নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলা যাক। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রধান পাঠ্য বিষয় প্রাণিবিদ্যা হলেও ‘শিক্ষা’ বিষয়টি কিশোর বয়স থেকেই আমার চিন্তার ক্ষেত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের বছরই (১৯৮২) সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা–সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত নিবন্ধ পড়েছিলাম, লেখক বাংলার অধ্যাপক এবং কলা অনুষদের তৎকালীন ডিন প্রয়াত ড. আহমদ শরীফ। অধ্যাপক শরীফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় পাস-ফেল উঠিয়ে দিয়ে সবাইকে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়ার পক্ষে লিখেছিলেন। বিষয়টি খটকা লাগায় সাহস করে ডিন অফিসে শরীফ স্যারের সামনে হাজির হলাম এবং যুক্তি দেখালাম যে পাস-ফেল উঠিয়ে দিলে লেখাপড়ার মান আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাঁর উল্টো যুক্তি ছিল— পরীক্ষার ভয়ে অথবা ফেল করে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। পাস-ফেল না থাকলে লেখাপড়া কম হলেও শিশুরা ধোয়া কাপড়-চোপড় পরে পাঁচ বছর স্কুলের পরিবেশে থাকবে।

অধ্যাপক শরীফের যুক্তি আংশিক সত্য প্রকাশ করেছে, পুরোটা নয়। তাই সে যুক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কারণ, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকে ভয় করলে চলে না; বরং পরীক্ষাকে লেখাপড়ার অংশ হিসেবে দেখাই শ্রেয়। আর উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই মা–বাবা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান। অভিভাবকেরা শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চর্চা করার জন্য সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠান না।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা প্রথম প্রবর্তনের সময় (২০০৯ সালে) কচি বালক-বালিকাদের জীবনের প্রথম এই পাবলিক পরীক্ষা নিজ বিদ্যালয়ের বাইরে অনুষ্ঠান করার সরকারি পরিকল্পনা জানা যায়। তখন আমি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটে পিএইচডি গবেষণায় রত। জানতাম সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যে প্রাইমারি স্কুল লিভিং এক্সামিনেশন হয়, তা পরীক্ষার্থীদের নিজ বিদ্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয়। তাই আমাদের দেশে অনুষ্ঠিতব্য কচি শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রথম এই পাবলিক পরীক্ষা নিজ বিদ্যালয়ে রেখেই গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে নিবন্ধ লিখেছিলাম (‘ঢাকা কুরিয়ার’, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দ্রষ্টব্য)। যুক্তি দেখিয়েছিলাম, পরীক্ষার মান বজায় রাখার স্বার্থে অন্য বিদ্যালয় থেকে পরিদর্শক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ায় প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা হয় না। ওসব দেশের শিক্ষক অনেক উঁচু আসনে থাকেন। তা ছাড়া শ্রেণিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা থাকে মাত্র ২০ থেকে ২৫। তাই শ্রেণিশিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মনের খবর নিতে পারেন। শ্রেণিশিক্ষকের মূল্যায়নই ওখানে শ্রেষ্ঠ মূল্যায়ন। কিন্তু আমাদের এশিয়া-আফ্রিকার অবস্থা ভিন্ন। এশিয়ায় শিক্ষাদীক্ষায় সবচেয়ে উন্নত চারটি দেশের-(জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর) প্রাথমিক স্তরের একটি শ্রেণিতে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই চার দেশের মধ্যে শুধু দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া বাকি তিনটিতেই (জাপান, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর) প্রাথমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

মনে পড়ে, প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও যুব কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসান বাংলাদেশে হঠাৎ প্রবর্তিত প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষাকে শিশুদের ওপর অত্যাচার আখ্যা দিয়ে এটি বন্ধ করার জন্য রীতিমতো আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। আরও অনেক শিক্ষানুরাগী এই পরীক্ষার অসারতা প্রতিপাদন করে এটি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু মন্ত্রণালয় কিছুতেই কর্ণপাত করছিল না। এত দিনে পরিমার্জমানাধীন শিক্ষাক্রম অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারও এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই পর্যায়ে আমি কেন এর পক্ষে ওকালতি করছি? যুক্তিগুলোর মধ্যে দুটি ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে: ১) আমাদের এশীয় কৃষ্টিতে শিখনকাল, এমনকি শ্রেণি পরীক্ষার মানও ঠিক থাকে না, তাই শুধু পাবলিক পরীক্ষাই নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ; ২) শিক্ষাদীক্ষায় বেশ উন্নত চারটি এশীয় দেশের তিনটিতেই প্রাইমারি স্কুল লিভিং এক্সামিনেশন নেওয়া হয়। এবার আমি অন্য যুক্তিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি।

২০০৯ সালে প্রাথমিক স্তরে সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা চালু করে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। অষ্টম শ্রেণি শেষে অল্পসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার পরিবর্তে তিনি ২০১০ সাল থেকে সবার জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা প্রবর্তন করেন প্রধানত কৃতিত্ব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে। নইলে মাধ্যমিক স্তরের সর্বনিম্ন উপস্তর শেষে এমন পাবলিক পরীক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না, এখনো নেই।

বিশ্বে এখন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা তিনটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। আমার চিন্তায় প্রতিটি স্তর শেষে অন্তত একটি মানসম্মত পাবলিক পরীক্ষা হওয়া দরকার, যাতে প্রতি স্তরের শিখন মূল্যায়িত হয়, মূল্যায়িত হবে বলে শিক্ষার্থীরা শিখনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় আর শিক্ষকেরা জবাবদিহির আওতায় থাকেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেখানে ‘পরীক্ষা বোর্ড’কে ‘শিক্ষা বোর্ড’ বলা হয় (ভাবটা এমন যে পরীক্ষাই শিক্ষা); শিক্ষার্থীরাও যেসব বিষয় পরীক্ষায় আসবে না তা পড়তেই চায় না, সেখানে আমি বরাবরই পরীক্ষার পক্ষে।

মাধ্যমিক স্তরে সুদীর্ঘকাল ধরে এ দেশে দু–দুটি পাবলিক পরীক্ষা প্রচলিত: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা। উচ্চ শিক্ষাস্তরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য তো পৃথক পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থা আছেই। ছিল না শুধু প্রাথমিক স্তর শেষে কোনো সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা। এটি ২০০৯ সালে চালু করে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। অষ্টম শ্রেণি শেষে অল্পসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার পরিবর্তে তিনি ২০১০ সাল থেকে সবার জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা প্রবর্তন করেন প্রধানত কৃতিত্ব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে। নইলে মাধ্যমিক স্তরের সর্বনিম্ন উপস্তর শেষে এমন পাবলিক পরীক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না, এখনো নেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ধনাত্মক নাকি ঋণাত্মক ভূমিকা রাখবে? প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ খুব দামি কোনো জিনিস নয়; আর শিক্ষানুরাগী কেউ চান না কোনো শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর শেষেই শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ঝরে পড়ুক। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে, খুব কম দামি সনদটিও তাদের জন্য একটা স্বীকৃতি। প্রাথমিক স্তর পরের উভয় স্তরের শিক্ষার ভিত রচনা করে বলে কেমন ভিত নিয়ে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে তা জানা দরকার, শক্ত ভিত রচনা নিশ্চিত করাও দরকার, দরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা, যাতে সব দায় গিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের ঘাড়ে না পড়ে।

আচ্ছা, ২০০৯ সালে দেশে প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা প্রবর্তনের আগে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের জবাবদিহির অবস্থা কীরূপ ছিল? তখন প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শুধু বার্ষিক পরীক্ষা নয়, আরও একটি বা দু–দুটি সাময়িক লিখিত পরীক্ষা গুরুত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতো। ১২ বছর ধরে প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরাট চাপের মধ্যে রেখেছে। এখন হঠাৎ প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা বন্ধ করার সঙ্গে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের আওতায় যুক্ত হবে দুটো লেখাপড়া বেশি সহজ করার প্রক্রিয়া: ১) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো লিখিত পরীক্ষাই হবে না (এর কোনো যুক্তি পেশ করা হয়নি); ২) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা হবে মাত্র ৪০ শতাংশ নম্বরের, বাকি ৬০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে তথাকথিত শিখনকালীন যাকে আমাদের দেশের শিক্ষকদের মর্জি ও বাইরের চাপে শুধু নম্বর প্রদানের উপায় বানিয়ে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি। শুধু তা–ই নয়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একই ধারায় লাটে নম্বর প্রদানের পদ্ধতি বজায় থাকার আশায় লেখাপড়ায় শুধু ‘আনন্দের’ সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা ও ভূরি ভূরি নম্বরপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। বোঝা জরুরি, শিক্ষার্থীদের শিখনপ্রক্রিয়া আনন্দজনক পরিবেশে হওয়া আর পড়াশোনাকেই বেশি সহজ করে ফেলা এক নয়।

যাহোক, প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষা যৌক্তিক কারণে বহাল রাখলে কচি শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষার পরিবেশ অবশ্যই হতে হবে স্বাভাবিক ও ভীতিমুক্ত। কিন্তু প্রশ্ন হতে হবে যথাযথ মানের। ‘যথাযথ মানের’ প্রশ্ন বলতে কী বোঝায়? আমেরিকান শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী বেঞ্জামিন স্যামুয়েল ব্লুম (১৯৫৬) শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যগুলোকে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে (চিন্তন, ভাবাবেগ ও মনোপেশিজ) শ্রেণিবিন্যস্ত করেছেন। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে প্রধানত চিন্তন দক্ষতার ছয়টি স্তরের (জানা, বোঝা, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ও মূল্যায়ন) মূল্যায়ন সম্ভব। আমাদের দেশে এতকাল প্রথম তিনটির (জানা, বোঝা এবং কিছুটা প্রয়োগ) মূল্যায়ন হয়ে আসছিল। ‘সৃজনশীল’ নামে কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপদ্ধতি চালু করার কারণে চিন্তন ক্ষেত্রের তিনটি উচ্চতর দক্ষতার (বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সংশ্লেষণ/সৃষ্টি) মধ্যে অন্তত একটির (প্রশ্নের ‘ঘ’ অংশ) উত্তর দেওয়া এখন আবশ্যিক। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি প্রশ্নে এমন জটিল কাঠামো থাকার দরকার নেই; দরকার হচ্ছে বিভিন্ন প্রশ্নে দক্ষতার সবগুলো স্তর অন্তর্ভুক্ত করা। আর তেমন প্রশ্নকেই বলা যাবে যথাযথ মানের।

কিন্তু প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা প্রবর্তিত হলে ঘটনা ঘটল বেশ মজার। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেল ভূরি ভূরি এ প্লাস পাচ্ছে। প্রতিবছর ভালো ফলাফল আগের বছরের রেকর্ড ভেঙেই চলছে; কৃতিত্বে মন্ত্রী মহোদয়ের সিনা দুই হাত প্রসারিত হয়ে গেল! অথচ বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেল, বাংলাদেশে ভাষা ও গণিতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত দক্ষতা অর্জন মাত্র এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি। এরপর শুরু হলো দুই বছর অন্তর তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে আমাদের নিজেদের প্রমাণ মূল্যায়ণ (স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট)। দেখা গেল, শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত দক্ষতার শতকরা ৪০ ভাগের বেশি অর্জন করেনি।

এখন প্রশ্ন আসে, প্রমাণ মূল্যায়নে যারা পাসই করে না, তাদের প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষার নামে কী দিয়ে মেপে এ প্লাস দিয়ে ভরে ফেলা হলো? এটা তো শিক্ষামূল্যায়ন নয়, শিক্ষক-পরীক্ষকদের ওপর বেশি নম্বর প্রদানের নির্দেশ দিয়ে ভালো ফলাফল দেখিয়ে শিক্ষায় মহা উন্নয়নের প্রদর্শনী! সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেষের দিকে কয়েকটি পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল বেশি ভালো না হওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন স্ট্যান্ডার্ড হওয়ার কথা বলেছিলেন; অর্থাৎ আগের বেশ কয়েক বছর প্রাপ্যের চেয়ে বেশি নম্বর প্রদান স্বীকার করে নিলেন।

বোঝা যাচ্ছে, আমরা প্রকৃত শিক্ষা মূল্যায়নের পরিবর্তে প্রাথমিক সমাপনী পাবলিক পরীক্ষাকে (প্রাক্‌-বিশ্ববিদ্যালয় অন্য পাবলিক পরীক্ষাগুলোকেও) শিক্ষায় বিশাল উন্নয়নের ঢোলক বানিয়ে ফেলেছিলাম। এই পরীক্ষার প্রায় মূল্যহীন সনদকে অতি মূল্যবান প্রতিযোগিতায় জীবন-মরণ সমস্যা ও সমাধানের উপায় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করতে না পারলে জীবন পর্যন্ত বিপন্ন করে তুলেছিলাম। কচি শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দূরে কোথাও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা জরুরি করে পরীক্ষার্থী ও মা–বাবার অসহনীয় কষ্টের কারণ ঘটিয়েছিলাম। এর জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা দায়ী নয়, দায়ী অব্যবস্থা ও শিক্ষায় বিশাল উন্নতি করে ফেলার ডুগডুগি। অতি উন্নয়নের ঢোলক খুলে ফেলে শিক্ষার স্বার্থে, শিক্ষকদের জবাবদিহি ও প্রকৃত শিক্ষা মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা কচি শিক্ষার্থীদের নিজ বিদ্যালয়ে গ্রহণ অবশ্যই বহাল থাকতে পারে।

  • আবদুস সাত্তার মোল্লা শিক্ষাগবেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা)।

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন