বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যে হাল, তাতে এ চিত্রকে খুব মন্দ বলা যায় না। গবেষণায় বিসিকের নানামুখী সমস্যা উঠে এসেছে; যার কিছু অতি সাম্প্রতিক এবং বাকিগুলো অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যাটি সাম্প্রতিক। কেবল বিসিক শিল্পনগরী নয়, দেশের সব শিল্পকারখানাই গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ভুগছে। সার্বিকভাবে জ্বালানির উৎপাদন কিংবা আমদানি বাড়াতে না পারলে এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় নেই। তারপরও শ্রমঘন ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার প্রতি সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্ধেক উদ্যোক্তা গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথা বলেছেন।

দ্বিতীয়ত, বিসিক শিল্পনগরীতে জমির সমস্যা আছে। কোথাও উদ্যোক্তারা কম জমির কারণে কারখানার পরিধি বাড়াতে পারছেন না। আবার অনেকে প্লট নিয়ে সেখানে কারখানা স্থাপন না করে জমি ফেলে রেখেছেন। আইনে বলা আছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানা স্থাপন করতে না পারলে বিসিক কর্তৃপক্ষকে তা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিসিক শিল্পনগরীর প্লট নিয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখেন বেশি দামে বিক্রি করার আশায়। শিল্পনগরীর বিকাশের ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা। ৬৭ শতাংশ উদ্যোক্তা মনে করেন, বিসিক শিল্পনগরীর রাস্তা, নালাসহ অবকাঠামোগত সমস্যাই সেখানকার শিল্প উন্নয়নের পথে অন্তরায়। ঢাকার জামদানি, লক্ষ্মীপুর ও পাবনা বিসিক শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ও নালার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান আমলে বিসিক শিল্পনগরীর যাত্রা শুরু হলেও স্বাধীনতার পর এটি বিকশিত হয়। কিন্তু এসব শিল্পনগরের কারখানার জন্য যে অবকাঠামো ও পরিষেবা দেওয়া প্রয়োজন, বেশির ভাগ স্থানে তা নেই। নেই পরিবেশগত সুরক্ষাও।

বিসিকের গবেষণায় উল্লেখিত সমস্যাগুলো নতুন নয়। বহু বছর ধরেই এ সমস্যা চলে আসছে। উদ্যোক্তারা শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ও পরিষেবার জন্য বিসিক কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকে। সেই পরিষেবা দেওয়া বিসিক কর্তৃপক্ষের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। পরিষেবা বাড়ানো কিংবা নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য হরেক রকম গবেষণার প্রয়োজন নেই। আমরা আশা করব, নতুন করে গবেষণায় সময়ক্ষেপণ না করে সমস্যাগুলো সমাধানে বিসিক কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেবে।