বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত শনিবার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ের বিপরীত দিকে খালের পাড়ে একটি ডলফিন ভেসে আসে। এর আগে গত ২৫ মে মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে জেলেদের জালে জড়িয়ে একটি ডলফিনের মৃত্যু হয়। সুন্দরবনের পাশে শরণখোলার ভোলা নদীর চর থেকে গত ৩ মার্চ আরও একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তিন দিনের ব্যবধানে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বিশাল আকৃতির তিনটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। এদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন ছিল।

ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশ (ডব্লিউসিএস) বলছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৪৯টি ডলফিন মারা যায়। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই মৃত্যু হয়েছে মাছ ধরার জালে, বিশেষ করে কারেন্ট জাল ও ফাঁসজালে আটকা পড়ার কারণে।

স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন নিশ্বাস নেয় পানির ওপর। এ কারণে নদী বা সাগরে সবখানেই ডলফিনকে একটু পরপর ভেসে উঠতে দেখা যায়। নদীতে বিচরণ করতে করতে অনেক সময় পেতে রাখা কারেন্ট জাল, ফাঁস বা চান্দিজালে ঠোঁট, পাখনা জড়িয়ে আটকা পড়ে ডলফিন। জালে আটকা পড়লে নিশ্বাস নেওয়ার জন্য পানির ওপর মাথা তুলতে না পেরে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।

বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী, ডলফিন হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আইনটি সম্পর্কে যাঁদের জানানো সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই জেলেরাই তা জানেন না। এসব ডলফিন হত্যা করা হলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা–ও তাঁরা জানেন না। এ কারণে কারেন্ট জালের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে জেলেদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালানো যেতে পারে।

ইরাবতী ডলফিনের প্রজাতি বিশ্ব থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৭ হাজারটি। যার প্রায় ৫ হাজার ৮০০টিই বাংলাদেশে। বিশ্বজুড়ে বিপন্ন হয়ে পড়া ইরাবতী ডলফিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সেই আশ্রয়স্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন