সুব্রত রায় চৌধুরীর ‘জেনেসিস অব বাংলাদেশ’ থেকে আমরা এর সমর্থন পাই। এম এ সালাম বনাম বাংলাদেশ শিরোনামের মামলায় (২০০৯) বাংলাদেশের উচ্চ আদালত সাব্যস্ত করেছেন যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের সংবিধান আরোপিত নয়, আমাদের শিকড়ে গ্রথিত। যে ‘কারিগরেরা’ একে রোপণ করেছিলেন তাঁরা এ মাটির সন্তান, এ দেশের মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

বুনন

এ সংবিধানের বুনন ও গাঁথুনি ভারী শক্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধের উষালগ্নে আম্রকাননে শপথ নেওয়া গণপরিষদে এর ভিত্তি রচিত। পলাশীর আমবাগানে যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সে সূর্য আবার উদিত হয় মেহেরপুরের ভবেরপাড়ার আম্রকাননে। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা একত্র হয়ে যথাযথভাবে সরকার গঠন করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচনা করেন, যা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান হিসেবে আদৃত। দেশ স্বাধীন হবার পরে ঠিক ১০ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদের দ্বিতীয়  অধিবেশন বসে স্থায়ী সংবিধান বানানোর জন্য। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী গণপরিষদ অধ্যাদেশ জারি করে গণপরিষদ গঠনকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টির দিন ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে কার্যকারিতা দেন।

গাঁথুনিটা বাংলা ভাষায়। অলংকরণে ষড়্‌ঋতু ও বাংলা সংস্কৃতি। যে সংবিধানের জন্য আমরা লড়াই করেছি, যে সংবিধান ১৯৫৬ ও ১৯৬২ সালে আমাদের আপন ভাবেনি, যে শাসনতন্ত্র তৈরি করার জন্য ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বাঙালিরা ম্যান্ডেট পেয়েছিল, সেই সৃষ্টির আনন্দ। আবার এতে রয়েছে জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের আমার সোনার বাংলা গানের স্বীকৃতি।

প্রগতিশীল আশা-আকঙ্ক্ষা

সংবিধান হৃদয়ঙ্গম করতে হলে আমাদের হস্তলিখিত সংবিধানটি অনেক যত্নে হাতে নিতে হবে। সেখানে জাতির হৃদ্‌মাঝারের কথা কলমের কালি দিয়ে খোদাই করা হয়েছে। এটা ছিল আমাদের অন্তরের বিকাশ প্রকাশ করার দারুণ অনুশীলন। আইনেরও একটা নন্দনতত্ত্ব ও রুচি থাকে। আমাদের সংবিধানের আদিরূপ পরিশীলিত সুন্দর পুলকিত সচ্ছলতার অক্ষরে লেখা। সেই লেখায় হাসে আমাদের সংবিধান, হাসে আমাদের কল্পলোকের স্বদেশ।

খুঁটি

আমাদের সংবিধানের তথা বাঙালি জাতির সংবিধানের স্তম্ভ চারটি— জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এ চারটি ধারণার পরিসর যথাক্রমে ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে ভাষার কারুকাজে বিধৃত আছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের সুন্দর একটা ধারণা দেওয়া আছে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে: ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।’ সুতরাং আমাদের জাতিবোধকে সাংস্কৃতিক আলোকায়নের দিক দিয়ে দেখতে হবে এবং ‘ঐক্য ও সংহতি’র ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

১০ নম্বর অনুচ্ছেদে লেখা আছে: ‘মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।’ আমরা স্বপন দেখছি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের। ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে আমরা লিখেছি, ‘প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও মানব মর্যাদা এবং ব্যক্তিসত্তার প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা হবে।’

স্বাতন্ত্র্য

অন্যান্য দেশের সংবিধান থেকে বাংলাদেশ সংবিধান নানান দিক দিয়ে অনন্য ও মহিমামাখা। দুটি দিক দিয়ে আমরা আলাদা। প্রথমত, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যেটি যুদ্ধ করে এর স্বাধীনতা অর্জন করেছে।  দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলে সাংবিধানিকভাবে একমাত্র বাংলাদেশই ‘গণপ্রজাতন্ত্র’—পিপলস রিপাবলিক। রিপাবলিকের বাংলা গণপ্রজাতন্ত্র করা নিয়ে আপত্তি দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের গৌরবময় ভাষণে বাংলাদেশকে 'জনগণতান্ত্রিক' হিসেবে আখ্যা দেন। প্রজা শব্দটা ব্রিটিশ রাজকে মননে-মগজে স্মরণ করিয়ে দেয় বিধায় অনেকে বলেন, জনগণতান্ত্রিক শব্দটি অধিকতর শুদ্ধ হতো।

তবে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের করা গণপ্রজাতন্ত্র শব্দটিও মেধাসম্পন্ন। সাধারণত্ব বুঝতে 'গণপ্রজা' যদি একসাথে করে ভাবা যায়, তবে দ্বিধা থাকে না। যেমন আমরা জনগণ বুঝাতে বলি আম জনতা। জনগণ ক্ষমতার মালিক। সেই অর্থে জনগণই রাজা বা সার্বভৌম।

সংবিধানের অন্য একটি স্বাতন্ত্র্যের কথা বলব। সেটি হলো ১১ ও ৩১ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে মানবসত্তার মর্যাদা ও ব্যক্তির সুনামের অধিকারের কথা বলা আছে। মানব মর্যাদা সংবিধানে উল্লেখ পাওয়া পরম সুন্দর একটা জিনিস। এগারোর ভাষা দেখে বোঝা যায় যে মানব মর্যাদা নিজেই যেমন একটা গুণ, তেমনি একটা রাষ্ট্রিক মূল্যবোধ।

সাংবিধানিক অভিনবত্বের আর একটি দিক আমাদের দেশ পরিচালনার মূলনীতি। এ বিষয়ে একদিক দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিবেশী ভারতের সংবিধান থেকে স্বতন্ত্র। অথচ ভ্রান্তি আছে যে আমাদের মূলনীতিগুলো ভারতের ‘ডিরেক্টিভ প্রিন্সিপালসের’ অনুগামী। ভারতের মূলনীতিগুলো তাদের সংবিধানের অন্যান্য বিধান ব্যাখ্যায় সহায়ক। আর বাংলাদেশের সংবিধানের ৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কেবল সংবিধান নয়, অন্যান্য আইন ব্যাখ্যাতেও পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করবে।

শিকস্তি-পয়স্তি

দর্শনগত দ্যুতি ও আইনি সৌকর্য বিচারে আমাদের সংবিধান অনেক প্রতিভাসম্পন্ন একটি দলিল। কিন্তু এই সংবিধানের চলার পথ মসৃণ থাকেনি। হয়তো এই ভিত্তিকে ব্যবহার করে যে মানের টেকসই জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিষ্ঠান দরকার ছিল, তা আমরা তৈরি করতে পারিনি।

৫০ বছরে আমরা পাই অনেক চড়াই-উতরাই, ভাঙা-গড়া ও শিকস্তি-পয়স্তি। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অষ্টম সংশোধনী মামলায় (১৯৮৯) আমাদের সংবিধানের উত্থান-পতনকে ভঙ্গুর  বালিয়াড়ির সঙ্গে তুলনা করেন। আর বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান (১৯৯৮) একে বলেছেন ‘এভালশন’ বা ছিন্নভিন্নকরণ। ৫০ বছরে ১৭টি সংশোধনীর বেশির ভাগই সংবিধানের চরিত্র ছিনতাই করেছে।  

পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানের প্রথম স্তবক পরিবর্তন করা হয়। জাতীয় মুক্তির স্থলে লেখা হয় জাতীয় স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক সংগ্রামের জায়গায় লেখা হয় ঐতিহাসিক যুদ্ধ। শুধু এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই আমাদের সাংবিধানিকতার ইতিহাসকে একাত্তর–পূর্ববর্তী ইতিহাস থেকে ছিন্ন করে ফেলা হয়। বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন বনাম রেজিস্ট্রার, ঢাকা ইউনিভার্সিটি মামলায় (১৯৮০) এই পরিবর্তনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এ জাতির ভঙ্গুরতা, আমাদের সংবিধান সংশোধনীর ভঙির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সংবিধান সংশোধনীর রাজনীতির কয়েকটি দিক লক্ষণীয়। এক. বেশ কয়েকটি সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টে মান বিচারে টেকেনি [তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ১৩তম, ১৬তম (রিভিউয়ে অপেক্ষমাণ)]; দুই. প্রায় আটটি সংশোধনী একে অপরের বিপরীত (পঞ্চম চতুর্থের, দ্বাদশ চতুর্থের, পঞ্চদশ পঞ্চম এবং ত্রয়োদশের); তিন. দুটি সংশোধনী ১৬ বছরের দুটি সামরিক সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে (পঞ্চম ও সপ্তম); চার. আবার একই বিষয়ে বারবার সংশোধনী খরচ করতে হয়েছে (যেমন সংসদে নারী সংরক্ষিত আসনের সময় ও সংখ্যা বিষয়ে পঞ্চম, দশম, চতুর্দশ ও সপ্তদশ সংশোধনী); পাঁচ. নির্বাহী ক্ষমতাকে জবাবদিহির বাইরে নিয়ে গেছে কিছু সংশোধনী (যেমন দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থা জারিবিষয়ক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, চতুর্থ সংশোধনীতে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা, দ্বাদশ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীর বিপরীতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা একেবারে বেশি সীমিত করে ফেলা; ছয়. সংবিধানে অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় চরিত্রের খোলনলচে বদলে ফেলা (পঞ্চম ও অষ্টম); সাত. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে বেশ কয়েকবার (তৃতীয়, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ এবং ষোড়শ)।  

