ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ কী

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সংকট নয়; বরং নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখেই বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করতে হবে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শ্রম অভিবাসন নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার

আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৯ জন অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ (৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৮১ জন) গেছেন মধ্যপ্রাচ্যে বা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোতে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ মোট ৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ (১৫ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার) এসেছে জিসিসি দেশগুলো থেকে (বাংলাদেশ ব্যাংক, ২০২৬)। এতে বোঝা যায়, কাজ ও আয়ের জন্য বাংলাদেশ কতটা এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল।

তবে অভিবাসন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাকরি, চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাই অভিবাসনকে শুধু চাহিদা ও জোগানের বিষয় হিসেবে না দেখে, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বোঝা জরুরি।

অভিবাসী শ্রমিকদের ভূরাজনৈতিক প্রকৃতি

পরিস্থিতিকে ভালোভাবে বোঝার জন্য আমাদের দেখতে হবে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দেশগুলো কীভাবে আচরণ করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রখ্যাত রাজনীতিবিজ্ঞানী হ্যান্স মরগেনথাউ তাঁর পলিটিকস অ্যামং নেশনস এবং কেনেথ ওয়াল্টজ তাঁর থিওরি অব ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস গ্রন্থে দেখিয়েছেন, কোনো সংকটের সময় রাষ্ট্রগুলো আগে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথাই ভাবে; তাই তখন অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্ব কমে যায়। স্বাভাবিক সময়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় মনে করা হলেও সমস্যা বাড়লে সহজেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

এই বাস্তবতায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনাও দুর্বল হয়ে পড়ে। দেশগুলোর মধ্যে করা সমঝোতা বা চুক্তিগুলো সংকটের সময় ঠিকমতো কাজ করে না। কারণ, তখন প্রতিটি দেশ নিজের স্বার্থে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। অভিবাসন বিষয়ে গবেষক স্টিফেন ক্যাসলস, হাইন ডে হাস ও মার্ক জে মিলার তাঁদের দ্য এজ অব মাইগ্রেশন বইয়ে দেখিয়েছেন, অনেক সময় স্বাগতিক দেশ হঠাৎ নিয়ম বদলে দেয় বা নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর সেই সিদ্ধান্তের ওপর তেমন প্রভাব থাকে না। ফলে নিজেদের শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ রকম অবস্থায় অভিবাসী শ্রমিকেরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে যান। কারণ, তাঁদের কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বা দর–কষাকষির শক্তি থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে আরব দেশগুলোতে কাফালা ব্যবস্থার কারণে তাঁদের বৈধ অবস্থান নিয়োগকর্তার মনমর্জির ওপর নির্ভর করে, ফলে তাঁরা সহজে চাকরি বদলাতে বা সমস্যার বাইরে আসতে পারেন না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের ‘ইইউ: হিউম্যান রাইটস শুড বি প্রায়োরিটি অ্যাট জিসিসি সামিট’ প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, এ রকম পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের শোষণের ঝুঁকি বাড়ে এবং সুরক্ষা দুর্বল থাকে।

যেকোনো সংকটের সময় এ সমস্যা আরও বাড়ে। তখন উদ্ধার, আইনি সহায়তা বা অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা খুব সীমিত থাকে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের ওয়ার্ল্ড মাইগ্রেশন রিপোর্ট ২০২২-এ বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে।

এ কারণে যেকোনো সংকট শুরু হলেই তার প্রভাব সরাসরি অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর পড়ে। তাঁরা সবার আগে চাকরি হারান, অনেককে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দেশে ফিরতে হয়, আবার অনেকের চলাচলেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এই একই চিত্র আমরা ২০১৯ সালের করোনা সংকট এবং ২০১১ সাল থেকে চলমান লিবিয়ার যুদ্ধের সময়ও দেখেছি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ‘প্রটেক্টিং মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ডিউরিং দ্য কোভিড-১৯ প্যানডেমিক’ প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, সংকটের সময় অভিবাসী শ্রমিকেরাই সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

একই সঙ্গে সংকটের সময় জেনোফোবিয়া (বিদেশি শ্রমিকদের প্রতি বিরূপ মনোভাব) বৃদ্ধি পায়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) ২০২০ সালের ২১ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে (মালয়েশিয়া: স্টপ ক্র্যাকডাউন অন মাইগ্র্যান্টস, জার্নালিস্টস অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি) জানিয়েছে, করোনাকালে অভিবাসী শ্রমিকদের ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী করা হয়, তাঁদের আটক করা হয় এবং অনেককে ফেরত পাঠানো হয়।

একই ধরনের ঘটনা বর্তমান ইরান যুদ্ধের সময়েও দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিবাসী শ্রমিককে যুদ্ধের ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার অভিযোগে আটক বা দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, সংকটের সময় অভিবাসী শ্রমিকদের সহজেই সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অভিবাসী শ্রমিকেরা শুধু শ্রমশক্তি নয়, তাঁরা ভূরাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ একটি জনগোষ্ঠী।

ভবিষ্যৎ অভিবাসনপ্রবণতা ও কাঠামোগত ঝুঁকি

ইরান ঘিরে চলমান উত্তেজনা শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শ্রমবাজারকেও প্রভাবিত করবে। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে তেল ও গ্যাস খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এর ফলে সরকারের আয় কমবে, বড় বড় বিনিয়োগ পিছিয়ে যাবে এবং পুরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়বে।

সৌদি আরবে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে তাদের ভিশন ২০৩০ প্রকল্পগুলোতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো ‘নিওম’, প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ভবিষ্যৎ নগরী। এখানে ‘দ্য লাইন’ নামে স্মার্ট সিটি, আধুনিক প্রযুক্তি এলাকা এবং পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিওমের পাশাপাশি ‘রেড সি’ পর্যটন প্রকল্প ও ‘কিদ্দিয়া’ বিনোদন শহরের মতো বড় উদ্যোগগুলো থেকেও লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিকের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের আশা করা হয়েছিল।

এ অঞ্চলে অস্থিরতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে এসব প্রকল্প চালু হতে দেরি হতে পারে, খরচ বাড়তে পারে বা আকার ছোট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে।

এ প্রভাব শুধু সৌদি আরবেই নয়, দুবাই–আবুধাবিসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনেও পড়বে। বড় রিয়েল এস্টেট (আবাসন) ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলো ধীর হয়ে যেতে পারে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেলে সম্পত্তি বিক্রি হ্রাস পেতে পারে এবং নির্মাণ ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এই দেশগুলোর স্থিতিশীলতার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা আরও কমে যেতে পারে।

একই সঙ্গে কাঠামোগত পরিবর্তনও চলমান। যত দিন যাবে, উপসাগরীয় দেশগুলো আরও বেশি অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে। এর ফলে কম দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা কমবে; মধ্যপ্রাচ্য সরকারগুলো স্থানীয় নাগরিকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দিতে জাতীয়করণ নীতি আরও জোরদার করবে। এতে ধীরে ধীরে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের কম দক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা কমে যাবে।

বাংলাদেশের জন্য এসবের প্রভাব হবে গুরুতর। উপসাগরীয় দেশে কাজের সুযোগ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, নতুন কর্মসংস্থান কমবে এবং ভিসা পাওয়া কঠিন হবে। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার কারণে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে। অনেক শ্রমিক সঞ্চয় ছাড়াই দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন, যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে। অভিবাসনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়বে।

ঝুঁকি থেকে সুযোগ: ভূরাজনৈতিক কৌশল

এই নতুন ঝুঁকিগুলো বাংলাদেশের জন্য অভিবাসনকৌশল নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগও তৈরি করছে। কারণ, যখন ঝুঁকি বেড়ে যায়, তখন একই সঙ্গে নতুন সুযোগও তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এখন জরুরি।

এ সুযোগের একটি ভালো উদাহরণ হলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে উঠছে। অনেক দেশেই জনসংখ্যা কম বা জন্মহার কম হওয়ায় শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইকোনমিকস (২০১৯) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে এবং নতুন শ্রমবাজার তৈরি করছে। একই ধরনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে রাশিয়া, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও। এসব অঞ্চলে গ্যাস, তেল ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে; ফলে শ্রমিকের চাহিদাও বাড়ছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

এ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে নীতিগতভাবে বাংলাদেশকে অভিবাসন কূটনীতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু প্রচলিত চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতের চুক্তিগুলোতে সংকটকালে সুরক্ষার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেমন উদ্ধার সহায়তা, ক্ষতিপূরণ, আইনি সুরক্ষা এবং জরুরি সময়ে আকামা নবায়ন ফি ও অন্যান্য খরচ মওকুফের ব্যবস্থা।

এ ছাড়া কোন দেশে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই বোঝার জন্য একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) গড়ে তোলা দরকার, যাতে সময়মতো অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা যায়।

এসবের জন্য শুধু নীতিগত পরিবর্তনই নয়, অভিবাসনের ধরনেও পরিবর্তন আনতে হবে এবং দক্ষতা ও ভাষাভিত্তিক কৌশলের দিকে যেতে হবে। বাংলাদেশকে রুশ, জার্মান, চীনা, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করতে হবে এবং ধীরে ধীরে কম দক্ষ শ্রমিক থেকে দক্ষ শ্রমবাজারের দিকে এগোতে হবে। কারণ, ভাষা এখন নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে। যেমন রুশ ভাষা মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশে প্রচলিত। ফলে এই একটি ভাষা জানলেই একাধিক দেশে কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে।

এসব লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে নতুন ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশি প্রশিক্ষক আনা এবং ভাষা ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনলাইনের মাধ্যমে এ কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো ডিজিটাল করলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে ভাষা ও কাজের দক্ষতা শিখতে পারবেন। এ জন্য বিদেশি সরকার বা কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে তারা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরি করে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবে। ফলে দক্ষতা বাড়বে, দালালের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং অভিবাসন আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ হবে।

এর পাশাপাশি একটি নতুন কৌশলগত দিক হতে পারে ভার্চ্যুয়াল অভিবাসন, যা প্রচলিত আউটসোর্সিং থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা; যেখানে আউটসোর্সিং সাধারণত মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ভার্চ্যুয়াল অভিবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা দেশেই অবস্থান করে সরাসরি বিদেশি নিয়োগকর্তাদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারবেন। এর মধ্যে আইটি সেবা, ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন পেশাগত দূরবর্তী কাজ অন্তর্ভুক্ত।

যেহেতু এ প্রক্রিয়ায় ভিসা, সীমান্ত বা ভৌগোলিক স্থানান্তরের ওপর নির্ভর করতে হয় না, তাই এটি ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হবে। বৈশ্বিক পর্যায়ে ডিজিটাল সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ভার্চ্যুয়াল অভিবাসন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি ও ব্যয়—উভয়ই কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সংকট নয়; বরং নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখেই বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করতে হবে।

  • মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

    মতামত লেখকের নিজস্ব