অভিমত–বিশ্লেষণ
নদী ও খাল খননে যে ৭টি বিষয় আমলে নিতেই হবে
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। গতকাল এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নদী ও খাল খনন নিয়ে যে বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে, তা নিয়ে লিখেছেন তুহিন ওয়াদুদ
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে নদী-খাল-জলাশয় নিয়ে কাজ করি। সরেজমিনে দেখেছি—নদী কিংবা খাল খননের ক্ষেত্রে ন্যূনতম নদীবান্ধব কাজ করা হয় না। কারা কীভাবে কাজ করে, কোন কোন ক্ষেত্রে খনন কল্যাণের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেসব নিয়ে বহুবার লিখেছি, গণমাধ্যমে কথা বলেছি, আন্দোলন করেছি। সরকারের নদী-খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নদীকর্মীদের আপত্তি আমলে নিয়ে অতীতে ত্রুটিমুক্ত করে খননের উদ্যোগ নেয়নি।
বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে নদী-খাল খননের কথা বলেছিল। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের পরপরই ঘোষিত নদী-খাল খননের উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। আমরা চাই এবারে নদী-খাল খনন বিজ্ঞানসম্মত হোক, প্রকৃতিবান্ধব হোক।
আমাদের দেশে নদী খননকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ), পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড), বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন), বিএমডিএ (বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) এবং মৎস্য বিভাগ।
বিআইডব্লিউটিএর মাঠপর্যায়ে কার্যালয় নেই। ফলে তারা যখন নদী খনন করে, তার তদারকি ঠিকমতো হয় না। বিআইডব্লিউটিএ অনেক কাজের ক্ষেত্রে পাউবোর সহায়তা নেয়। বিআইডব্লিউটিএর প্রধানত নৌ যোগাযোগ আছে বা হবে, এমন নদী খনন করার কথা। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে যেসব নদীতে নৌ যোগাযোগের কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব নদীও তারা খনন করে। দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী বিআইডব্লিউটিএ খনন করেছে। এই নদী খননে পাড় দিয়েছে নদীর ভেতরে।
রংপুরে চার-পাঁচ বছর আগে ঘাঘট নদ খনন করেছে পাউবো, এখন আর খননের তেমন প্রয়োজনই নেই। এই নদীতে নৌ যোগাযোগ হবে না। তবু নদীটি খননে নতুন করে প্রায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
নদী খনন প্রকল্প কতটা অপরিকল্পিত হতে পারে—এটি তার একটি দৃষ্টান্ত। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার বিশেষ লাভের জন্য নাকি এই প্রকল্প আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রহণ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তারা এই প্রকল্প বাতিল করেনি।
কয়েক বছর আগে বিআইডব্লিউটিএর অধীন কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদ খনন করা হয়েছে। কয়েক শত কোটি টাকা ব্যয় করে যে খনন করা হয়েছে, সেই খননে উপকারের বদলে ক্ষতি হয়েছে বেশি। যে সামান্য খনন করা হয়েছে, সেই খননকৃত বালু ফেলা হয়েছিল নদীর ভেতরে। বৃষ্টিতে ওই বালু আবার নদীতে চলে গেছে।
খনন এলোপাতাড়ি হওয়ার কারণে খননের বছর নদীর পাড়ে ভাঙন হয়েছে বেশি। বিআইডব্লিউটিএ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী খননসহ অন্যান্য কাজের একটি প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই খনন যে কোনো কাজে আসেনি, তা অনেক গণমাধ্যমের সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। এই খননের পরও ময়মনসিংহে পুরোনো ব্রহ্মপুত্রে পানির সংকট থেকে গেছে। গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত নৌ যোগাযোগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবসম্মত না হওয়ায় সেই টাকাও পানিতে ভেসে গেছে।
পাউবো এ দেশে অসংখ্য নদীকে গলাটিপে হত্যা করেছে। পাবনা-নাটোরের বড়াল নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে চরম সর্বনাশ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। বগুড়া দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর করুণ দশার জন্য পাউবো দায়ী। প্রায় তিন শ ফুট প্রস্থের করতোয়া নদীর প্রবাহপথে ১০-১২ ফুট স্লুইসগেট দিয়ে এ নদীটি মেরে ফেলা হয়েছে।
তীর রক্ষার নামে বাঁধ দিয়ে তিস্তা নদীর অন্তত ১০টি উপনদী এবং শাখা নদীকে মেরেছে পাউবো। নিকট অতীতে পাউবো যেসব নদী খনন করেছে সেগুলোতে নদীবান্ধব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। রংপুরের বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত চিকলি নদীর প্রকৃত প্রস্থ অনুযায়ী খনন হয়নি।
নীলফামারীর দেওনাই নদসহ প্রায় সব খননকৃত নদীর মাটি ফেলা হয়েছে নদীর পাড়েই। বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে আবার নদী ভরে ওঠে। যশোরের ভবদহ সংকটের জন্যও পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়ী। পাউবো দেশের বড় প্রতিষ্ঠান, যেখানে অনেক দক্ষ-অভিজ্ঞ প্রকৌশলী আছেন। তাঁদের মাধ্যমে নদী-খাল হত্যা কিংবা নদীর ক্ষতি হয়, এমন কাজ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান নদীকে খাল নাম দিয়ে খনন করতে ‘পটু’। নীলফামারী জেলায় বাগডোকরা নামে একটি নদী আছে। নদীটিকে খনন করার পর সাইনবোর্ড দিয়েছে ‘বাগডোকরা খাল’। রংপুরের পীরগাছা দিয়ে প্রবাহিত হওয়া একটি নদী আলাইকুমারী। এই নদীও খনন করে খাল নামে সাইনবোর্ড দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা নদী খননের ত্রুটিগুলো দূর করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্তভাবে নদী-খাল খনন হবে—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
এ দুটি নদীর পারের মানুষের আপত্তি ছিল নদীকে খাল বলা নিয়ে। নদীকে খাল বানানোর অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন আরেকটি প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ। এই প্রতিষ্ঠানও বিএডিসির অনুরূপ কাজে সিদ্ধহস্ত।
এলজিইডি তো অসংখ্য নদীর ওপর প্রকৃত প্রস্থের চেয়ে ছোট ছোট সেতু তৈরি করে নদীর ক্ষতি করেছে। অসংখ্য নদীর ওপর সেতু ছাড়া আড়াআড়ি সড়ক নির্মাণ করেছে এ প্রতিষ্ঠান। ছোট নদীতে পানি না থাকলেও কৃষিকাজের জন্য এলজিইডি প্রকল্প গ্রহণ করে, অপ্রয়োজনে অনেক অর্থ ব্যয় করে।
নীলফামারী জেলার চেকাদারা নদী তার প্রমাণ। এলজিইডি নদীকে পুকুরে পরিণত করেছে। তার উদাহরণ—রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার বাইশাদারা নদী। মৎস্য বিভাগও নদীকে ছোট ছোট পুকুর হিসেবে খনন করে। কুড়িগ্রামে সাত বোন নদী এবং পায়রাডাঙ্গা নদীকে পুকুরে পরিণত করেছে মৎস্য বিভাগ।
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলো নদীর কিছু অভিন্ন ক্ষতি সাধন করে থাকে। একটি নদীকে কখনো দুটি নদী, কখনো তিনটি নদীতে পরিণত করে। কথাটি প্রথমে শুনেই বোঝা যাবে না। উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি নদ আছে বুড়াইল। এ নদটি শালমারা নদী ও কাফ্রিখাল মিলে সৃষ্টি হয়েছে। নদটি প্রস্থে প্রায় ২০০ ফুট। নদটির মাঝখানে প্রস্থে ৩০–৪০ ফুট খনন করে খননকৃত অংশ সংলগ্ন দুদিকে মাটি ফেললে মোট তিনটি নদী হয়।
পাউবো রংপুরের হারাগাছে মানাস নদকে এবং মিঠাপুকুরের বুড়াইল নদকে তিনটি নদীতে পরিণত করেছে। আলাইকুমারী নদীকে তিনটি নদীতে পরিণত করেছে বিএডিসি। কাউনিয়ায় মানাস নদের প্রবাহকে বিভিন্ন স্থানে মাঝ বরাবর মাটি ফেলে দুটি প্রবাহে পরিণত করেছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
নদী এবং প্রাকৃতিক খাল কখনো অভিন্ন প্রস্থ বজায় রেখে চলে না। নদী-খাল কোথাও সংকুচিত হয়, কোথাও প্রশস্ত হয়। নদী-খাল খননের প্রকল্প যখন গ্রহণ করা হয়, তখন সিএস, এসএ এবং বর্তমান অবস্থা আমলে নিয়ে সীমানা চিহ্নিত করা হয় না। মোটের ওপর সর্বত্রই প্রায় একই মাপ ধরে খনন করা হয়।
ক্ষেত্রবিশেষে নদী-খাল ছোট করে খনন করা হয়, তবু প্রকৃত প্রস্থ বিবেচনায় খনন করা হয় না। এতে নদী প্রকৃত প্রস্থের চেয়ে অনেক সরু হয়। একই সঙ্গে নদীর দখলদারেরা প্রশ্রয় পায়। প্রায় সব নদীর ক্ষেত্রে এটিই পরিলক্ষিত হয়েছে।
নদী-খাল খননে এর আগে ব্যাপক সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। উদাহরণ দিলে বিষয়টা ভালোমতো বোঝা যাবে। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় চিকলি নামে একটি নদী আছে। সোনামতি ও করতোয়া মিলিত হলে চিকলি নামে প্রবাহিত হয়। একই নদীতে বিএমডিএ ও পাউবো খননের প্রকল্প গ্রহণ করেছিল।
প্রকল্পটি নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মৃদু অসন্তোষ দেখা দেয়। নদীটির দুই অংশ দুটি প্রতিষ্ঠান খনন করে। দুটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প করার চেয়েও ভয়াবহ দিক হলো দুই প্রতিষ্ঠানের নকশা দুই ধরনের। একই নদীতে একই বাস্তবতায় দুই ধরনের নকশায় নদীটি খনন করা হয়, যা নদীর জন্য চরম ক্ষতিকর।
বর্তমানে সরকারিভাবে কোন কোন নদী-খাল খনন করার প্রয়োজনীয়তা আছে—এ রকম তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। এর আগে যেসব প্রতিষ্ঠান যেসব নদী-খাল খনন করেছে, তারা প্রকৃত প্রস্থের চেয়ে অনেক সরু করে খনন করেছে কিংবা একটি নদী কেটে একাধিক প্রবাহ তৈরি করেছে। সেসব খননকৃত নদী-খাল তালিকায় যুক্ত করবেন না। সে জন্য খনন হয়ে যাওয়া নদী-খাল প্রকৃত প্রস্থ বিবেচনায় খনন হয়েছে কি না, এই তথ্য যাচাই করতে হবে; যদি না হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই খননকৃত নদী-খাল প্রস্থ ঠিক রাখতে আবারও খনন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নদী-খাল খননে তথা প্রকৃতি সুরক্ষায় অত্যন্ত আন্তরিক। গতকাল ১৬ মার্চ নদী-খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদী-খাল খননে কয়েক দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করছি:
১. নদী-খাল খননের আগে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করতে হবে। যদি কেউ নদী-খালের জায়গা ব্যক্তি নামে রেকর্ড করেও থাকে, তবু সেই ব্যক্তির মালিকানা অবৈধ। কারণ, নদী-খাল-বিল-জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তনের আইনগত ভিত্তি নেই। এসব সম্পত্তির মালিক যেহেতু জনগণ, তাই এগুলো কোনো ব্যক্তির নামে দান কিংবা অন্য কোনো সূত্রে ব্যক্তিকে দেওয়া যায় না। যদি কোনো প্রবাহ রেকর্ড না হয়ে থাকে, তবু জলপ্রবাহ কেউ ব্যক্তিগত হিসেবে দাবি করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকেরা এসব প্রবাহকে নদী ঘোষণা করবেন।
২. খননকৃত মাটি অবশ্যই নদীর পাড়ে ফেলা যাবে না। নদী-খালের পাড়ে খননকৃত মাটি ফেললে প্রাকৃতিক রূপ থাকে না। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে না, আবার বন্যার পানিও জমিতে চলে আসতে পারে না। খনন প্রকল্প গ্রহণ করার সময় খননকৃত মাটি ব্যবস্থাপনা কী হবে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নদীকে কখনো খাল হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদীর একটি সংজ্ঞা দিয়েছে। যে প্রবাহগুলো সংজ্ঞা অনুযায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয়, সেগুলোকে নদী হিসেবেই উল্লেখ করতে হবে। অতীতে যেসব নদীকে খাল নাম দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর নাম পরিবর্তন করতে হবে।
৪. নদী খননে অধিকাংশ সময়ে এক্সক্যাভেটর দিয়ে একবার মাটি তুলে এক পাশে ফেলা হয়, আরেকবার মাটি তুলে অপর পাশে ফেলা হয়। সিঙ্গেল শিফটিংয়ের মাধ্যমে নদী-খাল খননের প্রবণতা বেশি। নদী-খাল খননে অবশ্যই শিফটিংকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রস্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
৫. নদী-খাল খননে উপজেলা-জেলা-বিভাগভিত্তিক সমন্বয় কমিটি করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় পর্যায়ে জোনভিত্তিক প্রধান প্রকৌশলী এই সভাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
৬. যেসব নদী-খালের উৎসমুখ বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলো উন্মুক্ত করতে হবে।
৭. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদী-খাল খননের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে করে এই প্রতিষ্ঠানও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের আওতায় নদী-খাল খনন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। নদীর ধরন বিবেচনায় বাস্তবসম্মতভাবে যাতে এই নদী-খাল খনন হয়, সেদিকে নজর দিতেই হবে। কত হাজার কিলোমিটার নদী–খাল খনন হয়েছে শুধু তা দেখার বিষয় নয়; কৃষি তথা জীববৈচিত্র্য যাতে সুরক্ষা পায়, খননের উদ্দেশ্য যেন সফল হয়, সেসব কথাও ভাবতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা নদী খননের ত্রুটিগুলো দূর করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্তভাবে নদী-খাল খনন হবে—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
তুহিন ওয়াদুদ অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিচালক, রিভারাইন পিপল। ই–মেইল: [email protected]
মতামত লেখকের নিজস্ব
