চলেই গেলেন খাইরুল ভাই

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মো. খায়রুল ইসলাম ২১ আগস্ট শুক্রবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।ছবি: খাইরুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

প্রস্তুত হচ্ছিলেন পোশাকি ‘অবসরের’ জন্য। পোশাকি বললাম, কারণ কাজের মানুষদের আদতে কোনো অবসর নেই। অফিসের দশটা-পাঁচটার ঘড়ি ধরা চাকরি ছেড়ে দিলে কাজের ঘড়ি তাঁদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে।

তাঁকে ঘিরেও অনেকের অনেক পরিকল্পনা ছিল। সাতসকালে তাঁর আচমকা প্রস্থানের খবর পেয়ে অনেকেই সে কথা অকপটে লিখেছেন।

একজন এনজিও নেতা নিঃসংকোচে লিখেছেন, ‘আমরা মুখিয়ে ছিলাম, রিটায়ারমেন্টের পর তাঁকে কী কী কাজে পাব, সেই ভেবে।’ দেশের দক্ষিণের এক সহজ-সরল উন্নয়নকর্মী লিখেছেন, ‘আমরা ঠিক করেছিলাম, অবসরের পর তাঁকে আমরা উপদেষ্টা করে কাজে লাগাব।’

এই উন্নয়নকর্মীর সঙ্গে খাইরুল ভাইয়ের (খাইরুল ইসলাম) আসলেই কোনো কথা হয়েছিল কি না, কে জানে! নাকি সবটাই তাঁর বসন্তকালের ভাবনা, যা কেবল বলতে পারেননি। তবে এটা ঠিক, তাঁর মনে একটা ভরসা ছিল—খাইরুলের মতো মানুষদের কাছে গিয়ে দাঁড়ানো যায়, মনের কথা বলা যায়।

ক্যাডেট কলেজের পর তিনি চলে আসেন পুরান ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। সেখানেও তিনি সহপাঠীদের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন।
ছবি: খাইরুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

একজন নামজাদা গণযোগাযোগ ব্যক্তিত্ব লিখেছেন, ‘আমার নিজের জীবনে ইতিবাচক অবদানের জন্য যেসব মানুষকে ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন, তাঁদের মধ্যে খাইরুল ভাই অন্যতম। কিন্তু সরাসরি ধন্যবাদের কথা তাঁকে বলার আগেই তিনি ছবি হয়ে গেলেন।… কাজের সূত্রে তাঁর সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হলো। একেবারে আমার মায়ের পেটের বড় ভাই হয়ে উঠলেন। আমার মা-বাবার মৃত্যুতে কবরস্থানে এসে দোয়ায় অংশ নিয়েছেন।

আমি তাঁর অনেক সময় নিয়েছি। যেকোনো বিষয় না বুঝলে তাঁকে ফোন করেছি। তিনি আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা সময় নিয়ে আমাকে বুঝিয়েছেন। যেকোনো নতুন কাজ বা প্রজেক্ট শুরু করার আগে তাঁর বুদ্ধি নিয়েছি। আমি তাঁর কাছে ঋণী। তাঁর শেখানো অনেক কিছু আমার জীবনে অমূল্য সম্পদ।’

খাইরুল ভাই কিন্তু সংবাদজগতে কখনো কাজ করেননি। তারপরও নামজাদা সংবাদকর্মীরা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে, সাফল্যের সিঁড়িগুলো চিনে নিতে তাঁর পরামর্শ নিয়েছেন। কারণ, তাঁর ওপর ভরসা করা যায়।

ঢাকার কাছে টাঙ্গাইলে তাঁর জন্ম। সেটা নিয়ে তাঁর গর্ব ছিল খুব। লিখেছেন, ‘আমার জন্ম টাঙ্গাইলের এক নিভৃত গ্রামে। এখন অবশ্য বাংলাদেশের সব গ্রামই সড়ক যোগাযোগে সংযুক্ত।

মানুষ গর্ব করে বলে, আমাদের বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি যায়। অনেক আগে বাংলাদেশে ১০ টাকার নোটে একটি মসজিদের ছবি ছিল। মসজিদটি এখনো আছে—আতিয়া মসজিদ, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে।

পাশেই পাথরাইল বাজার—তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। তারই কাছে গ্রামের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক নয়নাভিরাম, আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। উদ্যোক্তা—ব্যুরো বাংলাদেশ নামে খ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রথমবারের মতো আসতে পেরে এবং পাঁচ দেশের মানুষকে এখানে আনতে পেরে খুবই ভালো লাগছে, আর টাঙ্গাইল জেলার সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করছি।’

পড়াশোনা টাঙ্গাইলেরই মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নানা ক্যাডেট কলেজ থেকে আসা সহপাঠী পেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে খাইরুল ভাইকে মেলাতে পারতাম না। চরম শৃঙ্খলার মধ্যেও তিনি সেটাকে উপভোগ করার ক্ষমতা রাখতেন। তাঁর অনেক সিনিয়র-জুনিয়র কলেজ সহপাঠী তাঁকে মরুভূমির মধ্যে এক সবুজ উদ্যান মনে করতেন। মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে।

টাঙ্গাইলের বাস সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী। শোনা যায়, তাদের শক্তির কাছে ব্রিটিশরা হার মেনেছিল; টাঙ্গাইলে রেললাইন বসাতে পারেনি।

তবে টাঙ্গাইলের বাসে চড়লে আর নীতিকথার বই পড়তে হয় না। এটা নিয়ে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে হাসিঠাট্টা হতো। দেখি, সেটাও তাঁর নজর এড়ায়নি। দিব্যি লেখা আছে তাঁর নোটবুকে—‘ভদ্রতায় বংশের পরিচয়; রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ; লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন; আল্লাহর নামে চলিলাম; চলন্ত অবস্থায় ড্রাইভারকে বিরক্ত করিবেন না; অভিযোগ থাকলে চালককে বলুন’ ইত্যাদি।

একদিন জানালেন, হঠাৎ টাঙ্গাইল থেকে জামালপুরগামী একটি বাসে ভিন্ন ধরনের একটি বাণী দেখতে পেলেন, যা তাঁর মনে গেঁথে আছে। বাণীটি ছিল—‘ভাইসাব, আপনি ছিলেনই বা কী; হইছেনই বা কী; বাকি আছেই বা কী?’

পড়াশোনা টাঙ্গাইলেরই মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নানা ক্যাডেট কলেজ থেকে আসা সহপাঠী পেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে খাইরুল ভাইকে মেলাতে পারতাম না।

চরম শৃঙ্খলার মধ্যেও তিনি সেটাকে উপভোগ করার ক্ষমতা রাখতেন। তাঁর অনেক সিনিয়র-জুনিয়র কলেজ সহপাঠী তাঁকে মরুভূমির মধ্যে এক সবুজ উদ্যান মনে করতেন। মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে।

সেসব দিনের প্রসঙ্গে তাঁর কথা ছিল—‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পড়তে যাই মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় (১৯৭৫-৭৭) আমাদের সবার মধ্যে একধরনের সিনিয়র ভাব আসে। তখন লেখাপড়া ছাড়া আর সব বিষয়ে আমরা নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টায় ব্রতী হই।

খাইরুল ইসলাম শিখতেন এবং উৎসাহ দিতেন নতুন চিন্তাকে, উদ্ভাবনকে।
ছবি: খাইরুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

নাটক নামানোর পাশাপাশি দু-একটা গান বাঁধারও চেষ্টা করি। সে সময় প্যারোডি গান বেশ হিট হতো। আমরা কয়েকজন মিলে আমজাদ হোসেনের নাটকের একটি সুরেলা বিলাপকে সুরে ফেলে আরেকজন বয়াতির গানের মুখ নিয়ে কিছু কথা নিজেরাই মেডলির মতো কিছু একটা বানিয়ে কলেজের কোনো এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করি।

অনেকের হয়তো মনে আছে, সে সময় আমজাদ হোসেন প্রতি ঈদে একটি নাটক নিয়ে আসতেন। “বাত্তি নাই ভাই, বাত্তি নাই ভাই কবরে”—গানটি এভাবেই আমাদের ক্যাডেট কলেজের নবম ব্যাচে জনপ্রিয় হয়ে থাকে। বিশেষ করে তবলাবিহীন বিলাপের পরে দ্রুতলয়ে “বুরুজ দিয়া তোমরা সবে দিল করো পরিষ্কার”—কথাগুলোও বেশ কদর পায়।’

