এক ফেরদৌসী আক্তারের দৃষ্টান্ত

ভালো কাজ তখনই দৃষ্টান্ত হয়, যখন সেসব কাজ অনেককে পথ দেখায় ও অনুপ্রাণিত করে। চট্টগ্রামের এক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পথকুকুরদের প্রতি অবহেলা ও বিতৃষ্ণার বদলে তাদের যত্ন নিতে পথে নেমেছেন। যখন পথকুকুরদের নিধনের আওয়াজ তুলছে বিভিন্ন নগর কর্তৃপক্ষ, যখন ভুলে যাওয়া হচ্ছে যে নিম্নতর জীবের প্রতি দয়া দেখানোই সভ্যতা, তখন একজন তরুণ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার এই নিঃস্বার্থ অবদান মানুষকে প্রাণীদের প্রতি দয়ালু হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিল।

চট্টগ্রামে পথের কুকুর খুঁজে বের করে কলার বা বেল্ট পরানো ও টিকাদান কর্মসূচি পালনের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডবলমুরিং থানা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার। তাঁর পাশে রয়েছে চট্টগ্রামের তরুণ প্রাণিপ্রেমীদের সংগঠন ‘প্রাহার’।

‘কুকুরের প্রতি সহিংসতা নয়, বরং সহমর্মিতা’ স্লোগান নিয়ে কাজ করা ফেরদৌসী আক্তার ব্যতিক্রম মনে হলেও এটাই তো নিয়ম হওয়ার কথা। মানুষের ভয় দূর করার জন্য পথকুকুরদের গলায় পরানো হচ্ছে বেল্ট বা কলার, যাতে করে সবাই ভাবে যে কুকুরটি নিরাপদ। বেল্ট পরানো এখানে পথকুকুরকে কৃমি মুক্তকরণ, টিকা দেওয়ারও চিহ্ন। টিকা দেওয়া এসব কুকুর মানুষের জন্যও নিরাপদ।

করোনায় লকডাউন চলার সময় মানুষের মতো বেওয়ারিশ পশুপাখিরাও খাদ্যের কষ্টে ভুগেছিল। কেউ কেউ তখন পথেঘাটে ঘুরে কুকুর-বিড়ালের খাবার জুগিয়েছেন। এখন ফেরদৌসী আক্তার একদল প্রাণিপ্রেমীর সহায়তায় পথকুকুরদের খাবার দিচ্ছেন। বিষয়টা মূলত দৃষ্টিভঙ্গির। সহৃদয়বান মানুষের চোখে কুকুর-বিড়াল উপদ্রব নয়, প্রকৃতির দান এবং মানুষেরই প্রতিবেশী। মানুষের নিকটতর প্রাণীদের মধ্যে কুকুর শুধু বুদ্ধিমানই নয়, আবেগীও। পাড়া-মহল্লার সামাজিক প্রহরীও বলা চলে তাদের। গ্রামীণ সমাজে খুব কম ক্ষেত্রেই গ্রামের ‍কুকুরদের উপদ্রব ভাবা হয়। বরং মানুষের উচ্ছিষ্ট ও উদ্বৃত্ত খাবার দেওয়াই সেখানে রেওয়াজ। এটা ব্যতিক্রম নয়, এটাই আমাদের সংস্কৃতি।

ফেরদৌসী আক্তারদের মতো মানবিক মানুষদের চোখ দিয়ে যদি দেশের নগর ও পৌর প্রশাসন পথের কুকুর-বিড়ালদের দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন, তাদের প্রতিও কর্তব্য রয়েছে আমাদের। সরকারিভাবে পথকুকুরদের জলাতঙ্করোধী টিকা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে, রয়েছে বরাদ্দও। আইনও পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা সমর্থন করে না। আমরা আশা করব, সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগ, পশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিপ্রেমী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে পথকুকুরদের কলার পরানো এবং টিকা দেওয়ার কাজটি নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করবেন।