যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায় থেকে যে ধরনের কড়া বক্তব্য এত দিন আসছিল, মিলির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থানের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে নমনীয় অবস্থায় এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার পালে আরেকটু হাওয়া লেগেছে বলে মনে হয়। তার চেয়ে বড় কথা, খেরসন থেকে রাশিয়ান সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিষয়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কি আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক? যদি তাঁরা বৈঠকে বসতে রাজি হনও, তাহলে সেই আলোচনা কীভাবে শুরু হবে?

ইউক্রেন তার ভূখণ্ড থেকে রুশ সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দাবি করেছে। জেলেনস্কি নিজেই এমন একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা তাঁকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পরিষ্কারভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কিয়েভের যে সরকারি অবস্থান, তা কার্যত আলোচনার শর্ত হিসেবে রাশিয়ায় শাসন পরিবর্তনের দাবির সমার্থক।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশটি বছরের শেষ নাগাদ তার জিডিপির ৩৫ শতাংশ হারাতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার অর্থনীতি সাড়ে ৪ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, সম্প্রতি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে।

মস্কো তার দিক থেকে ইউক্রেনের জেলেনস্কি সরকারকে অপসারণের বিষয়ে তার আগের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, তারা কোনো শর্ত ছাড়াই আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ইউক্রেনের দিক থেকে মনে করা হচ্ছে, যখন ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধের অগ্রভাগ দখল করা শুরু করেছে এবং ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের একটি অংশ মুক্ত করেছে, সেই মুহূর্তে আলোচনায় বসা হলো রাশিয়ার জন্য সময়ক্ষেপণের একটি অজুহাত। এ কারণে তারা আলোচনায় আগ্রহী নয়।

তবে জেলেনস্কির সরকার তার আপসহীন অবস্থানকে নমনীয় করার জন্য ওয়াশিংটনের দিক থেকে চাপের মুখে আছে। সম্ভবত সেই সংকেতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সিএনএনের উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি ‘রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলতে তৈরি, তবে একটি ভিন্ন রাশিয়ার সঙ্গে, যে রাশিয়া সত্যিই শান্তির
জন্য প্রস্তুত।’

ইত্যবসরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, পুতিন ক্ষমতায় থাকাকালে আদতে রাশিয়া ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে সব রুশ সেনা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘অতএব, আমরা আমাদের মূল্যায়নে গঠনমূলক অবস্থায় আছি। আমরা রাশিয়ার পরবর্তী নেতার সঙ্গে কথা বলব।’

‘হয় সব পুনরুদ্ধার করব, নয়তো কিছুই না’—এমন একটি ভাষ্যে সম্প্রতি কিয়েভ জোর দিচ্ছে। ইউক্রেন এই যুদ্ধে জিততে যাচ্ছে, এমনটা মনে করার জন্যই তারা এই বক্তব্য দিচ্ছেন কি না, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়।

যদিও ইউক্রেন তার আক্রমণাত্মক সম্ভাবনাকে শেষ হতে দেয়নি, তথাপি পশ্চিমের কাছ থেকে পাওয়া সব সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও তারা শক্তিধর প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে তারা নিজেরাই সন্দিহান আছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশটি বছরের শেষ নাগাদ তার জিডিপির ৩৫ শতাংশ হারাতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার অর্থনীতি সাড়ে ৪ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, সম্প্রতি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে।

যদি রুশ বিমান হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে সোভিয়েত যুগে বানানো অনেক অ্যাপার্টমেন্ট (যেখানে বেশির ভাগ ইউক্রেনীয় বাস করে) বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। কারণ, এ ভবনগুলো কাঠের ফায়ার প্লেসের মাধ্যমে শীতকালে গরম করা হয়।

এ ভবনগুলো বাসযোগ্যতা হারালে তা উদ্বাস্তুদের একটি ঢেউ তৈরি করতে পারে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। সেই বিবেচনায় ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় এগিয়ে আসা উচিত। রাশিয়ারও আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা উচিত।

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

লিওনিড রাগোজিন রিগাভিত্তিক একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক