মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সমন্বিত সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যা করে, তখন বিশ্ব এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। এ এমন এক নতুন পৃথিবী, যেখানে সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করার পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলোকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করতে শুরু করেছে।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কেউ বিপজ্জনক, দমনমূলক বা আধুনিক সভ্যতাবিরোধী হিসেবে দেখতেই পারেন। কিন্তু একতরফা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তনের এই রীতি কি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল? বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্বাসযোগ্য আইনি বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা বেআইনি। কেবল ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নয়, ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়কে প্রতিনিধিত্ব করে।
কোনো দেশ সচেতনভাবে ও প্রকাশ্যে অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে হত্যা করেছে—এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল, এমনকি আইনগতভাবে বিতর্কহীন যুদ্ধের সময়ও।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই হামলার সমালোচনা করেছে। অনেকেই একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে—যদি শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সুবিধামতো আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে, তবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নিরাপত্তা পাবে? আইনের ভিত্তিতে নির্মিত বিশ্বব্যবস্থা কি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে?
আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের সামরিক বাহিনীর পোশাকধারী সদস্য ছিলেন না এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। তাঁর এই হাইব্রিড মর্যাদা জটিলতা তৈরি করে।
আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি জাতিসংঘ সনদ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশ অনুমোদন করেছে। এই সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যেকোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার’ বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে দুটি ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
১. আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে, যখন কোনো দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে; অথবা ২. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন থাকলে।
ইরানের ক্ষেত্রে এই দুটি শর্তের কোনোটিই স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালায়নি। এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও সামনে আসেনি যে তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হামলার মুখে পড়ে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া দেশ দুটির আর কোনো উপায় ছিল না। বরং হামলার কয়েক দিন আগেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে ‘আত্মরক্ষার্থে’ ইরানের ওপর এই হামলা বৈধ। আইনি দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এই অঞ্চলে মার্কিন সৈন্য ও ঘাঁটি রক্ষার জন্য সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেছেন।’ বিবৃতিতে ইরানের ‘কয়েক দশকের অপকর্মের’ কথা উল্লেখ করা হলেও, তাদের নেতাকে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্য এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন যে ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধে এই হামলা জরুরি ছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরান থেকে আসন্ন হুমকি মুক্ত করে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা।’ তবে তিনি এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে হামলার আগে ইরান সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করার দ্বারপ্রান্তে ছিল।
‘প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ’ সমসাময়িক আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত না হলেও জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সশস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে আত্মরক্ষার দাবি করার জন্য একটি সশস্ত্র হামলা ঘটতে হবে।
প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন আগাম সশস্ত্র হামলার হুমকির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। তবে কোন পরিস্থিতিকে ‘আগাম’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নির্ধারণ করা খুব জটিল। ‘আগাম’ বলতে আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে একাডেমিকরা বিভক্ত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইরানের দ্বারা আগাম হুমকির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরান প্রায়শই ইসরায়েলকে ‘ধ্বংস’ করার কথা বলে। ইরানের এই আলঙ্কারিক বক্তব্যকে কি আগাম সশস্ত্র হামলার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা যায়? যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ভিক্টর কাট্টান মনে করেন—‘রক্ত ঝরানো ভাষা বা সহিংসতার হুমকি নিজেই কোনো রাষ্ট্রকে আগাম বলপ্রয়োগ করার অধিকার দেয় না।’
ধরা যাক, কেউ বিতর্কিতভাবে আত্মরক্ষার যুক্তি মেনে নিলেন। তবু যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন প্রযোজ্য। এর দুটি মূল নীতি হলো—পার্থক্য ও আনুপাতিকতা। অর্থাৎ যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। আর সামরিক লাভের তুলনায় অতিরিক্ত বেসামরিক ক্ষতি করা যাবে না।
খামেনি কি বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন
যুদ্ধকালীন পরিস্থতিতে একটি দেশের সামরিক কমান্ডাররা বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হন। সাধারণভাবে যুদ্ধের সময় বেসামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবু সশস্ত্র সংঘাতের আইন অনুযায়ী, একজন বেসামরিক নেতা যিনি সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি সম্ভবত একটি সক্রিয় যুদ্ধে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের সামরিক বাহিনীর পোশাকধারী সদস্য ছিলেন না এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। তাঁর এই হাইব্রিড মর্যাদা জটিলতা তৈরি করে।
আইনি বিশ্লেষকরা সাধারণত বলেন যে সশস্ত্র সংঘাত সেদিনই শুরু হয় যেদিন প্রথম আক্রমণ হয়। খামেনিকে হত্যার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার আগে সম্ভবত তিনি বৈধ সামরিক লক্ষ্য ছিলেন না। শান্তিকালীন সময়ে বিদেশি সামরিক সদস্য বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা যিনি সরাসরি শত্রুতা চালাচ্ছেন না তাঁকে হত্যা করা যায় না।
যুদ্ধ শুরু করা কি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ ছিল
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা রয়েছে কেবল দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের। ক্ষমতা না থাকলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট মার্কিন সেনাদের একতরফাভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিয়োজিত করেছেন। ট্রাম্প ও অন্যান্য প্রেসিডেন্ট এ ক্ষেত্রে দেশটির সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন।
কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। এ অনুযায়ী তাঁরা যুক্তি দেন যে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে প্রেসিডেন্ট একপক্ষীয়ভাবে সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে পারেন, এমনকি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই। প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে যদি কোনো অভিযানের প্রত্যাশিত প্রকৃতি, ব্যাপ্তি ও সময়কাল সাংবিধানিক অর্থে ‘যুদ্ধ’-এর চেয়ে কম হয় তবে এটি বৈধ।
তবে ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশনের পর থেকে প্রেসিডেন্টরা বড় যুদ্ধ শুরু করার আগে সাধারণত কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন চেয়েছেন। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আল–কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সর্বসাম্প্রতিক এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
হত্যা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কী বলা যায়
সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে শীতল যুদ্ধ চলার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অনেক বিদেশি নেতাকে হত্যা করে। ১৯৭০-এর দশকে এ নিয়ে তদন্ত হয়, যা সার্চ কমিটি তদন্ত নামে পরিচিত। ওই কমিটির প্রতিবেদনে পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে এ ধরনের হত্যা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
এই নিষেধাজ্ঞা এখন একটি নির্বাহী আদেশের অংশ, যেখানে বলা হয়েছে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা নিযুক্ত বা সরকারের পক্ষে কাজ করা কোনো ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারবেন না বা হত্যায় জড়িত হওয়ার ষড়যন্ত্র করতে পারবেন না।’ আদেশে অবশ্য কোন ধরনের হত্যাকাণ্ডকে গণ্য করা হবে, তা সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।
খামেনিকে কোন দেশ হত্যা করেছে তা কি গুরুত্বপূর্ণ
ইসরায়েল না যুক্তরাষ্টের হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে রাষ্ট্রের দায়বোধ নীতি অনুসারে, যদি কোনো দেশ জেনেশুনে অন্য কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে সহায়তা করে, তাহলে উভয় দেশই অন্যায় কাজের জন্য দোষী বলে বিবেচিত হবে। সেই যুক্তিতে, যদি আয়াতুল্লাহকে হত্যা করা বেআইনি হয়, এবং যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানত যে ইসরায়েল খামেনিকে হত্যা করতে যাচ্ছে, তাহলে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্রও আইনি দায় এড়াতে পারবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন কি আন্তর্জাতিক আইনকে গুরুত্ব দেয়
এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যত্নশীল নয়। কেননা জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী যে আক্রমণ চালায় তা ছিল জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল একটি মেমোতে বলেছে যে সেই অভিযানের সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এই মেমোতে পূর্বের এমন কিছু অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে দেশের অভ্যন্তরীণ আইন অনুসারে প্রেসিডেন্ট অনেক কিছুই করতে পারেন, যা জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইরানের প্রতিক্রিয়া কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
বেশির ভাগ আইনজ্ঞ মনে করেন যে আক্রমণের শিকার হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে দুবাইতে একটি হোটেল ও বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইচ্ছাকৃত আক্রমণ অবৈধ। সংঘাতের পক্ষ নয়, এমন দেশগুলোর ওপর আক্রমণও নিষিদ্ধ।
শেষ কথা
আইন কেবল কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়। এটি এমন একটি কাঠামো, যা শক্তিশালী পক্ষকে সীমাবদ্ধ করে ও দুর্বলদের সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল, তার লক্ষ্য ছিল অযাচিত আগ্রাসন রোধ করা। যদি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো রাষ্ট্র সম্ভাব্য হুমকির অজুহাতে আগাম হামলা চালাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলা কৌশলগতভাবে সফল বা ব্যর্থ হয়েছে কি না সেটি আলাদা বিতর্ক। কিন্তু আইনি বিচারে এই পদক্ষেপ গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন।
আইনের শাসন টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকেও একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে। নইলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমে এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছাবে, যেখানে নীতির চেয়ে শক্তিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
আইনকে উপেক্ষা করা সহজ; কিন্তু তার পরিণতি বহন করা কঠিন। আজ যদি এই নজির প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে আগামী দিনে আরও বড় সংঘাতের দ্বার উন্মুক্ত হবে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আইনের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
ড. মো. আবু নাসের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেকার্সফিল্ডের কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপারসন।
*মতামত লেখকের নিজস্ব