তাই সংশোধনীর আলোচনায় এসে আমাদের সংবিধানিকতার ইতিহাস করুণভাবে গোঙাতে থাকে। বাংলাদেশ বোধ করি পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে একটি দেশের জাতির জনককে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন করে সেটিকে তাঁরই বানানো সংবিধানে সাংবিধানিক রক্ষাকবজ দেন একজন সামরিক শাসক। এটাই আমাকে বেশি বিবেকাচ্ছন্ন করে ফেলে। আরেকটি করুণ পরিহাস হলো, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা ব্যবহার করে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিক, বিচারপতি, সামরিক ও নাগরিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপ্রধানরা।  

শক্তিশালী দর্শনগত ভিত্তি থাকার পরও আমাদের সংবিধানিকতাবাদ সুসংহত হতে পারেনি। এই অপারগতার অনেক দৃষ্টান্ত টানা যায়। যেমন কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে:

১. সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নে বাংলাদেশ দোদুল্যমান থেকেছে বেশির ভাগ সময়। রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বিভিন্ন সময় চালু থাকলেও জবাবদিহির মান আমাদের বাড়েনি। রাষ্ট্রক্ষমতার সুষম বণ্টন হয়নি। এখানে সরকার জনগণ কর্তৃক এবং জনগণ সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বটে, কিন্তু সেগুলো জনগণের জন্য হয়েছে সামান্যই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সূচনালগ্নে আশার আলো দেখালেও আস্তে আস্তে সেটি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সেটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০০৬-২০০৮ সময়কালে এবং এর ফল হিসেবে বিচারিকভাবে নিষ্ক্রান্ত হয়েছে ২০১০ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায়।

২. উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে আমাদের প্রচলিত পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ থেকেছে। ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে এ–বিষয়ক একটি আইন তৈরির তাগাদা থাকলেও আমরা তা করতে পারিনি। জ্যেষ্ঠ বিচারককে ডিঙিয়ে অনুজ বিচারককে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার মতো ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে।

৩. সংবিধানিভাবে আমরা একটি আদর্শ সম্পত্তিব্যবস্থা স্থির করতে পারিনি। সম্পত্তির মালিকানা প্রশ্নে রাষ্ট্র, সমবায় ও ব্যক্তিগত মালিকানার মধ্যে আদর্শ সমন্বয় করা যায়নি। দুই শ বছরের ভূমি অনায্যতার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে সাংবিধানিকভাবে আমরা ভূমি সংস্কারের প্রশ্নে উদাসীন থেকেছি। সম্পত্তি, দারিদ্র৵ ও সংবিধান নিয়ে যে কথা বলতে হবে, তা আমাদের ভাবনায় বেশি দিন থাকেনি।

৪. আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশীদারত্ব বজায় থাকেনি। অধ্যাদেশপ্রসূত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছার প্রাধান্যে আমাদের আইন জনবান্ধব আইন হয়নি।

এভাবে আমাদের না পাওয়া, আমাদের ব্যর্থতার তালিকা অনেক লম্বা করা যাবে। কিন্তু কথা হলো, এ রকম কেন হয়? সম্ভবত তত্ত্বকথা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান থাকলে এ রকমটি হয়। সংবিধান হয় না, হয়ে ওঠে। সংবিধানের সার্থকতা এর নিজের ওপর নির্ভর করে না; বরং একটি দেশের জনগণকে এবং রাজনৈতিক শক্তিকে সংবিধানের যোগ্য হয়ে উঠতে হয়।

কন্সটিটিউটসির নামে স্লোগান দেবার সময় জানতে পারতে হয় আমরা স্লোগান দিচ্ছি সংবিধানের নামে, রাজার নামে নয়। সাংস্কৃতিক বিনয়, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, বহুত্ববাদ, দেশাত্মবোধ, নেতৃত্ব, বিচারিক সংস্কৃতি, রাগ ও পরনিন্দার বিপরীতে ক্ষমা ও তিতিক্ষার চর্চা সংবিধানিকতার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

সেই পরিবেশে গণতন্ত্র, অর্থনীতি, রাষ্ট্রধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও গৌরবের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করে তোলে। এসব থাকলে যেকোনো সাংবিধানিক ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

  • এস এম মাসুম বিল্লাহ অধ্যাপক, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়