ক্যাডেট কলেজের পর তিনি চলে আসেন পুরান ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। সেখানেও তিনি সহপাঠীদের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন।

মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে। পুরান ঢাকার নানা খাবারের স্বাদ-গন্ধের তিনি হয়ে ওঠেন এক বিশেষজ্ঞ। শুধু পুরান ঢাকা নয়, ঢাকার কোন বাজারে কোন জিনিসটা ভালো পাওয়া যায়—তা নিয়ে খাদ্যরসিক খাইরুল ভাইয়ের সঙ্গে তর্ক করা যেত, কিন্তু জেতা যেত না।

পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ছিল  অসাধারণ

প্রায়ই বলতেন, ‘মানুষের কাছে কত কিছু শেখবার আছে!’মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর এক কোনায় এক অচেনা ‘সাধারণ’ মানুষ অসাধারণ একটি কাজ করেছিলেন। পথচারীদের জন্য নারী-পুরুষের আলাদা ব্যবহারযোগ্য টয়লেট, টয়লেট প্যান বা কমোড, পানির ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, মলমূত্র সংগ্রহের জন্য কনটেইনমেন্ট বা ট্যাংক, দরজায় নিরাপত্তা ও অ্যাকসেসিবিলিটির ব্যবস্থা—কী ছিল না সেখানে! কিছু মডেলে শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারের সুবিধাও রাখা হয়েছিল।

পৌর কর্তৃপক্ষ বুঝল, যেখানে স্থায়ী পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য জায়গা নেই, কিংবা অল্প সময়ে বেশি মানুষকে সেবা দিতে হয়—যেমন বাস টার্মিনাল ও পরিবহনকেন্দ্র, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকা, ফুটপাত বা ব্যস্ত সড়ক, মেলা ও বড় জনসমাবেশ, নির্মাণকাজের এলাকা, বন্যা বা দুর্যোগকবলিত এলাকা, অস্থায়ী শরণার্থী বা বাস্তুহারা মানুষের বসতি এবং শহরের ভাসমান ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর এলাকায়—সেখানে ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা রয়েছে।

২০২৫ সালে ‘Toilets on the Go’ Mobile Toilet Design Competition আয়োজন করে নতুন প্রজন্মের মোবাইল স্যানিটেশন নকশা নিয়েও কাজ করেছেন খাইরুল ভাই।
এই তো সেদিন রাজশাহী গিয়েছিলেন। কোথাও কোনো পাবলিক টয়লেট দেখলেই দাঁড়িয়ে যেতেন—দেখার জন্য, নতুন কিছু শেখার আছে কি না বোঝার জন্য।

রাজশাহীর অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন এভাবে—
‘ফিরে আসবার সময় একটা পাবলিক টয়লেট দেখতে পেলাম। একটু উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করতেই কাউন্টারের লোক জানালেন, টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। অনুমতি চাইলাম, একটু ভেতরে ঘুরে দেখার। তরুণ ইজারাদার অনুমতি দিলেন। জারিফ এবং আমি ভেতরটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

এগজস্ট ফ্যান, সিলিং ফ্যান আছে, পুরুষ ও নারী—দুই পাশেই একটি করে হাই কমোড আছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দৃশ্যমান এবং কোনো দুর্গন্ধ নেই। জানলাম, আট মাস আগে রেলওয়ে থেকে এই যুবক ইজারা নিয়েছেন। তখন সবকিছুই ছিল ব্যবহারের অযোগ্য। সবকিছু তাঁরা নতুন করে লাগিয়েছেন। দশ টাকা প্রবেশমূল্য।

এমন চমৎকারভাবে পাবলিক টয়লেট রক্ষণাবেক্ষণের উদাহরণ বিরল। কাউন্টারের টেবিলের ওপর একটা ছোট্ট অ্যাকুয়ারিয়াম দেখলাম। ওপরে লেখা—‘অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ বিক্রি করা হয়।’ বিষয়টা খুবই অদ্ভুত লাগল। ইজারাদার জানালেন, অনেক নারী ব্যবহারকারী ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন।

বাচ্চাকে এই মাছের অ্যাকুয়ারিয়ামের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলে সে কান্নাকাটি করে না, মাছ দেখতে দেখতে তার সময় কেটে যায়। এরই মধ্যে তার মা টয়লেট সেরে চলে আসতে পারেন। কেউ মাছ চাইলে তাঁরা বিক্রিও করেন। শিশুদের ব্যস্ত রাখার এমন অভিনব আইডিয়া ও ব্যবসা আমি আর কোথাও দেখিনি বা শুনিনি। মানুষের কাছে কত কিছু শেখবার আছে!

ইজারাদার ও তাঁর সহকর্মীদের তাঁদের কাজের জন্য অনেক প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানালাম। জানালেন—‘আমাদের পরিকল্পনা আছে মেয়েদের সেকশনে একটা ভেন্ডিং মেশিন লাগাব, যাতে সেখান থেকে সহজেই মেয়েরা স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারে।’

এই ভাবনা কোথা থেকে এল? জানালেন, গত এসএসসি পরীক্ষার সময় তিনি অনেক ছাত্রীকে দেখেছেন—না পারছে কিছু বলতে, না পারছে তাদের মাসিকের বিষয়টি সামলাতে। সেই থেকে মেশিন কেনার ভাবনাটা তাঁর মাথায় এসেছে।

আমি জানি, প্রচণ্ড মানসিক চাপে কখনো কখনো অসময়ে হঠাৎ এমন হতে পারে। দূর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা ছাত্রীদের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে ভেবে আমি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই।’

এইভাবেই খাইরুল ভাই শিখতেন এবং উৎসাহ দিতেন নতুন চিন্তাকে, উদ্ভাবনকে।
সতেরো-আঠারো বছর পর ভোট দিতে পেরে আমরা আহ্লাদে আটখানা। ভোট দিয়ে এসে তিনি জানালেন—   ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন যে অ্যাপস করেছে, তা দারুণ উপযোগী হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। লাঠি নিয়ে, অন্যের সাহায্য নিয়ে দোতলায় বা তিনতলায় ভোট দিতে যাওয়া বয়স্ক ভোটারের সংখ্যা বেশ চোখে পড়ল। ভবিষ্যতে এ রকম অ্যাপসে নিবন্ধন করে তাঁদের জন্য নিচতলায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা সহজেই করা যাবে বলে আশা করি।’

প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের নিয়ে কাজ করেন—এমন অনেক সংস্থার মালিক বা পরিচালকের চোখেও হয়তো বিষয়টি পড়েনি। এখানেই খাইরুল ভাইয়ের দৃষ্টিশক্তি—শুধু চোখে দেখা নয়, মানুষের প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে গভীরভাবে দেখতে পারার ক্ষমতা।

একাত্তরের সামাজিক ইতিহাস নিয়ে কাজ করার সময় চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তর আলাপ হতো। ঠিক হলো, মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসার ইতিহাস নিয়ে তিনি আলাদাভাবে কাজ করবেন।

নানা কাজে ব্যস্ততার কারণে কাজটি তেমন গতি পাচ্ছিল না। পরে একজন সহকারী নিতে রাজি হলেন। শাহাদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে, প্রথম আলোর সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। এটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স গ্রন্থ হয়ে থাকবে।

তাঁর শেষ বিদেশ ভ্রমণ ছিল সম্ভবত পাকিস্তানে। পাকিস্তানিরাও যে সামরিক শাসন পছন্দ করে না, সেটিও তাঁর নজর এড়ায়নি। দলিল-দস্তাবেজসহ সে কথা তিনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন।

যেকোনো বিষয় নিয়ে, যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল খাইরুল ভাইয়ের। পৃথিবীতে খাইরুল ভাইদের সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের চলে যাওয়া বিরল প্রজাতির উপকারী উদ্ভিদ ও প্রাণী হারিয়ে যাওয়ার মতোই স্থায়ী ক্ষতের জন্ম দেয়। আমাদের শরীরে ক্ষতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

গওহার নঈম ওয়ারা: লেখক গবেষক
[email protected]