দেশের মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার বৈষম্য এখন কী অবস্থায় আছে?

মুস্তফা কে মুজেরী: কোভিডের আগে থেকে দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছিল। কোভিডের কারণে ওই বৈষম্য আরও তীব্র হয়। এর আগেও আমরা দেখেছি যেকোনো সংকটে দেশে বৈষম্য বাড়ে। কোভিড এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ওই বৈষম্য আরও বাড়বে। দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এখন যে খাদ্য ও জীবিকার সংকটে আছে, তারা সরকারি সহায়তা ছাড়া টিকে থাকতে পারবে না। ফলে এখন সরকারের দায়িত্ব, তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা। কারণ, মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের বড় অংশ তাদের আয়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ খাদ্য বাবদ ব্যয় করে। দরিদ্ররা আয়ের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় করে। এখন খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই দরিদ্র শ্রেণি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো তো বলছে দেশে খাবারের কোনো সংকট নেই, বিশেষ করে চালের।

মুস্তফা কে মুজেরী: সরকারি তথ্য যদি আমরা বিবেচনায় নিই, মানে পরিসংখ্যান ব্যুরো চাল উৎপাদনের যে তথ্য দিচ্ছে, তা আমলে নিলে দেশে চালের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবতা তো তা বলছে না। কারণ, হয় খাদ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে, অথবা মাথাপিছু খাদ্যের ভোগ কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। সরকারি তথ্যে যে গলদ আছে, তার প্রমাণ হচ্ছে একদিকে বলা হচ্ছে দেশে খাদ্যের চাহিদার চেয়ে বেশি আছে। অন্যদিকে দেশে চাল সরকারি-বেসরকারি দুই খাতেই আমদানি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আমরা অনেক দিন ধরে দেখছি। এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। কারণ, দেশে খাদ্যঘাটতি থাকলে এক ধরনের কৌশল নিতে হবে, ঘাটতি না থাকলে আরেক ধরনের কৌশল।

সরকার তো দেশের ভেতর থেকে চাল কেনার চেয়ে বিদেশ থেকে আমদানিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

মুস্তফা কে মুজেরী: দেশ ও বিদেশ থেকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে দুই ধরনের সমস্যা আমরা দেখি। দেশের ভেতরে চালের বাজার গুটি কয় চালকলমালিক ও বড় ধান ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁদের ইচ্ছায় চালের দাম ওঠানামা করে, সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এমনকি সরকারি চাল সংগ্রহের সফলতা নির্ভর করে ওই গোষ্ঠীর ওপর। আবার বিদেশ থেকে বেশি দামে চাল ও গম কেনার মতো ঘটনা ঘটতে দেখছি। ওই চাল-গম ভর্তুকি দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দামে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে বণ্টন করা হচ্ছে। বেশি দামে খাবার কিনলে তার জন্য সরকারকে বেশি বেশি ডলার ভর্তুকি দিতে হবে। এই সংকটকালে তা জটিলতাকে আরও বাড়াবে।

কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানির জন্য ডলার বরাদ্দ করা উচিত? আমরা যদি তৈরি পোশাক, জ্বালানি তেল ও খাদ্য—এই তিন খাতকে বিবেচনায় নিয়ে যদি অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে বলি, আপনি কী বলবেন?

মুস্তফা কে মুজেরী: দেশে একটি বড় সমস্যা হলো আমদানি করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। কিন্তু সরকারের বড় সিদ্ধান্তগুলো একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং আমলাদের হাতে চলে গেছে। সব সিদ্ধান্ত ওই গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে। সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত খাদ্য আমদানিকে, কিন্তু বাস্তবে সেটা হবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। গোষ্ঠীস্বার্থ থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর মানুষের স্বার্থকে চিন্তা করলে খাদ্য আমদানিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারপর যদি ডলার থাকে, অন্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। আগে তো মানুষকে খাওয়াতে হবে, তারপর বাকি সব।

রিজার্ভ ও ডলার-সংকট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, আপনার কী মূল্যায়ন?

মুস্তফা কে মুজেরী: দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে ডলারের দাম ও রিজার্ভ কমে যাওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, আমাদের প্রকৃত রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার। জরুরি কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজন যাতে মেটানো যায়, সে জন্য রিজার্ভ থাকে। এ অবস্থায় আসার কারণ হলো, আমরা একটা সত্য-মিথ্যার ঘেরাটোপের মধ্যে বন্দী হয়ে ছিলাম। আমরা এমন একটা মনোভাব দেখিয়েছি, আমাদের রিজার্ভ যেন অফুরন্ত। ফলে রিজার্ভ থেকে আমরা এখানে-সেখানে দিয়ে দিয়েছি।

 মেগা প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মনোভাব কাজ করেছে। আমরা আমাদের প্রকৃত সামর্থ্যটা মূল্যায়ন করে দেখিনি। আমরা আশা-দুরাশার দোলাচলে ঢুকে এমন বিভ্রান্ত হয়ে গেছি যে প্রকল্পগুলোতে যে টাকা ব্যয় করার দরকার, তার থেকে অনেক বেশি ব্যয় করে ফেলেছি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রোল মডেল হওয়ার চিন্তাটা আমাদের এত বেশি মোহাচ্ছন্ন করে ফেলেছে যে আমরা প্রকৃত বাস্তবতাটা ভুলে গেছি। আমরা যদি প্রকৃতপক্ষে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস করতাম, যেখানে সত্য বলার পরিসর থাকত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতিটা এ রকম হতো না। গণতন্ত্রহীনতার কারণেই এমনটা ঘটেছে। মাঠপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুধু ইতিবাচক ও রঙিন তথ্যগুলোই গেছে। সেটা প্রকৃত তথ্য নয়।

এত দিন বলা হতো, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আবার দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথাও শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথ কী?

মুস্তফা কে মুজেরী: প্রথম করণীয় হলো, আমাদের নিজস্ব উৎপাদনের সামর্থ্য বাড়ানো। কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প—সবখানেই উৎপাদনের সামর্থ্য বাড়াতে হবে। সরকারি হিসাবে কৃষিতে ধান-চালসহ সব ফসলের উৎপাদন প্রতিবছর বাড়ছে। কিন্তু এই উৎপাদন বাড়ার তথ্যটা কতটা বস্তুনিষ্ঠ, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বাস্তবতার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না। এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা কোনো মহলের আছে বলে মনে হয় না। প্রকৃত তথ্য না পাওয়ায় করণীয়র ক্ষেত্রে বড় বিভ্রম সৃষ্টি করছে। আমরা কৃষিতে সঠিক পথটা বেছে নিতে পারছি না। গত কয়েক বছরে কৃষির একটা বড় পরিবর্তন ঘটে গেছে। সুপারমার্কেট, কন্ট্যাক্ট ফার্মিং থেকে শুরু করে অনেক ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে কৃষকের ওপর, উৎপাদনের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা আমরা জানি না। আমরা পুরোপুরি বিষয়টাকে উপেক্ষা করছি। কৃষিতে পুরোনো যে উন্নয়নের ধারা, তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির আলোকে কোন ধারাটা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য, সেটা গ্রহণ করতে হবে। কেননা, জমির তুলনায় আমাদের লোকসংখ্যা অনেক বেশি। খাদ্যনিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ। খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষির ওপর এখন যতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটা মোটেই পর্যাপ্ত নয়।

খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে এখন বাংলাদেশে ও বিশ্বে দুর্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তার কৌশল কী হওয়া উচিত?

মুস্তফা কে মুজেরী: কাগজে-কলমে খাদ্যনিরাপত্তা কৌশল নিয়ে অনেক কিছু আছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। ধানের কথায় বিবেচনা করা যাক। ধানের উৎপাদনশীলতা একটা স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে গেছে, এখন আর উৎপাদন খুব বেশি বাড়ছে না। উচ্চফলনশীল-উফশী প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আবার কৃষিক্ষেত্রে আমাদের আরেকটা বড় সমস্যা হলো, ভূমির পরিমাণ ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। শহুরে ব্যবসায়ী ও টাকাওয়ালাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পছন্দের একটা জায়গা হলো জমি কেনা। ফলে জমির অকৃষি ব্যবহার অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে কৃষিজমি কমে যাওয়া খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আমরা অন্য কিছু নিশ্চিত করতে পারব না। জনগণকে খাদ্যনিরাপত্তা দিতে না পারলে, সেটাকে কোনো অর্থেই উন্নয়ন বলা যাবে না।

কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। তরুণ জনগোষ্ঠী কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছে না।

মুস্তফা কে মুজেরী: একটা বাস্তবতা হলো, কৃষি নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না। কৃষিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমাগতকভাবে কমবে। আগে যেখানে কৃষিতে কর্মসংস্থান ৬০ শতাংশ ছিল, এখন সেটা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। জিডিপিতে কৃষির অবদানও কমছে। সেটা অনিবার্যও। কৃষির আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এ খাতে তরুণ শ্রমশক্তি কমছে। কৃষক নিয়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে নীতি, সেখানে ঋণ দেওয়াটাই মূল বিষয়। কৃষককে খালি ঋণ দিয়ে কৃষি কাঠামো, কৃষি উৎপাদন বদল করা সম্ভব নয়। আমাদের ৮০ শতাংশ কৃষক ছোট খামারের। কৃষির পরিবর্তন আনতে হলে তাদের ওপরই নির্ভর করতে হবে। তাদের যেসব বাধা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো আগে জানাবোঝা প্রয়োজন। এর মধ্যে ঋণ একটা সমস্যা। অন্য সমস্যাগুলো সমাধান না করে শুধু ঋণ দিয়ে কৃষকের ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দেওয়া সম্ভব। বীজ, সার, সেচ, ভর্তুকি, বিপণনসহ কৃষকের জন্য সমন্বিত নীতি ও উদ্যোগ প্রয়োজন। সত্যিকার অর্থে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের কার্যকর নীতি নেই। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে কৃষকও রয়েছে। যদিও এই অভিঘাতের পূর্ণমাত্রার প্রভাব এখনো পড়তে শুরু করেনি। বর্তমানে বেঁচে থাকার সংগ্রামটা মুখ্য হয়ে উঠেছে। এরপর আবার সার, বীজ, ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। নানা মহলে ভর্তুকি কমানোর বিষয়টাও আলোচনা হচ্ছে।

আইএমএফের ঋণ সামগ্রিক সংকট মোকাবিলায় কতটা ভূমিকা রাখবে? খাদ্য ও কৃষি খাতে এ ঋণ কতটা স্বস্তি দিতে পারবে?

মুস্তফা কে মুজেরী: আইএমএফ ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ কয়েক কিস্তিতে দেবে। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঋণ বৈদেশিক বাণিজ্য ও রিজার্ভের ক্ষেত্রে বর্তমান যে টানাপোড়েন, সেটা কিছুটা লাঘব হবে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এলে এর ইতিবাচক প্রভাব কৃষি ও খাদ্য খাতেও পড়বে। তবে এই প্রভাব পড়তে সময় লাগবে। আইএমএফের ঋণের কিছু শর্ত আছে। প্রথম কিস্তি দেওয়ার পর শর্তগুলো কতটা পূরণ হলো, তার ওপর নির্ভর করে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করবে। আইএমএফের কাছ থেকে সদস্যদেশ হিসেবে যে কেউ ঋণ নিতে পারে। সেটা অধিকারও। কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে শর্তগুলো আমাদের জন্য ভালো কি মন্দ, সেটা প্রধানভাবে বিবেচ্য।

বর্তমান সংকেটের মধ্যেও আমরা কীভাবে সবচেয়ে ভালোটা বের করে আনতে পারব?

মুস্তফা কে মুজেরী: প্রথমত, আমাদের সব অপব্যয় বন্ধ করতে হবে। এ-সংক্রান্ত সরকারি নীতির মধ্যে ধারাবাহিকতার বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সরকারি খরচে সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশে যেতে পারবে না, এমন নির্দেশনা এলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাজেট, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই একটা শৃঙ্খলা আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। যথাযথ অগ্রাধিকার বিবেচনা না করেই আমরা অসংখ্য প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বর্তমান সংকটে আমাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে এখন বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা স্বার্থবাদী গোষ্ঠীগুলোর কাছে বন্দী হয়ে গেছি। বেশির ভাগ নীতি, সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ও গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার ঘাটতি থেকে আমাদের আজকের এই সংকট। আমরা যেভাবে এগোচ্ছিলাম, তাতে করে বর্তমান পরিণতিটা অবশ্যম্ভাবী ছিল না। ভেতরে-ভেতরে আমরা নিজেরাই এই গলদগুলো সৃষ্টি করেছি, লালন-পালন করেছি, সেই ফাঁদে নিজেরাই আটকা পড়েছি। এখন অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে উত্তরণ অসম্ভব ব্যাপার নয়। আমরা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে যাইনি। আমাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা নেই, সেটা কিন্তু নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মর্যাদা, স্বাধীনতা ক্রমাগত কমে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সেটা তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। সে ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়।

বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়াতে প্রথম কোন কাজটা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

মুস্তফা কে মুজেরী: প্রথম শুরুটা হতে হবে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্তগুলো আবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন সিদ্ধান্তগুলো চালিয়ে নেওয়া যাবে আর কোনগুলো পরিবর্তন করতে হবে, দুটোই আলাদা করে ফেলতে হবে। অর্থনৈতিক নীতির গলদগুলো শনাক্ত করে দ্রুততার সঙ্গে সেগুলো বদলে ফেলতে হবে। একটা-দুটো ক্ষেত্রে পরিবর্তন করলে বাস্তবে ফল আসবে না। সামগ্রিক সংস্কার করতে হবে। বাস্তবায়নটা ধীরে হতে পারে, কিন্তু কৌশলটা এখনই করা প্রয়োজন।

আপনাকে ধন্যবাদ।

মুস্তফা কে মুজেরী: আপনাদেরও ধন্যবাদ।