কুমিল্লার ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? সংখ্যালঘুদের ওপর বৈষম্য ও অত্যাচার করার জন্য বিএনপিকে বর্জন করেছিলেন। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করেছেন। আওয়ামী লীগ কি আপনাদের সেই সুরক্ষা দিয়েছে?

রানা দাশগুপ্ত: ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সেই আন্দোলন বিভ্রান্ত করার জন্য বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলেছে, এ কথা বলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিন দিন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে। গণ-আন্দোলনের মুখে এরশাদ পদত্যাগ করলেন, সংসদীয় নির্বাচন হলো। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে। সেদিনই বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া বিবৃতি দিলেন। বিবৃতিতে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার কথা বললেন এবং কোনো ধরনের সমস্যা যাতে সৃষ্টি না হয়, তার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানালেন। বিবৃতির পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু পরদিন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হলো। চলল একটানা ২৭ দিন। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা এ ধরনের সহিংসতা আশা করিনি। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সেটি শুরু হয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করল। সেই সরকারের আমলে আগের সরকারের মতো সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে, সেটা আমাদের ভাবনার অতীত ছিল। কিন্তু সেই যে ২০১১ সালে রামু, উখিয়া, টেকনাফ থেকে শুরু হলো; ২০২১ সালের দুর্গাপূজার সময় পর্যন্ত একটানা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সে অর্থে বিএনপি সরকারের আমলে যত ঘটনা ঘটেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার চেয়ে কম ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি না।

কোনো তফাত কি দেখতে পান?

রানা দাশগুপ্ত: তফাত হলো, বিএনপি সরকারের আমলে কোনো ঘটনার এজাহার হতো না। ভয়ে কেউ আদালতে যেতেন না। এ সরকারের আমলে এজাহার হয়, চার্জশিট হয়, কিন্তু বিচার হয় না। এসব ঘটনায় সরকারি দলের লোক জড়িত থাকলে অভিযোগপত্র থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়। মামলা এমনভাবে সাজানো হয়, যেন ১৫-২০ দিনের মধ্যে আসামিরা সবাই জামিনে বেরিয়ে আসেন।

আইনজীবী হিসেবে আপনার কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে নাকি বাংলাদেশে সার্বিক আইনের শাসনের ঘাটতির কারণে সেটি হচ্ছে?

রানা দাশগুপ্ত: এ দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতে ২১ বছর সময় লেগেছে। যদি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বা বিশেষ বিচার হতো, তাহলে এত দিন লাগত না। আমরা মনে করি, সমাজের দুর্বল অংশ হওয়ায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় যেমন বিশেষ আইন আছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্যও বিশেষ আইন থাকা প্রয়োজন। এ কারণে আমরা সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছিলাম। সরকারি দলও সে দাবি মেনে নিয়েছিল। বৈষম্য বিলোপ আইনের দাবি তুলেছিলাম। সরকার ইতিমধ্যে সেটা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যারা দলিত ও অচ্ছুত, তাদের জন্য এটি ইতিবাচক আইন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘুদের জন্য এ আইন খুব বেশি উপকারে আসবে না। সংখ্যালঘুদের এখনকার সংকট হলো নিরাপত্তাহীনতা বোধ। সেটা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্ত করতে হলে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা জরুরি। আমাদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে সরকারি দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সরকারের মেয়াদ এক বছরও বাকি নেই। আমরা মনে করি, এ সময়ের মধ্যে এ আইন পাস হওয়া উচিত। সংখ্যালঘুরা যে ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে আছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করার জন্য এ আইন জরুরি।

আওয়ামী লীগ একটানা ১৪ বছর ক্ষমতায়। বর্তমানে সংখ্যালঘুরা কেমন আছেন?

রানা দাশগুপ্ত: দেশের উন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এর একটা হিস্যা সব নাগরিকই পেয়েছেন। ১৪ বছর আগের থেকে এখন সংখ্যালঘুদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে, কিন্তু সেটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কেননা এ ক্ষেত্রে বৈষম্য আছে। গ্রামগঞ্জ বা প্রান্তিক এলাকায় সংখ্যালঘুরা বিধবা ভাতাসহ প্রায় সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থেকে যান। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দায়ী।

অনেকে বলেন, এ সরকারের আমলে প্রশাসনে অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা অনেক বেশি সুবিধা পেয়েছেন?

রানা দাশগুপ্ত: হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গঠনের সময় আমরা স্লোগান তুলেছিলাম—ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে অংশীদারত্ব ও প্রতিনিধিত্ব চাই। এ দাবি তোলার সময় সংসদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন মাত্র দুজন। এখন সংসদে সদস্য ২৩ জন। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, শুধু নামের কারণে অনেক যোগ্য ব্যক্তিকেও চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, নিয়োগ দিলেও তাঁর পদোন্নতি হয়নি। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে অংশীদারত্ব ও প্রতিনিধিত্ব গত ১৪ বছরে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। যেমন পুলিশ প্রশাসনে আগের চেয়ে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য কেউ ছিলেন না, এখন হচ্ছেন।

২৩ জন সংসদ সদস্য আছেন। সংসদে কি তাঁরা আপনাদের পক্ষে কথা বলেন?

রানা দাশগুপ্ত: একদম বলছেন না। যেকোনো নাগরিক বা গোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানের একমাত্র ফোরাম হলো সংসদ। আমরা কখনো ভাবিনি, এখনো ভাবি না সংসদে আলাদাভাবে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি যাওয়া দরকার। গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্য থেকেই এই প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। কিন্তু দুজন সংসদ সদস্য থাকার সময়ে তাঁরা যে ভূমিকা তখন পালন করেছিলেন, আজ ২৩ জন সেই ভূমিকা পালন করছেন না। আজ যদি তাঁরা সংসদের ভেতর তাঁদের ভূমিকা পালন করতে পারতেন, তাহলে কেবল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়, সরকার ও সরকারি দল লাভবান হতো।

তারপরও তো আপনারা আওয়ামী লীগ সরকারের ওপরই ভরসা করছেন?

রানা দাশগুপ্ত: এ মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর আমাদের আস্থা বা ভরসা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর ওপরে এখনো আমাদের আশা, আস্থা ও ভরসা টিকিয়ে রাখতে চাই। শত প্রতিকূলতার মাঝে দেশটাকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। এ দেশের সংখ্যালঘুরা যে তাঁদের ভোটের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দলকে আস্থায় নেবেন, সেই বাস্তবতা নেই। কেননা অন্য কোনো বড় দল সংখ্যালঘুদের আস্থায় আনার চেষ্টা করেনি।

কিন্তু বিএনপির ২৭ দফা কর্মসূচিতেও সব ধর্মের সমান অধিকারের কথা আছে। বলা হয়েছে—রাষ্ট্র সবার, ধর্ম যার যার। এটিকে কি ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করেন না?

রানা দাশগুপ্ত: বিএনপি ১০ দফায় বলেছে, এই সরকারের ১৪ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর যেসব সহিংসতা হয়েছে, তারা সহিংসতাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে। তাদের এই অঙ্গীকার ইতিবাচক। একদিক থেকে দেখলে বিএনপি স্বীকার করে নিল বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটছে। এটা ইতিবাচক। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো এটা স্বীকার করতে চায়নি। তবে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের প্রস্তাবে শঙ্কার দিকও আছে। সাতাত্তর সালে একবার তারা সংবিধান মেরামত করেছিল। সেই মেরামতের মধ্য দিয়ে বাহাত্তরের সংবিধান উপড়ে ফেলা হয়েছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে সংবিধানে ইতিবাচক একটা পরিবর্তন এসেছে। আবার যদি মেরামত করতে গিয়ে সাতাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া হয়? বিএনপিকে এ বিষয়টা প্রমাণ করতে হবে।

ক্ষমতায় না গেলে বিএনপি সেটা প্রমাণ করবে কীভাবে?

রানা দাশগুপ্ত: এ দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা মার খেতে খেতে আর কারও ওপর আশা ও আস্থা রাখতে পারছেন না। বিএনপি তাদের রাজনীতির মধ্য দিয়ে আড়াই কোটি মানুষকে কখনো বিবেচনায় রাখতে চায়নি। এমনকি ভোটের বিবেচনাতেও নয়। তারা মনে করে, সংখ্যালঘুদের ভোটের বিবেচনায় রাখার চেয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিবেচনায় রাখা তাদের জন্য ইতিবাচক। আমরা দেখতে চাই, সংখ্যালঘুদের নাগরিক হিসেবে সম-অধিকার ও সমমর্যাদা আছে—এটা বিএনপিকে বিবেচনা করতে হবে। রাজনীতির মাঠে বিএনপির পরীক্ষা দিয়ে আস্থা অর্জন করা ছাড়া বিকল্প নেই।

নির্বাচন তো একটা পরীক্ষা?

রানা দাশগুপ্ত: ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকার করেছিল, তারা নির্বাচিত হলে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন, বৈষম্য বিলোপ আইন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ও পার্বত্য চুক্তি ও ভূমি কমিশনের যথাযথ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করবে। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নে আমরা এখনো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখছি না। এরপরও আমরা আশা রাখতে চাই, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাশ করবে না।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পাল্টা যে সংগঠন গড়ে উঠেছে, তারাও তো সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে?

রানা দাশগুপ্ত: হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্ট নামে বিএনপি সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠন করেছিল। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে উপদেষ্টা করে সম্প্রতি সংগঠনটি আবার সক্রিয় করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে যে হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেখানে এ সংগঠনের কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কোনো রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুদের পবিত্র আমানত বলে মনে করে আর কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে সংখ্যালঘুরা থাকলে তাদের বিপদ। এ জায়গা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংখ্যালঘুদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। 

সম্প্রতি আপনি একটি বক্তৃতায় বলেছেন, আপনারা কারও মালে গনিমত হতে চান না। এ বক্তব্য কি হতাশা থেকে?

রানা দাশগুপ্ত: হতাশা তো বটেই, এর পেছনে দীর্ঘদিনের কারণ আছে। রাজনীতির মাঠে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, ‘খেলা হবে, খেলা হবে।’ আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি, রাজনীতির মাঠে খেলাটা হয় সংখ্যালঘুদের নিয়ে। কেউ মনে করে, তাঁরা আমাদের ভোট দেবেন না, অতএব তাঁদের মারতে হবে। আবার কেউ মনে করে, তাঁরা আমাদের ভোটব্যাংক, যাবেন কোথায়। যারা মনে করে, ভোট না দিয়ে যাবেন কোথায়, তারাও হেরে গেলে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করে। এ রকম ঘটনা অনেক ঘটেছে। রাজনীতির এ দাবার ঘুঁটি আমরা হতে চাই না। প্রতিবার নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের এই জিম্মি হওয়ার অবসান হতে হবে। এ লড়াই আমাদের করতে হতো না, যদি বাহাত্তরের সংবিধান অবিকৃতভাবে বহাল থাকত। এটি বহাল থাকলে গণতান্ত্রিক ধারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত।

একটা অভিযোগ আছে, ভারতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থানের কারণে এখানেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান ঘটছে। অর্থাৎ ভারতের রাজনীতি এখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।

রানা দাশগুপ্ত: আমি তো বলব, ভারতে বিজেপির রাজনীতির যে উত্থান, তার জন্য আমাদের এখানকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিরও একটা প্রভাব আছে। ভারতে বিজেপির উত্থান হয়েছে গত কয়েক দশকে। আর এখানে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চলে আসছে সাতচল্লিশ থেকে। স্বাধীনতার পর কয়েক বছর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি স্তিমিত থাকলেও পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখন তো বিজেপি ছিল না। ভারতের বিজেপির উত্থানের আগেই এখানে বাবরি মসজিদ ভাঙার গুজব ছড়িয়ে অনেক মন্দির ভাঙা হয়েছে। একবার বাবরি মসজিদ ভাঙার গুজব ছড়িয়ে, আরেকবার বাবরি মসজিদ ভাঙার পর। আমরা চাই বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য যাতে এখানকার সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে না হয়, তেমনি ভারতের রাজনীতির জন্যও সেখানকার সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগ করতে না হয়। কিন্তু পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ক্রমেই কমে গেলেও ভারতে সেটি হয়নি। ১৯৭৪ সালে এখানে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১৪ শতাংশ। আজ প্রায় ৮ শতাংশ। 

অভিযোগ আছে যে ভারত সরকার যে দলকে সমর্থন করতে চায়, আপনারাও সেই দলকে সমর্থন করেন।

রানা দাশগুপ্ত: এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলব, সাতচল্লিশ থেকে এখানে সংখ্যালঘুরা সব সময়ই অত্যাচার–নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কখনো প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সঙ্গে আপস করেননি। ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলও আমাদের কাউকে সমর্থন করতে হবে, এমনটা বলে দেয়নি। আর আলোচনার কথা বলছেন, ভারতের নেতারা কিংবা সরকার এখানকার সব দলের সঙ্গেই কথা বলে। পত্রিকায় দেখলাম, গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হকের সঙ্গেও এখানকার ভারতীয় একজন কূটনীতিক বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষার জন্য যাদের পক্ষে থাকা শ্রেয় মনে করে, তাদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। এখানে বাইরের কারও নির্দেশনার প্রশ্ন আসে না।

ভারতে সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হলে আপনারা কি প্রতিবাদ করেছেন?

রানা দাশগুপ্ত: অবশ্যই করেছি। বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মা যখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিলেন, আমরা এখানে প্রতিবাদ করেছি। কেবল বিবৃতি দিয়ে নয়; মানববন্ধন করেছি।

আপনাকে ধন্যবাদ।

রানা দাশগুপ্ত: আপনাদেরও ধন্যবাদ।