আলতাফ পারভেজের বিশ্লেষণ
বেলুচিস্তানে ‘২৫ মার্চ’ কি শুরু হয়ে গেছে
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানজুড়ে সম্প্রতি দ্রুতলয়ে গেরিলাযুদ্ধের বিস্তার ঘটছে। সেখানকার পরিস্থিতির পূর্বাপর বিশ্লেষণ করেছেন আলতাফ পারভেজ। দুই পর্বের লেখায় আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।
ঢাকা-কোয়েটা বিমান দূরত্ব বেশ অনেক—প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার। তবে বেলুচিস্তান ও বাংলাদেশ এক দেশই ছিল একসময়। পাকিস্তান কাঠামোতে পাঞ্জাবের প্রভাবের বিপরীতে উভয় অঞ্চল নিজেদের এক কাতারে অনুভব করত।
মূলত স্বায়ত্তশাসনের দাবি বেলুচ ও বাঙালিদের রাজনৈতিকভাবে কাছাকাছি নিয়ে আসে ১৯৫০–এর পর থেকে। এই দাবি মোকাবিলায় পাকিস্তানের শাসকেরা দেশের দুই অংশে দুই কৌশল নেয়। তার একটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানকে সংঘবদ্ধ করতে সেখানকার চার প্রদেশকে প্রশাসনিকভাবে ‘এক ইউনিট’ করা।
এটা হয় ১৯৫৫ সালে। মসনদে তখন ইসকান্দার মির্জা থাকলেও পর্দার আড়ালে ক্ষমতার রশি ছিল সামরিক-বেসামরিক আমলাদের হাতে। ‘ওয়ান ইউনিট’ ফর্মুলা সিন্ধি, পশতু, বালুচদের ভাষা ও সংস্কৃতির ফারাক মুছে সবাইকে ‘পাকিস্তানি’ বানাতে চেয়েছিল। কার্যত তা ঘটে সামান্যই।
‘ওয়ান ইউনিট’ নীতির ১৫ বছর পর পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যায়। ইসকান্দার মির্জা, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান পূর্ব ভূখণ্ডের স্বায়ত্তশাসনের দাবি মোকাবিলা করতে গিয়ে কার্যত তাদের স্বাধীনতার পথে ঠেলে দেন। পশ্চিম পাকিস্তানেও ‘এক ইউনিট’ কৌশল প্রত্যাশামতো কাজ করেনি। তার প্রমাণ ৭০ বছর পর এবার নতুন করে ইসলামাবাদের শাসনের বিরুদ্ধে বালুচদের প্রদেশজুড়ে চলমান বিদ্রোহ।
বেলুচিস্তানে স্থানীয়দের রাজনৈতিক অসন্তোষ অন্তত সাত দশকের পুরোনো। তবে এখন বিষয়টা আর রাজনৈতিক অসন্তোষে সীমিত নেই, চেহারা নিয়েছে ‘যুদ্ধের’। সর্বশেষ অবস্থার তুলনা করা যায় পূর্ব পাকিস্তানের ২৫ মার্চ রাতের ঘটনাবলির সঙ্গে। বলা যায়, বালুচরা এখন নতুন এক ২৫ মার্চের বিরুদ্ধে লড়ছে এবং মরছে।
পাকিস্তানের ইতিহাসের এই দুই অধ্যায়কে মিলিয়ে পাঠ করলে কার্ল মার্ক্সের ১৮৫২ সালের বিখ্যাত সেই উক্তির কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘ইতিহাসের অনেক সময় পুনরাবৃত্তি ঘটে। কখনো ঘটে ট্র্যাজেডি আকারে, কখনো প্রহসন রূপে।’
ঢাকায় ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ যা হয়, সেটা নিশ্চিতভাবে ট্র্যাজেডি ছিল। কোয়েটা এবং আশপাশে এই ফেব্রুয়ারিতে যা ঘটছে তাকে বলা যায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াজনিত প্রহসন। ট্র্যাজেডি ও প্রহসন মানুষকে অনেক সময় নতুন সম্ভাবনার সামনেও নিয়ে আসে।
যেভাবে সামন্ততন্ত্র টিকে আছে
বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে বাংলার কিছুটা মিল থাকলেও সমাজগঠন অনেকটা আলাদা। প্রদেশের মানুষ বিভিন্ন ট্রাইবে বিভক্ত। সেখানে সমাজ চলে সরদারি ব্যবস্থায়। প্রত্যেক ট্রাইবের মুরব্বিদের নিয়ে একধরনের পঞ্চায়েত আছে, যাকে স্থানীয়ভাবে জিরগা বলে। জিরগার পরামর্শ আর ‘নিজাম’–এর অধীনে ট্রাইবগুলো চলছে। ব্যবস্থাটা সামন্ততান্ত্রিক। সামন্ত প্রভুদের সবারই ছোটখাটো আধা সামরিক বাহিনীও ছিল অতীতে।
দেশটির কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক আবহ এবং জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন থাকলে এত দিনে হয়তো বালুচদের সামন্তীয় সমাজ অনেক পাল্টাত। অথচ ঘটছে উল্টো। ট্রাইবাল সরদাররা বিভিন্ন সময় স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা চেয়ে আহত-নিহত হয়ে নিজ নিজ সমাজে কিংবদন্তিসম নায়ক হয়ে আছেন। সাধারণ মানুষ মনে করে মূলত ইসলামাবাদ, লাহোর আর করাচির কুলীনদের সচেতন অবহেলায় বেলুচিস্তানের দুরবস্থা।
এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে পাকিস্তানের বিশাল সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে অসম লড়াইয়ে ক্ষুদ্র শক্তির সামন্ত সরদাররা পরিস্থিতি পাল্টাতে পারবে বলেও মনে করে না সাধারণ বালুচরা। সে জন্যই সরদারদের ‘অসফলতা’র পর একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ভার নিয়েছে এখন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা। এবারের সশস্ত্র গণ–অভ্যুত্থানচেষ্টায় সামনের কাতারে দেখা যাচ্ছে বিএলএ বা বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির তরুণ-তরুণীদের।
কেন ‘পাকিস্তান’ বালুচদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না
বাংলাদেশে ২৫ মার্চ রাতকে ‘কালরাত’ হিসেবে পালন করা হয়। বালুচরা তাদের এবারকার সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধের নাম দিয়েছে ‘হেরফ-২’। স্থানীয় ভাষায় হেরফ হলো কালো ঝড় বা ঝোড়ো শক্তি। এ রকম ‘হেরফ-১’ শুরু করে তারা গত অক্টোবরে। জনপ্রিয় বালুচ কবি করিম দস্তির (১৯৩৯-১৯৮৪) কবিতায় বারবার এ রকম ঝোড়ো শক্তির আহ্বান দেখা যেত। অতঃপর সেই হেরফ এসেছে তাঁর ভূমিতে।
পাকিস্তানের কাঠামোতে পাঞ্জাব ও সিন্ধু যেখানে তুলনামূলকভাবে শান্ত, বেলুচিস্তান এত অস্থির কেন—এ প্রশ্ন ওঠে হামেশা। এর বহু কারণ আছে। প্রথমত ব্রিটিশ শাসনামলেও এই জনপদের অনেক জায়গা স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত। পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোতে সেটা হারিয়ে ফেলেছে তারা।
দ্বিতীয়ত, আয়তনে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও (৩৯ শতাংশ) দেশটির রাজনীতি ও সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রে বালুচদের হিস্যা অতি নগণ্য। ৩৩৬ আসনের জাতীয় পার্লামেন্টে বেলুচিস্তানের আসন আছে মাত্র ২০টি; যেখানে পাঞ্জাবের জন্য রয়েছে ১৭৩টি, সিন্ধুর ৭৫টি। বালুচদের কম আসনের যুক্তি হিসেবে বলা হয়, তারা জনসংখ্যায় কম।
নিজ দেশের জনগণের একাংশের বিরুদ্ধে বারবার এ রকম ‘অপারেশন’ চালানো কোনো সরকারের জন্য গৌরবের নয়। উপরন্তু গত এক বছরে আলোচ্য দুই হামলায় বিএলএর সামরিক শক্তি বিকাশের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সীমিত পরিসরের গেরিলাযুদ্ধকে তারা এখন বহুমুখী প্রতিরোধযুদ্ধে রূপ দিতে চাইছে।
প্রদেশজুড়ে প্রচুর খনিজ এবং পাশে সমুদ্রবন্দর–সুবিধার পরও বেলুচিস্তানের মানুষ বেশ দরিদ্র। পরিসংখ্যানের হিসাবে সেটা পাঞ্জাবের চেয়ে দ্বিগুণ। এসব কারণেই বালুচরা সাত দশক ধরে স্বাধীনতা চাইছে। অনেক ট্রাইবাল প্রধান এই চাওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিহত হয়েছেন। ১৯৭৩ সালে ভুট্টোর আমলে বড় আকারে বিদ্রোহ ঘটে একদফা। ইরানের শাহর উৎসাহে শুরু করা পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্মম এক দমনাভিযান চালায় সেই সময়।
তারপর চলতি শতাব্দীর শুরু থেকে নতুন করে আবার জাতীয়তাবাদী উত্তাপ বাড়তে শুরু করে। কেন্দ্রীয় সরকার সব সময় বালুচ অসন্তোষকে সামরিক সমস্যা ভাবে। ২০০৬ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সময় প্রতিবাদী ট্রাইবাল নেতা আকবর বুগতি এক পাহাড়ের গুহায় বোমা হামলায় নিহত হন। এই ঘটনা বালুচ তরুণদের ব্যাপকভাবে আহত ও ক্ষুব্ধ করে।
আকবর বুগতি যে কেবল স্বাধীনতাকামী বুগতি ট্রাইবের প্রধান ছিলেন তা নয়—তিনি অনেকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রদেশের গভর্নরও ছিলেন। স্থানীয়দের বাড়তি রাজনৈতিক অধিকার চাওয়া মাত্র তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়।
‘বুগতি’দের মতোই ‘মারি’ এবং ‘মেঙ্গল’ ট্রাইবের নেতারাও অনেকে দ্বিমুখী রাজনৈতিক চাপে আছেন। একদিকে তাঁদের ট্রাইব সদস্যরা চান অধিকারের সংগ্রাম, অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এ ধরনের যেকোনো সংগ্রামকে ‘বাংলাদেশ সিনড্রোম’ হিসেবে দেখে। বুগতি, মারি প্রভৃতি ট্রাইবের মাঝে বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক মুক্তি এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন নিয়ে অনেক বিভেদও আছে। ট্রাইবাল এ রকম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেও অনেক বালুচ স্বাধীনতাকামী মারা গেছেন বিগত ২-৩ দশকে।
ফেব্রুয়ারির ‘বজ্রনির্ঘোষ’
পাকিস্তানের সুপরিচিত গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজের মতে, ২০২৫ সালে বেলুচিস্তানে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র অন্তত ২৫৪টি ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে ৪০০ জন মানুষ মারা গেছে। এটা আগের বছরের অনুরূপ ঘটনার চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। এসব তথ্য যদি সত্য হয় তাহলে এ–ও তাতে যুক্ত করতে হবে, এ বছর হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়বে।
এবার ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহ প্রদেশের ১২ জায়গায় একযোগে পাকিস্তান সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের বিভিন্ন স্থাপনায় সশস্ত্র হামলা শুরু করে বালুচ তরুণ-তরুণীরা। তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনেক জওয়ান মারা যায়। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয় তাদের। দুই দিন অন্তত প্রদেশের অনেক শহরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল সরকার।
প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী শিগগির প্রদেশজুড়ে ব্যাপক সামরিক অভিযানে নেমেছে। বলা যায়, একরূপ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাবস্থায় আছে বেলুচিস্তান। উভয় পক্ষই মাঝে মাঝে নানা ধরনের সফলতার দাবি করছে। সেই ‘সফলতা’ হলো কে কার কতজনকে হত্যা করতে পারল!
বেলুচিস্তানের ভেতর সাংবাদিকেরা সামান্যই কাজ করতে পারছেন। ফলে যুদ্ধরতদের দাবিদাওয়া নিরপেক্ষ কোনো সূত্র দ্বারা যাচাইয়ের সুযোগ ক্ষীণ। পারস্পরিক বিবৃতি এবং এক্স হ্যান্ডলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো ইঙ্গিত দেয়, হতাহতের ঘটনা অনেক।
বিএলএ এবারের সমন্বিত আক্রমণের আগে গত ১১ মার্চ সৈন্য বোঝাই জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাক করেও আলোড়ন তুলেছিল বিশ্বজুড়ে। সেই ট্রেন ও তার যাত্রীদের উদ্ধার করতে দুর্গম বোলান পাসে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধ হয় এবং তাতে উভয় পক্ষের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাকিস্তান সরকার ওই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন গ্রিন বোলান’।
বলা বাহুল্য, নিজ দেশের জনগণের একাংশের বিরুদ্ধে বারবার এ রকম ‘অপারেশন’ চালানো কোনো সরকারের জন্য গৌরবের নয়। উপরন্তু গত এক বছরে আলোচ্য দুই হামলায় বিএলএর সামরিক শক্তি বিকাশের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সীমিত পরিসরের গেরিলাযুদ্ধকে তারা এখন বহুমুখী প্রতিরোধযুদ্ধে রূপ দিতে চাইছে।
সংকটের কেন্দ্রে আছে চীনও
বালুচদের রাজনৈতিক সংগ্রামের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের দিক পাঞ্জাব ও সিন্ধুর নেতারা তাঁদের দাবিদাওয়াকে রাজনৈতিকভাবে আমলে নেন না কখনো। এ রকম মনোভাবের কারণেই প্রদেশের খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ আখতার মেঙ্গল ২০২৪–এর সেপ্টেম্বরে জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। আখতার মেঙ্গল হলেন মেঙ্গল ট্রাইবের সরদার আতাউল্লাহ মেঙ্গলের পুত্র। আতাউল্লাহ বেলুচিস্তান ছাড়িয়ে করাচির ঘনবসতি এলাকা লেয়ারির বালুচদের মাঝে এত জনপ্রিয় ছিলেন যে ঘরে ঘরে তাঁর ছবি টাঙানো দেখা যেত।
বুগতি, মেঙ্গল প্রভৃতি ট্রাইব সরদারদের নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া বেলুচিস্তানজুড়ে তীব্র হতাশার এক প্রকাশ। তরুণ বালুচরা সংগত কারণে মনে করছে, অহিংস রাজনৈতিক ধারায় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। ইসলামাবাদের শাসক এবং তাদের চিন্তা এভাবে সংঘাতের বিন্দুতে এসে মিশছে।
অতীতে গেরিলাদের সংখ্যা কম ছিল। পাকিস্তান বাহিনী কয়েক বছর পরপর বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলত। এখন সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। বিএলএর নব উত্থান সশস্ত্র বাহিনীকে মুশকিলে ফেলেছে ভিন্ন আরেক কারণেও।
আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে টিটিপি নামে পরিচিত স্থানীয় তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। বালুচ গেরিলাদের আদর্শিক ধরন যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ ধাঁচের, টিটিপির যোদ্ধারা সেখানে লড়ছে শরিয়াহভিত্তিক পাকিস্তানের জন্য। তবে সেনাবাহিনীর জন্য উভয়ের দিক থেকে সামরিক চ্যালেঞ্জ একই রকম।
টিটিপিকে পাকিস্তান সরকার নাম দিয়েছে ‘ফিতনা-ই-খারিজি’। পাকিস্তানের এই তালেবানরা বেশ বড় আয়তনে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে পশতু এলাকায়। এর বাইরে ভারত সীমান্তেও পাকিস্তানকে নিয়মিত সতর্ক থাকতে হয়। এ অবস্থায় বেলুচিস্তানজুড়ে যুদ্ধাবস্থা সামরিক দিক থেকে পাকিস্তানকে বেশ চাপে ফেলেছে। এই যুদ্ধ প্রদেশটিতে থাকা চীনের অর্থনৈতিক করিডোরের জন্যও উদীয়মান এক হুমকি।
চীনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের এক বড় ভরকেন্দ্র বেলুচিস্তান। এখানে পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছে তারা। বালুচরা মনে করে, তাদের অঞ্চলে চীনের উপস্থিতির ধরন অনেকটা নয়া উপনিবেশবাদী আদলে ঘটছে।
চীনারা এসে পুরোনো ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে মিলে অর্থনৈতিক লুণ্ঠন আরও গতিশীল করেছে কেবল। এ রকম আবেগের ফল প্রতিক্রিয়া হিসেবে ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত ১০-১১ বার হামলা হয়েছে চীনের নাগরিকদের বিরুদ্ধে। এ রকম হামলা হচ্ছে বেলুচিস্তানের বাইরে করাচিতেও।
পাকিস্তান সরকার এসবকে যে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে দেখাবে তারও উপায় নেই। কারণ, ‘বালুচ একজাতি কমিটি’ ও ‘হক দো তেহরিক’ নামের দুটি নাগরিক সংগঠনও বেলুচিস্তানে চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং করেছে বিভিন্ন সময়। সেসবে সাধারণ নারীদের অংশগ্রহণও থাকত ব্যাপক। তবে এ রকম সমাবেশ করা এখন অনেক দুরূহ। তাতে আবার সশস্ত্রপন্থী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির সুবিধা হয়েছে নতুন কর্মী পেতে।
আলতাফ পারভেজ গবেষক ও লেখক
*মতামত লেখকের নিজস্ব
