সেভেন সিস্টার্স ও মিয়ানমার সীমান্ত: উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও জটিল সংকট

ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে বহুকাল ধরে সহিংসতা। ২০২১-এ নেপিদোতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ভারত সরকারের সীমান্তনীতি স্থানীয় জনজাতিগুলোর জন্য এক ভৌগোলিক বন্দিদশা তৈরি করেছে। এ নিয়ে দুই কিস্তির লেখার প্রথম কিস্তি আজ প্রকাশিত হলো।

ভারতের মনিপুরে ‘ইন্ডিয়া–মিয়ানমার’ ফ্রেন্ডশিপ রোড’রয়টার্স

মানুষ বনাম রাষ্ট্র

ভারত-মিয়ানমার সীমানার একদিকে রয়েছে অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম—তারা সেভেন সিস্টার্সভুক্ত চার বোন। অপর দিকে আছে মিয়ানমারের তিনটি এলাকা—চিন, কাচিন, সাগাইং। এই সাত জনপদ মিলে আয়তন প্রায় পৌনে চার লাখ বর্গকিলোমিটার। আরাকানও উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোর অতি কাছের। যদিও আরাকানের ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাস ওই সাত জনপদ থেকে আলাদা ধরনের।

সর্বদক্ষিণে আরাকান-মিজোরাম-বান্দরবানের ত্রিমোহনার চাকমা অধ্যুষিত ছোট্ট পর্বা গ্রাম থেকে উত্তরে অরুণাচলের তাঙসা নাগাদের পাংসু পাস পর্যন্ত আলোচ্য সীমান্তের মালিক নয়াদিল্লি ও নেপিদো হলেও ভারতের হিন্দিভাষী মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মিয়ানমারের বামার অধ্যুষিত মূল ভূখণ্ডের কার্যত সাংস্কৃতিক যোগসূত্র নেই এখানে। চিন-কাচিন-সাগাইংয়ের যেসব অঞ্চল ভারতীয় রাজ্যগুলোর লাগোয়া, সেসব মিয়ানমারের অ-বামার জনজাতিগুলোর জায়গা। ভারতীয় অংশের রাজ্যগুলোতেও হিন্দিভাষীদের প্রভাব সামান্যই।

আরও পড়ুন

১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমানার দুই দিকে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট ছোট অনেক জনজাতির বাস হলেও তাদের এলাকার ওপর কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের ঐতিহাসিক রশি অন্যদের হাতে। এই সীমান্তের সর্বদক্ষিণে বাংলাদেশের আলীকদম-থানচি। সেখানেও মূলত অবাঙালি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাস।

মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তের ভারতীয় অংশের মূল জনজাতি মিজো, নাগা, কুকিরা মুখ্যত খ্রিষ্টান। অপর পাড়ের কাচিন ও চিনরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান। সাগাইংয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নাগা আছে। তাদেরও বড় অংশ খ্রিষ্টান।

এই সীমান্তজুড়ে উভয় দিকে অতীত থেকে নাগা ও কুকিরা হলো প্রধান দুই শক্তিশালী জাতি। তবে উভয়ে তারা একাধিক দেশ, একাধিক ট্রাইব, একাধিক রাজ্যে বিভক্ত। কুকিরা বান্দরবান, মণিপুর, মিজোরাম ও চিন প্রদেশে ছড়িয়ে আছে। বৃহত্তর এক জাতির অংশ হয়েও এসব জায়গায় তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। পাশাপাশি নাগারা ভাগ হয়ে আছে মিয়ানমার ও ভারতনিয়ন্ত্রিত নাগাল্যান্ড, মণিপুর ইত্যাদি অঞ্চলে।

যে সীমানা টেনে দিয়েছিল ঔপনিবেশিক শক্তি

ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত ঐতিহাসিকভাবে ‘পেমবার্টন লাইন’ হিসেবে পরিচিত। ভারত দখলকারী ব্রিটিশশক্তি ১৮২৬ থেকে ধাপে ধাপে পাশের দেশ মিয়ানমারকে দখল শুরুর একপর্যায়ে এই সীমান্তরেখা টেনেছিলেন তাদের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আর বি পেমবার্টন। এর আগে আজকের মণিপুর ও আরাকান মিয়ানমারের বামারদের দখলে ছিল।

সামরিক কর্মকর্তা পেমবার্টনের নেতৃত্বে বামারদের মণিপুর থেকে হটিয়েছিল ব্রিটিশরা। ১৮৪০-এ মুর্শিদাবাদে মারা যান পেমবার্টন। মৃত্যুর ছয় বছর আগে তিনি ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রাথমিক সীমানা লাইন আঁকা শেষ করেন। কাগজের ওপর কলম দিয়ে এই সীমান্ত চিহ্নিত করা হয় সে সময়।

ভারত সরকার ২০১৪ সালে তার বহুল আলোচিত ‘লুক ইস্ট’ নীতি ঘোষণা করে। লুক ইস্ট বলতে তারা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক করার আগ্রহ ও কর্মসূচিকে বোঝাত। এই নীতি ঘোষণাকারী সরকার গত এক যুগ নয়াদিল্লিতে ক্ষমতায় আছে; কিন্তু মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ওই নীতির বাস্তবায়ন ধীর করে দিয়েছে।

ওই শতাব্দীর শেষ দিকে এবং পরের শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে কথিত ওই সীমানা কিছুটা সংশোধিত হয়। তবে কমবেশি পেমর্বাটনের মতামতেই এখানকার পাহাড়, নদী, গ্রামগুলো বিভক্ত হয়ে আছে আজও; যা অনেকটা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ডুরান্ট লাইন বা দুই বাংলার মধ্যে রেডক্লিফ লাইনের মতো করেই তৈরি।

১৯৬৭ সালে মিয়ানমারে সঙ্গে ভারত প্রথম যে সীমান্তচুক্তি করে, তার মাধ্যমে পেমবার্টনের ঠিক করে যাওয়া সীমানাই উভয় স্বাধীন দেশ মেনে নেয়। এ সময় স্থানীয় জাতিগুলোর মতামত রাখার কোনো সুযোগ ছিল না। দূরবর্তী শাসকেরা স্থানীয় সামাজিক বিবেচনাগুলো অগ্রাহ্য করেই সীমানা স্থায়ী করে নিয়েছে নিজেদের রাজনৈতিক প্রয়োজনে। মণিপুরিদের ব্যাপক ক্ষোভ এই সীমান্ত নিয়ে। তারা মনে করে, প্রায় এক হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গা হারিয়েছে তারা মিয়ানমারের কাছে এই সীমানার সূত্রে। দুই দিকে বিভক্ত হয়ে পড়া এখানকার জাতিগুলো সম্প্রতি নতুন করে আরেক দফা বিপদে পড়েছে।

আরও পড়ুন

গৃহযুদ্ধ যেভাবে এই সীমান্তে বিপর্যয় ঘটাল

ভূরাজনৈতিক নানান বিবেচনায় ভারত এখন মিয়ানমার সন্নিহিত তাদের সীমান্ত রাজ্যগুলোতে ব্যাপকভাবে রাস্তাঘাট তৈরি করছে। সেভেন সিস্টার্স এলাকায় কিছুদিন আগেও অবকাঠামো ভারতের মূল ভূখণ্ডের তুলনায় বেশ দুর্বল ছিল। ছিল যোগাযোগ দুর্গমতা। ১২৫ বছর আগে এ অঞ্চলে ব্রিটিশরা রেলের প্রচলন করলেও প্রায় ৬৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় রেললাইনের মধ্যে সেভেন সিস্টার্সের হিস্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার কিলোমিটার।

মিয়ানমার–সংলগ্ন মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল মিলিয়ে রেললাইন ছিল ১০০ কিলোমিটারের কম। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। রেল সম্প্রসারণ চলছে দ্রুতলয়ে। শিগগির অন্তত ৩০০ কিলোমিটার রেললাইন হয়ে যাবে আলোচ্য চার রাজ্যে।

এসব জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগ আনারও চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। জাপান ও কোরিয়া এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী। এসব রাজ্যে মানবসম্পদের একাংশ বেশ শিক্ষিত—বিনিয়োগকারীদের জন্য যা সুবিধাজনক। তবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পর্যটন ছাড়া বড় বিনিয়োগের জায়গা কম।

ভারতের জন্য সমস্যা হলো, এসব রাজ্য থেকে রাজস্ব হিসেবে যা পাওয়া যায়, তার চেয়ে বেশি চলে যায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামরিক খাতের খরচে। এখানকার মানুষের স্বাধিকারের আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখতে নয়াদিল্লিকে চড়া অর্থমূল্য দিতে হয়। ভারতের জিডিপিতে মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল মিলিয়ে সম্মিলিত অবদান এক শতাংশও নয়। সেভেন সিস্টার্সের সাত রাজ্য মিলিয়ে এই অবদান ২ শতাংশের সমান হবে। তাতে আবার আসামের অংশই মুখ্য।

রাজস্ব ও উন্নয়ন খরচের জন্য এসব রাজ্যকে কেন্দ্রের ওপর বেশ নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয়, গেরিলা তৎপরতার আতঙ্কসহ এখানকার সমস্যার তালিকা বেশ বড়। তাতে নতুন উপসর্গ হলো মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ। কেবল সীমান্তপ্রাচীর বানাতেই এখানে ভারতের খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। যে প্রাচীর বিভক্ত করছে বহু জনজাতিকে।

ক্ষুদ্র জাতি, বৃহৎ বেদনা

এখানকার সীমান্ত জনপদের মানুষের একটা পুরোনো বৈশিষ্ট্য, ১৯৪৭-৪৮ এরপরও তারা ব্রিটিশদের তৈরি সীমান্তের দুই দিকেই আসা-যাওয়া করত। উভয় দিকেই আছে তাদের গ্রামগুলো। ২০২১ থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় ভারত রক্ষণশীল সীমান্তনীতি নেয়। এর প্রতিক্রিয়া ঘটছে বহুমুখী।

নাগা, মেইতেই, কুকিদের অনেক গেরিলা দল আছে সেভেন সিস্টার্সের সীমান্তবর্তী চার রাজ্যে। সীমান্তের উভয় দিকে আসা-যাওয়া করে তারা। নেপিদো এদের প্রশ্রয় দিলে নয়াদিল্লির জন্য সেটা অসুবিধাজনক। চীনও এদের মদদ দিতে পারে বলে নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ আছে।

আবার সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অন্তত দুটি প্রদেশ চিন ও কাচিনে নেপিদোবিরোধীদের সশস্ত্র সংগ্রাম অতি তীব্র। এখানকার গেরিলাদের কেউ মিয়ানমারজুড়ে গণতান্ত্রিক শাসন চায়, কেউবা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন চায়। এই উভয় ধরনের শক্তির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বামার সেনাবাহিনীর (তাতমা-দ) হামলা ও নিপীড়ন চলছে।

চিন প্রদেশের পুরোনো রাজধানী মিজোরাম–সংলগ্ন ফালামে প্রায় প্রতিদিনই বামার সেনাবাহিনী বোমা ফেলছে। তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া। তাতে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামরত গ্রুপগুলোর সীমান্তপথে মিজোরামের দিকে আসা-যাওয়া কমাতে পারবে তারা। ফালামে মিজোরাম থেকে তিন কিলোমিটারের ভেতরে বিখ্যাত লেক ‘রিহ-দিল’–এ আগে বিভিন্ন রাজ্যের ভারতীয়রা অনায়াসেই যেতে পারতেন। এটা বাংলাদেশ-মিয়ানমার-ভারতের জো জাতিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু সীমান্তে আগের মতো আর অবাধে চলাচল করা যাচ্ছে না।

চিন ও কাচিনের পাশাপাশি আরাকান ও সাগাইংয়েও সংঘাতে সীমান্তজুড়ে নানান নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে। চিন, আরাকান, কাচিন ও সাগাইং থেকে কিছু কিছু মানুষ ইতিমধ্যে ভারতনিয়ন্ত্রিত সীমান্ত জনপদগুলোতে চলে এসেছে। আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাজনৈতিক কর্মী অনেক। তারা ভারতে বসে মিয়ানমারের সরকারের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালায় কি না এবং সেটা নেপিদোর নজরে আসে কি না, তা নিয়ে নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন।

এসব ভেবেই বিজেপি সরকার প্রথমে সীমান্তে চলাচলের পুরোনো নিয়ম বাতিল করে এবং পরে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রকল্প নেয়। পুরো সীমান্তের প্রায় চার ভাগের এক ভাগে প্রাচীর বসানো শেষও হয়েছে।

ভারতীয় এই কাঁটাতারের প্রাচীর মিয়ানমার থেকে শরণার্থী আসা কমানোর পাশাপাশি সেভেন সিস্টার্সের গেরিলাদের চলাচলও সীমিত করবে নিশ্চিতভাবে; কিন্তু এর বিরূপ ফল হিসেবে এই অঞ্চলের মানুষের আন্তসীমান্ত চলাচলের ঐতিহাসিক অধিকার আর থাকছে না। তাদের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনকেও সমস্যায় ফেলেছে এটা। সীমানাবেড়ায় জাতিসত্তাগুলোর সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক পুরোনো যোগাযোগ পুরো বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

নাগা, কুকি, চিন জাতিসত্তাগুলো ১৯৪৭-৪৮ থেকে তাদের এলাকায় অপর জাতির শাসনে এমনিতে অসন্তুষ্ট। এখন তাদের চলাচল বিঘ্ন হওয়াতে আরও বিক্ষুব্ধ তারা।

আরও পড়ুন

সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর পক্ষে জনমত তৈরি করতে নয়াদিল্লিবান্ধব অনেক মিডিয়া এই এলাকায় রোহিঙ্গাদের ঢুকে পড়ার ভীতিও ছড়ায় নিয়মিতভাবে। কিন্তু ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচলে রোহিঙ্গাদের যাওয়ার সুযোগ নগণ্য। এই চার রাজ্যে বাংলাভাষীদের সংখ্যাও অতি নগণ্য—এক থেকে চার শতাংশের মধ্যে। অবৈধ অনুপ্রবেশও প্রকৃতপক্ষে বেশি নয়।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর লোকসভায় ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ মিলিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে ঢোকার মুখে আটক করা মানুষের সংখ্যা ৮৭৮। বিশাল এক সীমান্তে ২৪ মাসে এই সংখ্যা নেহাতই কম। তারপরও যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পুনঃপুন অবৈধ অনুপ্রবেশের কাহিনি প্রচার করে, সেটা আসলে কাঁটাতার বসিয়ে স্বাধীনতাকামী গেরিলা দলগুলোর চলাচল বন্ধ করার লক্ষ্যে।

এ ধরনের কর্মসূচিতে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারও উৎসাহী ও খুশি। তারাও চিন, কাচিনসহ আশপাশের অঞ্চলের স্বাধীনতাকামীদের সীমান্তের ভেতর নিজেদের গোলার আওতায় দেখতে ইচ্ছুক। এসব বিবেচনায় নয়াদিল্লি এবং নেপিদো উভয়ে পেমবার্টন লাইনে নিশ্ছিদ্র প্রাচীর বসিয়ে তাকে সুরক্ষিত রাখতে মরিয়া; কিন্তু এর সব পার্শ্বফল সুখকর নয়, বিশেষ করে ভারতের জন্য।

ভারতের ‘লুক ইস্ট’ নীতি যেভাবে সংকটে

ভারত সরকার ২০১৪ সালে তার বহুল আলোচিত ‘লুক ইস্ট’ নীতি ঘোষণা করে। লুক ইস্ট বলতে তারা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক করার আগ্রহ ও কর্মসূচিকে বোঝাত। এই নীতি ঘোষণাকারী সরকার গত এক যুগ নয়াদিল্লিতে ক্ষমতায় আছে; কিন্তু মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ওই নীতির বাস্তবায়ন ধীর করে দিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৪–এর মধ্যে আসিয়ান দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানিও প্রায় একই রয়ে গেছে। গত এক দশকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারতের অংশীদারত্ব ছিল ৩ শতাংশের কম। গণচীনের বেলায় যেটা ছিল প্রায় ২০ শতাংশ।

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে নয়াদিল্লির পিছিয়ে থাকার বড় এক কারণ মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে থাইল্যান্ডমুখী প্রস্তাবিত ত্রিদেশীয় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার লম্বা সড়ক যোগাযোগ খুলতে না পারা। আর সেটা ঘটেছে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ; চিন, কাচিন, সাগাইং এবং মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড অঞ্চলের অস্থিতিশীলতায়। সীমান্তপ্রাচীর বসিয়ে এই অস্থিতিশীলতা আটকাতে গিয়ে তাতে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থও আটকে গেছে তাদের।

  • আলতাফ পারভেজ গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

*মতামত লেখকের নিজস্ব