বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি (পর্ব-২)

বাংলাদেশের নবগঠিত আইসিটি বর্তমানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা পরিচালনা করছে।ছবি: প্রথম আলো

এখন পর্যন্ত আধুনিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলোর মধ্যে (লেবাননের সাবেক স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল বা এসটিএল ছাড়া) কোথাও আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এসটিএল-এ এমন বিচার সম্ভব ছিল, তবে তা ছিল কিছু সুরক্ষাব্যবস্থার শর্তে।

প্রথমত, কোনো আসামি বিদেশে থাকলেও তিনি নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ ও নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রাখতেন।

দ্বিতীয়ত, যদি ট্রাইব্যুনাল পলাতক আসামির জন্য নিজে আইনজীবী নিয়োগ করতেন, তাহলে পরে সেই আসামি ফিরে এলে তার পূর্ণাঙ্গ পুনর্বিচারের অধিকার থাকত।

কিন্তু বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

এখানে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার অনুমতি রয়েছে এবং বাস্তবে অধিকাংশ মামলাই এমনভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে আসামিরা আদালতে উপস্থিত থাকেন না।

পাঁচটি সম্পন্ন মামলায় ৬২ জন আসামির মধ্যে ৪৩ জনের বিচার হয়েছে তাঁদের অনুপস্থিতিতে। আর এসব আসামি এসটিএল-এ থাকা সুরক্ষাগুলোর কোনো সুবিধাই পান না।

আরও পড়ুন

আইসিটিতে পলাতক বা অনুপস্থিত আসামির জন্য আদালত থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু এই আইনজীবীর সঙ্গে আসামির কোনো যোগাযোগ থাকে না।

ফলে তিনি তথ্য যাচাই করতে পারেন না, সাক্ষী খুঁজে বের করতে পারেন না, আসামির নিজের বক্তব্য জানতে পারেন না, কিংবা আসামি কী বলতেন তা বিবেচনায় নিয়ে প্রসিকিউশনের মামলাকে চ্যালেঞ্জ করাও সম্ভব হয় না।

এর পাশাপাশি, একাধিক আসামির পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মামলায় একজন আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী দুজনের পক্ষেই লড়েছেন।

আবার, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় চারজন আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী ২৪ জন আসামির পক্ষে ছিলেন। অর্থাৎ একজন আইনজীবীকে একসঙ্গে প্রায় ছয়জন আসামির প্রতিনিধিত্ব করতে হয়েছে।

এই নিয়োগগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যেন একবারও ভাবা হয়নি—একজন আইনজীবীর পক্ষে আসলে প্রত্যেক আসামির জন্য আলাদা করে ঠিকমতো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব কি না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, একই মামলার একাধিক আসামির স্বার্থ প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে একসঙ্গে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিত্ব করা শুধু বাস্তবিক সমস্যার কারণেই নয়, নীতিগতভাবেও তা অনুপযুক্ত।

আরও পড়ুন

বিচারের প্রস্তুতির জন্য সময় মাত্র দুই মাসেরও কম

আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার–সংক্রান্ত চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর আইনি প্রস্তুতির জন্য ‘যথেষ্ট সময়’ দিতে হবে। এই সময়সীমা মামলার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

অভিযোগের গুরুত্ব, পরিসর এবং আইনি জটিলতার ওপর তা নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের চর্চায় সাধারণত দেখা যায়, প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সব তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করার পরও বিচার শুরু হতে অনেক মাস সময় নেওয়া হয়, যাতে আসামিপক্ষ যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে।

বাংলাদেশের ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৯ (৩) ধারায় বলা আছে, প্রসিকিউশনের প্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচার শুরু করতে ট্রাইব্যুনালকে মাত্র তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করলেই চলে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই বিধানটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সময়সীমা বাড়িয়ে তিন সপ্তাহ থেকে ছয় সপ্তাহ করা হয়।

তবে ২০২৫ সালে আবার সংশোধন এনে সময়সীমা পুনরায় কমিয়ে তিন সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বর্তমান ট্রাইব্যুনালগুলো অনেক ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত সর্বনিম্ন সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিয়ে বিচার শুরু করছেন, কিন্তু আসামিপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও মোটামুটি আট সপ্তাহের মধ্যেই বিচার শুরু হয়ে যাচ্ছে। যেমন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় (যেখানে সারা দেশে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ ও মৃত্যুর অভিযোগ ছিল) ২০২৫ সালের ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালতে জমা দেওয়া হয়।

আদালত-নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তিনি ২৫ জুন প্রমাণপত্র হাতে পান। এর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পর, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট বিচার শুরু হয়ে যায়।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয় এবং প্রায় দুই মাসের কিছু কম সময়ের মধ্যে, ২৮ আগস্ট ২০২৫-এ বিচার শুরু হয়।

মজার বিষয় হলো, রায়ে বিশেষভাবে বলা হয়েছে—‘অভিযুক্তদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় অর্থপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ফলে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা বজায় ছিল।’

অভিযোগগুলোর গুরুত্ব (যেখানে একাধিক মৃত্যুর দায়ের কথা রয়েছে) এবং বেশির ভাগ আসামিপক্ষের আইনজীবীর আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে অভিজ্ঞতা না থাকা, উপরন্তু অনেককে একসঙ্গে একাধিক আসামির পক্ষে লড়তে হওয়ায় এই সময়সীমাকে তাঁরা খুবই অল্প বলে মনে করেছেন।

আবু সাঈদ মামলায় এক অভিযুক্তের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী আইজুল রহমান দুলা বলেন, ‘মামলার কাগজপত্র এত বেশি ছিল যে আট সপ্তাহ সময় প্রস্তুতির জন্য মোটেও যথেষ্ট ছিল না।’

আরও পড়ুন

সাক্ষী জেরার সীমাবদ্ধতা

আইসিটির বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রসিকিউশনের সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন, এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জেরা করেন।

তবে কার্যবিধির রুল ৫৩ (২)-এ বলা হয়েছে, ‘জেরা অবশ্যই সাক্ষীর মূল জবানবন্দির বিষয়বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা এই বিধানটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, যার ফলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া সাক্ষীর লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যের কোনো অসামঞ্জস্য নিয়ে জেরা করতে পারতেন না।

এর ফলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করার একটি মৌলিক উপায় থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হয়েছেন।

সেই মৌলিক উপায় হলো—সাক্ষীর আগের ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য তুলে ধরে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা। এর কারণে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যের মূল অংশ প্রায় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই থেকে যায়, যদিও তা তদন্তের সময় দেওয়া বক্তব্য থেকে অনেকটাই ভিন্ন হতে পারে।

অথচ বাংলাদেশের সাধারণ বিচারপ্রক্রিয়ায়, সাক্ষ্য আইনের অধীনে এ ধরনের জেরা করার সুযোগ রয়েছে।

এই নিয়ম নিয়ে তখনই সমালোচনা উঠেছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এটি সংশোধন করা হয়নি। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরাও শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের মতোই এই বিধানটি ব্যাখ্যা করছেন।

এর ফলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করে দেখাতে পারেননি যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তাঁদের লিখিত বক্তব্যের কিছু অংশ অন্য সাক্ষীদের বক্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।

ফলে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ছিল বা সাক্ষীদের মধ্যে কোনো যোগসাজশ ছিল কি না—এসব প্রশ্ন তোলার সুযোগও তাঁরা পাননি।

উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিক হাসানুল হক ইনুর মামলার কথা বলা যায়।

সেখানে চারজন সাক্ষীর বক্তব্য প্রায় শব্দে শব্দে এক ছিল। তাঁরা সবাই বলেছেন: ‘আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন সময়ে আসামি হাসানুল হক ইনু বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি গণমাধ্যম, যেমন মিরর নাউ, নিউজ টুয়েন্টিফোর, আরটিভি–এ প্রদত্ত বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের জঙ্গি, সন্ত্রাসীসহ সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগের জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, হাসানুল হক ইনু শেখ হাসিনাকে ফোন করে আন্দোলন দমনে নিরীহ–নিরস্ত্র ছাত্র–জনতাকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সমর্থন, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বোম্বিং করে আন্দোলন দমন ও সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে।’

চারজন সাক্ষী একই ভাষা ও একই বাক্য ব্যবহার করে এই অভিযোগ করেছেন। কিন্তু জেরার সময় তাঁর আইনজীবী এ বিষয়টি তুলে ধরতে পারেননি।

আসামি অনুপস্থিত থাকলেও কোনো সুরক্ষা ছাড়া বিচার করা, আইনজীবীদের খুব কম সময় দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করা, একাধিক আসামির পক্ষে একজন আইনজীবীর ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া (যেখানে অনেক সময় তাঁদের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে মেলে না), জেরা করার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া যার কারণে একই ধরনের বক্তব্য বারবার দেখা যাচ্ছে জেনেও সাক্ষীদের বক্তব্য ঠিকমতো যাচাই করা যায় না, এবং ‘জুডিশিয়াল নোটিশ’-এর বেশি ব্যবহার (যার কারণে বিতর্কিত প্রমাণ পরীক্ষা করার সুযোগ কমে যায়) করার ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘জুডিশিয়াল নোটিশ’ বনাম আনুষ্ঠানিক প্রমাণ

‘জুডিশিয়াল নোটিশ’ একটি প্রতিষ্ঠিত আইনি নীতি, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলোতে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে বিচারকেরা কোনো তথ্য বা আইনি বিষয়কে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ ছাড়াই সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।

আইসিটিতেও এই নীতি প্রযোজ্য। তবে এখানে এর পরিধি অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। আইসিটি আইনের অধীনে ট্রাইব্যুনাল সরকারি নথি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ‘জাতিসংঘের প্রতিবেদন’কেও সরাসরি গ্রহণ করতে পারে।

এটি চলমান মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২০২৬ সালের এপ্রিলে আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেওয়া এক রায়ে (যেখানে ৩০ জনকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছিল) ট্রাইব্যুনাল জানান, তাঁরা জাতিসংঘের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে ‘জুডিশিয়াল নোটিশ’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে ‘একাধিক আঘাত—যার মধ্যে গুলির সঙ্গে দেহ ভেদকারী আঘাতও রয়েছে—এর ফলে সৃষ্ট শক ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।’

এই বিষয়টি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যেহেতু প্রতিবেদনটিকে সরাসরি গ্রহণ করেছেন, তাই তাঁদের যুক্তি কার্যত গুরুত্ব পায়নি।

আসামি অনুপস্থিত থাকলেও কোনো সুরক্ষা ছাড়া বিচার করা, আইনজীবীদের খুব কম সময় দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করা, একাধিক আসামির পক্ষে একজন আইনজীবীর ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া (যেখানে অনেক সময় তাঁদের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে মেলে না), জেরা করার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া যার কারণে একই ধরনের বক্তব্য বারবার দেখা যাচ্ছে জেনেও সাক্ষীদের বক্তব্য ঠিকমতো যাচাই করা যায় না, এবং ‘জুডিশিয়াল নোটিশ’-এর বেশি ব্যবহার (যার কারণে বিতর্কিত প্রমাণ পরীক্ষা করার সুযোগ কমে যায়) করার ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে যেসব মামলায় সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে, সেখানে এই সমস্যা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ওপরের সমস্যাগুলোই সব নয়; বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের আরও অনেক দিক আছে। এর মধ্যে রয়েছে আসামিপক্ষের সাক্ষীদের আদালতে ডাকার আবেদন নাকচ করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অস্বাভাবিক দ্রুতগতি।

ট্রাইব্যুনাল নিয়মিতভাবে দাবি করেন যে আইসিটি আইন, এর কার্যবিধি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই তা এই মানদণ্ড থেকে অনেক দূরে। এমনকি অনেক সময় দেশের নিজস্ব আইনি মানদণ্ডও পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা আইসিটির সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

  • ডেভিড বার্গম্যান সাংবাদিক। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: david.bergman.77377
    জাস্টিসইনফো ডট নেট থেকে নেওয়া।
    ইংরেজি থেকে অনূদিত। মতামত লেখকের নিজস্ব।

(প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন)