প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে চার মাস আগে। সেখানকার ১০টি ইউপিতে প্রতিটিতে ৯টি করে মোট ৯০টি কেন্দ্র ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের আগে ও পরে ১ হাজার ৫৩০ জন আনসার ও ভিডিপির সদস্য চার দিন দায়িত্ব পালন করেন। এ বাবদ একেকজন দায়িত্বভেদে প্রতিদিন পাঁচ শ টাকা থেকে দুই হাজারের বেশি টাকা করে পাওয়ার কথা। কিন্তু কয়েকবার ধরনা দিয়েও সেই টাকাটা পাননি তাঁরা। গত সপ্তাহে সদর উপজেলা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন চলতি সপ্তাহে ভাতার টাকা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু চলতি সপ্তাহের গতকাল বুধবার পর্যন্ত সেটি হয়নি।

আরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সেই দায়িত্ব পেতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা ঘুষও দিয়েছেন। যাঁরা ঘুষ দিতে পারেননি, তঁাদের বয়স্ক ও দুর্বল বলে উল্লেখ করে বাদ দেওয়া হয়। দেড় হাজারের বেশি সদস্য থেকে ঘুষ বাবদ আদায় করা হয় সাড়ে চার লাখের বেশি টাকা। ফলে এখনো ভাতা না পাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে। প্রান্তিক এসব নিরাপত্তাকর্মীর অধিকাংশই দিনমজুর ও হতদরিদ্র। আর কয়েক দিন পর ঈদ। তার আগে আজ বৃহস্পতিবার সর্বশেষ কর্মদিবস।

তার মানে ঈদের আগে এ ভাতা পাওয়া হলো না এসব নিরাপত্তাকর্মীর। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এখন আগামী সপ্তাহে সেই টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও সে ব্যাপারে সন্দিহান হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কথা হচ্ছে, নির্বাচনের এত দিন পরেও হতদরিদ্রদের সামান্য এ ভাতা কেন আটকে রাখা হলো? সেই টাকা বরাদ্দ হতে এত গড়িমসি কেন? ভাতা পেতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে এসব মানুষকে? নির্বাচন কমিশন ও আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এর জবাব আশা করছি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন