অভিমত–বিশ্লেষণ
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক: উদীয়মান প্রাচ্যের জোয়ারে নতুন যাত্রা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই চীন সফরে যাচ্ছেন—এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রমাণ। পাশাপাশি এটি দুই দেশের গভীর রাজনৈতিক আস্থার ভিত্তিকেও তুলে ধরে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন ইয়াও ওয়েন
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর বার্ষিক সভায় (২০২৬ সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী ‘স্বর্ণালি ৫০ বছর’-এর সূচনালগ্নে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম চীন সফর অতীত অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
এ সফর নিঃসন্দেহে আগামী সময়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিকাশে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে এবং ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’কে গুণগত ও কাঠামোগতভাবে আরও উন্নত করবে। দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় রাজনৈতিক আস্থা, আরও গভীর বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এবং আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।
আরও দৃঢ় রাজনৈতিক আস্থা
চীন মনে করে, দেশ ছোট বা বড়, শক্তিশালী বা দুর্বল, ধনী বা দরিদ্র—সব দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য এবং সবারই আন্তর্জাতিক বিষয়ে অংশ নেওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। চীন প্রতিবেশী কূটনীতিতে সৌহার্দ্য, আন্তরিকতা, পারস্পরিক লাভ ও অন্তর্ভুক্তির নীতি অনুসরণ করে। একই সঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কোনো রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর চীন ও বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময়ের এক নতুন যুগের সূচনা করে। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। তখন চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায় তার সমর্থন স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশে একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে। বেগম খালেদা জিয়া মোট নয়বার চীন সফর করেছেন, যার মধ্যে পাঁচবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফর করেন। দুই দেশের মধ্যে ঘন ঘন উচ্চপর্যায়ের এই সফর ও যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীল অগ্রগতিতে শক্তিশালী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
অর্ধশতাব্দী ধরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে যত পরিবর্তনই ঘটুক না কেন, চীন ও বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সম্মান করেছে, সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একে অপরকে বোঝাপড়া ও সমর্থন দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে দুই দেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই চীন সফরে যাচ্ছেন—এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রমাণ। পাশাপাশি এটি দুই দেশের গভীর রাজনৈতিক আস্থার ভিত্তিকেও তুলে ধরে।
বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে নানা চ্যালেঞ্জ ও বাধার মুখোমুখি। ২০২৬ সাল চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনা। চীন সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের কৌশলগত লক্ষ্যে কাজ করছে।
অন্যদিকে নতুন বাংলাদেশ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এসব ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েও এগোচ্ছে। এসব উদ্যোগ তাদের দৃঢ়সংকল্প ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিরই প্রতিফলন।
এই অভিন্ন পরিস্থিতি ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার কারণেই চীন ও বাংলাদেশের এখন একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এই সফরে দুই দেশের নেতারা শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা নিয়ে গভীর আলোচনা করবেন এবং উন্নয়ন, অর্থনৈতিক রূপান্তর, সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি দলীয় পর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদার করা হবে, উচ্চপর্যায়ের সফর ও কৌশলগত সংলাপ বাড়ানো হবে।
আশা করা যায়, এই অভিজ্ঞতা বিনিময় যত গভীর হবে, ততই দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে।
আরও গভীর বাস্তব সহযোগিতা
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল চালিকা শক্তি বরাবরই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানিযোগ্য শতভাগ পণ্যে শূন্য শুল্কসুবিধা দিয়েছে চীন এবং এই সুবিধার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীন এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৭০০টি চীনা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে, যারা জ্বালানি, পরিবহন, বস্ত্র ও পোশাক, তথ্য ও যোগাযোগসহ নানা খাতে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক রূপান্তর ও আধুনিকায়নের পথে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশীদার হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি যোগ করবে। দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যের কাঠামো উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করবে এবং আরও বেশি মানসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য চীনা বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুততর করা হবে এবং আরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, তথ্য ও যোগাযোগ, সবুজ উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন খাতেও বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ফলে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও উন্নত মান ও গভীরতায় পৌঁছাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়। চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রোথিত। একটি দায়িত্বশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশে নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা অসংখ্য মানুষের উপকারে এসেছে।
বাংলাদেশে চীনের সহায়তায় নির্মিত কয়লা, সৌর, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট উৎপাদনক্ষমতা এক গিগাওয়াটের বেশি, যা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ভূমিকা রাখছে। চীন বাংলাদেশকে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন যন্ত্রপাতি, ভেন্টিলেটর এবং মোবাইল সার্জিক্যাল যান। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বন্যার সময়ও চীন দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে—রাবারের নৌকা, লাইফ জ্যাকেট ও জেনারেটরের মতো জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করেছে। এসব বাস্তব পদক্ষেপ অসংখ্য মানুষের জীবনে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের উষ্ণতা পৌঁছে দিয়েছে। ধারণা করা যায়, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের জনকল্যাণমূলক সহযোগিতা আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দুই দেশের মানুষের হৃদ্যতা আরও গভীর হবে।
একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছে, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক শেখার সুযোগও বিস্তৃত হচ্ছে। নতুন এ সূচনায় দাঁড়িয়ে এই সফর জনসম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো হবে, যাতে বাংলাদেশ আধুনিকায়নের উপযোগী আরও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় জোরদার করা হবে, যাতে দুই দেশের মানুষ আরও বৈচিত্র্যময় যোগাযোগের মাধ্যমে একে অপরকে ভালোভাবে জানতে পারে এবং বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সমন্বয়
বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীন সব সময়ই বৈশ্বিক দক্ষিণের একটি স্বাভাবিক সদস্য এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে একই ভাগ্য ও লক্ষ্য ভাগ করে নেয়। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বহুবার বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং তাদের যৌথ স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সমতা, উন্মুক্ততা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে বৈশ্বিক দক্ষিণের শক্তিকে একত্র করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমানে বিশ্ব এমন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা শতাব্দীতে একবারই দেখা যায়। একতরফা পদক্ষেপ, আধিপত্যবাদ ও জবরদস্তিমূলক আচরণ বাড়ছে, ফলে বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথ কঠিন হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি যত কঠিন হচ্ছে, ততই ন্যায়ের পক্ষে থাকা দেশগুলোর একসঙ্গে দাঁড়ানো জরুরি, যাতে তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে পারে এবং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব লাভ করেছে। চীন সব সময় বাংলাদেশকে বৈশ্বিক দক্ষিণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর যৌথ স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের সময় দুই দেশের নেতারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে গভীর মতবিনিময় করবেন, নিজেদের অবস্থান আরও সমন্বয় করবেন এবং ঐকমত্য গড়ে তুলবেন। চীন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের বিষয়ে আরও সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতের অর্জনের ভিত্তিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন এক নতুন সূচনায় দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও দলীয় যোগাযোগ আরও বাড়বে এবং পারস্পরিক আস্থা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবুজ অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও ব্যবসা উন্নয়নের মতো খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে, যা দুই দেশের মানুষের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে।
জনসম্পর্কের ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, যুবসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় হবে, ফলে দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও গভীরভাবে বিকশিত হবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথচলায় চীন ও বাংলাদেশ সব সময় একে অপরের পাশে থাকবে এবং হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবে। এতে দুই দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন, এশিয়ার সমৃদ্ধি এবং মানবজাতির জন্য অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন ও বড় অবদান রাখা সম্ভব হবে।
সমুদ্রের জোয়ার যখন পূর্ণতায় থাকে আর পাল যখন অনুকূল বাতাসে ভরা থাকে, তখনই যাত্রা সবচেয়ে সফল হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই চীন সফরও তেমনি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য আরও বৃহৎ ও উজ্জ্বল রূপরেখা তৈরি করবে।
চলুন, আমরা এই সফরের পূর্ণ সাফল্য কামনা করি এবং আশা করি, নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত
মতামত লেখকের নিজস্ব