কওমি মাদ্রাসা বাংলাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, সামাজিক আস্থা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের আত্মপরিচয়।
তাই কওমি মাদ্রাসায় কোনো শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা সামনে এলে আলোচনাটি প্রায়ই দুই চরমতার মধ্যে খাবি খায়। একদিকে বলা হয়, এটি নিছক কোনো ব্যক্তির নৈতিক অধঃপতন; অন্যদিকে একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের ভিত্তিতে পুরো কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে অপরাধের উৎপাদক হিসেবে চিত্রিত করা হয়। দুই দশাই সমস্যাটি যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ।
প্রথম সত্য হলো, শিশু যৌন নির্যাতন কোনো একটি ধর্ম, মতাদর্শ, শিক্ষাপদ্ধতি বা প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া সমস্যা নয়। পরিবার, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আবাসিক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠনসহ নানান জায়গায় এটি ঘটে। অতএব কওমি মাদ্রাসাকে স্বভাবগতভাবে অপরাধপ্রবণ প্রতিষ্ঠান বলা যেমন অন্যায়, তেমনি কওমি মাদ্রাসার ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে সমস্যাটি অস্বীকার করাও বিপজ্জনক।
প্রকৃত প্রশ্ন হলো—কোনো প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, ক্ষমতার সম্পর্ক, আবাসিক পরিবেশ এবং অভিযোগ-নিষ্পত্তির ব্যবস্থা অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কতটা তৈরি করে এবং অপরাধ প্রকাশ ও প্রতিকারের পথ কতটা উন্মুক্ত রাখে?
কওমি মাদ্রাসায় রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও সামাজিক নজরদারি গরহাজির নয়। স্থানীয় সমাজ, অভিভাবক, দাতা, মসজিদ, আলেমসমাজ, পরিচালনা কমিটি ও কওমি বোর্ডের তরফে বিভিন্ন স্তরে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান। কিন্তু সামাজিক নজরদারি এবং শিশু সুরক্ষা তদারকি একই বিষয় নয়।
সমাজ হয়তো দেখে মাদ্রাসায় পড়াশোনা হচ্ছে কি না, শিক্ষক ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, প্রতিষ্ঠান সঠিক পথে চলছে কি না। কিন্তু শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা জানতে চায়—কোনো শিক্ষক কোনো শিশুকে নিয়মিত একান্তে ডাকছেন কি না, অভিযোগ করলে শিশুটি কাকে বলবে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রমাণ কীভাবে সংরক্ষিত হবে, আইনগত কর্তৃপক্ষকে কখন জানানো হবে এবং শিশুর চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা কীভাবে নিশ্চিত হবে। এই ফারাক না বুঝলে নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রকৃত দুর্বলতা ধরা পড়বে না।
শিশু যৌন নির্যাতনকে শুধু অপরাধীর চরিত্রের বিকৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা করলে ঘটনার সব দিক হাজির হয় না। অপরাধীর ব্যক্তিগত প্রবণতার পাশাপাশি সুযোগ, ক্ষমতার সম্পর্ক, শিশুর দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল তদারকি, একান্ত সাক্ষাতের সুযোগ, দৈহিক সেবা, রাতের নির্জনতা, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং অভিযোগ করলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতিকূলতার আশঙ্কা অপরাধের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
এখানে কওমি মাদ্রাসার আবাসিক চরিত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবাসিকতা নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং বহু শিশুর শিক্ষা ও তারবিয়াতের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। কিন্তু আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুর পড়াশোনা, ঘুম, খাবার, শাস্তি, অসুস্থতা ও বাইরে যাওয়ার মতো নানা বিষয়ে একই কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকে। ফলে শিক্ষক হয়ে ওঠেন নিয়ন্ত্রক, অভিভাবকের বিকল্প এবং কখনো শিশুর কাছে ভয় বা নিরাপত্তার উৎস।
এই ক্ষমতার অসমতা স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক দায়িত্বে রূপ নেয়। কিন্তু অসৎ ব্যক্তি সেই ক্ষমতাকেই শোষণের অস্ত্রে পরিণত করতে পারেন। তাই শিক্ষক বা আবাসিক তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে রোটেশন, রাতের ডিউটির ভারসাম্য, ছুটির রেকর্ড, বিকল্প তত্ত্বাবধায়ক ও দায়িত্ব হস্তান্তরের লিখিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
শিশু যৌন নির্যাতনের আগে অনেক সময় ‘গ্রুমিং’ ঘটে। এর ধারাবাহিকতা হলো শিশুর আস্থা অর্জন, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া, আলাদা করে কাছে টানা, উপহার বা সুবিধা দেওয়া, গোপনীয়তার সম্পর্ক তৈরি এবং ধীরে ধীরে প্রতিরোধ দুর্বল করে দেওয়া। পরে ভয়, লজ্জা বা অবিশ্বাসের মাধ্যমে শিশুকে নীরব রাখা হয়। শিশু অনেক সময় জানেই না তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণকে কী নামে ডাকতে হবে। তাই শিশুর নীরবতা অনেক সময় ভয়, বিভ্রান্তি, নির্ভরতা ও অসহায়ত্বের প্রকাশ।
সমস্যার সবচেয়ে ভয়াবহ স্তর দেখা যায় অভিযোগ প্রকাশের পর। আমাদের হুজুর এমন করতে পারেন না, ছেলেটা মিথ্যা বলছে, বদনাম হবে—এই মানসিকতা প্রতিষ্ঠানকে শিশুর বিপরীতে দাঁড় করাতে পারে। গুরুতর যৌন নির্যাতন কোনো সাধারণ সামাজিক বিরোধ নয়; স্থানীয় সালিস বা আপস তার ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।
অভিযোগ উঠলে প্রথম দায়িত্ব শিশুকে নিরাপদ করা, তদন্তকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শিশুদের সংস্পর্শ থেকে সরিয়ে রাখা, প্রমাণ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায্য তদন্ত ও আইনি অধিকারও রক্ষা করতে হবে। জবাবদিহি প্রতিশোধ নয়; সত্য উদ্ঘাটনের ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া।
কওমি মাদ্রাসার সামাজিক আস্থা তাই একই সঙ্গে শক্তি ও ঝুঁকি। বহুদিনের সম্মানিত একজন শিক্ষক অভিযুক্ত হলে শিশুর বক্তব্যের আগে মানুষ অনেক সময় নিজের পুরোনো বিশ্বাসকে রক্ষা করতে চায়। অথচ কোনো আলেমকে সম্মান করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত দাবি করা পরস্পরবিরোধী নয়। বরং প্রকৃত সম্মান এমন ব্যবস্থাই দাবি করে, যেখানে নির্দোষ ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগ থেকে সুরক্ষা পাবেন এবং অপরাধী পদ, পোশাক, ধর্মীয় মর্যাদা বা সামাজিক প্রভাবের কারণে রেহাই পাবেন না।
তবে বলাৎকার করার মতো অপরাধের অধিকাংশ রেকর্ড হিফজ বিভাগ, নুরানি বিভাগ বা নিম্নমাধ্যমিক স্তরের দিকে ইশারা করে। আর সেখানে নজরদারি সব সময় হুঁশিয়ার থাকে না।
শিক্ষক নিয়োগে এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। ধর্মীয় যোগ্যতা অপরিহার্য হলেও তা একা যথেষ্ট নয়। শিশু মনোবিজ্ঞান, পেশাগত সীমারেখা, নির্যাতনের লক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ও আইনি দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। নিয়োগের আগে পরিচয়, পূর্ববর্তী কর্মস্থলের রেফারেন্স ও অপরাধের ইতিহাস যাচাই করা উচিত। তবে শুধু পুলিশ ভেরিফিকেশন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে না। প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আচরণবিধি ও পেশাগত মূল্যায়ন।
নিরাপত্তাব্যবস্থাও দৃশ্যমান করতে হবে। প্রতিটি আবাসিক মাদ্রাসায় লিখিত শিশু সুরক্ষা নীতি, প্রশিক্ষিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং একাধিক নিরাপদ অভিযোগের পথ থাকা উচিত। সাধারণ স্থান, করিডর, প্রবেশপথ ও সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকর হতে পারে; তবে শোবার ঘর, বাথরুম বা পোশাক পরিবর্তনের স্থানে নয়।
ফুটেজ কে দেখবে, কত দিন সংরক্ষণ করা হবে এবং অভিযোগের পর তা কীভাবে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত হবে—এসবও নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। শিশুকেও বানাতে হবে নিরাপত্তার সক্রিয় অংশীদার। বয়সোপযোগীভাবে তাকে জানাতে হবে—কোন আচরণ অনিরাপদ, অস্বস্তিকর স্পর্শ হলে কী করতে হবে, কেউ অন্যায় গোপন রাখতে বললে কীভাবে সাহায্য চাইতে হবে এবং শিক্ষক হলেও অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে কীভাবে কথা বলা যায়।
অভিভাবকদের সচেতনতাও বাড়াতে হবে। সন্তানের আচরণগত পরিবর্তন, মাদ্রাসায় যেতে অনীহা, কোনো ব্যক্তিকে অস্বাভাবিক ভয় পাওয়া বা ঘুমের অস্বাভাবিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত ও নিরাপদ কথোপকথনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
কওমি মাদ্রাসার পাঠক্রম, আকিদা, ফিকহ ও শিক্ষাদর্শের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই শিশু সুরক্ষার একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড তৈরি করা সম্ভব। শিশুর জীবন, দেহ, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের বিষয় হতে পারে না। কওমি বোর্ড ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের ধর্মীয় ও শিক্ষাগত কাঠামো পরিচালনা করবেন। রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে ন্যূনতম শিশু সুরক্ষা। এ জন্য আলেমদের সঙ্গে শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, সমাজকর্মী, আইনজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরামর্শ ও তদারকি কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে।
সংস্কারকে বাস্তবায়নযোগ্য করতে প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নীতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নিরাপদ অভিযোগব্যবস্থা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ চালু করা দরকার। এরপর আবাসিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বের রোটেশন, শিক্ষক ছুটি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের রেকর্ড, ছাত্রাবাসে প্রবেশের নিয়ম, অসুস্থ শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধান ও জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় ছুটি যেমন দরকার, তেমনি সপরিবার আবাসিক ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্ব দিতে হবে সাধ্যমতো।
শিশু একটি আমানত; কোনো ওস্তাদ, মুহতামিম, পরিচালক, দাতা কিংবা প্রতিষ্ঠান সেই আমানত রক্ষায় জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। যে মাদ্রাসা অভিযোগ গোপন করবে, অপরাধীকে পালাতে সাহায্য করবে, শিশুকে ভয় দেখাবে, প্রমাণ নষ্ট করবে বা আইনগত ব্যবস্থা ঠেকাবে, তার বিরুদ্ধে কওমি বোর্ডেরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকা উচিত।
কওমি বোর্ডগুলো অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড গ্রহণ করে বার্ষিক আত্মমূল্যায়ন ও ঝুঁকি নিরীক্ষা করতে পারে। গুরুতর অভিযোগের জন্য শিশুর নিরাপত্তা, অভিযুক্ত ব্যক্তির সাময়িক পৃথক্করণ, প্রমাণ সংরক্ষণ, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল থাকা উচিত।
অভিযোগকারী বা তার পরিবারকে ভয় দেখানো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গোপনে সরিয়ে দেওয়া কিংবা প্রমাণ নষ্ট করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুক্তভোগী শিশুর পরবর্তী জীবন। একটি অভিযোগের পর শুধু অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিশুর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, শিক্ষাজীবনে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং সামাজিক কলঙ্ক থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো শিশুর অভিযোগকে প্রচার বা সামাজিক বিচারের উপকরণে পরিণত করা যাবে না। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই হতে হবে পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্র।
প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ের নিরপেক্ষ গবেষণাও। কতগুলো মাদ্রাসা আবাসিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কী, নিয়োগে যাচাই হয় কি না, অভিযোগব্যবস্থা কতটা কার্যকর, শিক্ষার্থীরা তা জানে কি না এবং অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কার্যকর নীতি তৈরি সম্ভব নয়। তথ্যের উদ্দেশ্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা উন্নত করা।
শেষ পর্যন্ত এই সংস্কারের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে কওমি সমাজের নিজস্ব নৈতিক ঐতিহ্য। আমানত, তাকওয়া, মাহাসাবা (আত্মবিচার), ন্যায়, জুলুমবিরোধিতা ও দুর্বল মানুষের হক রক্ষার যে শিক্ষা কওমি ধারার অন্তর্গত, শিশু সুরক্ষাকে তারই প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ হিসেবে দেখা দরকার।
শিশু একটি আমানত; কোনো ওস্তাদ, মুহতামিম, পরিচালক, দাতা কিংবা প্রতিষ্ঠান সেই আমানত রক্ষায় জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। যে মাদ্রাসা অভিযোগ গোপন করবে, অপরাধীকে পালাতে সাহায্য করবে, শিশুকে ভয় দেখাবে, প্রমাণ নষ্ট করবে বা আইনগত ব্যবস্থা ঠেকাবে, তার বিরুদ্ধে কওমি বোর্ডেরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকা উচিত।
আত্মরক্ষার সংস্কৃতি থেকে আত্মশুদ্ধির সংস্কৃতি প্রয়োজন। বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া নিরাপত্তা কিছু নিয়ম তৈরি করতে পারে, কিন্তু ভেতর থেকে গ্রহণ করা নৈতিকতা একটি সংস্কৃতি তৈরি করে। অপরাধ অস্বীকার প্রতিকার নয়; প্রতিকার নিহিত সত্য উদ্ঘাটনে, ন্যায়বিচারে, ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও পুনর্বাসনে এবং ভবিষ্যৎ অপরাধ প্রতিরোধে। কওমি মাদ্রাসার প্রকৃত শক্তি নিজের দুর্বলতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে সংশোধন করার সাহসে।
মুসা আল হাফিজ লেখক, গবেষক এবং ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান
মতামত লেখকের নিজস্ব