কিছু কিছু দেশ আবার একটু এগিয়ে। তারা পর্যটকদের অন অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসাও প্রদান করে থাকে। আর এর ফলে পর্যটকদের মনে আস্থা বৃদ্ধি পায়। ভারত ইতিমধ্যে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা চালু করে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে করোনার বিস্তৃতি সহনীয় পর্যায়েই আছে বলা যায়। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করোনার মোকাবিলা করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিতও হয়েছি। ফলে পর্যটন–সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধারণা ছিল যে বাংলাদেশেও অচিরেই পর্যটকদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়া চালু হবে।

কিন্তু বিধি বাম। পর্যটন অংশীজনদের দীর্ঘদিনের অনুরোধ সত্ত্বেও পর্যটন–সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিমানবন্দরে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালু হয়েছে, কিন্তু তা শুধু ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা আর এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্‌-অনুমতি সাপেক্ষে প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু শুধু বেড়ানোর উদ্দেশ্যে আসা, যাকে পর্যটনের ভাষায় আমরা ‘হলিডে মেকার্স’ কিংবা ‘লেইজার ট্রাভেলার’ বলি, তারা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। ফলে দেশে ইন-বাউন্ড ট্যুর অপারেটরদের হতাশা বাড়ছেই। এমনিতেই দেশে প্রতিবছর অল্পসংখ্যক বিদেশি লেইজার পর্যটক বেড়াতে আসেন। এখন সেটাও বন্ধ। সামান্য হলেও এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এখন সেটা থেকেও দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।

এরই মাঝে পর্যটনের নতুন বার্তা নিয়ে হাজির পদ্মা সেতু। জুলাই মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম মেলায় গিয়েও সেখানকার পর্যটকদের পদ্মা সেতু ভ্রমণের কী উচ্ছ্বাসই না দেখলাম। পদ্মা সেতু যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে, তা বলাই যায়।

বর্তমান বাস্তবতায় বিদেশি পর্যটকদের জন্য আবারও অন অ্যারাইভাল ভিসাব্যবস্থা চালু করাটা জরুরি মনে করি। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতে সারা বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সামনের সারিতে চলে আসবে। বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে আর এ ক্ষেত্রে সরকারগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেশের ইন-বাউন্ড ট্যুর অপারেটরদের জন্য খুবই হতাশাজনক।

বিদেশি পর্যটকেরা সাধারণত এক–দেড় বছর আগে থেকেই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করে থাকে। তাই তাদের প্রয়োজন সঠিক তথ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি আগে থেকেই জানা, যা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়তা করে।

ফলে এখনই পর্যটকদের অন অ্যারাইভাল ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ এর সুফল পাবে আরও এক থেকে দেড় বছর পরে। ফলে তথ্য জানানোতে যত দেরি হচ্ছে, এর সুফলও আমরা তত দেরিতেই পাব। বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা অন্তত এ বছর যে খুলছে না, তা পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে পরিষ্কার।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বিদেশি সাহায্য ছাড়াই পদ্মা সেতুর মতো একটা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এখন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট চলছে, বিদেশি পর্যটকেরা বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়াতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান বাস্তবতায় বিদেশি পর্যটকদের জন্য আবারও অন অ্যারাইভাল ভিসাব্যবস্থা চালু করাটা জরুরি মনে করি। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতে সারা বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সামনের সারিতে চলে আসবে। বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তৌফিক রহমান সাবেক প্রথম সহসভাপতি, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) [email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন