বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন। তাঁকে সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটক রাখা হয়। পরে ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনে মামলা দায়ের করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ তুমুল আন্দোলন করে। এগিয়ে আসে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠনও। পাঁচ দিন পর আদালত রোজিনাকে জামিন দিলেও তাঁর পাসপোর্ট, মুঠোফোন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে প্রবেশের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও ফেরত দেওয়া হয়নি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন বলেছিলেন, তাঁকে যদি সরকারবিহীন সংবাদপত্র ও সংবাদপত্রহীন সরকারের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়, তিনি সরকারবিহীন সংবাদপত্রকে বেছে নেবেন। এর মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্র তথা সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশের পূর্বাপর শাসকেরা এ সত্য অনুধাবন করেননি বলে সংবাদমাধ্যমকে সব সময় প্রতিপক্ষ ভাবেন। কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে পৃথিবীব্যাপী সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে গণতন্ত্র দুর্বল, আইনের শাসন ঠিকভাবে কার্যকর নয় এবং ন্যায়বিচার পাওয়া প্রায় দুরূহ, সেখানে সাংবাদিকদের আরও বেশি প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়।

রোজিনা ইসলামের এ অর্জন ও সম্মান প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের সাহসী সাংবাদিকতারই বিজয়। তঁার পুরস্কারপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে আমাদের সাহস জোগাবে, শক্তি বাড়াবে। একই সঙ্গে এ পুরস্কার এ বার্তাও দেয় যে আমাদের দেশের সরকারকে আরও সাংবাদিকবান্ধব হতে হবে। যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে নথি চুরির মিথ্যে অপবাদ দিয়ে তঁাকে হেনস্তা ও হয়রানি করেছে, সম্প্রতি সেই মন্ত্রণালয়েরই ১৭টি নথি গায়েব হওয়ার খবর ফাঁস হয়েছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের বাধা না দিয়ে, তাঁদের হেনস্তা না করে, দুর্নীতিবাজদের ধরুন। দ্রুত রোজিনা ইসলামের পাসপোর্ট, মুঠোফোন ও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করুন।

সাহসী সাংবাদিকতায় রোজিনা ইসলামের পুরস্কার ও স্বীকৃতি আমাদের যেমন ভয় হতে অভয় পথে চলার সাহস জোগাবে, তেমনি সৎ সাংবাদিকতার প্রতিও আমাদের দায়বদ্ধতা বাড়াবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন