বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, আমনের মৌসুমে এসব জায়গায় হাতির উৎপাত বেড়ে যায়। মূলত খাবারের সন্ধানে ধানখেতে হানা দেয় তারা। ফলে ফসল রক্ষার জন্য দেওয়া জিআই তার দিয়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ দিয়ে থাকেন কৃষকেরা। সেসব বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে সাতকানিয়া ও শ্রীবরদীতে হাতি দুটি মারা গেছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার এলাকায় হাতির বড় একটি আবাস থাকলেও সেটি ছোট হয়ে আসছে। গতকাল সকালে বাঁশখালীতে একটি হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চকরিয়ায় গুলিতে প্রাণ হারাল একটি। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে সারা দেশে চারটি হাতি মারা গেল।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন ও বন বিভাগের মতে, গত ১৭ বছরে ৯০টি হাতি মানুষের হাতে হত্যার শিকার হয়। যার মধ্যে ২০২০ সালেই ১১টি হাতি। সব ঘটনাই চট্টগ্রাম–কক্সবাজার এলাকায়। সেগুলোর সাতটি মারা যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বাকিগুলো গুলিতে। গত শতাব্দীর শেষের দিকেও দেশে হাতি ছিল ৫০০টি। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, হাতির সংখ্যা ২৬৩টি। দেশের মোট হাতির ৫৫ শতাংশই থাকে কক্সবাজার এলাকায়। এভাবে হাতি মারতে থাকলে কয়েক দশকের মধ্যে হাতির অস্তিত্বই থাকবে না এ দেশে। বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ছয় বছরে হাতির আক্রমণে ১৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময়ে হাতি হত্যা করার ঘটনায় মোট মামলা হয়েছে ১৪টি। তবে একটি মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি, কেউ সাজা পেয়েছেন, এমন নজিরও নেই।

সাতকানিয়া প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জনসচেতনতার লক্ষ্যে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে থাকে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। ফসল রক্ষায় হাতি তাড়াতে বিদ্যুতের ফাঁদ তৈরি ও গুলি চালানো নিরুৎসাহিত করা হলেও কেউ মানছে না। পটকা ফোটানো, বাঁশি বা ঢাকঢোল বাজানোই হাতি তাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। এ জন্য গণসচেতনতা আরও বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি ধানের মৌসুমে বন বিভাগের নিয়মিত টহল চালু করা হোক। বন্য প্রাণী সুরক্ষায় কঠোর আইন থাকলেও সেটির প্রয়োগে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। এ ব্যাপারে বন বিভাগের কড়া পদক্ষেপ জরুরি। লোকালয়ে হাতির আক্রমণ রুখতে তাদের খাদ্য উপযোগী বনায়ন কর্মসূচি বৃদ্ধি করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন