বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার গল্প ও ক্যানসার হাসপাতালের বাস্তবিক চিত্র

ফাইল ছবি
ছবি: প্রথম আলো

সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সব কটি রেডিওথেরাপি যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোয়। শুধু রেডিওথেরাপি যন্ত্রই নয়, যে এক্স-রে করার সুবিধা ছোটখাটো হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই পাওয়া যায়, সেই এক্স-রে করার যন্ত্রও  ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দেশের সবচেয়ে বড় এই ক্যানসার হাসপাতালে। আর এক বছর ধরে নষ্ট হয়ে আছে এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং) করার যন্ত্র। (ক্যানসার হাসপাতালে এক্স-রে হয় না, নষ্ট এমআরআই যন্ত্রও, প্রথম আলো, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)

এমনিতেই দেশে ক্যানসার চিকিৎসার ব্যবস্থা অপ্রতুল। সরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপি, ভর্তি কিংবা অস্ত্রোপচারের সিরিয়াল পাওয়ার জন্য রোগীদের মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। এর মধ্যে যদি দেশের প্রধান ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রের রেডিওথেরাপি, এক্স-রে আর এমআরআই যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে রোগীদের দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না। বিশ্ব সংস্থা সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে একটি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র দরকার। সে হিসাবে দেশে ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রয়োজন কমপক্ষে ১৬০টি।

অথচ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আছে ৩০টিরও কম। শুধু হাসপাতাল নয়, ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্রপাতিরও রয়েছে তীব্র সংকট। ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিকিরণ চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি যন্ত্রের প্রয়োজন অন্তত ৩০০টি, কিন্তু সরকারি ৯টি চিকিৎসাকেন্দ্রে রেডিওথেরাপি মেশিন আছে মাত্র ১৭টি, যার ১১টিই আবার নষ্ট! (অপ্রতুল ক্যানসার চিকিৎসা বিদেশমুখী রোগী, সমকাল, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ১১টি রেডিওথেরাপি যন্ত্রের মধ্যে জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে ছয়টি, ঢাকা মেডিকেলে দুটি এবং চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর মেডিকেলে একটি করে রয়েছে। (সরকারি হাসপাতালে মেশিন নষ্ট, বেসরকারির টাকা জোগাতে কষ্ট, বাংলা ট্রিবিউন, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)

শুধু ক্যানসার হাসপাতালই নয়, সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। নতুন নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যত মনোযোগ, ক্রয় করা যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণে ততটা দেখা যায় না। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৬০০ যন্ত্রপাতির মধ্যে সাড়ে ৪০০–ই অকেজো বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজেই। (রংপুর মেডিকেলের ৬০০ যন্ত্রপাতির সাড়ে ৪০০–ই অকেজো, এটা মেনে নেওয়া যায় না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ইউএনবি, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিকস বিভাগের জরিপ অনুসারে, যন্ত্র না থাকা, অথবা যন্ত্র থাকলেও তা নষ্ট থাকার কারণে দেশের ১১ শতাংশ জেলা হাসপাতালে ও ৫৯ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের এক্স-রে করা হয় না, ইসিজি করা হয় না ১১ শতাংশ জেলা ও ২৪ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে, ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ জেলাতে এবং ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ উপজেলায় নেই আলট্রাসনোগ্রাম সুবিধা। (এক্স-রে হয় না ৫৯ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে, সমকাল, ২৩ জানুয়ারি ২৩) সম্প্রতি দৈনিক বাংলা দেশজুড়ে বেশ কিছু প্রধান হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছে হাজার হাজার কোটি টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি অকেজো-অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

আরও পড়ুন

এসব হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল, নড়াইল আধুনিক হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ইত্যাদি। (হাসপাতালে হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো, দৈনিক বাংলা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)

এভাবে সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলে বিশেষ করে দরিদ্র নিম্নবিত্ত রোগীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। তাদের হাসপাতালের বাইরে থেকে, অর্থাৎ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বিপুল অর্থ খরচ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করাতে হয়। একইভাবে বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির জন্যও বহুগুণ খরচ করতে হয়। যেমন সরকারি হাসপাতালে প্রতিবার রেডিওথেরাপির জন্য কোবাল্ট মেশিনে ১০০ টাকা ও লিনিয়ার মেশিনে ২০০ টাকা করে খরচ হয়। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বিকিরণের মাত্রা ও স্থানের প্ল্যানিং–এর খরচ বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা।

সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার যে গল্প প্রচার করা হয়, সেটা যে কতটা বিভ্রান্তিকর, তা ক্যানসার কিংবা কিডনি রোগের মতো ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি অসুখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্পষ্ট বোঝা যায়। চিকিৎসা মানে তো শুধু ডাক্তার দেখানো নয়, রোগনির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, ওষুধ খাওয়া, অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ইত্যাদি সবকিছু মিলেই চিকিৎসা।

কিন্তু সরকারি হাসপাতালের রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকার কারণে রোগীদের যখন বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হয়, তখন লিনিয়ার মেশিনে জনপ্রতি রেডিওথেরাপির খরচ সাড়ে চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা এবং প্ল্যানিং–এর খরচ ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পড়ে। (সরকারি হাসপাতালে মেশিন নষ্ট, বেসরকারির টাকা জোগাতে কষ্ট, বাংলা ট্রিবিউন, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)

সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার কারণে রোগীদের দুর্ভোগ হলেও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এ থেকে নানাভাবে উপকৃত হয়। প্রথমত, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে নতুন করে যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সেই সূত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকের দুর্নীতি ও কমিশনের সুযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, সরকারি হাসপাতালের যন্ত্র নষ্ট থাকলে রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন, ফলে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাভবান হয়।

সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গেই বেসরকারি হাসপাতালের যোগসাজশ থাকে, এতে তারাও লাভবান হন। এ কারণেই সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায় নাকি এগুলো বিশেষ উদ্দেশ্যে নষ্ট করা হয়, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার যে গল্প প্রচার করা হয়, সেটা যে কতটা বিভ্রান্তিকর, তা ক্যানসার কিংবা কিডনি রোগের মতো ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি অসুখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্পষ্ট বোঝা যায়। চিকিৎসা মানে তো শুধু ডাক্তার দেখানো নয়, রোগনির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, ওষুধ খাওয়া, অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ইত্যাদি সবকিছু মিলেই চিকিৎসা।

সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে পারলেও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বা রোগনির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ কতটা পান, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সব ওষুধ পাওয়া যায় না এবং রোগনির্ণয়ের পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকে বা কয়েক মাসের সিরিয়াল পড়ে। কিডনি রোগীদের কোনো কোনো সরকারি হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। সম্প্রতি সেই ফি আরও বৃদ্ধি করায় নিরুপায় হয়ে ডায়ালাইসিস ফি কমানোর দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন চট্টগ্রামের কিডনি রোগী ও তাদের স্বজনরা। (চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিসের ফি কমানোর দাবি নিয়ে রাস্তায় কিডনি রোগীরা, প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি ২০২৩)

বাংলাদেশে ক্যানসার কিংবা কিডনি রোগের মতো জটিল চিকিৎসা সুলভ না হওয়ার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রোগী যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। পর্যাপ্ত ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র না থাকা ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে প্রতিবছর গড়ে দেড় লাখ নতুন করে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর এক-তৃতীয়াংশই চিকিৎসার বাইরে থেকে যান। (অপ্রতুল ক্যানসার চিকিৎসা বিদেশমুখী রোগী, সমকাল, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) কিডনি ডায়ালাইসিস ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে বেশির ভাগ রোগীই অর্থের সংকটে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেন। দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি, যার মধ্যে প্রতিবছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়।

এসব রোগীর ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন সময়ে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। (অর্থসংকটে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেন রোগীরা, সমকাল, ২৬ নভেম্বর ২০২২)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ব্যক্তির ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার উল্টোটাই ঘটছে। গত এক দশকে স্বাস্থ্য খাতে বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েছে, বেসরকারি বাণিজ্যিক চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে মানুষের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে চিকিৎসাব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণের ফলে ব্যক্তির নিজের পকেট থেকে চিকিৎসা খরচ বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের দেওয়া হিসাব অনুসারে, বর্তমানে স্বাস্থ্য ব্যয়ের তিন-চতুর্থাংশ বহন করছেন ব্যক্তি নিজেই।

২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে স্বাস্থ্য ব্যয়ে সরকারের অংশ ছিল যথাক্রমে ২৮, ২৬ ও ২৩ শতাংশ এবং ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৬৪, ৬৬ ও ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারের অংশ ক্রমান্বয়ে কমছে এবং ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বাড়ছে। (চিকিৎসা করাতে ব্যক্তির আর্থিক চাপ বাড়ছে, প্রথম আলো, ৫ জানুয়ারি ২০২৩)

বছর বছর মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ে সরকারের ভাগ কমে আসার এবং ব্যক্তির ভাগ বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা বেশ অনেক দিন ধরেই চলছে। ১৯৯৭ সালে একজন ব্যক্তিকে তার চিকিৎসা ব্যয়ের ৫৫ শতাংশ বহন করতে হতো, আর সরকারের ব্যয় ছিল ৩৭ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, গত দুই যুগে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে ব্যক্তির ব্যয় ১৪ শতাংশ বেড়েছে আর সরকারি ব্যয় ১৪ শতাংশ কমেছে। অথচ ব্যক্তির ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ২০ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছিল। ২০১২-২০৩২ মেয়াদি ওই কৌশলপত্রের লক্ষ্য ছিল ক্রমান্বয়ে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কমিয়ে ২০৩২ সালে ৩২ শতাংশে নিয়ে আসা।

২০১২ সালে কৌশলপত্র প্রণয়নের সময় ব্যক্তির ব্যয় ছিল ৬৩ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, সেই কৌশলপত্র প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত ব্যক্তির ব্যয় কমার বদলে উল্টো আরও ৬ শতাংশ বেড়েছে। (চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা বেড়েছে জনগণের, সমকাল, ১২ ডিসেম্বর ২০২১) এভাবে নিজের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে প্রতিবছর ৮৬ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। (চিকিৎসার লাগামহীন ব্যয়ে নিঃস্ব মানুষ, সমকাল, ৫ জানুয়ারি ২০২৩)

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শুধু সাধারণ চিকিৎসাই নয়, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষদের জন্য ক্যানসার বা কিডনি রোগের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল সব ধরনের চিকিৎসাই বিনা মূল্যে প্রদানের আয়োজন করা জরুরি।

  • কল্লোল মোস্তফা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক লেখক, প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘বাংলাদেশে উন্নয়নের রাজনৈতিক অর্থনীতি’, ‘ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ, নজরদারি পুঁজিবাদ ও মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার ভবিষ্যৎ’। ই-মেইল: [email protected]