাল দেবে? তারা নতুন শিল্প গড়ার কথা বললেও কোন কোন খাতে নতুন শিল্প কীভাবে গড়বেন, সেটার আলাপ পরিষ্কার করে দেয়নি। তারা ‘ইচ্ছাকৃত’ ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। সমস্যা হলো কে ইচ্ছাকৃত, আর কে ইচ্ছাকৃত না—সেটা কে ঠিক করবে?

মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানোর একটা হাঁকডাক এনসিপি তার ইশতেহারে দিলেও সেটা কোন অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে হবে, তার কোনো উল্লেখই নেই। ফলে এটাও ফাঁপা কথাই। স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা চালু করে জনগণের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার কথা তারা বলেছে। প্রশ্নটা হলো স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা দিলেই সেটা জনগণের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে, এটা অর্থশাস্ত্রের কোন নিয়মে তারা পেয়েছে?

এনসিপি তাদের ইশতেহারে সবুজ প্রযুক্তি নিশ্চিত করার কথা বললেও, পাঁচ বছরে বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন ও সরকারি ক্রয়ে ৪০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকল চালু করার কথা বললেও ভয়াবহ পরিবেশ দূষণকারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা নিয়ে তাদের কোনো আলাপ নেই। আলাপ নেই জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও।

এনসিপির ইশতেহারে অন্যতম সমালোচনাযোগ্য বিষয়টা হচ্ছে বাল্যভোটাধিকার। তারা ভোটাধিকারের বয়স ১৬ বছর করবে। বাল্যবিবাহের পেছনে এ দেশে যারা যুক্তি দিয়ে বেড়ায়, এনসিপির এই ১৬ বছর বয়সের ‘বাল্যভোটাধিকারের’ প্রতিশ্রুতিটা ঠিক সে রকমই হয়েছে। ভোটাধিকারের বয়সের ক্ষেত্রে কয়েকটা দেশের উদাহরণ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়মকে যে তারা আসলে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবর্তন করতে চাইছে, এটা এখানে পরিষ্কার।

এনসিপির ফাঁপা কথার আরেকটি উদাহরণ হলো আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি। তারা কোন খাতে কত লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবেন, সেই লক্ষ্যমাত্রা দিয়েই তারা খালাস, কীভাবে কোনো প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কেন এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত, সেটা বিস্তারিত জানানোর কোনো প্রয়োজন তারা বোধ করেনি। উপরন্তু কিছু খাতে তারা আসলে কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি যে করছে না, সেটাও ইশতেহার থেকে পরিষ্কার। এবং তাদের এসব কর্মসংস্থান ইশতেহারে দেওয়া অনেক দিবাস্বপ্ন, অনেকগুলো যদি কিন্তুর ওপর আসলে নির্ভরশীল। ফলে পুরো ব্যাপারটা আসলে উইশফুল থিংকিংয়ের পর্যায়েই রয়ে গেছে। তারা এসএমই খাতে ঋণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেছে। কিন্তু এসব উদ্যোক্তার ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আমলাতান্ত্রিক হয়রানির অবসান কীভাবে হবে, সেটার কোনো উল্লেখও তাদের ইশতেহারে নেই।

আরও পড়ুন

এনসিপি বলেছে, স্বাধীন শিক্ষা কমিশন করে ‘সব ধরনের শিক্ষার মাধ্যম ও পদ্ধতিগুলোর একটা যৌক্তিক সমন্বয়’ করা হবে। প্রশ্নটা হলো, কোনটা যৌক্তিক আর কোনটা অযৌক্তিক—এটা নির্ধারণ হবে কিসের ভিত্তিতে? অন্যদিকে ৫ বছরে ৭৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার কথা বলে এনসিপি এত দিনের পুরোনো রাজনৈতিক চর্চাই ধরে রাখল তার ইশতেহারে। অর্থাৎ আগের মতোই শিক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বদলে অন্যদের তৈরি করা নিম্নমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই জাতীয়করণ করার মাধ্যমে শিক্ষার মান উত্তরোত্তর আরও নিচে নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

এনসিপি হৃদ্রোগ, ক্যানসার, ট্রমা, বন্ধ্যত্ব ও জটিল অস্ত্রোপচারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন গড়ে তোলা এবং জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালে অত্যাধুনিক ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট করা, আইসিইউ, সিসিইউ করার কথা বলেছে। সেটাকে সাধুবাদ দিই। কিন্তু বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো আলাপই তার ইশতেহারে পরিষ্কার নয়। তাদের চিকিৎসার আলাপে ইমার্জেন্সি ও কঠিন অসুখ ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন চিকিৎসার ব্যবস্থাটিকে জনবান্ধব করার বিষয়টিও যথেষ্ট পরিষ্কার নয়।

ন্যক্কারজনকভাবে তারা ডে কেয়ার সুবিধা বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য। অন্যদিকে নারীদের জন্য ঐচ্ছিক পিরিয়ড লিভের আলাপটি তারা তুললেও অত্যন্ত নিন্দনীয়ভাবে সেটি মাত্র এক দিন এবং অর্ধবেতনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ফলে প্রশ্নটি করতেই হচ্ছে, তারা কি আসলে আদৌ এই বিবেচনা করেছেন যে পিরিয়ড লিভ আসলে কী জন্য দরকার? বহু নারীর পিরিয়ডের সময় যে তীব্র অসহনীয় ব্যথা হয়, এই লিভ মূলত তারা সে জন্য নিতেন। সেই ব্যথা যাঁদের হয়, তাঁদের অন্তত দুই দিন সময় প্রয়োজন। নারীর পিরিয়ড লিভ দেবেন—এটা কি আপনাদের ‘বদান্যতা’ নাকি তার অধিকার? তাহলে কোন যুক্তিতে তাঁর পিরিয়ড লিভ সবেতন না করে বেতন অর্ধেক কেটে রাখবেন আপনারা?

অন্যদিকে কোনো নারী যদি ধর্মীয় আইনের বদলে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ভোগ করতে চান, তাহলে তাঁর জন্য কোনো আইনি সুযোগ তারা ইশতেহারে নারীদের জন্য রাখেনি। ব্যাপারটিকে পিতা–মাতার ‘স্বাধীনতার’ ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন ও সর্বজনীন আইন দুটোই তাঁরা রাখতে পারতেন, যাতে নারীরা এ ক্ষেত্রে যে যেটা মানতে চায়, সেটা মানার সুযোগ পেতেন।

এনসিপি তাদের ইশতেহারে সবুজ প্রযুক্তি নিশ্চিত করার কথা বললেও, পাঁচ বছরে বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন ও সরকারি ক্রয়ে ৪০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকল চালু করার কথা বললেও ভয়াবহ পরিবেশ দূষণকারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা নিয়ে তাদের কোনো আলাপ নেই। আলাপ নেই জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও। ফলে এটা মনে করাটা অসংগত নয় যে তারা আসলে বিদ্যুতের সমস্যার কার্যকর, টেকসই, প্রাণ-প্রকৃতিবান্ধব ও জনবান্ধব সমাধান চায় না। অথচ এই দেশে প্রথম নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুতের দাবিটা এসেছিল সুন্দরবন আন্দোলন থেকে এবং সেটা সর্বতোভাবে কয়লাবিদ্যুতের দূষণ ঠেকানোর অবস্থান থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎকে সামনে এনেছিল। কয়লার ক্ষেত্রে তাই এনসিপির অবস্থান আর আওয়ামী লীগের অবস্থানে পার্থক্য নেই।

দেশের সব শিল্পকারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা বলল, ইটিটি স্থাপনে ব্যয় কমাতে কর ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হলো, জনগণ কি পয়সা দেন ফ্যাক্টরিমালিকের ইটিপি স্থাপনের খরচ কমানোর জন্য? অন্যদিকে তারা তাদের ইশতেহারে শিল্পদূষণ, নদী-খাল দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ উল্লেখ করলেও তারা দূষণ বন্ধ, নদী-খাল পরিবেশ কীভাবে রক্ষা করবে, সেই বিষয়ে ‘উইশফুল থিংকিং’ ছাড়া পরিষ্কার কোনো আলাপ নেই। আশ্চর্যজনকভাবে বনায়ন নিয়ে কিংবা দেশের বিদ্যমান বনগুলোর সুরক্ষা নিয়ে তার ইশতেহারে কিছুই নেই।

সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে এনসিপির যে প্রতিশ্রুতি—পাঁচ বছরে সেনাবাহিনীতে একটি ইউএভি ব্রিগেড গঠন ও মাঝারি পাল্লার অন্তত আটটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি অধিগ্রহণ করা ইত্যাদি থেকে এটাও পরিষ্কার, এনসিপি বাংলাদেশকে আরও বেশি সামরিকীকরণ করার পথে হাঁটবে।

যেখানে এনসিপির নিজেদের নেতাদের বিরুদ্ধেই পত্রিকায় চাঁদাবাজির খবরের অভাব নেই, সেখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের ইশতেহারে থাকা ‘জিরো টলারেন্স’ কীভাবে মানুষ বিশ্বাস করবে? গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণার ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং গবেষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া নিশ্চিত না করে কেবল প্রবাসী গবেষকদের সিনিয়রিটি ও ল্যাবের জন্য এককালীন ফান্ডিং দিয়ে কীভাবে তারা রিভার্স ব্রেন ড্রেইন করবে, সেটা ইশতেহারে পরিষ্কার নয়।

সবশেষে বলতে চাই, এনসিপির নেতারা সারাক্ষণ ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগান দিলেও ভারতের সঙ্গে করা অসম চুক্তি বাতিলের কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ তাঁদের ইশতেহারে নেই!  ভারতের স্বার্থে করা সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের কোনো প্রতিশ্রুতিও তাই সংগত কারণেই এনসিপির ইশতেহারে নেই।

একই সঙ্গে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপ, সৌদি আরব, তুরস্কের সঙ্গে করা কিংবা করতে যাওয়া চুক্তিগুলোর অসমতা নিয়েও এনসিপির কোনো মাথাব্যথা তাদের ইশতেহারে দেখা গেল না। কোনো মাথাব্যথা দেখা গেল না গোপন চুক্তি বিষয়ে! এর থেকে এটা পরিষ্কার—এনসিপি তার ইশতেহারে একটা ফাঁপা ভারতবিরোধিতা দেখালেও কার্যকরভাবে ভারতের রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন প্রতিহত করা কিংবা অন্যান্য দেশের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার পূর্বেকার চুক্তিগুলোর বিষয়ে আসলে এনসিপির কোনো মাথাব্যথা নেই।

  • মাহতাব উদ্দীন আহমেদ গবেষক, লেখক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য। ই–মেইল: [email protected]

    *মতামত লেখকের নিজস্ব