কাতার নেবে নতুন বাংলাদেশি শ্রমিক, পুরোনোদের কান্না কে শুনবে

কাতারে বিদেশি নির্মাণশ্রমিক৷ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-কাতার শ্রমবাজার সম্পর্ক নতুন নয়। গত দুই দশকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নির্মাণশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবা খাত ও গৃহস্থালি কর্মসংস্থানে লক্ষাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন।

সম্প্রতি কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররির ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক খবর। সরকারও এটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে।

১৭ মে শুরু হওয়া দুই দিনের এই সফরে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১৮ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠকে কাতার বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, এসি টেকনিশিয়ানসহ কারিগরি খাতের কর্মী নিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।

কাতারের শ্রমমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন এবং তাঁদের প্রায় ৩০ শতাংশ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) থেকে সরাসরি দক্ষ কর্মী নিতে চায় কাতার।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও সফরটিকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন কর্মী কাতারে গেছেন। চলতি বছরে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই মুহূর্তে নতুন শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে এত উৎসাহ কতটা বাস্তবসম্মত এবং মানবিক? সত্যিই কি কাতারে নতুন শ্রমিক পাঠানোর সময় এসেছে?

কারণ বাস্তবতা বলছে, কাতারে এখন হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কাজহীন, বেতনহীন, অনিশ্চিত এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ ভিসা–বাণিজ্য ও দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না, কেউ কেউ অবৈধ হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকে খাবার ও চিকিৎসার অভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে আছেন। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে তাড়াহুড়া করে নতুন শ্রমিক পাঠানোর তৎপরতা কেবল অদূরদর্শী নয়, বরং দায়িত্বহীনও বটে। নতুন শ্রমিক পাঠানোর আগে পুরোনো শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

রেমিট্যান্সের আড়ালে অদৃশ্য সংকট

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো অর্থবছরে এত প্রবাসী আয় আসেনি। সব সরকারের কাছে তাই বিদেশে শ্রমিক পাঠানো প্রায়ই ‘অর্থনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে যে মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে, তা খুব কমই আলোচনায় আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতার অন্যতম বড় শ্রমবাজার। ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এক দশক ধরে কাতারে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নকাজ হয়েছিল। স্টেডিয়াম, মেট্রোরেল, সড়ক, হোটেল, বিমানবন্দর-সবখানেই বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকেও লক্ষাধিক শ্রমিক সেখানে গেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সেই নির্মাণ খাতের বড় অংশে কর্মসংস্থান কমে গেছে।

বহু কোম্পানি প্রকল্প গুটিয়ে নিয়েছে, অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করেছে। এখন অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে নতুন কাজের সুযোগ আগের তুলনায় কমে এসেছে। এই বাস্তবতায় নতুন করে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক পাঠানো মানে বিদ্যমান সংকটকে আরও জটিল করে তোলা।

দোহা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক এখন অস্থায়ী কাজের জন্য অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাজ পান না। অনেকে আবার মাসের পর মাস বেতন পান না। শ্রমিকদের বড় অংশ ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন। ফলে নিয়মিত কাজ না থাকায় তাঁরা দেশে থাকা পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারছেন না, আবার নিজেরাও টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

‘ফ্রি ভিসা’: বৈধ প্রতারণার আরেক নাম

কাতারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্ভোগের বড় কারণ ‘ফ্রি ভিসা’ ব্যবসা। বাস্তবে ফ্রি ভিসা বলতে বোঝায়-কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়া শ্রমিক পাঠানো। বাংলাদেশে দালাল ও কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিকদের বলেন, ‘কাতারে ঢুকে গেলে সহজেই কাজ পাওয়া যাবে, আয় হবে প্রচুর।’

এই আশ্বাসে শ্রমিকেরা চার থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। কিন্তু কাতারে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের জন্য কোনো নিশ্চিত চাকরি নেই। কোম্পানির নাম কাগজে থাকলেও বাস্তবে কাজ নেই। তখন তাঁরা অবৈধভাবে দিনমজুরি বা অস্থায়ী কাজের সন্ধানে ঘুরতে থাকেন। অনেকেই পুলিশি হয়রানি, গ্রেপ্তার বা দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে থাকেন। এই ব্যবস্থা মূলত ভিসা–বাণিজ্যের একটি রূপ। এতে লাভবান হয় দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। কিন্তু শ্রমিকেরা হয়ে পড়েন ঋণগ্রস্ত ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বন্দী।

কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশের অনেক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, কাতারে যাওয়ার জন্য কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ উচ্চ সুদে টাকা ধার করেছেন কিংবা পরিবারকে ঋণের বোঝায় ফেলেছেন। কাজ না পেয়ে তাঁদের জীবন কার্যত ভেঙে পড়েছে। সব মিলিয়ে বেকারত্বের কারণে এক মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাঁরা।

এই ভিসা–বাণিজ্য কেবল শ্রমিকদের নিঃস্ব করছে না; এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই দক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিক শ্রমবাজারের দিকে যাচ্ছে। সেখানে যদি বাংলাদেশ থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও প্রতারণামূলক উপায়ে শ্রমিক পাঠানো অব্যাহত থাকে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে পুরো শ্রমবাজারই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ভিসা–বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো শ্রমিক যেন নির্দিষ্ট চাকরির চুক্তি ছাড়া বিদেশে যেতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো নজরদারির অভাব। বাংলাদেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত বহুদিন ধরেই একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। গ্রামপর্যায়ের মধ্যস্বত্বভোগী থেকে শুরু করে লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি—অনেকেই এই চক্রের অংশ। শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ভুয়া চুক্তিপত্র এবং অবৈধ ভিসা সরবরাহ যেন একটি ‘স্বাভাবিক’ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।

মনে রাখতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মী চাইছে। ফলে বাংলাদেশ যদি এখনো অদক্ষ শ্রমিক ও অনিয়ন্ত্রিত ভিসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে বাজার হারানোর ঝুঁকি থাকবে।

দক্ষতা উন্নয়ন হোক, কিন্তু পরিকল্পনাহীন শ্রমিক রপ্তানি নয়

বাংলাদেশের ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের কথা বর্তমান সরকার বলছে। এটি সত্যি ইতিবাচক উদ্যোগ। কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, এটিও অবশ্যই ইতিবাচক দিক।

কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বাস্তব সংযোগ তৈরি করা। দক্ষতা উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রশিক্ষণের সঙ্গে নিশ্চিত কর্মসংস্থান যুক্ত থাকবে। শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না; প্রশিক্ষণ শেষে নিশ্চিত চাকরি, ন্যায্য মজুরি ও বৈধ চুক্তির নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু শুধু বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রশিক্ষণ নয়; আন্তর্জাতিক মানের মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দক্ষ শ্রমিকও প্রতারণার শিকার হবে। বাংলাদেশকে এখন ‘সস্তা শ্রমের উৎস দেশ’ নয়, বরং ‘দক্ষ মানবসম্পদের দেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন

বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করছে। বাংলাদেশ যদি এখনো অদক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাজার হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তাই কারিগরি শিক্ষা, ভাষা–দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন এবং শ্রমিক অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

তবে দক্ষতা উন্নয়ন মানে এই নয় যে যত বেশি সম্ভব মানুষকে বিদেশে পাঠাতে হবে। দেশের অভ্যন্তরেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, বিদেশে গিয়ে অনিশ্চিত জীবনযাপন করার চেয়ে দেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থান অনেক বেশি টেকসই। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রবাসী শ্রমিকদের শুধু রেমিট্যান্স আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

প্রথমে পুরোনো শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হোক

কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের প্রশংসা করেছেন, এটি অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এই আগ্রহকে কাজে লাগাতে হলে আগে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হওয়া উচিত কাতারে অবস্থানরত শ্রমিকদের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা। সেখানে ঠিক কত বাংলাদেশি বেকার, কতজন অনিয়মিত অবস্থায় আছেন, কতজন বেতন পাচ্ছেন না, কতজন আইনি জটিলতায় আছেন—এসব বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য জরিপ প্রয়োজন। দূতাবাস ও শ্রম উইংকে আরও সক্রিয় করে শ্রমিকদের অভিযোগ গ্রহণ, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দিষ্ট চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়া নতুন শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করতে হবে। ‘ফ্রি ভিসা’ বা অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের নামে শ্রমিক পাঠানোর সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এই সংকট আরও বাড়বে। নতুন শ্রমিক পাঠানোর আগে পুরোনো শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা নৈতিক ও কূটনৈতিক—দুই দিক থেকেই জরুরি।

মানুষ আগে, রেমিট্যান্স পরে

কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায়সংগত শ্রমনীতি ও মানবিক মর্যাদা। শুধু রেমিট্যান্সের আশায় নতুন শ্রমিক পাঠানো, অথচ পুরোনো শ্রমিকদের দুর্দশা উপেক্ষা করা—এটি কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। যে প্রবাসী শ্রমিকেরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না করে নতুন শ্রমিক পাঠানোর প্রতিযোগিতা মানবিক নয়।

বাংলাদেশের উচিত এখন বিরতি নিয়ে ভাবা। কাতারে নতুন শ্রমিক পাঠানোর আগে প্রথমে বিদ্যমান শ্রমিকদের পূর্ণ কর্মসংস্থান, বকেয়া বেতন পরিশোধ, বৈধতা নিশ্চিতকরণ এবং ভিসা–বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আমরা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করব, যেখানে কিছু দালাল ও এজেন্সি লাভবান হবে, কিন্তু হাজার হাজার শ্রমিক ঋণ, অনিশ্চয়তা ও অপমানের বোঝা নিয়ে বিদেশের মাটিতে মানবেতর জীবন কাটাবে। তাই সরকারের উচিত এখন কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা: কাতারে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি বেকার? কতজন প্রতারণার শিকার? কতজন কাজহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না খুঁজে নতুন শ্রমবাজারের উচ্ছ্বাস আসলে বিপজ্জনক আত্মতুষ্টি। কাতার প্রসঙ্গে এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নতুন শ্রমিক পাঠানোর আগে পুরোনো শ্রমিকদের বাঁচানো।

  • ড. সেলিম রেজা সহযোগী অধ্যাপক ও সমন্বয়ক, সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

    মতামত লেখকের নিজস্ব