ক) যোগাযোগ—কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ফেনী পর্যন্ত রেল কিংবা সড়কপথ—দুটিই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
খ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমার সেক্টরজুড়ে তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জানা গেছে, পাকিস্তানি বাহিনী ভয়ে কুমিল্লা ছেড়ে চান্দিনা সরে যেতে শুরু করেছে।
গ) সেক্টরের জেলাগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘাঁটি নির্মিত হয়েছে এবং আরও ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
ঘ) ঢাকার বিভিন্ন সাবস্টেশনগুলোর বিদ্যুৎ বহনকারী পাইপলাইন ও ট্রান্সফরমারগুলো এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে যে ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। ঢাকার জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং মিল–কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। যে কারণে তেমন প্রকট অনুভূত হচ্ছে না।
ঙ) শত্রুরা মনোবল হারাচ্ছে ব্যাপকভাবে।
চ) মুক্তিবাহিনী পুনর্গঠনে আমার সেক্টরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় রেখে সেক্টরে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিত্রবাহিনী আমাকে সহায়তা করছে।
ছ) ছেলেদের ৩.৭ ইঞ্চি মাউন্টেন কামান ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আগস্ট তাদের দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রথম ব্যাটারির নাম দিয়েছি ‘মুজিব ব্যাটারি’। ইতিমধ্যে আমি দুজন অফিসারকে এই ব্যাটারিতে নিয়োগ দিয়েছি। এবং ১০ আগস্ট থেকে তাঁরা সক্রিয় হবেন।

আমাদের সেক্টরকে শতভাগ দক্ষ করে গড়ে তুলতে চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না। পূর্ব অভিজ্ঞতা আর সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাব।
একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই যে আমার দক্ষিণের সেক্টরে (চিটাগং) আগে যুদ্ধ পরিচালনায় অদক্ষতা এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমার সেক্টরের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদি এখন সেক্টরটিকে সক্রিয় করা না হয়, তাহলে শত্রুরা সুবিধা পাবে।
জানা গেছে, এই সেক্টরে (চিটাগাং) অদক্ষতার পাশাপাশি সৈন্যদের দুর্নীতি এবং স্থানীয় উপজাতীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সবকিছুই স্থানীয় জনগণ এবং ‘মুক্তিবাহিনী’র নৈতিকতায় প্রভাব ফেলেছে। এই দুরবস্থা চরমপন্থীদের উৎসাহিত করছে। এখনোই এদের দমন করা না গেলে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ক্যাপ্টেন রফিক একজন আন্তরিক এবং খুবই সাহসী অফিসার। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে আপনি জানতে চেয়েছিলেন, আমি চিটাগাংয়ের দায়িত্ব নিতে পারি কি না! সেক্টর গোছাতে ব্যস্ত থাকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি সেই দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানিয়েছিলাম। এখন আমি সাগ্রহে এই দায়িত্বে গ্রহণে প্রস্তুত আছি। এমনটি হলে আমরা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারব।

মুদ্রাস্ফীতি ও দুর্ভিক্ষের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধ পরিচালনা করা ব্যয়বহুল। যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থ জোগান ব্যাহত হলে কার্যকরভাবে যুদ্ধ চলানো কঠিন হয়ে পড়বে। সহযোগী সংস্থাগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাচ্ছে না।

অস্ত্র সরবরাহ যথেষ্ট নয়।  গেরিলাদের জন্য যেসব অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে, তা দাতা সংস্থাগুলো আপনার নির্দেশ মান্য করছে না। যে কারণে গেরিলারা প্রতি ১০ জনে মাত্র ২টি স্টেনগান পাচ্ছে। যে কারণে আমি ছেলেদের দিয়ে দেশের ভেতরে কার্যকরভাবে অপারেশন চালাতে ভয় পাচ্ছি। আমার প্রস্তাব হলো মিত্রশক্তি যেন আপনার নির্দেশমতো অস্ত্র সরবরাহ করে।

মিত্রশক্তি একটি সংস্থার মাধ্যমে এক ব্যাটালিয়ানের জন্য মাত্র ৩৭টি এলএমজি বরাদ্দ দিয়েছে, অথচ আপনি অনুমোদন দিয়েছেন ৭২টি। বিষয়টি আমি তাদের জানিয়েছি কিন্তু মনে হয় মিত্রশক্তির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুগ্রহ করে আপনি বিষয়টি তাদের নজরে আনলে ভালো হয়।

যেসব মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা শাহাদতবরণ করেছেন, তাঁদের পরিবারগুলো অবর্ণনীয় দুর্দশায় পতিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাদের জন্য এখানো কোনো সহযোগিতা করতে পারছে না। জনগণের মনোবল রক্ষার জন্য হতভাগ্য পরিবারগুলোকে অনতিবিলম্বে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা উচিত। এ ছাড়া সেক্টর কমান্ডারদের জন্য একটি তহবিল গঠন করে সাহায্য দেওয়া যায়।

ভারতে আসা পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যাঁদের এসপি পদে নিয়োগ দিয়েছে, তাঁরা প্রায় নিষ্ক্রিয় এবং কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এই পুলিশ অফিসারদের ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তের বেল্টগুলোর প্রবেশপথে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। সেক্টর কমান্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ভারতে আসা–যাওয়ায় তদন্তের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছ থেকে স্মারক নম্বর ১১২১/এ তারিখ ৩১ জুলাই ৭১ একটি পোস্টিং অর্ডার পেয়েছি। এই অর্ডার এবং স্মারক নম্বরে নিম্নলিখিত অফিসারদের সম্প্রতি আমার সেক্টরে বদলি করা হয়েছে। আমাকে আমার সেক্টর থেকে চারজন অফিসারকে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। অফিসাররা হলেন—
১) মেজর শাফায়েত জামিল—৩ ই বেঙ্গল।
২) মেজর মোহাম্মদ আমিন—৪ ই বেঙ্গল।
৩) ক্যাপ্টেন আমিন আহাম্মেদ চৌধুরী—ময়মনসিংহ সেক্টর।
৪) ক্যাপ্টেন মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী—১ ই বেঙ্গল।
৫) ক্যাপ্টেন সহিদুল্লাহ্ ভূঁইয়া—বাংলাদেশ ফোর্সের সদর দপ্তর।
৬) ক্যাপ্টেন আকবর হোসেন—৩ উত্তরবঙ্গ।
৭) ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান—ব্রিগেড সদর দপ্তরে পোস্ট করা হয়েছে, যার স্মারক নম্বর বিডিএফ ১১২১/এ, ৩১ জুলাই ৭১।
৮) ক্যাপ্টেন আবদুস সালেক চৌধুরীকে আপনার নির্দেশমতো সেক্টর কমান্ডার পদে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া আমরা সেক্টরের প্রথম আর্টিলারি ব্যাটারিতে (মুজিব ব্যাটারি) দুজন অফিসারসহ লোক নিয়োগ দিয়েছি। ফলে কমসংখ্যক অফিসার নিয়ে কাজ করছি, যাঁদের ছাড়া সেক্টর পরিচালনা করা কঠিন হবে। বিশেষ করে আমি যখন চারটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা এবং জেলাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নজর রাখছি। তাই আরও অফিসার আমার সেক্টরে নিয়োগ না দিলে যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করি। আপনি সাম্প্রতিক সাক্ষাতের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আর কোনো অফিসারকে আমার সেক্টর থেকে প্রত্যাহার করা হবে না।

৩ নভেম্বর জেনারেল খালেদ মোশাররফ খুনি মেজরচক্র এবং মোশতাককে অপসারণ করে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনরুদ্ধার করে সংবিধানকে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন। আলোচনায় বসে মোশতাককে পদত্যাগ ও বঙ্গভবন থেকে ট্যাংক ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার শর্ত দেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে মোশতাকের নির্দেশে চার জাতীয় নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হয়। ফলে দ্রুত ঘটনা মোড় নিতে থাকে।

আপনার শেষ ডিওতে উল্লেখ করেছেন যে ঢাকায় ছেলেরা কার্যকর হতে পারছে না। আপনি শুনে খুশি হবেন যে সম্প্রতি বিবিসি এবং বিদেশি রেডিওগুলো ঢাকা এবং এর আশপাশে ছেলেদের ব্যাপক আক্রমণের সংবাদ প্রচার করছে। ঢাকায় কেন্দ্রে ছেলেদের এই সাহসী অভিযান প্রশংসার দাবিদার এবং আপনার উৎসাহ পেলে ছেলেদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে।

আমাদের ছেলেরা শত্রুর সঙ্গে ব্যাপক লড়াই করছে এবং কোনো কোনো জায়গায় মুখোমুখি প্রায় এবং তারা শত্রুশক্তিকে বিস্ময়করভাবে পরাভূত করছে, যা আসলেই প্রশংসার দাবিদার সম্প্রতি ছেলেরা শত্রুর অবস্থানে আক্রমণ চালিয়ে মৃত লাশের ওপর দিয়ে যুদ্ধ করে বর্বর বাহিনীকে বাংকার থেকে বের করে এনে প্রমাণ করেছে তারা ‘রিয়েল টাইগার’।

বিভিন্ন এজেন্সি বা সংগঠন কোনো ধরনের সমন্বয় বা পরামর্শ ছাড়াই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছেলেদের পাঠাচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই অনেক বিভ্রান্তি ও ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এসব কার্মকাণ্ডের কারণে শত্রু বাহিনী আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার সুযোগ পাচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেক্টর কমান্ডারদের সমন্বয় অবশ্যই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সেনা মোতায়েন করা জরুরি।
আমি মনে করি, যেসব বিষয় আমার ডিওতে উল্লেখ করেছি, তা ব্যক্তিগত মনোযোগ সহকারে বিবেচনা করে সমাধান করার উদ্যোগ নেবেন।
শিগগিরই আপনাকে আমাদের পাশে আশা করছি। আল্লাহ আপনার সহায় হোক।
জয় বাংলা
আপনার বিশ্বস্ত
খালেদ মোশাররফ

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টর এবং কে ফোর্স। ২০১৩ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত খালেদ মোশাররফের লেখা চিঠি।

এই চিঠির নায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ। তাঁকে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞের অন্যতম কারণ ছিল তাঁর দেশপ্রেম। এই মুক্তিযোদ্ধার দেশপ্রেম ছিল জীবনের চেয়েও মূল্যবান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে যারা খুনি মোশতাকের সঙ্গে বঙ্গভবনে অবস্থান করছিল, তাদের বঙ্গভবন থেকে উৎখাত করতে জেনারেল খালেদ মোশাররফ একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই অভ্যুত্থানে খালেদ মোশাররফের সঙ্গে সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা সংযুক্ত ছিলেন। খালেদ মোশাররফ প্রথমে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন । কিন্তু তাঁর বেড রুমের ফোন বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। এই ফোনেই তিনি কর্নেল তাহেরের (জাসদ নেতা) সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর জীবন রক্ষার অনুরোধ করেন।

৩ নভেম্বর জেনারেল খালেদ মোশাররফ খুনি মেজরচক্র এবং মোশতাককে অপসারণ করে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনরুদ্ধার করে সংবিধানকে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন। আলোচনায় বসে মোশতাককে পদত্যাগ ও বঙ্গভবন থেকে ট্যাংক ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার শর্ত দেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে মোশতাকের নির্দেশে চার জাতীয় নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হয়। ফলে দ্রুত ঘটনা মোড় নিতে থাকে।

খালেদ মোশাররফকে সমর্থনকারী অফিসাররা মোশতাকের কাছে জানতে চান, কেন জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলো? তাঁরা মোশতাককে বলেন, আপনি খুনি, তাই আমরা আপনাকেও হত্যা করব।

৪ নভেম্বর রাতে দুটি আদেশ বলে খালেদ মোশাররফকে পদোন্নতি দিয়ে সেনাপ্রধান করা হয় এবং জেলহত্যা বিষয়ে একটি কমিশন গঠন করা হয়। ৫ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম যখন বঙ্গভবনে ব্যস্ত সময় ব্যয় করছেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে সেনানিবাসে জাসদসহ গণবাহিনী প্রচারণা শুরু করে। সৈনিকের ১২ দফা দাবিনামাসহ খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে লিফলেট বিলি করে। সেনাবাহিনীতে অরাজকতা শুরু হয়ে যায়। খালেদ মোশাররফকে ভারতের চর আখ্যা দিয়ে দেশ বিক্রির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সিপাহি সেনা ভাই ভাই অফিসারদের রক্ত চাই স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে।

কর্নেল আবু তাহের ও  তাঁর গণবাহিনী বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার মাধ্যমে খালেদ মোশাররফকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালায়। জেনারেল খালেদ মোশাররফ দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৫ আগস্টে ব্যবহৃত ট্যাংহগুলো ব্যারাকে ফেরত পাঠালেও বেঙ্গল লেন্স আর ২ ফিল্ড আর্টিলারি এবং ফারুক রশিদ চক্রকে সমর্থনকারী এই দুটি সেনা ইউনিট ঢাকার রাস্তায় রয়ে যায়। জিয়াকে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি করে ২ ফিল্ড আর্টিলারি জাসদের গণবাহিনী। খালেদ  মোশাররফ অবস্থা অনুমান করে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ১০ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল নোয়াজিশের আশ্বাসে সেখানে যান। সেদিনই সেখানে সকালে একদল উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য মেজর জলিল ও মেজর আসাদের নেতৃত্বে সেখানে যান। এরপরই খালেদ মোশাররফ কর্নেল হুদা কর্নেল হায়দারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

২০২২ সালের এই দিনে এসে আমরা দিনটির বর্ণনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এই দিনটিকে সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান বা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আমরা এখনো তাদের ইতিহাস বিকৃত করার অনুমতি দিচ্ছি। আমরা কেন এই দিনটিকে মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস বলে ঘোষণা দিচ্ছি না এবং  হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করছি না।

আমাদের নতুন প্রজন্মকে যদি আমরা প্রকৃত ইতিহাস জানাতে  চাই, তাহলে এখনই আমাদের সোচ্চার হতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সব মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সত্য জানতে চায়। জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা, কর্নেল হায়দারসহ সব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান আমাদের দিতেই হবে।

  • মাহজাবিন খালেদ সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও কে ফোর্সের অধিনায়ক খালেদ মোশাররফের কন্যা