৯/১১ পৃথিবীকে কতটা বদলে দিয়েছে

৯/১১-এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে গত ২৫ বছরে যেসব যুদ্ধ, সংঘাত, আগ্রাসন, সহিংসতা ঘটেছে, তাতে কত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তার সঠিক হিসাব নেই। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন, গৃহহীন হয়েছেন, সর্বস্ব হারিয়েছেন। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর অনেক কিছুই কীভাবে বদলে গেছে, তা নিয়ে লিখেছেন আলী রীয়াজ 

হামলার পর জ্বলছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ‘টুইন টাওয়ার’ছবি: রয়টার্স
আলী রীয়াজ

২৫ বছর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার অভাবনীয় হামলার ঘটনার অভিঘাত এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

গত সিকি শতাব্দীতে এর প্রভাবে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, এখনো এর প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান। তেমনি এ ঘটনা মার্কিন রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন সব পরিবর্তন ঘটিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়া চারপাশে গভীরভাবে তাকালেই বোঝা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সেই ঘটনার সময় জন্মগ্রহণ না করলেও ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলা এবং এর ধারাবাহিকতায় সংঘটিত ঘটনাবলির প্রভাব জ্ঞাত-অজ্ঞাতে তাঁদের জীবনে আজও উপস্থিত।

বিশ্বে কী ঘটল? 

সারা বিশ্বে এ ঘটনার সহিংস প্রতিক্রিয়া এতটা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থেকেছে যে সেদিনের শিশু-কিশোর থেকে বয়োবৃদ্ধ কেউই তা থেকে মুক্ত থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর’ বা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ’-এর
নামে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযান ঘটেছে, ইরাকে অবৈধ দখলদারত্ব ঘটেছে। সেখানেই তার সীমা আটকে থাকেনি। তার আঁচ লেগেছে পাকিস্তানে।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ওয়ার অন টেরর’ কথাটির ব্যবহার বন্ধ করে দিলেও তার আগেই এই অজুহাতে মধ্য-এশিয়া, আফ্রিকা মহাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা সরকারবিরোধী শক্তিগুলোকে ‘আইনি প্রক্রিয়ায়’ নিপীড়ন-নির্যাতন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় মার্কিন কর্তৃত্ব এবং উপস্থিতি নিরঙ্কুশ হয়েছে, ইসরায়েলের শক্তি ও প্রভাব বেড়েছে।

পশ্চিমা বিশ্বে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় ‘সন্ত্রাস দমন আইন’ করে নাগরিকদের অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্র স্থাপন করেছে গোপন বন্দিশালা, অব্যাহত আছে গুয়ানতানামোর কারাগার, জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালানো হয়েছে নিপীড়ন।

► যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর’ বা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ’-এর নামে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযান ঘটেছে, ইরাকে অবৈধ দখলদারত্ব ঘটেছে। সেখানেই তার সীমা আটকে থাকেনি। ► ৯/১১-এর পরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইসলাম এবং মুসলিমবিরোধী প্রচারণা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে তা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোকে নগ্নভাবে হাতিয়ারে পরিণত করে।

ভারতসহ যেসব দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘু, সেখানে গোটা মুসলিম জনগোষ্ঠীকেই সমাজের মূলস্রোত থেকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে প্রান্তে; রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় আচরণে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে তাদের ‘শত্রু’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের মোকাবিলার কথা বলে এসব করা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবানের পতনের পর সেই সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়লেও তার বিস্তার ঘটেছে বিভিন্ন দেশে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোয় সহিংস উগ্রবাদী সংগঠনগুলো বিস্তার লাভের সুযোগ পেয়েছে। ইরাকে আগ্রাসনের পরিণতিতে যে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং মার্কিন সেনাদের সঙ্গে লড়াই হয়েছে, তার সুযোগে উত্থান ঘটেছিল আইসিসের, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উগ্রবাদীরা তাতে যোগ দিয়েছিল, যার শাখা–প্রশাখা এখনো বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় আছে।

আল কায়েদার হামলার পর জ্বলছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ‘টুইন টাওয়ার’
ফাইল ছবি

প্রতিটি ঘটনাই দশকের পর দশক ধরে বৈশ্বিকভাবে রাজনীতির পথরেখা নির্ধারণ করেছে। এর উদাহরণ হচ্ছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে, ক্ষমতায় তালেবানের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। কিন্তু একসময়কার উগ্রবাদী তালেবানকে এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে আইসিসের একটি শাখাকে।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে সহিংস উগ্রবাদীদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, আজকে তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরাই পাকিস্তান রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। যে তালেবানকে পাকিস্তান দুঃসময়ে আশ্রয় দিয়েছিল, এখন তাদের সম্পর্ক শত্রুতার।

৯/১১-এর পরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইসলাম এবং মুসলিমবিরোধী প্রচারণা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে তা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোকে নগ্নভাবে হাতিয়ারে পরিণত করে, রাষ্ট্রকে ব্যবহার করাকে বৈধতা দেয়। তার একটি উদাহরণ হচ্ছে চীন কর্তৃক উইঘুর জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষকে আটক এবং তাঁদের ওপরে নিপীড়ন। 

পশ্চিমা বিশ্বে, বিশেষত ইউরোপে, নিরাপত্তা ও উগ্রবাদ মোকাবিলার জন্য প্রণীত নীতি মুসলিম জনগোষ্ঠী বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রচারিত এবং ব্যবহৃত হয় যে তা দীর্ঘ মেয়াদে বর্ণবাদ এবং জেনোফোবিয়াকে (বিদেশি আতঙ্কে) বৈধতা দিয়েছে। 

সমাজে এ ধরনের মত ও প্রবণতা ছিল ফ্রিঞ্জ বা একেবারে স্বল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ এসব সমাজে দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিত থাকলেও ২০০১ সালের পর পর্যায়ক্রমে তা মূলস্রোতে পরিণত হয়েছে। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিতে যে দক্ষিণপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের উত্থান ঘটেছে এবং তার একাংশ যে সহিংস রূপ নিয়েছে, তার উৎস ও বৈধতা তৈরি হয়েছে ৯/১১-পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ওই সব সমাজে অভ্যন্তরীণভাবে রাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি ও কৌশলের কারণে।

আরও পড়ুন

মুসলিম সমাজে প্রতিক্রিয়া

বৈশ্বিকভাবে যুদ্ধ ও সহিংসতা, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিস্তার, মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচারণার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের ভেতরেও বিভিন্ন প্রশ্নে মতপার্থক্য-বিরোধ আরও দৃশ্যমান হয়েছে; শিয়া-সুন্নির সম্প্রদায়গত ফারাক, বিভিন্ন মাজহাব এবং মাসলাকের দূরত্ব যেমন আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে, তেমনি এগুলোকে কেন্দ্র করে বিবাদ-বিসংবাদ-সহিংসতাও বেড়েছে।

মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আবেদন বৃদ্ধি পেয়েছে, একাংশের মধ্যে সহিংসতা ও উগ্রবাদের প্রতি সমর্থন ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, আরেক অংশের মধ্যে ধর্ম ও রাজনীতিকে আলাদা করার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এসব বিষয়ে বিতর্ক, বিশেষ করে ইসলামের দৃষ্টিতে সহিংসতার গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন, আলেম–সমাজ, ইসলামি চিন্তাবিদ, একাডেমিক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি তাঁদের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

এসব বিভক্তি আগেও ছিল, কিন্তু গত ২৫ বছরে আরও বেশি সামনে এসেছে। ৯/১১-পরবর্তী পরিস্থিতি এর একমাত্র কারণ নয়, কিন্তু তা যে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে, তা অনস্বীকার্য।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ও কাঠামোগত পরিবর্তন

২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার পরে মার্কিন রাষ্ট্র ও সমাজে যেসব পরিবর্তন ঘটেছে, তার অনেক কিছু স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। পেট্রিয়ট অ্যাক্ট, যা পাস হয়েছিল হামলার ৪৫ দিন পরে, সরকারকে সাময়িকভাবে টেলিফোনে আড়ি পাতার অবারিত ক্ষমতা দিয়েছিল; আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবসান ঘটে ২০২০ সালে। কিন্তু ইতিমধ্যে এই আইনের প্রধান প্রধান বিষয় স্থায়ী আইনে রূপ নিয়েছে।

নাগরিকের প্রাইভেসির এই আইনি বরখেলাফ নিয়ে মার্কিন সমাজে এখন আর আলোচনা হয় না। ‘নিরাপত্তার’ নামে একে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বলেই ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, যার ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (সংক্ষেপে আইসিই—আইস)। গত কয়েক বছরে এই সংস্থা কেবল অভিবাসীদের জন্য নয়, এমনকি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্যও এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে; আইস কমপক্ষে ২২৫টি ডিটেনশন সেন্টার ব্যবহার করছে, যেখানে অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ষাটের দশক থেকেই আছে, কিন্তু ২০০১ সালের পরে যুক্তরাষ্ট্র এক অন্তহীন যুদ্ধের ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি রূপ দিয়েছে। ২০০১ সালে মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের যে ক্ষমতা দিয়েছিল, তার আইনি রূপ হচ্ছে ‘২০০১ অথরাইজেশন ফর ইউজ অব মিলিটারি ফোর্স’।

১৯৯১ ও ২০০৬ সালে দেওয়া এ ধরনের ক্ষমতার কার্যকারিতা ইতিমধ্যে অবসান হলেও ২০০১ সালের এ ব্যবস্থার শেষ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কথা বলে যেকোনো দেশে যেকোনো সময়ে যুক্ত হচ্ছে। গত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ৭৮টি দেশের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতার নামে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালিয়েছে।

এ ব্যবস্থার কারণেই মার্কিন নাগরিকদের এক বড় অংশের কাছে অন্তহীন যুদ্ধকে গ্রহণযোগ্য বলেই মনে হয়। ইরানে এখন যে যুদ্ধ চলছে, তা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ এই অনন্ত যুদ্ধের ধারণার বিরুদ্ধে নয়, তাঁদের প্রতিদিনের জীবনে তার প্রভাবের কারণে। এ ধরনের অনন্ত যুদ্ধের জন্য দরকার হয় শত্রু তৈরি করা—ঘরে ও বাইরে।

মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ‘শত্রুর’ ধারণা যে কত গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে এবং তা যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছে, তার সাম্প্রতিক প্রমাণ হচ্ছে ইসলাম এবং মুসলিমদের সম্পর্কে পিউ রিসার্চ সেন্টারের করা জরিপের ফল। ২০০১ সালে ২৫ শতাংশ নাগরিক মনে করতেন যে অন্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম সহিংসতাকে উৎসাহ দেয়, এ বছরের মে মাসের জরিপে তা দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

পেট্রিয়ট অ্যাক্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের আইন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা যে ধরনের ক্ষমতা ২০০১ সালের পরে জরুরি বিবেচনায় নির্বাহী বিভাগকে দিয়েছিল, তার অধিকাংশই এখনো ভিন্ন ভিন্ন রূপে সেভাবেই আছে। এগুলো বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের সময়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদিনই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা কেবল নিরাপত্তাজনিত ক্ষেত্রেই নয়। ২০০১ সালের পরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার যে বৃদ্ধি ঘটেছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ছিল কি না, সেই প্রশ্ন করা যায়।

অভ্যন্তরীণভাবে যেসব পরিবর্তন ঘটেছে, তার অন্যতম হচ্ছে পুলিশের সামরিকীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি যুদ্ধে জড়িয়েছে, তত বেশি ব্যবহৃত অস্ত্র দেশে এনে তা বাতিল করতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দুটি কর্মসূচি আছে—এগুলো ১০৩৩ এবং ১১২২ কর্মসূচি বলে চিহ্নিত। এর আওতায় পুলিশ বিভাগগুলোয় সরকার কয়েক শ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

১০৩৩ কর্মসূচি প্রতিরক্ষা বিভাগকে বিনা মূল্যে পুলিশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করার অনুমতি দেয়। ১১২২ কর্মসূচির আওতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম সামরিক বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ছাড়ের হারে তার ‘নিজস্ব তহবিল’ (করদাতাদের অর্থ) দিয়ে কিনতে দেওয়া হয় । এই সরঞ্জামগুলোর মধ্যে গোলাবারুদ, অস্ত্র এবং কৌশলগত সাঁজোয়া যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলোই এখন পুলিশ ব্যবহার করে, যে কারণে পুলিশের আচরণ প্রাণঘাতী বলে প্রতীয়মান হয়।

শেষ কথা নয়

গত ২৫ বছরে ৯/১১-এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে যেসব যুদ্ধ, সংঘাত, আগ্রাসন, সহিংসতা ঘটেছে, তাতে কত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তার সঠিক হিসাব নেই, কয়েক লাখ বললে সম্ভবত কমই বলা হবে। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন, গৃহহীন হয়েছেন, সর্বস্ব হারিয়েছেন; আমরা মানবিক বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছি। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর অনেক কিছুই বদলে গেছে, যার ছায়ায় আমাদের সবাইকেই বাস করতে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও করতে হবে।

আলী রীয়াজ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর।

*মতামত লেখকের নিজস্ব