তবে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সবার মনে এমন একটি শঙ্কা তৈরি করেছেন যে তাঁর দেশ যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনের ওপর পারমাণবিক হামলা চালিয়ে বসতে পারে। তিনি বারবার ইউক্রেনকে সমর্থনকারী পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন।

ন্যাটো ও রাশিয়া উভয়ই ২৬ অক্টোবর পূর্বপরিকল্পিত বার্ষিক পারমাণবিক মহড়া শেষ করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু পুতিনকে জানিয়েছেন, ‘গ্রোম’ বা ‘বজ্র’ নামের এ মহড়া রাশিয়ার ওপর পারমাণবিক হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ‘বিশাল পারমাণবিক হামলা’র মহড়া হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে বলেছে, মহড়ার জন্য নির্ধারিত সব কাজ শেষ হয়েছে এবং পরীক্ষায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য ভেদ করেছে।

অবশ্য পুতিন ওই দিনই কিছুটা কূটনৈতিক নমনীয় সুরে বলেছেন, তাঁদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো অভিলাষ নেই।

সদ্য আপগ্রেড করা বি৬১-১২ আনগাইডেড বোমা (যা বিমান থেকে ফেলা যায়) ইউরোপে পাঠানোর কথা ছিল আগামী বসন্তে; কিন্তু তার বদলে সেই তারিখ এখন ডিসেম্বরে এগিয়ে আনা হয়েছে। ন্যাটোর বোমারু বিমান এবং ফাইটার জেটের সঙ্গে সেগুলো যুক্ত করার জন্য বোমাগুলো ইউরোপীয় ডিপোতে জড়ো করা হবে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক জায়গায় চলে গেছে।

হয়তো পুতিনকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়া পারমাণবিক হামলা চালালে যে ঝুঁকিতে পড়তে হবে, তা সামাল দেওয়া রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিনা শ্রীনিবাসন রথবুন একটি লেখায় লিখেছেন, রাশিয়া যে অঞ্চলটিকে তার ঐতিহাসিক সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দাবি করে, সেখানে যদি তারা একটি ক্ষুদ্র পারমাণবিক বোমাও ফেলে, তাহলে তা গোটা অঞ্চলকে বিষাক্ত করবে এবং সম্ভবত তার তেজস্ক্রিয়তা রাশিয়াতেও চলে যাবে।’

তবে মাত্র সপ্তাহখানেক আগেও পুতিন নতুন করে পারমাণবিক বোমা হামলার ন্যায্য দাবি করে কিছু কথা বলেছেন।

ইউক্রেনও তথাকথিত ‘নোংরা বোমা’ মোতায়েন করতে প্রস্তুত, যা ডিনামাইটে মোড়ানো ইউরেনিয়াম দিয়ে বানানো। এ বোমা বিস্ফোরিত হলে তা শুধু প্রাণী হত্যাই করবে না, তা চারপাশের মাইলের পর মাইল জমি ভয়ানকভাবে দূষিত করবে।

পশ্চিমা নেতারা রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে প্রায় প্রতিদিনই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্রের যেকোনো ব্যবহার ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’ হবে এবং এর জন্য রাশিয়াকে ‘গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে’।

তার মানে দাঁড়াচ্ছে, রাশিয়া যদি পারমাণবিক হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারাও পাল্টা পারমাণবিক আঘাত হানবে। তাহলে বিশ্ব কি পাল্টাপাল্টি আঘাত করে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে? এ আশঙ্কা এ কারণে যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে যে পারমাণবিক বোমা হামলা চালানো হবে, সেগুলোর বিস্ফোরণ লাখ লাখ টন টিএনটির সমান। হিরোশিমায় যে বোমা ফেলা হয়েছিল, তা ছিল ১৫ হাজার টন টিএনটির সমান। এখনকার ওয়ারহেডগুলো আরও শক্তিশালী। এ ধরনের শক্তিশালী প্রায় দুই হাজার ওয়ারহেড রাশিয়ার হাতে আছে এবং সেগুলোর কিছু এখনো ইউক্রেনে লড়াইয়ের মাঠে ইতিমধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে যে শত শত বোমা আছে, যা ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টন টিএনটির সমান বিস্ফোরণক্ষমতা আছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা চাইলেই যেকোনো সময় কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো বিমানের সাহায্যে স্থানান্তর করতে পারেন। কিন্তু সেটির প্রয়োজন আপাতত তঁাদের নেই। কারণ, আমেরিকা ইউরোপে প্রায় এক শ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করে রেখেছে।

তারা প্রাথমিক পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। পেন্টাগন ইউরোপে ন্যাটোর ঘাঁটিতে তার মূল পারমাণবিক বোমার আরও সঠিক সংস্করণ মোতায়েনের গতি বাড়িয়েছে।

সদ্য আপগ্রেড করা বি৬১-১২ আনগাইডেড বোমা (যা বিমান থেকে ফেলা যায়) ইউরোপে পাঠানোর কথা ছিল আগামী বসন্তে; কিন্তু তার বদলে সেই তারিখ এখন ডিসেম্বরে এগিয়ে আনা হয়েছে। ন্যাটোর বোমারু বিমান এবং ফাইটার জেটের সঙ্গে সেগুলো যুক্ত করার জন্য বোমাগুলো ইউরোপীয় ডিপোতে জড়ো করা হবে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক জায়গায় চলে গেছে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ড্যানিয়েল উইলিয়ামস ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এবং মিয়ামি হেরাল্ড–এর সাবেক বিদেশ সংবাদদাতা