পাচার হওয়া টাকা কে ফিরিয়ে আনবে?

অর্থ পাচার

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–পরবর্তী বাংলাদেশ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিঘাত, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও নীতিগত পুনর্মূল্যায়নের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ যখন নতুন করে দিক নির্ধারণের চেষ্টা করছে, তখন অর্থনীতির অনেক সংবেদনশীল তথ্য ও জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছে।

নতুন সরকারের প্রকাশিত হোয়াইটপেপার এ বিষয়গুলোকে পরিসংখ্যান ও প্রমাণের আলোকে সামনে আনার প্রচেষ্টা নিয়েছে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে যে ব্যাংক খাত, বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণকাঠামোর সুযোগ নিয়ে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ বিদেশে চলে গেছে। এই অর্থ পাচার কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক মদদ, নিয়ন্ত্রণ–দুর্বলতা ও ব্যাংক সুশাসনের ঘাটতির ফল। হোয়াইটপেপারে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। আমদানি-রপ্তানিতে মূল্য কম বা বেশি দেখানো, ভুয়া ঋণপত্র, শেল কোম্পানি, বেনামি হিসাব, অফশোর ব্যাংক কাঠামো ও প্রবাসী আয়ব্যবস্থার অপব্যবহার—সব মিলিয়ে অর্থ পাচার একটি পদ্ধতিগত রূপ নিয়েছিল।

সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এ প্রক্রিয়ায় শুধু অপরাধী চক্র নয়, বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এমন একটি বাস্তবতায় দায়ভার কার? গত এক দশকে পাচার হয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ কে ফিরিয়ে আনবে? কীভাবে ফিরিয়ে আনবে, আর আদৌ তা সম্ভব কি না? আর উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বই–বা কে দেবে?

অন্তর্বর্তী সরকার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা বলছে। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আইনি সহযোগিতা চুক্তি সক্রিয় করা, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (এমএলএ) পথ ব্যবহার করা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দাকাঠামোর সহায়তা নেওয়ার কথা আলোচনায় আছে।

প্রাথমিকভাবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে, যেমন কয়েকটি সন্দেহভাজন হিসাব চিহ্নিত, কিছু বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় প্রমাণের মান, সময়সীমা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—সবকিছুই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যাংকগুলোর ভূমিকা, দায় ও নেতৃত্বের নির্ধারণ ক্ষেত্রভিত্তিক ও ঘটনাভিত্তিক হওয়াই যুক্তিযুক্ত। কারণ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও পাচার করা অর্থ উদ্ধারের প্রতিটি ঘটনা এক রকম নয়; কোথাও ব্যাংকের অবহেলা বা কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতা মুখ্য, আবার কোথাও রাষ্ট্রীয় নীতিগত শিথিলতা বা প্রশাসনিক সমর্থন প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তাই একক কোনো দায়বদ্ধতার কাঠামো দিয়ে সব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা বাস্তবসম্মত নয়।

আইনগতভাবে দেখলে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকের লেনদেন পরিচালনা করে নির্দিষ্ট আইন ও বিধির অধীন। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট করা, গ্রাহক যাচাই (কেওয়াইসি), ঝুঁকিভিত্তিক গ্রাহক শ্রেণিকরণ এবং নিয়মিত লেনদেন পর্যবেক্ষণ—এসবই ব্যাংকের সরাসরি দায়িত্ব। এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগ। তবে একই সঙ্গে এটিও স্বীকার করতে হবে যে কার্যকর আইন থাকা সত্ত্বেও তার বাস্তব প্রয়োগ দুর্বল হলে ব্যাংক একা এই ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে না।

এখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাজ শুধু নির্দেশনা জারি করা নয়, বরং বাস্তবসম্মত, যুগোপযোগী ও কার্যকর বিধিমালা প্রণয়ন করা এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

যেসব ব্যাংক আইন ও বিধি মেনে শক্তিশালী কমপ্লায়েন্স কাঠামো গড়ে তুলছে, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি কার্যকর করছে এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপসহীন অবস্থান নিচ্ছে, তাদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা থাকা জরুরি।

এখানে একটি মৌলিক বিভাজন স্পষ্ট করা জরুরি। অর্থ পাচার একটি দেশের সার্বভৌম ঝুঁকি বা কান্ট্রি রিস্কের অংশ, বিশেষ করে যখন তা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে ঘটে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স রিস্কও হতে পারে। যদি প্রমাণ হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেছে। অর্থাৎ ব্যাংকের দায়িত্ব নির্ভর করবে তারা আইন ও বিধি মানতে ব্যর্থ হয়েছে কি না। এ ছাড়া যখন অর্থ পাচার ঘটেছে, তখন সরকারের বিভিন্ন অংশ যদি নীরব সমর্থক বা সক্রিয় সহায়ক হয়ে থাকে, তখন ব্যাংকগুলো কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে?

অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারা রাজনৈতিক চাপ, নীতিগত ছাড় বা মৌখিক নির্দেশের মুখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন অভিযোগ নতুন নয়। আজ সেই সিদ্ধান্তগুলোকে শুধুই ব্যাংকের ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাই দায় নির্ধারণে সময়কাল, প্রেক্ষাপট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিধিমালা থাকলেও তার প্রয়োগে দ্বিধা, রাজনৈতিক বিবেচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে কার্যকর নজরদারি হয়নি। এতে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা তৈরি হয়েছে; আইন আছে, কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতিতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর হওয়ার বদলে আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। অন্যদিকে অর্থ একবার বিদেশে চলে গেলে তা উদ্ধার করার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা, বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, সম্পদ জব্দ ও প্রত্যাবাসনের মতো জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া পরিচালনার সক্ষমতা ব্যাংকের আছে বলে মনে হয় না। এখানে সরকারকে নেতৃত্ব দিতে হবে, আর ব্যাংকগুলোকে তথ্য, নথি ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহযোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

পাচার করা অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারে, তথ্য সরবরাহ করতে পারে, পুরোনো লেনদেন পুনরায় পর্যালোচনা করতে পারে এবং নিজেদের কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী নিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়ে সম্পদ জব্দ, মামলা পরিচালনা বা অর্থ প্রত্যাবাসনের নেতৃত্ব ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশা করা যুক্তিসংগত বলে মনে হয় না। এটি মূলত রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এখতিয়ার।

আরও পড়ুন

তবে এই অবস্থান নিঃশর্ত নয়। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যাংক বা তার শীর্ষ ব্যবস্থাপনা সরাসরি অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে সন্দেহজনক লেনদেন উপেক্ষা করেছে, ভুয়া নথি গ্রহণ করেছে বা আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে পাচারপ্রক্রিয়াকে সহজ করেছে, তাহলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায় কেবল নৈতিক নয়, আর্থিকও হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ওপর কঠোর আর্থিক জরিমানা আরোপ, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং পাচার করা অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের দায়িত্ব চাপানো যুক্তিসংগত ও ন্যায়সংগত হবে।

এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা একদিকে যেমন অতীতের অনিয়মের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা দেবে। অর্থাৎ ব্যাংক যদি কেবল অবহেলার শিকার হয়, তাহলে সংশোধন ও সহযোগিতাই যথেষ্ট; কিন্তু যদি সরাসরি সহযোগী প্রমাণিত হয়, তাহলে আর্থিক দায় বহন করাই হবে কমপ্লায়েন্স ও সুশাসনের স্বাভাবিক পরিণতি।

এ বাস্তবতায় দায়িত্বের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ জরুরি। ব্যাংকগুলোকে তাদের কমপ্লায়েন্স দায়িত্বে কঠোর হতে হবে, সরকারি সংস্থাগুলোকে বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় হতে হবে, আর রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের নেতৃত্ব নিতে হবে। এই সমন্বিত ও ক্ষেত্রভিত্তিক দায়িত্ববণ্টন অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও পাচার করা অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে।

আরও পড়ুন

এ বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট, পেছনে তাকিয়ে সব অর্থ উদ্ধার করা সহজ হবে না। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কৌশল হলো ভবিষ্যতের দিকে তাকানো। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অর্থ পাচার আর না হয়, সে জন্য শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এ জন্য প্রথম প্রয়োজন ব্যাংক খাতে একটি বাস্তব ও কার্যকর কমপ্লায়েন্স সংস্কার। কাগজে-কলমে নীতিমালা নয়, বরং ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং ও উচ্চঝুঁকির গ্রাহকের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে সঠিক প্রণোদনাকাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে অনেক ব্যাংকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণই প্রধান সাফল্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়, কমপ্লায়েন্স নয়। এই মানসিকতা ও সংস্কৃতি বদলাতে না পারলে যত আইন, বিধি বা নির্দেশনাই জারি করা হোক না কেন, তার বাস্তব প্রয়োগ সীমিতই থেকে যাবে।

এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদেরই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এই নেতৃত্ব কেবল কারিগরি বা প্রশাসনিক নয়, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকও হতে হবে। কারণ, নীতিমালা প্রয়োগে যদি নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নৈতিক দৃঢ়তা না থাকে, তাহলে ব্যাংক খাতে কাঙ্ক্ষিত আচরণগত পরিবর্তন আসবে না।

যেসব ব্যাংক আইন ও বিধি মেনে শক্তিশালী কমপ্লায়েন্স কাঠামো গড়ে তুলছে, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি কার্যকর করছে এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপসহীন অবস্থান নিচ্ছে, তাদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা থাকা জরুরি। এটি হতে পারে তদারকিতে ছাড় নয়, বরং ইতিবাচক স্বীকৃতি, নিয়ন্ত্রণপ্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার কিংবা সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক সহায়তা। এতে ব্যাংকগুলোর কাছে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে নিয়ম মেনে চলা কেবল দায় নয়, বরং একটি মূল্যবান প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি।

অন্যদিকে যেসব ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কমপ্লায়েন্সে ব্যর্থ হচ্ছে, সন্দেহজনক লেনদেন উপেক্ষা করছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনের প্রয়োগ দুর্বল করছে, তাদের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জরিমানা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা জবাবদিহি কিংবা ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতা—যে ব্যবস্থাই হোক না কেন, তা যেন স্পষ্ট, সময়োপযোগী ও বৈষম্যহীন হয়। শাস্তি যদি অনিশ্চিত বা নির্বাচনী হয়, তাহলে কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না। এই সহায়তা ও শাস্তির ভারসাম্য কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএফআইইউর সমন্বিত, সাহসী ও নৈতিক নেতৃত্ব অপরিহার্য। এই দুই সংস্থার কার্যকর ও সমন্বিত নেতৃত্ব ছাড়া ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত আচরণগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

  • শাহ মো. আহসান হাবীব অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট।