শীত বিদায়ের মিষ্টি রোদ আর মৃদুমন্দ বাতাসের দিন ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি। ঠিক দুই দিন পরই বসন্ত। প্রকৃতিতে সন্ধিক্ষণের এ দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে থাকবে। ভোট যে মানুষের কাছে বড় উৎসব, ভোট যে মানুষের কাছে নাগরিক হিসেবে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগের পথ, সেটাই এ দেশের মানুষ ভুলে যেতে বসেছিল। সত্যিকার উৎসব করেই মানুষ এবার ভোট দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবার ভোট প্রদানের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আওয়ামী লীগ–বিহীন নির্বাচনে এই ভোটের হার নিঃসন্দেহে আশাপ্রদ। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটার। আর ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটার।
গণ–অভ্যুত্থানে প্রশ্নহীন ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে এলেও গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলটা বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্বল শাসন হিসেবেই বিবেচিত হবে। মব সহিংসতার কাছে সরকারের অসহায় আত্মসমর্পণ এবং কোনো কোনো গোষ্ঠীর অতি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠায় মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সরকার ঠিকমতো একটা নির্বাচন করতে পারবে তো? কিন্তু শেষবেলায় সরকার একটা ভালো নির্বাচন দিতে পেরেছে।
১৭ বছর ভোট দিতে না পারা নাগরিকদের ভোট দেওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা, প্রচারণার ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো এবং স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংযত আচরণ; নির্বাচন কমিশনের নেওয়া কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ফলেই একটা সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। মানুষ যে ভয়হীন পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রের দিকে গেছেন, সেই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ও তৎপরতাকে আলাদাভাবে উল্লেখ করতেই হবে। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল।
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর জনতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা জয়-পরাজয় নির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরকারের একটি দৃশ্যমান দূরত্ব দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেকে এই দূরত্ব তৈরিকে এজেন্ডা হিসেবেই বেছে নেয়। গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী একটি সরকার যেখানে পুলিশি ব্যবস্থা নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিল, সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শক্তিগুলো এবং সশস্ত্র বাহিনী—এই তিন পক্ষের ঐক্যটা ছিল ভীষণ রকম জরুরি।
কিন্তু সেটা না হওয়ায় একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা শাসনের বদলে মবতন্ত্রের মতো ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে নাগরিকদের। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এই সত্যকেই সামনে এনেছে, রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সক্ষমতা আছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থার উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ প্রকল্প, ভারতের শাসক দল বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের দমনমূলক শাসনের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিক মেরুকরণের দিক থেকেও সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একটি পরিচ্ছন্ন ভোট বাংলাদেশের মুমূর্ষু গণতন্ত্রকে আপাতত বাঁচিয়ে দিয়েছে, কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জের শুরুটা এখন থেকেই।
দুই.
৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচন হয়নি। বাকি দুটি আসনে আইনগত জটিলতায় ফলাফল আটকে আছে। ২৯৭টি আসনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে যাওয়া দলটির মিত্ররা আরও তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর এটি দলটির সবচেয়ে বড় বিজয়। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে দলটি ২০৭টি আসনে জিতেছিল। নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরুর পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলটি ১৪০টি আসন পেয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে এককভাবে ১৯৩টি এবং জোটগতভাবে ২১৬টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বড় উত্থান হয়েছে। এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে দলটি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত হাইপ তুলতে সক্ষম হয় যে এবারের নির্বাচনে একানব্বইয়ের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ফলাফল ঘোষণার পরও সেই টান টান উত্তেজনা তারা জিইয়ে রাখতে পারে।
একানব্বইয়ের নির্বাচনে সব জরিপ ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল সেবার আওয়ামী লীগ জিততে চলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপিই জিতেছিল। এর আগে বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন করে জামায়াত ২০০১ সালে ১৫টি ও ২০০৮ সালে ২টি আসন পেয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করেছিল জামায়াত, সেবারে দলটি আসন পেয়েছিল ৩টি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন পেয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এই আলাপ আছে যে সেই নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ভেতরে ভেতরে তাদের একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল।
তিন.
বাংলাদেশে যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির একটা উত্থান ঘটেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই তার পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যাচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে মাজার ভাঙা, বাউলদের ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে নারী, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাগামছাড়া ঘৃণাচর্চা হয়েছে। তবে ২০০৮ সালের পর গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন না হওয়ায় দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রকৃত চিত্র জানা যাচ্ছিল না। যদিও নির্বাচন দিয়েই দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রকৃত চিত্র বোঝাটা কঠিন। কেননা, এর একটি অংশ প্রকাশ্যেই গণতন্ত্র ও নির্বাচনবিরোধী। বাস্তবে এই অতি দক্ষিণপন্থী অংশ সমাজে কতটা, সেই চিত্র অধরাই থেকে যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে থেকেই আসিফ মোহাম্মদ শাহানের মতো পর্যবেক্ষকেরা ধারণা দিয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে ভালো করবে জামায়াত। ফলাফলেও দেখা গেল খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জামায়াত পরিষ্কারভাবে ভালো ফল করেছে। সবচেয়ে ভালো করেছে খুলনায়। ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টি জিতেছে তারা। রংপুরের ৩৩টির মধ্যে ১৬টি এবং রাজশাহীর ৩৯টির মধ্যে ১১টি আসন জিতেছে। জামায়াতের জয় পাওয়া আসনগুলোর বেশির ভাগই ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই অঞ্চলগুলোতে সাতচল্লিশের দেশভাগের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে মাইগ্রেট করে আসা জনগোষ্ঠীর ভোট এ ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে ঐতিহ্যগত জাতীয় পার্টির ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে। এর একটা বড় কারণ হলো, জাতীয় পার্টি যে ডানপন্থার মিশেলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে, তার সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতি অনেকটা মিলে যায়। প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম জাতীয় পার্টি একটি আসনও পায়নি। রংপুরের আসনগুলোতেও তারা বড় ব্যবধানে হেরেছে এবং অনেক আসনে তৃতীয় হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু এবং গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের বি–টিম হওয়ার রাজনীতি জাতীয় পার্টিকে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
দক্ষিণবঙ্গ ও রাজশাহীর যেসব আসনে বিএনপি পরাজিত হয়েছে, তার অনেকগুলোই দলটির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এসব আসনে হারার পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে বিএনপি তার প্রথাগত সমর্থকদের একটি অংশকে হারিয়েছে। কিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। কোথাও কোথাও দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় নেতাকে প্রার্থী করায় তারা হেরেছে। কিন্তু এটাই সবটা কারণ নয়। এখানকার অনেক আসনে প্রথাগত আওয়ামী লীগের যেসব ভোটার এবার ভোট দিয়েছেন, তাঁদের একটা অংশ জামায়াতকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন।
এর পেছনে বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের চাঁদাবাজি ও মামলাবাজিও একটা ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত দুটি আসনের কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোথাও পাড়া, কোথাও গ্রাম ধরে আওয়ামী লীগের প্রথাগত ভোটাররা জামায়াতের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। গ্রামগুলোতে যে গোত্রভিত্তিক বিরোধ থাকে, সেখানে বিভাজনটা অনেকটাই আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি। মোটাদাগে এই সূত্রই এখানে কাজ করেছে
চার.
ঢাকা মহানগরের আসনগুলোতে জামায়াতের উত্থান সবচেয়ে বিস্ময়ের। অতীতে কখনোই জামায়াত ঢাকার কোনো আসন পায়নি। ঢাকার ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতাও খুব বেশি দেখা যায়নি। এবারের নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জামায়াত জোট জিতেছে। হেরে যাওয়া আসনগুলোর কয়েকটিতে ভোট ব্যবধান খুব সামান্য। এনসিপির সঙ্গে জোট করায় তরুণ ভোটারদের একটা বড় সমর্থন জামায়াত পেয়ে থাকতে পারে।
গত দেড় বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগও ভোটারদের একটা অংশকে জামায়াতের দিকে ঝুঁকিয়েছে। বলা হয়ে থাকে ঢাকা যার দখলে পুরো দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ সেই দলের হাতে। ঢাকা দখলের জন্য জামায়াত যে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েছে, সেটা ফলাফলই বলে দিচ্ছে। কিছু আসনে ভোটার স্থানান্তরের কৌশল কাজ করেছে। ভোটের অনেক আগে থেকেই, রিকশাচালক, সিএনজিচালক, ফুটপাতের দোকানিদের একটা অংশ জামায়াতের পক্ষে সরব প্রচারণা চালিয়েছেন।
পাঁচ.
জাতীয় পার্টির অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়াসহ এই নির্বাচন আরও কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। একানব্বইয়ের নির্বাচনের পর আর কোনো নির্বাচনেই বামপন্থীরা এককভাবে নির্বাচন করে জিততে পারেনি। বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী ছাড়া বামপন্থীদের কোনো আলোচিত প্রার্থী ছিলেন না। নির্বাচনে তিনি ২২ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ছাড়া উল্লেখ করার মতো কেউই ভোট পাননি। এবারের সংসদে বামপন্থীদের কোনো প্রতিনিধি থাকছে না।
নারী ও সংখ্যালঘু জনপ্রতিনিধিও এবারের সংসদে অনেক কম। বিএনপি থেকে ছয়জন ও স্বতন্ত্র হিসেবে রুমিন ফারহানা এবার জিতেছেন। জাতিগত সংখ্যালঘু ২ জন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ২ জন প্রতিনিধি এবার এমপি হয়েছেন। এর পেছনেও সাম্প্রতিক বছরগুলো, বিশেষ করে গত ১৮ মাসের নারীবিদ্বেষী প্রচার ও ডানপন্থী জোয়ার কাজ করেছে। ফলে ৭ জন নারী আর ৪ জন সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য নিয়ে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ হতে চলেছে, সেটা নিয়ে বড় প্রশ্নই থেকে যাবে।
নির্বাচনে বিএনপি তার ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফলাফলে জিতলেও জামায়াতের বড় উত্থান ঘটেছে। ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩২ শতাংশ সমর্থন দিয়েছে জামায়াতকে। বিএনপি প্রতি সমর্থন দিয়েছে ৪৯ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোটার। নারীদের, বিশেষ করে শহর অঞ্চলের ও কর্মজীবী নারী ভোটার এবং গত দেড় বছরে নানাভাবে আক্রান্ত জাতিগত, ধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত সংখ্যালঘুদের ভোট বিএনপিকে অনেক আসনে জিততে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থার উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ প্রকল্প, ভারতের শাসক দল বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের দমনমূলক শাসনের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিক মেরুকরণের দিক থেকেও সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একটি পরিচ্ছন্ন ভোট বাংলাদেশের মুমূর্ষু গণতন্ত্রকে আপাতত বাঁচিয়ে দিয়েছে, কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জের শুরুটা এখন থেকেই।
মনোজ দে প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী
মতামত লেখকের নিজস্ব