আমলাতন্ত্রের অদৃশ্য বাধা এবং দুদক সংস্কারে নতুন সরকারের যত চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে জনসাধারণের সংশয় আকস্মিক নয়; এর গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। একাধিক সরকার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও আইন প্রয়োগ প্রায়ই হয়েছে বাছাইভিত্তিক এবং রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় কিছু ‘হাই প্রোফাইল’ মামলা সামনে আসে, পরে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। নতুন সরকারের অধীনে দুদকের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব কি না, তা নিয়ে লিখেছেন নুরুল হুদা সাকিব

বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই আবারও একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে সামনে এসেছে। সদ্য নির্বাচিত সরকারের ঘোষণাপত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এই প্রতিশ্রুতি জনমনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক চাপ এবং কার্যকারিতার ঘাটতিতে ভোগা ব্যবস্থাটি অবশেষে কি প্রয়োজনীয় সংস্কার পাবে—এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

এই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সমালোচকদের ভাষায়, এটি বহু বছর ধরে ‘দন্তহীন বাঘ’—আইনগত ক্ষমতা থাকলেও প্রয়োগে দুর্বল, কাঠামোগতভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং কার্যক্রমে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান সংস্কার কেবল প্রশাসনিক রদবদল বা রাজনৈতিক ভাষণের বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক সাহস, আমলাতান্ত্রিক সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক নকশার একটি কঠিন পরীক্ষা।

সাম্প্রতিক সংস্কার আলোচনা নীতিনির্ধারক ও দুদকের ভেতরের অনেক কর্মকর্তার মধ্যে সতর্ক আশাবাদ তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যায়ের সুপারিশে কিছু মৌলিক প্রস্তাব বাদ পড়েছে—এমন ইঙ্গিতও মিলেছে। যদি তা সত্য হয়, তবে এটি পুরোনো ঝুঁকির পুনরাবৃত্তি: সংস্কারের ভাষা থাকবে, কিন্তু সংস্কারের সারবস্তু থাকবে না।

এখন আর প্রশ্ন এটা নয়, সংস্কারের ঘোষণা আসবে কি না; ঘোষণা ইতিমধ্যেই এসেছে। আসল প্রশ্ন হলো, সংস্কারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে কি না।

ঐতিহাসিকভাবেই দুর্বল ভিত্তি

বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে জনসাধারণের সংশয় আকস্মিক নয়; এর গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। একাধিক সরকার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও আইন প্রয়োগ প্রায়ই হয়েছে বাছাইভিত্তিক এবং রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় কিছু ‘হাই প্রোফাইল’ মামলা সামনে আসে, পরে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে বা জটিল প্রক্রিয়ায় আটকে যায়।

অন্যদিকে সেবা খাতে দৈনন্দিন দুর্নীতি অব্যাহত থাকে। এই ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে ‘ঘোষণা ক্লান্তি’—মানুষ শক্ত কথা শোনে, কিন্তু ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দেখে না। ফলে নতুন কোনো দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতিকে এখন কেবল বর্তমান বাধা নয়, অতীতের অবিশ্বাসও অতিক্রম করতে হয়।

নতুন সরকার যদি সত্যিই ভিন্নতা দেখাতে চায়, তবে তাকে এই চক্র ভাঙতে হবে। শুধু নতুন স্লোগান নয়, দরকার ক্ষমতার স্বেচ্ছা-সংযম—তদন্ত ও মামলার প্রক্রিয়ায় নির্বাহী হস্তক্ষেপের সুযোগ কমিয়ে আনা।

সংস্কারের ভেতরের দুর্বলতা

সব ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রেই নীতিগত সংস্কার খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয়; বরং বেশি ক্ষেত্রে তা দুর্বল করা হয় বাদ দেওয়ার মাধ্যমে। খসড়া প্রস্তাবে থাকে শক্ত সুরক্ষা, চূড়ান্ত নথিতে তা নরম হয়। বাধ্যতামূলক নজরদারি হয় পরামর্শমূলক। নিয়োগ প্রক্রিয়া থাকে নির্বাহী প্রভাবাধীন। বাজেট স্বায়ত্তশাসনের বদলে থাকে নামমাত্র স্বাধীনতা।

দুদকের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যদি সত্যিই দেখা যায় যে নিয়োগের স্বাধীনতা, প্রসিকিউশন ক্ষমতা এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো চূড়ান্ত সুপারিশ থেকে বাদ গেছে, তবে তা হবে গুরুতর আশঙ্কা। তখন প্রতিষ্ঠান বদলাবে আকারে, কার্যকারিতায় নয়।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার সব সময়ই শক্ত স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যায়। রাজনৈতিক মহল অনিয়ন্ত্রিত তদন্তকে ভয় পায়। আমলাতন্ত্রের উঁচু স্তর অনুপ্রবেশমূলক নজরদারি অপছন্দ করে। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক নেটওয়ার্ক টিকে থাকে অস্বচ্ছতার ওপর। ফলে সবাই চায় একটি নিয়ন্ত্রিত প্রহরী, যা স্বাধীন নয়।

আমরা জানি, জুলাই চার্টারে দুদকসহ শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য মোট ৪৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং নীতিগতভাবে এর অধিকাংশই চার্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কিন্তু বাস্তব উদ্বেগের জায়গাটি হলো, পরবর্তী দুদক অধ্যাদেশে এসব গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কারের অনেকগুলোই প্রতিফলিত হয়নি। অথচ বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই চার্টারে উল্লিখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল।

সে কারণে বর্তমান সরকারের কাছে জনস্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকবে, এই উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় বাস্তবায়ন করে দুদককে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

দুদকের ভেতরের ‘সংস্কারচেতনা’

দুদকের ভেতরে কাজ করা অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করলে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়—অর্থবহ সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা তাদের ভেতরেও আছে। অনেকেই চান পেশাগত স্বাধীনতা, পরিষ্কার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষা। তাঁরা বোঝেন, প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়লে তাঁদের নিজস্ব কার্যকারিতাও বাড়ে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগ যে মনোবল ভেঙে দেয়—তা–ও তাঁদের অজানা নয়।

কিন্তু ব্যক্তিগত সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়। আইনি ও কাঠামোগত সুরক্ষা ছাড়া সবচেয়ে নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাও বদলি, পদোন্নতি বা অনানুষ্ঠানিক সংকেতের চাপে পড়েন। তাই সংস্কারকে ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় রূপ দিতে হবে।

নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই প্রতিষ্ঠানের ভেতরের পেশাজীবীদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শ ছাড়া সংস্কারের পরিকল্পনা করেন। এতে আনুগত্য তৈরি হয়, অঙ্গীকার নয়। টেকসই সংস্কারের জন্য দুটোই দরকার।

আমলাতন্ত্রের অদৃশ্য বাধা

প্রশাসনিক প্রণোদনা না বদলালে কোনো দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার সফল হয় না। ক্রয়, লাইসেন্স, ভূমি রেকর্ড, কর, অবকাঠামো অনুমোদন—এসব খাতে তথ্য ও প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ থাকে কর্মকর্তাদের হাতে। এখানেই সুযোগ তৈরি হয়।

দুদকের ক্ষমতা বাড়লে আমলাতান্ত্রিক ঝুঁকির হিসাব বদলায়। যেখানে আগে স্বেচ্ছাচারিতা ছিল, সেখানে জবাবদিহি আসে। ফলে প্রতিরোধ স্বাভাবিক। তবে তা প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবে আসে না; আসে সতর্ক নোট, কারিগরি আপত্তি, ধীর বাস্তবায়ন হিসেবে।

সমাধান হতে পারে বাধ্যতামূলক সহযোগিতা আইন, ডিজিটাল রেকর্ড, সময়সীমাবদ্ধ সাড়া দেওয়ার বিধান, অমান্য করলে শাস্তি। পাশাপাশি তদন্তে সহযোগী কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, না হলে নীরবতাই নিরাপদ পথ।

কার্যকর দুদকের জন্য যে শর্তগুলো অপরিহার্য

তবে বাস্তব চিত্র এখনো খুব উৎসাহব্যঞ্জক নয়। সিপিডির রিফর্ম ট্র্যাকার থেকে প্রাপ্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব এখনো প্রস্তাব বা প্রাথমিক সূচনা পর্যায়েই আটকে আছে; বাস্তবায়ন বা কার্যকর নীতিগত রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সীমিত।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে দুদকের প্রক্রিয়াকে আগের তুলনায় বেশি আমলাতান্ত্রিক স্তরের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এতে সরকারি প্রভাবের পরোক্ষ সুযোগ বাড়তে পারে এবং দুর্নীতি দমন কার্যক্রম আরও জটিল ও ধীর হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় দুদককে কার্যকর করতে কেবল নীতিগত ঘোষণা নয়, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাসহ পাঁচটি শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রথমত, নেতৃত্ব নিয়োগে বিশ্বাসযোগ্যতা ও বহুপক্ষীয় কাঠামো দরকার। সাম্প্রতিক সংস্কার সুপারিশে ‘সিলেকশন অ্যান্ড রিভিউ কমিটি’র মাধ্যমে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি, সম্পদ বিবরণী, যাচাই, সাক্ষাৎকার ও শর্টলিস্ট প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্থা ও সরকারবিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকলে নিয়োগে আস্থা বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, কার্যক্রমে বাস্তব স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা পর্যায়ে অভিযোগ বাছাইয়ের ক্ষমতা, বাধ্যতামূলক প্রাক্‌-অনুসন্ধান তুলে দেওয়া, কেস গ্রহণে লিখিত মানদণ্ড এবং ‘এন্ড টু এন্ড’ ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট—এসব প্রস্তাব কার্যকর হলে অনানুষ্ঠানিক অনুমতির সংস্কৃতি কমবে। বাহ্যিক হস্তক্ষেপকে দণ্ডনীয় করার বিধানও প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ার জট ভাঙতে হবে। সরকারি অনুমতির বাধা বাতিল, স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট, বিশেষ জজ আদালত বিস্তৃতি এবং স্পষ্ট প্রসিকিউশন নীতি—মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমাবে।

চতুর্থত, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন জরুরি। স্বতন্ত্র দুদক তহবিল, নিয়মভিত্তিক বাজেট, জরিমানা বা বাজেয়াপ্ত অর্থের অংশ কমিশনে রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক বেতন–ভাতা—পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ কমায়।

পঞ্চমত, অভ্যন্তরীণ সততা ও জবাবদিহি শক্ত করতে হবে। স্বাধীন ইন্টারনাল ডিসিপ্লিন ডিভিশন (অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিভাগ), বাধ্যতামূলকভাবে সম্পদের হিসাব ঘোষণা, লাইফস্টাইল অডিট, রোটেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ—প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ঝুঁকি কমানোর পূর্বশর্ত।

শাস্তি নয়, প্রতিরোধের কৌশল

দুর্নীতিবিরোধী কৌশলের পুরোনো দুর্বলতা হলো ঘটনার পর শাস্তির ওপর অতিরিক্ত জোর, আগে প্রতিরোধে কম মনোযোগ। গ্রেপ্তার পত্রিকার শিরোনাম হয়, প্রতিরোধব্যবস্থা সেভাবে পত্রিকার শিরোনাম হয় না, কিন্তু কার্যকর বেশি।

দুদককে শুধু তদন্ত সংস্থা নয়, প্রতিরোধ সংস্থা হিসেবেও শক্তিশালী করতে হবে। খাতভিত্তিক ঝুঁকি মানচিত্র, ক্রয়ে রেড-ফ্ল্যাগ অ্যানালিটিকস, বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক অর্থায়ন প্রকাশ, ওপেন কন্ট্র্যাক্টিং—এসব সুযোগ কমায়। আইনি স্বীকৃতি না থাকলে এগুলো গৌণ কাজ হয়েই থাকে।

বাছাইভিত্তিক প্রয়োগের ঝুঁকি

দুর্নীতিবিরোধী প্রয়াসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বাছাইভিত্তিক প্রয়োগ। প্রয়োগ যদি রাজনৈতিক মনে হয়, তবে সঠিক মামলাও বিশ্বাস হারায়। এতে বার্তা যায় আইন নয়, আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিকার একটাই, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। কেস গ্রহণের মানদণ্ড প্রকাশ, তদন্ত অগ্রগতির পরিসংখ্যান, স্বাধীন তদারকি—এসব সন্দেহ কমায়। বিতর্ক থাকবে, কিন্তু প্রমাণভিত্তিক হতে হবে। ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা)–এর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো নিজ দলের ভেতর তদন্তের অনুমতি দেওয়া।

রাজনৈতিক সদিচ্ছাই শেষ ভরসা

প্রযুক্তিগত সংস্কারের পরিকল্পনা পাওয়া যায়, বৈশ্বিক মডেল পাওয়া যায়, আইনি টেমপ্লেট পাওয়া যায়। যা পাওয়া যায় না, তা হলো স্বাধীন জবাবদিহি মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

সদিচ্ছা ভাষণে নয়, সংযমে প্রকাশ পায়—তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোন না করা, পছন্দের সংকেত না দেওয়া, ফাইল আটকে না রাখা, ঘনিষ্ঠজনকে আড়াল না করা। যখন মামলা নেপথ্যে দর–কষাকষি ছাড়া এগোয়, তখনই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যায়।

নতুন সরকার যদি সত্যিই পরিস্থিতি বদলাতে চায়, তবে তাকে আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো নিতে হবে—দুদকের ওপর নিজের প্রভাব সীমিত করে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে।

 ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর পরিবর্তনের প্রত্যাশা

বাস্তবতা হলো প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ধীরে হয়। আইন দ্রুত বদলায়, অভ্যাস ধীরে; প্রক্রিয়া দ্রুত বদলায়, প্রণোদনা ধীরে। তাই সংস্কারকে তাৎক্ষণিক রূপান্তর নয়, ধাপে ধাপে অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত। রোডম্যাপ, মাইলস্টোন, স্বাধীন মূল্যায়ন—এসব আস্থা ধরে রাখে। সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা অতিরঞ্জিত আশ্বাসের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য।

অনেক দিন দুর্নীতিবিরোধী লড়াই ছিল প্রতীকী—নতুন অভিযান, নতুন স্লোগান, নতুন কমিটি। এখন দরকার পদ্ধতিগত শক্তি। এমন পরিকল্পনা, যা ব্যক্তি বদলালেও কাজ করবে।

দুদকের দরকার জোরালো কণ্ঠ নয়—যথাযথ ক্ষমতা; আইন, প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও পেশাগত সংস্কৃতিতে সুরক্ষিত কর্তৃত্ব। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এখন পরীক্ষার বিষয়। এবার জনগণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে পরিবর্তনের বিষয়টি দেখতে চাইছে।

  • নুরুল হুদা সাকিব সভাপতি ও অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • মতামত লেখকের নিজস্ব