মোটাদাগে প্রবাসী ও চাকরিজীবীরা বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনেন, রাজনৈতিক নেতা, এমপি-মন্ত্রী ও আমলারা বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করেন, আর ব্যবসায়ীরা দুটিই করেন।
হুন্ডি ছোট সমস্যা, বড় সমস্যা পাচার। ‘ডলার ড্রেইন’ বন্ধ করতে হলে পাচার থামাতে হবে। পাচারের একটা বড় অংশের সঙ্গে অবৈধ আয় করা, চাঁদাবাজি-তদবিরে কামাই করা রাজনৈতিক নেতা, ঘুষ খাওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা-আমলারা জড়িত। পাশাপাশি রপ্তানি মূল্য কম দেখিয়ে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ এবং আমদানি মূল্য বেশি দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের বৈদেশিক মুদ্রা পাচার, মোট পাচারের একটা বড় অংশ। যেহেতু পাচার বহুলাংশে ‘ক্ষমতা ও প্রভাব’ প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত, তাই পাচার ও হুন্ডি থামাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। হুন্ডি দেশে ও দেশের বাইরে মুদ্রা আনা-নেওয়ার দ্বিমুখী চক্র। এতে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রা যেমন পাচার হয়, তেমনি আসেও। হুন্ডি ঠেকাতে গেলে আগে হুন্ডি কেন হয়, সেটা বোঝা জরুরি।

ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশ থেকে ডলার আনলে বা ডলার এনে ঘোষণা দিলে, সেটা বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে জমা হয়। অর্থব্যবস্থায় নতুন টাকা তৈরি হয়, অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন অর্থ বা সম্পদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা এনে ঘোষণাহীন রাখলে কিংবা হুন্ডি চ্যানেলে অর্থ আনলে সেটা রিজার্ভে জমা হয় না, ফলে নতুন সম্পদও তৈরি হয়, তবে মানুষের অর্থের প্রয়োজন মিটে। সরকারি নজরদারি, ব্যাংকে ঘুষ ও হয়রানি, ব্যাংক ফি, অগ্রিম আয়কর, ব্যাংকের নিম্ন মুদ্রা বিনিময় হার এবং বিভিন্ন পেপার ওয়ার্কের বহুবিদ ঝামেলা ও আর্থিক লোকসান ইত্যাদি এড়াতে লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডিতে সম্পন্ন হয়। বড় প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ কেন হুন্ডি করে? কেন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে কিংবা বাইরে নেওয়ার প্রয়োজনে ব্যাংকে যায় না?

অগ্রিম আয়করে যত ভয়

সরকার কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়ে রপ্তানি আয় দেশে ফেরামাত্রই অগ্রিম আয়কর বা এআইটি কেটে রাখে। ফলে রপ্তানি আয়ের একটা অংশ বিদেশে রাখতে, কিংবা পরবর্তী আমদানির জন্য রপ্তানিকারক ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা না ভাঙানোর ঝোঁক দেখান ব্যবসায়ীরা। বর্তমান এআইটি পদ্ধতি ভালো, নাকি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় বন্ধ করে অগ্রিম আয়কর বন্ধ করা ভালো, এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। অভিযোগ আছে, এআইটি থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ীরা বিদেশি বায়ারের যোগসাজশে রপ্তানির এলসি মূল্যমান কম দেখিয়ে বাকিটা হুন্ডিতে সেটেল করেন।

নতুন নতুন পদক্ষেপ হুন্ডিতে উৎসাহ দেবে কী

বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে রপ্তানিকারকের বৈদেশিক মুদ্রায় খোলা ইআরকিউ (এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা) অ্যাকাউন্টের স্থিতি পূর্বের হারের দ্বিগুণ নগদায়নের নির্দেশ দিয়েছে। ইআরকিউ স্থিতি বর্ধিত রাখার উদ্দেশ্যই ছিল রপ্তানিকারকের নিয়মিত আমদানি ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর ডলার সংরক্ষণ করা, বিভিন্ন পেমেন্ট ঝামেলামুক্ত ও দ্রুত করা। এতে ব্যবসায়ীরা ডলারকে টাকায় ভাঙিয়ে আবার দ্রুতই ডলার কেনার উপর্যুপরি ‘কনভারশন লস’ থেকেও বাঁচতে পারে। পাশাপাশি নেট ওপেন পজিশনের (এনওপি) সীমা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের এলসি বা ঋণপত্র খোলার সেবা সক্ষমতাও কমবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের ইআরকিউ ব্যালেন্সের ‘মেয়াদি আমানত’ নগদ করতে বলা হয়েছে।

ইআরকিউ কমানো হলে পরবর্তী সময়ে রপ্তানিকারকের বৈদেশিক দেনা ও ঋণ পরিশোধের জন্য বাইরে থেকে ডলার কিনতে হতে পারে, এতেও খরচ বাড়বে। ব্যবসায়ীদের যদি হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে সেই সব দায় মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিও নিতে হবে, নতুন ডলার কিনতে হবে। ব্যবসায়ীকে কাঁচামাল আমদানির জন্য জমা রাখা ডলার ভাঙাতে বাধ্য করা আদতে প্রয়োজনীয় আমদানিকেই নিরুৎসাহিত করা। বিদেশে দায়দেনা মেটানোর জমা রাখা ডলার বিক্রি করে, কয়েক দিনের মধ্যে ডলার কিনে ব্যবসা করার পলিসি অপরিণামদর্শী হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে একদিকে রপ্তানি বাণিজ্য কঠিন হয়ে গেছে, এতে এলসি ভ্যালু কম দেখিয়ে হুন্ডিতে লেনদেনের সেটেলমেন্ট বাড়বে। খোলাবাজার বা হুন্ডি মার্কেটে ডলার যে ১১২ টাকার রেকর্ড করেছে, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব থাকতে পারে।

সরকারি মুদ্রা বিনিময় হার হুন্ডি বন্ধের প্রধানতম বাধা

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার অনেকগুলো রেট কার্যকর। দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক, কার্ব মার্কেটের অর্থাৎ হুন্ডি মার্কেট ও বিদেশি ব্যাংকের রেট ভিন্ন ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দৈনিক ঘোষিত রেট থাকে, কিন্তু তা মানা হয় না। প্রবাসীরা নির্ধারিত রেটে ডলার কেনা কিংবা বেচা কোনোটাই করতে পারেন না। ব্যাংকে এলসি নিষ্পত্তির ডলার হারও বর্ধিত। একজন প্রবাসী ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে বা ভাঙালে ‘ঠকেন’ বলেই তাঁরা কার্ব মার্কেট বা হুন্ডিতে গিয়ে লাভবান হন। ব্যাংক ও হুন্ডি মার্কেটের বিনিময় হারের পার্থক্য প্রায়ই ৫ টাকার কাছাকাছি বলে প্রবাসীদের পছন্দের মাধ্যম হুন্ডি। এমনকি সরকার ঘোষিত আড়াই শতাংশ প্রণোদনার পরও হুন্ডি মার্কেটের বিনিময় হার ভালো। ফলে লাভের জন্য হুন্ডি মার্কেট সবার পছন্দ। প্রণোদনা না দিয়ে বিপরীতে টাকার মান বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া বা হুন্ডির কাছাকাছি রাখা উচিত বলে অনেকেই মনে করেন। প্রণোদনার কারণে পাচারকৃত ‘কালো টাকা’ বৈধ চ্যানেলে ‘সাদা’ হয়ে ফেরার সম্ভাবনাও বাড়ে, এতে দেশের ঘুষ-দুর্নীতি উৎসাহ পায়।

বাংলাদেশ টাকার মান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর, টাকা অতি মূল্যায়িত বলে অভিযোগ আছে। একটা প্রমাণ হচ্ছে, আরইইআর অর্থাৎ রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট। বাংলাদেশের আরইইআর, এনইইআর (নমিনাল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট) রেটের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি আরইইআর ক্রমাগত বাড়ছে। অর্থাৎ টাকার ক্রয়ক্ষমতা বা ‘প্রাইস কম্পিটিটিভনেস’ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ডলারের বিনিময় হারের চেয়েও দুর্বল। এটা হুন্ডি মার্কেটের উচ্চ বিনিময় হারের এক রকম যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়। প্রবাসী ও ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা ভাঙাতে গেলে কম বিনিময় পান বলে তিনটি সমস্যা হয়। এক, মুদ্রাটি কার্ব মার্কেটে বা হুন্ডিতে চলে যায়। দুই, বাংলাদেশের রিজার্ভ কম হয়। তিন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস সংকুচিত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির পথ বন্ধ হয়। উপরন্তু শুরুতে প্রবাসী আয়ের ১০ শতাংশ কেটে রাখার হয়রানি আছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা তথাকথিত ধনীদের জন্য তৈরি। এখানে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দর্শন নেই, বরং আছে বর্ণবাদের চর্চা। গরিব, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত মানুষের জন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের শাখা নেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, ডিজিটাল যুগেও বাংলাদেশের এক ব্যাংকের এটিএম বুথে অন্য ব্যাংকের টাকা ওঠানো কিংবা জমা দেওয়া যায় না। এক ব্যাংকের ব্রাঞ্চে অন্য ব্রাঞ্চের আর্থিক সেবা পাওয়া তো দূরের বিষয়।

ব্যাংকের পুলিশি আচরণ হুন্ডি বিকাশে সহায়ক

বিদেশগামী ছাত্র, ব্যবসায়ী, রোগী কিংবা পর্যটক সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে ডলার কিনতে গেলে পুলিশি আচরণসহ হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে বিদেশ থেকে আনা মুদ্রা বিক্রি করতে গেলে রেট কম দেয়, বিভিন্ন কাগজপত্র চায়। কিনতে গেলে কেন যাবেন, কই যাবেন, ভিসা-আমন্ত্রণপত্র জমা দেন, এটা-সেটা আনেন, ওটা নোটারি করেন, অমুক-তমুক ফরম পূরণ করেন, এই-ওই জায়গা থেকে সত্যায়িত করেন, এত কপি ফটোকপি করেন, এসব উৎপাতের পাশাপাশি আছে ডলার নেই, কাল আসেন, বসের সঙ্গে দেখা করেন, আজকে ব্যাংকিং সময় শেষ—এসব আসলে হয়রানি ও ঘুষের বাহানা। একদিকে অর্থ অন্যদিকে শ্রমঘণ্টা নষ্ট। বিপরীতে হুন্ডি এজেন্টরা ফোন দিলে বাসায় টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসে—স্যার কখন লাগবে, কী পরিমাণ লাগবে। মুদ্রা বিনিময় যে একটা বিধিবদ্ধ ব্যাংকিং সেবা হওয়া উচিত, এই বোধটা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নেই। সেবা মানের ধারণা পরের বিষয়।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সেবা নেই। বিদেশে প্রয়োজনে বৈধভাবে সীমিত পরিমাণ অর্থ নেওয়ার সহজ সুবিধাও কম। আছে আবেদন ও অনুমতির প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংককে এসব বিষয় আমলে নিতে হবে।

হুন্ডির সেবা সহজ দ্রুত এবং নিরাপদ, অনুরূপ সেবা ব্যাংকে আনতে হবে

একটা সময় হুন্ডি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও এখন নিরাপদ। প্রবাসীশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, বিদেশে বসে বাবা-মায়ের হাতে টাকা পাঠানো শুধু একটা ফোন কলের ব্যাপারমাত্র। অর্থাৎ কর্মস্থল থেকেই বিদেশের দোকানে বা এজেন্টকে ফোন দিয়ে পরিমাণ বলে দিলেই তাঁরা সমপরিমাণ টাকা হয় বিকাশে পাঠিয়ে দেন, না হয় মোটোরসাইকেলে করে গিয়ে গ্রামে বা শহরে একেবারে বাসায় পৌঁছে দেন।

বিপরীতে, ব্যাংকে প্রবাসী আয়ের অর্থ ভাঙাতে গেলে শোনা লাগে বহু টালবাহানা। অনেক সময় বৈধ পরিচয়পত্র-এনআইডি না থাকা, পরিচয়পত্র বহনের সচেতনতাও ব্যাংকে প্রবাসী আয় ওঠানোর বাধা। হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর কোনো ফি নেই, বিপরীতে অনেক ব্যাংক চার্জ কাটে।

আন্তব্যাংক সংযোগ দুর্বল

ব্যাংকিং ব্যবস্থা তথাকথিত ধনীদের জন্য তৈরি। এখানে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দর্শন নেই, বরং আছে বর্ণবাদের চর্চা। গরিব, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত মানুষের জন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের শাখা নেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, ডিজিটাল যুগেও বাংলাদেশের এক ব্যাংকের এটিএম বুথে অন্য ব্যাংকের টাকা ওঠানো কিংবা জমা দেওয়া যায় না। এক ব্যাংকের ব্রাঞ্চে অন্য ব্রাঞ্চের আর্থিক সেবা পাওয়া তো দূরের বিষয়। অর্থাৎ ব্যাংকিং খাত নিজেদের মধ্যেই আন্তঃসংযুক্ত নয় বলে গ্রামীণ সমাজে ব্যাংকিং সেবাপ্রাপ্তি কঠিন। বিদেশি রেমিট্যান্স হাবের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং যুক্ত হওয়ায় এ সমস্যা কিছু কমলেও সেখানে আছে স্ক্যামিংয়ের অভিযোগ। অভিযোগ আছে, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টরাই হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত। মোবাইল ব্যাংকিংকে শক্তিশালী মনিটরিং ও অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা দরকার।

হুন্ডি একদিকে সহজলভ্যতা, অন্যদিকে হুন্ডির হোম সার্ভিস একটা বড় সেবা। ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করলেও আস্থা তৈরি করতে পারেনি। ব্যাংকিং খাত কীভাবে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে হোম সার্ভিস দিতে পারে, তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

বিমানবন্দরে অমার্জিত আচরণ এবং কম বিনিময় হার

বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের সঙ্গে মার্জিত ব্যবহার করা হয় না। অদক্ষ শ্রমিকদের আচরণগত প্রশিক্ষণও নেই। প্রবাসীদের সম্মান দেওয়া ও কথা শোনার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে আস্থা তৈরি হবে। হয়রানির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রতি প্রবাসীদের ঘৃণা ও আতঙ্ক বিরাজমান। হুন্ডির মাধ্যমে এসবের প্রতিবাদ জানান প্রবাসীরা।

বিমানবন্দরে অবস্থিত ব্যাংকের ‘মানি এক্সচেঞ্জ’গুলো বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচায় সবচেয়ে বেশি ঠকায়। বিপরীতে এসব ‘মানি এক্সচেঞ্জ’-এ সর্বোচ্চ আকর্ষণীয় বিনিময় হার নিশ্চিত করা গেলে হুন্ডির একটা অংশ রিজার্ভে ফিরবে। পাশাপাশি বৈধপথে উচ্চ প্রবাসী আয় আনয়নকারীদের লাউঞ্জ সুবিধা, লাগেজ হ্যান্ডলিংসহ বিমানবন্দরে কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

দেশের অভ্যন্তরে ‘মানি এক্সচেঞ্জ’ মনিটরিং

বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সহজ ও হয়রানিমুক্ত আকর্ষণীয় বিনিময় হারের সেবা দেশের সব থানা ও উপজেলার সুনির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় থাকা চাই। এটা নিশ্চিত করে ‘মানি এক্সচেঞ্জ’গুলোকে নিবিড় মনিটরিং করতে হবে। কারা হুন্ডি এজেন্ট, কারা বড় পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করেন, কারা মুদ্রা ব্যবসা করেন—এসব সহজেই বের করা যায়, দরকার সততা। প্রশাসনের লোকেরা তাঁদের ভালোই চেনেন। কিন্তু তারা নিজেরাই যদি উপার্জিত কালো টাকা বেগমপাড়ায় পাচারের ধান্দায় থাকেন, তাহলে হুন্ডি থামবে কী করে!

  • ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক। গ্রন্থকার: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশ : অর্থনীতির ৫০ বছর, অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অভাবিত কথামালা, উন্নয়ন প্রশ্নে বাংলাদেশের কিছু সংকট ও সম্ভাবনা[email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন