অন্যায়ভাবে ও অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করা গুরুতর অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, দালালি, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারি প্রভৃতি পন্থায় সম্পদ অর্জন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম। হালাল ও সৎ উপার্জন ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত।

অর্থসম্পদ মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে অর্থনৈতিক অধিকার। সব নাগরিক যার যার সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রের যাবতীয় অর্থনৈতিক উপায় উপাদান থেকে উপকৃত হওয়ার সমান অধিকারী। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

সম্পত্তির মালিকানা লাভের অধিকার নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকারের প্রথম ধাপ। সম্পত্তির অধিকার বলতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি লাভের ও উপভোগের স্বাধীনতাকে বোঝায়। ইসলামি আইনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্জন, সংরক্ষণ এবং হস্তান্তরের অধিকার স্বীকৃত।

এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে তাতে, যা তারা উপার্জন করে এবং নারীদের অংশ রয়েছে তাতে, যা তারা উপার্জন করে।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৩২) প্রত্যেক নাগরিকই বৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদের মালিক হবে এবং অপর কোনো নাগরিক তার সম্পদে আইনসংগত কারণ ছাড়া হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অবৈধ ও বাতিল উপায়ে ভক্ষণ করো না।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

প্রত্যেক নাগরিকের তার ধর্মবিধান অনুসারে সম্পদের উত্তরাধিকারের অধিকারও সংরক্ষিত থাকবে। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা, ‘পুরুষের জন্য রয়েছে নির্ধারিত অংশ, যা রেখে গেছেন তাদের মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়; নারীদের জন্যও রয়েছে নির্ধারিত অংশ, যা রেখে গেছেন তাদের মা-বাবা ও নিকট স্বজন, তা অল্প হোক বা অধিক হোক; এ প্রাপ্য অংশ সুনির্দিষ্ট।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৭)

অন্যায়ভাবে ও অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করা গুরুতর অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, দালালি, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারি প্রভৃতি পন্থায় সম্পদ অর্জন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম। হালাল ও সৎ উপার্জন ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত।

রোজ হাশরে শেষ বিচারের দিনে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে একচুলও নড়া যাবে না। তার দুটিই হলো অর্থনীতি-সংক্রান্ত। প্রশ্ন পাঁচটি হলো, ‘জীবন কী লক্ষ্যে যাপিত হয়েছে, যৌবনে কী কাজ করা হয়েছে; কোন পথে সম্পদ অর্জন করা হয়েছে, কোন ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যয় করা হয়েছে; ইলম বা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা হয়েছে কি না?’ (তিরমিজি: ২৪১৬)

অধিকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের রয়েছে কিছু কর্তব্যও। নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করা। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকই রাষ্ট্রের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কল্যাণকামী। প্রত্যেকেই আন্তরিকতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধিশালী একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা পালন করবে।

কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাল অংশগ্রহণ করবে না। রাষ্ট্রের মঙ্গল ও কল্যাণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক রাখবে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের মানবসম্পদ, সামাজিক সম্পদ ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ, পরিচর্যা, লালন ও উৎকর্ষ সাধন দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিকের ব্রত।

দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার না করা নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বাধ্য হয়ে আল্লাহর হুকুমে স্বীয় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরতের সময় মক্কর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার জনগণ যদি আমাকে বের করে না দিত, কখনো আমি তোমায় ছেড়ে অন্য কোথাও যেতাম না।’ (তিরমিজি: ৩৯৫২)

দেশ ও জাতি যখন বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের শিকার হয়, তখন পুরো জাতি প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং প্রাণ উৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। ধর্মপরায়ণতা জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে। ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি দেশপ্রেমিক হন, স্বীয় মাতৃভূমিকে ভালোবাসেন।

  • মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন