এআই যুগের শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুতি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শুরু হবে

সম্প্রতি তেজগাঁও কলেজে টিসিডিসি আয়োজিত প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩২টি কলেজ ও ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। তেজগাঁও কলেজের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, একই প্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংকটের একটি প্রায় উপেক্ষিত সংযোগ নিয়ে ভাবার জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত স্থান সম্ভবত আর হতো না।

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষিত বেকারত্বকে নিয়ে আমাদের নীতিগত আলোচনায় এটাকে প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই সমাধানও খোঁজা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নতুন কোর্স যোগ করে, শিক্ষার্থীদের আইসিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ দিয়ে, ইন্টার্নশিপ চালু করে অথবা শিল্প–শিক্ষা সংযোগ বাড়িয়ে। এসব উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই যেসব ঘাটতি তৈরি হয়েছে, কয়েকটি প্রযুক্তিবিষয়ক কোর্স দিয়ে কি সেগুলো পূরণ করা সম্ভব?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ২৪ হাজার; তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত বেকারই ছিলেন ৮ লাখ ৮৫ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তিনজন বেকার স্নাতকের একজন চাকরি খুঁজেও দুই বছর পর্যন্ত কাজ পাননি। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব একজন তরুণের শুধু বর্তমান আয় নয়, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘সার্টিফিকেট নাকি সক্ষমতা? বিশ্ববাজার প্রযুক্তিনির্ভর, কারিগরি শিক্ষা কতটা প্রস্তুত’ শীর্ষক লেখাটিও যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছে—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি সত্যিই শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরি করছে? লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থীর বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগের সক্ষমতায় বড় ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সংকটটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ প্রান্তে নয়; এর শুরু আরও আগে।

আরও পড়ুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ: প্রয়োজনীয়, কিন্তু যথেষ্ট নয়

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার। ২০২৬ সালের জুনে ১২ হাজার কলেজশিক্ষককে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ৯০০ মাস্টার ট্রেইনারের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা। নতুন পাঠ্যক্রমে ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। অতএব এই উদ্যোগের সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাবও বিরাট। কিন্তু এর সফলতা নির্ভর করবে আমরা ‘দক্ষতা’ বলতে শুধু নতুন কয়েকটি প্রযুক্তির ব্যবহার বুঝি, নাকি একজন শিক্ষার্থীর শেখা, চিন্তা করা, যোগাযোগ করা ও সমস্যা সমাধানের সামগ্রিক সক্ষমতা বুঝি।

কারণ, দুর্বল পাঠ অনুধাবন, সংখ্যাজ্ঞান ও ভাষাদক্ষতার ওপর এআই, ডেটা সায়েন্স বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ বসালে সেটি অনেকটা ছিদ্রযুক্ত ভিতের ওপর নতুন তলা নির্মাণের মতো হবে। শিক্ষার্থীরা সফটওয়্যারের কয়েকটি নির্দেশ শিখতে পারেন, কিন্তু নতুন সমস্যায় সেই জ্ঞান প্রয়োগ, যন্ত্রের দেওয়া উত্তর যাচাই বা তথ্য থেকে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে থাকবেন। এখানেই উচ্চমাধ্যমিক স্তরের গুরুত্ব।

দুই বছরের একটি অব্যবহৃত দ্বিতীয় সুযোগ

বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে মূলত পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্যবর্তী সময় হিসেবে দেখা হয়। অথচ এটি কৈশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু। মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী পাঠ অনুধাবন, সংখ্যাজ্ঞান, ইংরেজি, বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা সাধারণ জ্ঞানে ঘাটতি নিয়ে এলে, এই দুই বছর তাকে শনাক্ত ও সহায়তা করার শেষ বড় প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ।

ব্যানবেইসের ২০২২ সালের হিসাবে, স্কুল-সংযুক্ত কলেজ শাখা, স্বতন্ত্র উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স কলেজ মিলিয়ে কলেজশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৪৭। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বহু কলেজেই আবার উচ্চমাধ্যমিক শাখা রয়েছে। ফলে একই প্রতিষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীকে একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত অনুসরণ করতে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কারকে তাই শুধু ডিগ্রি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে এই উচ্চমাধ্যমিক ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। যে কলেজে এইচএসসি ও স্নাতক—দুই স্তরই রয়েছে, সেখানে শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীর দক্ষতা নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির একটি সমন্বিত মডেল চালু করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

এআই শেখার আগে এআইকে বিচার করতে শেখা

সরকারের এআই প্রশিক্ষণ নিয়ে আগ্রহ যৌক্তিক। কিন্তু এআই ব্যবহার করতে শেখা এবং এআই-প্রস্তুত হওয়া এক বিষয় নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কয়েক সেকেন্ডে একটি প্রতিবেদন, প্রেজেন্টেশন, কম্পিউটার কোড বা বিতর্কের যুক্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই উত্তরটি সত্য, যৌক্তিক, পক্ষপাতমুক্ত বা নৈতিক কি না—সিদ্ধান্তটি মানুষকেই নিতে হবে।

এআই তথ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে, একই সঙ্গে মানুষের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার প্রয়োজনও বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে তথ্য মনে রাখার চেয়ে তথ্য যাচাই, অস্পষ্ট সমস্যার সমাধান, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ, বিরোধপূর্ণ প্রমাণ বিচার এবং সিদ্ধান্তের নৈতিক পরিণতি বোঝার মূল্য বেশি হবে।

এই কারণে বিতর্কের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আর নিছক বিনোদন বা প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা চলে না। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হিউম্যান ইনটেলিজেন্স: জাস্টিফাইং ডিবেট ইন দ্য এজ অব এআই প্রবন্ধের দুই লেখক–গবেষক ব্রিকার ও জাস্টিস সতর্ক করেছেন, এআইয়ের অতিনির্ভরতা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব যুক্তি নির্মাণ, অন্য মানুষের অবস্থান উপলব্ধি এবং জটিল তথ্যপরিবেশ বোঝার সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। তাঁদের যুক্তি হলো নীতিবিষয়ক বিতর্ক ঠিক সেই মানবিক দক্ষতাগুলো অনুশীলনের সুযোগ দেয়, যেগুলো এআইয়ের যুগে ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুন

একজন বিতার্কিককে একটি বক্তব্য তৈরি করতে হয়, তার পক্ষে প্রমাণ খুঁজতে হয়, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হয় এবং বিরোধী পক্ষ কী বলতে পারে, তা আগেই ভাবতে হয়। তাকে নিজের দলের সঙ্গে কাজ করতে হয়, নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলতে হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা যুক্তির জবাব দিতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিতার্কিককে প্রায়ই এমন একটি অবস্থানের পক্ষেও যুক্তি নির্মাণ করতে হয়, যার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সে একমত নয়। এর মধ্য দিয়ে সে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা এবং মতের বিরোধকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত না করার শিক্ষা পায়।

এগুলোই বহুল আলোচিত একুশ শতকের চার সক্ষমতা—সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা। তবে এআইয়ের যুগে আরেকটি সক্ষমতা যোগ করা দরকার: ‘চরিত্র’। অর্থাৎ তথ্য বানিয়ে না বলা, প্রতিপক্ষের বক্তব্য বিকৃত না করা এবং যন্ত্রের কাছে নিজের বিচারবুদ্ধি সমর্পণ না করার সততা।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই যা করা যায়

সব কলেজে শুধু বিতর্ক ক্লাব করলেই শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট দূর হবে—এমন সরল দাবি করা ঠিক হবে না। বিতর্ক বড় কাঠামোর একটি উদাহরণমাত্র। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আরও প্রয়োজন ছয়টি সম্পূরক পদক্ষেপ।

এক. একাদশ শ্রেণির শুরুতে পাঠ অনুধাবন, সংখ্যাজ্ঞান, ইংরেজি ও ডিজিটাল সক্ষমতার সংক্ষিপ্ত ‘ডায়াগনস্টিক’ মূল্যায়ন।

দুই. ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সেতুবন্ধ বা পুনরুদ্ধার কোর্স।

তিন. প্রতি শিক্ষাবর্ষে গবেষণাভিত্তিক লেখা, মৌখিক উপস্থাপনা ও দলগত সমস্যা সমাধান।

চার. বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, মডেল সংসদ, উদ্যোক্তা প্রকল্প ও সামাজিক সমস্যাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ।

পাঁচ. এআই দিয়ে উত্তর তৈরি নয়, বরং উৎস যাচাই, ভুল শনাক্তকরণ, পক্ষপাত বোঝা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের শিক্ষা।

ছয়. লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর প্রকল্প, উপস্থাপনা ও পোর্টফোলিও মূল্যায়ন।

এ জন্য নতুন একটি বিশাল আমলাতান্ত্রিক প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি অংশ কলেজগুলোর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে একই সঙ্গে এইচএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পড়ানো হয়। একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর প্রাথমিক সক্ষমতা নিরূপণ করে পরবর্তী চার থেকে ছয় বছরে তার অগ্রগতি অনুসরণ করলে কোন উদ্যোগ কার্যকর, তারও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে।

কলেজকে পরীক্ষাকেন্দ্র নয়, সক্ষমতা তৈরির কেন্দ্র করতে হবে

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী আয়োজিত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিতর্ক উৎসবে তরুণদের যুক্তি, আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা দেখে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: আমাদের শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার অভাব নেই; অভাব হলো সেই সম্ভাবনাকে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ দেওয়ার। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম এখনো কয়েকজন উৎসাহী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যে শিক্ষার্থীর পরিবার, শহর বা কলেজ তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক, সে এসব সুযোগ পায়; অন্যরা পায় না।

পাঠক্রমবহির্ভূত সহশিক্ষা কার্যক্রমকে ‘অতিরিক্ত’ বলে অবহেলা করার সময় শেষ। এগুলো মূল পাঠ্যক্রমের বিকল্প নয়; বরং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব সক্ষমতায় রূপান্তরের ক্ষেত্র। বই থেকে শেখা তথ্যকে যখন একজন শিক্ষার্থী যুক্তি, লেখা, দলীয় কাজ, জনসমক্ষে বক্তব্য বা বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করে, তখনই শিক্ষার রূপান্তর ঘটে।

বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারত্বের সব কারণ শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে নয়। বিনিয়োগের স্থবিরতা, শিল্পায়নের দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়াও বড় কারণ। কেবল শিক্ষার্থীদের ‘দক্ষতার ঘাটতি’ বলে দায়ী করলে রাষ্ট্র ও অর্থনীতির ব্যর্থতা আড়াল হবে। তবে এটিও সত্য যে দুর্বল ভিত্তি ও নিষ্ক্রিয় শিক্ষানুভব নিয়ে কোনো তরুণকে এআই-পরিবর্তিত শ্রমবাজারে পাঠানো ন্যায়সংগত নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েই শেষ হতে পারে না। বাংলাদেশের কলেজ নেটওয়ার্ককে উচ্চমাধ্যমিক থেকেই ‘শেখার ঘাটতি’ (লার্নিং পভার্টি) শনাক্ত, মানবিক সক্ষমতা গঠন এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোর জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে দেখতে হবে।

আমাদের নীতিগত প্রশ্নটি তাই শুধু ‘কতজনকে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো’ নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত: প্রশিক্ষণ শেষে কতজন তরুণ নিজে চিন্তা করতে, প্রমাণ যাচাই করতে, অন্যের সঙ্গে কাজ করতে এবং নতুন পরিস্থিতিতে শেখা জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারছে?

কারণ, এআইয়ের যুগে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তরুণদের প্রযুক্তি না জানা নয়। আরও বড় ঝুঁকি হলো—প্রযুক্তি ব্যবহার করতে জানা, কিন্তু তার উত্তর বিচার করার মতো মানবিক বুদ্ধিমত্তা তৈরি না হওয়া।

  • এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।

*মতামত লেখকের নিজস্ব