অভিমত–বিশ্লেষণ
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই ধর্মীয় চরমপন্থা মোকাবিলার পথ
রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, বৈষম্য ও অন্যায্যতা চরমপন্থার পথ প্রশস্ত করে—এ সত্য অস্বীকারের সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হলে সমাজে এ প্রবণতা কমতে পারে। ধর্মীয় উগ্রবাদ সমাজে বৈধতা পাচ্ছে কীভাবে, তা নিয়ে লিখেছেন খান মো. রবিউল আলম
দেশে ধর্মীয় চরমপন্থা চর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। অনলাইন-অফলাইন উভয় স্পেসে এখন তা দৃশ্যমান। চরমপন্থী চিন্তার প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কারণ, এর তৎপরতা বেড়েছে, বেড়েছে সংযুক্তি, তর্ক–বিতর্ক ও অনুসারীর সংখ্যা। কানাডাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেকডেভের ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত শ্যাডোজ ওভার দ্য ব্যালটসহ অন্যান্য প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চরমপন্থা চর্চার গতিপ্রকৃতি ও আধিক্যের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষণটি কয়েকটি ভাগে তুলে ধরা হলো।
অনলাইন-অফলাইন স্পেস: চরমপন্থী গোষ্ঠীর সরব উপস্থিতি
সেকডেভের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংস চরমপন্থী গোষ্ঠী জন-অসন্তোষ, উৎকণ্ঠা, নারী ইস্যু, ভারতবিরোধিতা, আওয়ামী লীগের অপশাসন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের ভূমিকার প্রশ্ন তুলে ধরে নতুন ন্যারেটিভ নির্মাণের চেষ্টা করছে। এরিও ডব্লিউ ক্রগোল্যাংকির (২০১৯; অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস) গ্রন্থ দ্য থ্রি পিলার অব র্যাডিক্যালাইজেশন: নিডস, ন্যারেটিভ অ্যান্ড নেটওয়ার্ক-এ চরমপন্থা চর্চায় থ্রি এন-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চরমপন্থীরা প্রথমে সমাজে এর প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেন, এরপর বয়ান নির্মাণ করেন এবং সেই বয়ান বিস্তারের জন্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। এ কথা সত্য, বাংলাদেশে চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীর এ তৎপরতা দিন দিন ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। মানুষের ভেতরে থাকা নানা রকম অভাব ও নির্ভরতা—যেমন কাজের সুযোগ, নিরাপত্তা, প্রতিশোধপরায়ণতা, বৈষয়িক বা আধ্যাত্মিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা—এ ধরনের নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত হতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করছে।
ডেভিড জ্যাকম্যান তাঁর সিন্ডিকেটস অ্যান্ড সোসাইটিজ: ক্রিমিনাল পলিটিকস ইন ঢাকা (২০২৪; কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এসব সিন্ডিকেট সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কঠোরভাবে পরিচালিত হয়। নেটওয়ার্কের কর্ণধারেরা অনুসারীদের মানসিক উৎপাদনও নিয়ন্ত্রণ করেন, যাতে একধরনের আবেগগত উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। ডেভিড জ্যাকম্যান এ পরিস্থিতিকে ‘হোয়েন ক্রাইম ইজ অর্ডার’, অর্থাৎ ‘যখন অপরাধই শাসনের রূপ নেয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এ ধরনের তৎপরতা চলতে থাকলে তা ধীরে ধীরে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করে। অনলাইনে জবাবদিহির ঘাটতি শেষ পর্যন্ত অফলাইন পরিসরেও একই ধরনের সুযোগ তৈরি করে। ফিলিপাইনের নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা তাঁর হাউ টু স্ট্যান্ড আপ টু এ ডিকটেটর গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, অনলাইন ইমপিউনিটি খুব স্বাভাবিকভাবেই অফলাইন ইমপিউনিটিতে রূপ নেয়, যা বিদ্যমান চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সেকডেভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চরমপন্থী তৎপরতার বিষয়ে নির্লিপ্ত। এমন অভিযোগও রয়েছে, ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অনেকে মুক্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে, জনগণ দেশজুড়ে নানাবিধ সহিংস ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে।
ধর্মীয় উগ্রবাদের চর্চা কোনো স্থবির প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি গতিশীল প্রবণতা। গত এক দশকে এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি এ চর্চাকে আরও প্রবহমান করেছে। গ্লোবাল যোগাযোগব্যবস্থায় পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্য, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের নিপীড়নের অভিজ্ঞতা চরমপন্থী অভিব্যক্তির পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। ফলে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরেজমিন বক্তব্যের মাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি জানাচ্ছে এবং জনমনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
