ওয়াজ যেমন হওয়া উচিত

ওয়াজে সাধারণত কোরআনের আয়াত, নবীজি (সা.)–এর হাদিস, ফিকহি মাসায়িল ও উপদেশমূলক কাহিনি মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত। মুফতি আযম মুফতি ফয়জুল্লাহ (রা.) বলেছেন, যে ওয়াজে কোরআনের বয়ান সবচেয়ে বেশি, তারপর হাদিসের বয়ান এবং গল্প-কাহিনি সবচেয়ে কম; সেই ওয়াজ বেশি উপকারী।

ওয়াজে যা থাকা উচিত

ওয়াজে সাধারণত তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত; ইমান ও আমল, হক্কুল্লাহ তথা আল্লাহর হক ও হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক; হারাম ও হালাল; জান্নাত ও জাহান্নাম ইত্যাদি থাকা উচিত।

ওয়াজে যা থাকা অনুচিত

ওয়াজে বিতর্কিত মাসআলা মাসায়িল, অপ্রয়োজনীয় অভিনব বিষয়, মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য, বিভেদ, ভুল–বোঝাবুঝি ও সংশয় সৃষ্টি হতে পারে—এমন কোনো বিষয় থাকা অনুচিত।

ওয়াজকারীদের প্রয়োজনীয় গুণাবলি

পর্যাপ্ত শিক্ষাগত ইলমি যোগ্যতা, অবয়ব সুরত সুন্নত মুতাবিক হওয়া, আখলাক সিরাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে আদর্শবান হওয়া, পোশাক ইসলামি সংস্কৃতির অনুকূলে থাকা, তাকওয়ার অধিকারী মুত্তাকি হওয়া, ইখলাসওয়ালা মুখলিস হওয়া, তাওয়াক্কুল আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা থাকা, ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হওয়া, কপটতামুক্ত সরলমনা হওয়া, বিনয়ী হওয়া, সুমিষ্টভাষী হওয়া, ভদ্র ও মার্জিত রুচিসম্পন্ন হওয়া, দূরদর্শী হওয়া, সব বিষয়ে মতামত না দেওয়া বা কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করা, নিজের বিদ্যা ও পাণ্ডিত্য জাহির না করা, হিকমতের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনমতো কোরআনের আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করা, সহিহ্ কাহিনি বলা, উদ্ধৃতি যেন নির্ভুল হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা, শব্দ, বাক্য ও উচ্চারণ শুদ্ধ হওয়া, তাজবিদসহ বিশুদ্ধ তিলাওয়াত করা, গ্রামারসহ আরবি পাঠ করা, কথায় ও কাজে মিল থাকা, উম্মতের ইসলাহ তথা সংশোধন ও কল্যাণকামিতার মনোভাব থাকা, ইতিবাচক কথা ও আশার বাণী শোনানো এবং নিয়ত সহিহ্ থাকা।

ওয়াজ ও হাদিয়া

হাদিয়া দেওয়া ও নেওয়া সুন্নত। ওয়াজ করে তার বিনিময় গ্রহণ না করাই উত্তম; এতে এর সুফল বা প্রভাব কমে যায়। কোরআনুল কারিমে সুরা ইয়াসিনের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অনুসরণ করো তাদের, যাঁরা তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চান না এবং যারা সৎপথপ্রাপ্ত।’ (সুরা-৩৬ ইয়াসিন, আয়াত: ২১)

সেবার প্রতিদান ও পারিশ্রমিক

ধর্মীয় সেবা প্রদান করে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ হলেও তা উত্তম নয়। তাই সামর্থ্যবানদের জন্য তা পরিহার করাই শ্রেয়। এটাই ইখলাস ও তাকওয়ার উচ্চ স্তর। নবী রাসুলগণ দাওয়াতি কাজের শেষে সাধারণত এভাবেই বলতেন, ‘আমি তোমাদের নিকট এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার পুরস্কার তো জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।’ (সুরা-২৬ শোআরা, আয়াত: ১০৯, ১২৭, ১৪৫, ১৬৪ ও ১৮০)

প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা জরুরি

যুক্তিসংগত কারণ ও শরয়ি ওজর ছাড়া মাহফিলের তারিখ প্রত্যাহার করা মোটেই উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা-১৭ বনি ইসরাইল/ইসরা, আয়াত-৩৪) হাদিস শরিফে আছে, ‘যার আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই, যার প্রতিশ্রুতি রক্ষা নেই, তার কোনো ধর্মই নেই।’ (তিরমিজি) আল্লাহ সব ওয়ায়েজিনকে যথার্থভাবে কবুল করুন।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]