ফ্রান্স জ্বলছে জেনজি–আলফার আগুনে, নেপথ্যে কী?

বিক্ষোভ চলাকালে টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচতে বিক্ষোভকারীদের দৌড়াতে দেখা যায়। ২ অক্টোবর ২০২৬, পূর্ব ফ্রান্সের লিওঁ শহরে। প্যারিস-সংলগ্ন ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও তা এখন সারা দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।এএফপি

ক্লাসরুমে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, তীব্র শিক্ষকসংকট ও দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস চালানোর প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। গত মঙ্গলবার পুলিশ চার শতাধিক মানুষকে আটক করেছে, যাদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন হাইস্কুলে এই আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তী সময় দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু স্থানে বিদ্যালয় অবরোধ কর্মসূচি সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ময়লার কনটেইনারে আগুন দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারে। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিপেটা করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

সরকারের বাজেট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের সময়েই এই ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। এটি দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিক্ষোভে কী ঘটেছে?

ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি ‘লাইসি’ বা হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ৪০০টি স্কুলে এই বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে।

গত সপ্তাহে প্যারিসে বিক্ষোভের সূচনা হয়, যেখানে কিশোর শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েক দিন ধরে তাদের বিদ্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে। চলতি সপ্তাহে এই বিক্ষোভ ও অবরোধ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলীয় লিলের একটি হাইস্কুলের বাইরে বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার কনটেইনারে আগুন দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, ফুটপাতের পাথর ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারে।

বর্দো, রেন, নঁত, লিওঁ ও মার্সেই শহরেও একই ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। বাসস্টপ ও বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড ভাঙচুর করার পর কয়েকটি স্থানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। প্যারিসের লামার্তিন স্কুলের বাইরে প্রায় ৮০ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করে। একটি ব্যানারে লেখা ছিল: ‘ঘুমের চেয়ে ক্লাসের সময় বেশি’।

শিক্ষার্থীদের জ্বালানো আগুনের ওপর দিয়ে এক বিক্ষোভকারীর লাফ। ২ অক্টোবর ২০২৬ ফ্রান্সের সমুদ্রপারের দ্বীপ লা রিইউনিয়নের সেন্ট-পিয়েরে শহরে। প্যারিস-সংলগ্ন ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ শুরু হলেও তা এখন সারা দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবি: এএফপি

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রেন শহরের সর্ববৃহৎ হাইস্কুল লাইসি ব্রেকিনিতে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ভবনে ইটপাটকেল ছুড়ে মারে বলে জানান এএফপির এক ভিডিও সাংবাদিক।

সংবাদমাধ্যম বিএফএম টিভিকে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনোজ জানান, দেশজুড়ে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, তবে এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। আটক ব্যক্তিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পরবর্তী সময় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও জানান, অন্তত সাতটি স্থানে পুলিশকে লক্ষ্য করে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসের উপশহর সেন-স্যাঁ-দনিতে দাঙ্গা পুলিশ সদস্যরা জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করে।

শিক্ষার্থীরা কেন আন্দোলন করছে?

ফ্রান্সের ‘লাইসি’ বা হাইস্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ নানা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এ আন্দোলন চলছে। সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষার শেষ তিন বছর এসব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

এসব শিক্ষার্থীর মূল অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: ক্লাসরুমে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন ও ক্লান্তিকর সময়সূচি।

ল্যাতুর নামের এক বিশ্লেষক বলেন, গত জুন মাসে তীব্র দাবদাহের সময় স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই এই অসন্তোষ জমছিল। তিনি জানান, এ বছরের জুনে একের পর এক দাবদাহের সময় থেকেই ক্ষোভের সূত্রপাত, পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকায় স্কুলগুলোর করুণ দশা উন্মোচিত করে দিয়েছিল।

ল্যাতুর আরও বলেন, ‘বর্তমান আন্দোলনটি এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে ঘটছে, যার পেছনে রয়েছে শিক্ষকসংকট, শিক্ষকেরা অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প শিক্ষক না থাকা, বস্তুগত সরঞ্জামের অভাব এবং কাজের পরিবেশ ও বেতন নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ।’

প্যারিসের উত্তরে সাঁ-দনিতে অবস্থিত পাল-এলুয়ার্দ স্কুলের সামনে শত শত শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংহতি জানান স্থানীয় মেয়র বালি বাগায়োকো। তিনি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ধনী এলাকাগুলোর তুলনায় গরিব এলাকাগুলোয় রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ অনেক কম দেওয়া হয়।

ল্যাতুর আরও উল্লেখ করেন, অনেক শিক্ষার্থী সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। যেমন সরকারি স্কুলে আবায়া (ঢিলেঢালা পোশাক) পরা নিষিদ্ধ করার মতো বিধিনিষেধ আরোপে সরকারের অতিরিক্ত নজর দেওয়া।

ল্যাতুর বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থীর যুক্তি হলো, সরকারের মূল বিষয়ে মন দেওয়া উচিত; আর তা হলো শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

বিক্ষোভকারী এক শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
এএফপি

ধর্মঘটের সঙ্গে বিক্ষোভের সম্পর্ক কী?

হাইস্কুলের এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সরকারের বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীরা দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করছিলেন। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ হাজার ৪০০ কোটি ইউরো (৬ হাজার ১৩০ কোটি ডলার) বরাদ্দ কমানো ও খরচে সাশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে।

এফএসইউ শিক্ষা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ক্যারোলিন শেভ বলেন, মূলত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই একই হতাশায় ভুগছেন।

ক্যারোলিন শেভ আরও বলেন, ‘তারা গাদাগাদি করা ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করছে। জনবলসংকটের কারণে অনেক সময় পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না। আমরা যে বাস্তবতা দেখছি, তারাও একই জিনিস দেখছে এবং তাই তারা ক্ষুব্ধ।’

এ ছাড়া সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০২৭ সাল নাগাদ সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছে সরকার, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি ইউরো বাঁচানো সম্ভব হবে। ইউনিয়নগুলোর দাবি, এটি বাস্তবায়িত হলে টানা চার বছর এর প্রভাব পড়বে। ফলে শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও অন্য সরকারি কর্মচারীরা গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাত্র ১১ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী এতে অংশ নেন।

হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইউনিয়ন সিন্ডিক্যাল লাইসিয়েন’-এর সভাপতি রিয়াদ রানি সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘটের পাশাপাশি দেশজুড়ে স্কুল অবরোধের আহ্বান জানায়, তবে সে শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ থাকার’ অনুরোধ করে। সে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেই নির্দেশনার সমালোচনা করে, যেখানে বলা হয়েছিল পুলিশ যেন আনুপাতিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্কুলের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখে।

বিএফএম টিভিকে রিয়াদ রানি বলে, ‘আমরা এখানে ১৫ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের কথা বলছি, অথচ সরকারের একমাত্র প্রতিক্রিয়া হলো ঢালাও ও প্রাতিষ্ঠানিক দমন–পীড়ন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিশ্লেষক ল্যাতুর বলেন, সরকারি পরিষেবার অবনতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং পারিবারিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে উদ্ভূত সামগ্রিক ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ঘটে চলেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ বিস্ফোরণোন্মুখ।’

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী?

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ল্যাকোরনু বিদ্যালয়গুলোর বাইরে সহিংসতার নিন্দা জানান এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আতশবাজি, অগ্নিসংযোগ, হাইস্কুলের সামনে সহিংসতা—কোনো কিছুই শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বা পুলিশকে ঝুঁকিতে ফেলার যৌক্তিক কারণ হতে পারে না।’

অন্যদিকে বামপন্থী ‘ফ্রান্স আনবাউড’ দলের নেতা জঁ-লুক মেলাশঁ সরকারের বিরুদ্ধে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর দমন–পীড়ন চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘এই বর্বরতা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এতে স্পষ্ট বর্ণবাদী সুর রয়েছে। আমাদের তরুণদের ওপর থেকে হাত সরান।’ তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দলীয় কর্মীদের বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

মেলাশঁর এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন প্রধানমন্ত্রী ল্যাকোরনু এবং বর্ণবাদের অভিযোগকে ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, ‘দলীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে কাজে লাগানো ভুল।’

এমন এক সময়ে এই বিতর্ক জোরালো হলো, যখন প্রধানমন্ত্রী ল্যাকোরনু একটি বিভক্ত পার্লামেন্টে ২০২৭ সালের বাজেটের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন, আর রাজনৈতিক দলগুলো আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করছে।

বিশ্লেষক ল্যাতুর বলেন, সরকারি পরিষেবার অবনতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং পারিবারিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে উদ্ভূত সামগ্রিক ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ঘটে চলেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ বিস্ফোরণোন্মুখ।’

ল্যাতুর ইঙ্গিত দেন, বামপন্থী দলগুলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণদাবিকে এক সুতায় বাঁধার চেষ্টা করতে পারে।

ল্যাতুর আরও সতর্ক করে বলেন, এই অসন্তোষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, সেখানেও অর্থায়নের সংকট তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে বাজেটের অভাবে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও অসন্তোষ ছড়ানোর বড় ঝুঁকি রয়েছে।’

ল্যাতুর যোগ করেন, ‘গত এক বছরে পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে, যা সামনের দিনগুলোয়ও অব্যাহত থাকতে পারে।’

  • কোলান ম্যাজি আল–জাজিরার প্রতিবেদক। মানবাধিকার, অভিবাসন, অস্ত্রশিল্প ও বিগ টেক নিয়ে সাংবাদিকতা করেন। ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি ও সিরিয়ায় আসাদ সরকারের গুম–সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। প্যারিস থেকে ফ্রান্সের নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদনও করেন তিনি।

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