ইউভাল নোয়া হারারি তাঁর নেক্সাস গ্রন্থে এ ধরনের মিথস্ক্রিয়াকে নিপীড়ক ও নিপীড়িতের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেকডেভের মতে, এসব তৎপরতা কেবল দেশীয় নয়; এর সঙ্গে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট ও তেহরিক-ই–তালিবান পাকিস্তানের মতাদর্শগত সাযুজ্য রয়েছে। দেশীয় প্রেক্ষাপটে অপশাসন ও বৈষম্য মানুষের ভেতরে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব তৈরি করেছে। রাজনৈতিক আদর্শের মাধ্যমে মুক্তির ধারণার তুলনায় ধর্মীয় ব্যাখ্যায় পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রবণতা এখানে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।
কানাডার থমসন রিভার ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর এ প্রবণতাকে ‘রেজিস্ট্যান্স ইসলাম’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অপশাসন, বৈষম্য ও সামাজিক অন্যায্যতা এ বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের অপশাসনে ক্ষতিগ্রস্ত সমাজে ধর্মীয় ও চরমপন্থী রাজনৈতিক ধারা শক্তিশালী হবে—এটি অস্বাভাবিক নয়।
এ ধরনের চর্চার সামাজিকীকরণ ঘটেছে। দৈনন্দিন জীবনে আচারনির্ভর ধর্মচর্চা ও অভিব্যক্তির প্রকাশ বেড়েছে। জনপরিসরে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ এখন অনেকাংশে স্বাভাবিক প্রবণতা। ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, পোশাক-আশাক এবং প্রাত্যহিক অভ্যাসে ধর্মীয় অনুষঙ্গের প্রভাব স্পষ্ট। তবে এটি আধ্যাত্মিকতার চেয়ে আচারনির্ভরতার দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে।
সমাজে ভিন্নমত ও বিকল্প আদর্শের পরিসর ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। ভয়ের সংস্কৃতি বিস্তৃত হচ্ছে। একসময় স্বৈরাচারী অপশাসনের ভয়, এখন চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীর আশঙ্কা মানুষকে তাড়া করছে। এ ভয়ের ভেতরে সহিংসতার সম্ভাব্য উপাদানও নিহিত থাকে। ভয় ও অভাবগ্রস্ত সমাজে মানবাধিকার বা নাগরিক অধিকার বিকশিত হতে পারে না। ফলে প্রগতিশীল শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সমাজ ক্রমে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে।
সেকডেভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠী পরিচালিত অনলাইন চ্যানেলগুলোর মোট সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা তিন কোটির বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো চরমপন্থা চর্চার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব চরমপন্থী ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের মতো ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনের ইকোসিস্টেমের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আপাতদৃষ্টে এক রকম মনে হলেও ধর্মীয় চরমপন্থী তৎপরতা এক ধরনের নয়। মূলধারার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহারের মাধ্যমে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
অন্যদিকে চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠী গণতন্ত্র বা ভোটের ওপর আস্থা রাখে না; তারা সরাসরি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেয়। তাদের দৃষ্টিতে গণতন্ত্র একটি পশ্চিমা কাঠামো, যা মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ।
গণতান্ত্রিক শাসন বনাম সৃষ্টিকর্তার শাসন
চরমপন্থী গোষ্ঠী শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সামাজিক পরিসরে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়। এ ক্ষেত্রে গণসম্মতি সৃষ্টি তাদের একটি প্রধান কৌশল। অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় আইন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে; যেমন ভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন আদায়। সে প্রক্রিয়ায় ম্যান্ডেট পাওয়া গেলে তারা সে পথে অগ্রসর হতে চায়। (উল্লেখ্য: জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক আল-জাজিরার সাক্ষাৎকার)।
সেকডেভ চরমপন্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ১৫ হাজার পোস্ট বিশ্লেষণ করে তাদের বিশ্বাসগত ১০টি প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—গণতন্ত্র মৌলিকভাবে অনৈসলামিক; গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় ক্ষুণ্ন করে; নির্বাচন অর্থহীন, কারণ তা সেক্যুলার ব্যবস্থাকে বদলাতে পারে না; ধর্মভিত্তিক দলসহ যারা গণতন্ত্র অনুসরণ করে তারা ধর্মীয়ভাবে বিচ্যুত; গণতন্ত্র মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ এবং কেবল ইসলামি শাসনই তা পারে। প্রতিবেদনের মতে, চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীর তৎপরতা সরাসরি গণতন্ত্র ও ভোটব্যবস্থার বিরোধী।
চরমপন্থী গোষ্ঠীর প্রচারণায় অপতথ্য
সেকডেভের প্রতিবেদনে চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রচারণা কৌশল হিসেবে অপতথ্যের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের লক্ষ্যবস্তু প্রধানত তরুণ সমাজ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। ফলে দেড় কোটি তরুণ ভোটারের মধ্যে ভোটের প্রতি অনাস্থা তৈরি করা গেলে কাঙ্ক্ষিত পথ সহজ হবে—এমন ধারণা থেকে চরমপন্থী গোষ্ঠী দলীয় রাজনীতির বদলে ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ডেটা রিপোর্টাল-এর ‘ডিজিটাল ২০২৬: বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সেকডেভ জানিয়েছে, দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৬ কোটি ৪০ লাখ, টিকটক ৫ কোটি ৬২ লাখ এবং ইউটিউব ব্যবহারকারী প্রায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ। এই ‘ঘন ডিজিটাল নেটওয়ার্ক’ অপতথ্য বিস্তারের জন্য বড় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জুন-অক্টোবর ২০২৫ সময়ে ফ্যাক্টচেকাররা ১ হাজার ৬৩৮টি কনটেন্ট যাচাই করেছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ১০২টি ছিল রাজনীতিসংশ্লিষ্ট। এর অর্ধেকের বেশি ছিল অপতথ্যভিত্তিক। চরমপন্থী ইকোসিস্টেমে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দল পরিহারের ন্যারেটিভ সরবরাহ করা হয়েছে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের ‘নাস্তিক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও লক্ষ করা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে ভিডিও, ডিপফেক অডিও ও সম্পাদিত ছবি তৈরি করে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানো হচ্ছে। ন্যারেটিভ বিশ্লেষণে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সহিংসতার উপাদান শনাক্ত করা গেছে। গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাসী ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে টার্গেট করা হয়েছে। এ অবস্থায় সহিংস আচরণের প্রবণতা তৈরি হয়। প্রতিবেদনে মাজারে হামলা, ছায়ানট, উদীচী এবং ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ওপর হামলার উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
তাকফিরিবাদ: চরমপন্থী গোষ্ঠীর অভিন্ন গন্তব্য
সেকডেভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠী তাকফিরিবাদে বিশ্বাসী। এটি এমন এক মতবাদ, যেখানে ভিন্নমতাবলম্বী মুসলমানদের ধর্মচ্যুত ঘোষণা করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ন্যায্য বলে বিবেচিত হয়। এতে ‘ভেতরের শত্রু’ ধারণা তৈরি হয়। কঠোর আক্ষরিক ব্যাখ্যা থেকে সামান্য বিচ্যুতিও এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবেদনের মতে, দেশে সক্রিয় এসব গোষ্ঠীর মতাদর্শ তেহরিক-ই–তালিবান বা আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ধারার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। এ তথ্য সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের কারণ।
চরমপন্থী তৎপরতা মোকাবিলার পথ কী
ধর্মীয় চরমপন্থী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির সুসংহত অঙ্গীকার অপরিহার্য। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হলে সমাজে এ প্রবণতা কমতে পারে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, বৈষম্য ও অন্যায্যতা চরমপন্থার পথ প্রশস্ত করে—এ সত্য অস্বীকারের সুযোগ নেই।
গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিস্তৃত সংলাপ, সমঝোতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। ভিন্নমত ও আদর্শের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমালোচনামূলক তথ্য ও বিশ্লেষণ সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। উন্নত বিকল্প দিয়ে অনুন্নত বিকল্পকে প্রতিহত করতে হবে—ধৈর্য ও অহিংস উপায়ে। মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশই ধর্মীয় চরমপন্থা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
খান মো. রবিউল আলম যোগাযোগ পেশাজীবী ও শিক্ষক
মতামত লেখকের নিজস্ব
