মিসর যদি ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়, তবে সুয়েজ খাল অভিমুখে গমনকারী জাহাজ, সুমেদ পাইপলাইন, জ্বালানি টার্মিনাল এবং জ্বালানি মজুদাগারের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলোর সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়ার বিষয়টি কায়রোকে গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
এই সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি দেশটির মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীর সীমানা ছাড়িয়ে আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এটি মিসরের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। মিসরের রাজস্ব আয়ে ধস নামাতে হুতিদের সুয়েজ খালে সরাসরি আক্রমণ করারও প্রয়োজন পড়বে না। খালটির আরও দক্ষিণে লোহিত সাগরে তারা সামান্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারলেই ঝুঁকি তৈরি হয়ে যাবে।
তবে কায়রোকে এর চেয়েও ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে: সুয়েজ খালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কিংবা বন্দরের মতো অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালানো হতে পারে, যা খালের নৌ–চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য করবে।
গত জুলাই মাসে দামিয়াত বন্দরে একটি ড্রোন হামলায় দুটি তেল ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা মিসরের বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আগাম সতর্কবার্তা দেয়। হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার না করলেও ঘটনাটি মিসরের ঝুঁকি নিশ্চিত করে।
ইয়েমেন যুদ্ধে মিসরের সরাসরি জড়িয়ে পড়া এই ঝুঁকিকে সুমেদ পাইপলাইনসহ সমগ্র জ্বালানি খাতের ওপর বিস্তৃত করবে, যার মধ্যে এর উপকূলীয় টার্মিনাল ও জ্বালানি গুদামগুলো অন্তর্ভুক্ত।
সীমানা কে নির্ধারণ করবে
সৌদির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, মার্কিন সম্পর্ক বা উন্নত অস্ত্র নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। বিমানবন্দর ও জ্বালানিকেন্দ্রে হুতিদের হামলায় তাদের প্রতিরক্ষার বড় দুর্বলতা ফুটে ওঠে, যেখানে ওয়াশিংটন শুধু তথ্য দিয়েই সাহায্য সীমাবদ্ধ রেখেছিল। এসব অনিশ্চয়তার কারণেই সৌদির নিরাপত্তায় মিসরের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক ‘ভ্রাতৃত্বের’ ঊর্ধ্বে উঠে সতর্ক পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে মূলত একধরনের ধোঁয়াশাপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করেছেন। ২০৩০ সালে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং মিলিটারি একাডেমির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার কথা বলে তিনি মিসরের সামরিক বাহিনীকে সৌদি আরবের সুরক্ষায় নিয়োজিত করার মতো এক তাৎক্ষণিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনাকে জনসমক্ষে আড়াল করেছেন।
যে দেশে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক ও বাক্স্বাধীনতা পদ্ধতিগতভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে এই অস্পষ্টতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মিসরের জনগণকে আবারও একটি দেশের বাইরে সামরিক অভিযানে যুক্ত করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্য, সামরিক সীমানা বা এর চূড়ান্ত মূল্য বা ক্ষয়ক্ষতি কতটুকু হবে—তা তাদের জানানো হয়নি।
মিসরের বর্তমান পার্লামেন্টকে পুরোপুরিভাবে জনগণের স্বাধীন মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, এটি মূলত রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং তাদের অনুগত আমলা ও অভিজাত শ্রেণির প্রভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।
১৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সিসি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনবোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদের কাছে অনুমোদন প্রার্থনা করেন। এর পরেই দেশটির ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল’ সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার প্রকাশ করে।
এই বিবৃতিগুলোর অর্থ এটি নয় যে মিসরীয় সেনারা ইয়েমেনে পা দিয়ে ফেলেছে। তবে শুধু সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং সৌদিদের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মধ্যকার যে সূক্ষ্ম সামরিক পার্থক্য রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মিসরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল যুদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করলেও, সংবিধান অনুযায়ী একা কোনো যুদ্ধের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই এই কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে এবং বিদেশে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার পূর্বে পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি নিতে হবে।
১৮ অক্টোবরের বৈঠকের পর কাউন্সিল একটি বিবৃতি জারি করে, যেখানে কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার পাশাপাশি সৌদি আরবকে সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়। এই সভাটি গত মাসে কায়রোতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের পরপরই অনুষ্ঠিত হয়।
পরস্পরবিরোধী মূল্যায়ন
তারপরেও সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি মূল্যায়নে এই কাউন্সিলের গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে পরিচালিত ১৪ সদস্যের এই কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ বেসামরিক কর্মকর্তা, উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং গোয়েন্দা প্রধানরা একত্র হন। এর মূল দায়িত্ব প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক প্রস্তুতকরণের বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর বাজেট নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা পর্যন্ত বিস্তৃত।
যেহেতু এই বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু অত্যন্ত গোপনীয়, তাই প্রকাশ্য বিবৃতি দেখে মিসরীয়দের পক্ষে জানা সম্ভব নয় যে সেখানে ঠিক কোন ঝুঁকিগুলোকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়েছে, নীতিগত কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল কি না, কিংবা সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষামূলক প্রতিশ্রুতি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে নেতৃত্ব বিশ্বাস করে।
অন্যদিকে, মিসরের বর্তমান পার্লামেন্টকে পুরোপুরিভাবে জনগণের স্বাধীন মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, এটি মূলত রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং তাদের অনুগত আমলা ও অভিজাত শ্রেণির প্রভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।
পার্লামেন্টের গঠন স্বাধীন জনমতের চেয়ে শাসনকাজের সুবিধাজনক স্বার্থ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ক্ষমতার বিন্যাসকে বেশি প্রতিফলিত করে। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত রয়েছে মিসরের সেই কোটি কোটি সাধারণ মানুষ, যাদের জীবন ও অর্থনীতি সরাসরি এই অপ্রকাশিত সামরিক সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হবে।
মিসর আজ এমন একটি সামরিক প্রতিশ্রুতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার শেষ কোথায় কেউ জানে না, অথচ এর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমাজকাঠামোর দৃশ্যমান স্থিতিশীলতার পেছনে রুদ্ধ ক্ষোভ জমা হয়ে আছে।
সৌদি আরবকে কীভাবে ও কতটা রক্ষা করা হবে—তা নিয়ে শাসকদলীয় রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিভাজন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: যে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই অভিযানের দায়িত্ব ন্যস্ত, তাদের নিজেদের ভেতর এর ব্যাপ্তি ও ব্যয় নিয়ে কতটা ঐকমত্য রয়েছে?
এই ধরনের মতপার্থক্য সশস্ত্র বাহিনী বা জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের অভ্যন্তরে কোনো স্পষ্ট ফাটল বা বিদ্রোহ প্রমাণ করে না। তবে এগুলো নিশ্চিত করে যে নিছক রাজনৈতিক সংহতি প্রকাশ করে যুদ্ধের মতো একটি ভয়াবহ অভিযানের পরিধি ও জাতীয় খরচের বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়।
ইয়েমেনে অতীতে মিসরীয় সামরিক অভিযানের তিক্ত স্মৃতি এই দ্বিধাকে আরও তীব্র করে তোলে। ১৯৬০-এর দশকে ইয়েমেনে মিসরের প্রবেশ ঘটেছিল একটি সীমিত সামরিক মোতায়েন হিসেবে, যা পরবর্তী সময়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক যুদ্ধে রূপ নেয় এবং বিপুল ক্ষতি সত্ত্বেও সেখান থেকে সহজে বের হওয়ার কোনো পথ ছিল না।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের বৈঠক নির্দেশ করে যে ঝুঁকিগুলো নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন সম্ভাব্য বিপর্যয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে, কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ দেখা দিয়েছিল কি না, কিংবা শত্রুপক্ষের পাল্টা আঘাতের তীব্রতা কতটা সহনীয় মনে করা হয়েছে—তার কিছুই জানা যায় না।
তাই মিসরের পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি অনুমোদনে যে বিলম্ব দেখা যাচ্ছে, তাকে কেবল একটি আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
গত সোমবার পার্লামেন্ট সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত ভোটাভুটি ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়। এই স্থগিতাদেশ ইয়েমেন যুদ্ধে মিসরের ভূমিকা ঠিক কী হবে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আরও দীর্ঘায়িত করেছে।
এই প্রাতিষ্ঠানিক দ্বিধা বা ইতস্তত ভাব মূলত এই অভিযানের সম্ভাব্য জাতীয় ক্ষতির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থার পৃথক মূল্যায়নের ফল হতে পারে।
আঞ্চলিক বিভাজন
আমার আগের একটি বিশ্লেষণে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই যুদ্ধে নিজেদের পেছনে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখবে। ইয়েমেনে মিসরীয় সামরিক বাহিনীর নামা এই ভূরাজনৈতিক কৌশলকেই আরও বাস্তব রূপ দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বে তুরস্ককে এই আঞ্চলিক সংকটে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন সরাসরি বিমান হামলা চালানোর সৌদি অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে। মিসরীয় নীতিনির্ধারকদের এখন প্রশ্ন করা উচিত যে নিজেদের শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারা যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলছে, মিসরের সৈনিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে কেন সেই একই ঝুঁকিতে ফেলা হবে?
সৌদি আরবের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা যুক্তিসংগত, ঠিক তেমনি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষা করায় মিসরের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু এই দুটি কারণের কোনোটিই ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি মিসরীয় সামরিক অভিযান পরিচালনাকে অপরিহার্য করে তোলে না।
মিসর ইতিপূর্বে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। কিন্তু এখন তারা পৃথক একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সমপরিমাণ সামরিক ঝুঁকি কাঁধে নেওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।
কায়রো যদি শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার প্রাথমিক অস্ত্র হবে বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী। মিসরীয় যুদ্ধবিমানগুলো হুতি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ, নজরদারি এবং অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট স্থানে হামলায় অংশ নিতে পারে। অন্যদিকে যুদ্ধজাহাজগুলো লোহিত সাগরের নির্দিষ্ট বাণিজ্য পথ রক্ষা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এসকর্ট করে নিয়ে যেতে পারে।
জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্ন
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে একাধিক যুদ্ধ মোকাবিলা করে গড়ে ওঠা মিসরের সামরিক শক্তির জন্য ইয়েমেনের মতো জায়গায় সক্ষমতা ও রসদ অপচয় করা তাদের মূল কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়েই বড় প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে যখন পাশের দেশ সুদান এবং হর্ন অব আফ্রিকার অস্থিরতা মিসরের নিজস্ব সীমান্তের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ইয়েমেনে সেনা পাঠানো সামরিক কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের নীতিগত মতপার্থক্য তৈরি করতে পারে।
নিছক ‘আত্মরক্ষামূলক’ তকমা দিয়ে কোনো যুদ্ধ থেকে নিরাপদ থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। কায়রো হয়তো নিজস্ব সীমানায় আসা সৌদিগামী কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা এবং ইয়েমেনের ভেতরে সেই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎসে বোমা ফেলাকে আলাদা চোখে দেখতে পারে; কিন্তু হুতিদের কাছে দুটি কাজই তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার শামিল।
মিসরের এই নাজুকতা বা ঝুঁকি কেবল তার মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হুতিদের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের অনিশ্চয়তা মিসরীয় সামরিক কমান্ডার এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে ঝুঁকি গ্রহণের মাত্রা নিয়ে মতপার্থক্য আরও তীব্র করতে পারে।
এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার নিয়ে আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করে: মিসর কেন সৌদি আরবের সুরক্ষায় এত বিস্তৃত সামরিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা চিন্তা করছে, অথচ তার নিজের ভৌগোলিক ও জাতীয় অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হুমকিগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে?
এই জাতীয় সংকটগুলোর ধরন হয়তো আলাদা, কিন্তু কায়রো যেভাবে দূরদেশের সৌদি নিরাপত্তাকে জরুরি অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার সঙ্গে নিজের সীমান্তে কৌশলগত সংযম দেখানোর যে বৈপরীত্য—তা যেকোনো পর্যবেক্ষকের মনে প্রশ্ন জাগায়।
পরিশেষে, এই যুদ্ধের সব আর্থিক ও মানবিক বোঝা বহন করতে হবে মিসরের সাধারণ পরিবারগুলোকে। সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা, সুয়েজ খাল থেকে বৈশ্বিক মুদ্রা আয় হ্রাস এবং জ্বালানি ও পণ্য আমদানির চড়া মূল্য মিসরের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে যাবে, যা ইতিপূর্বেই খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে ধুঁকতে থাকা সাধারণ মিসরীয়দের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।
শাদী ইব্রাহিম ইস্তাম্বুল সাবাহাত্তিন জাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।