বিজ্ঞাপন

কিন্তু শনাক্তকরণ পরীক্ষার দৈনিক সংখ্যা যেভাবে কমে গেছে, তাতে দেশব্যাপী নতুন করে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে না। সে জন্য পরীক্ষার সংখ্যা আরও অনেক বাড়াতে হবে। এই মুহূর্তে সারা দেশে সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১১৭টি কেন্দ্রে শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে। এতগুলো পরীক্ষাগারে কেন ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৬–১৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, কেন আরও বেশি করা হচ্ছে না, তা একটি যৌক্তিক প্রশ্ন। দৈনিক নমুনা সংগ্রহের সংখ্যাও এখন অনেক কম। এটা স্বাভাবিক যে কম নমুনা সংগ্রহ করা হলে পরীক্ষার সংখ্যাও কম হবে। তাই নমুনা সংগ্রহের ওপর এখন বেশি জোর দিতে হবে।

সমস্যা হলো জনসাধারণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কোভিড–১৯ মহামারির সঙ্গে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। জ্বর, গলাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও অধিকাংশ রোগী করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফেও পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে, কিন্তু আমরা কখনোই বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করিনি। ফলে আমাদের সারা দেশের কোভিড–১৯ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কিন্তু অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাস আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যের জন্য এখনো আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি ইতিমধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। শীতকালে এর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুর হার বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সে জন্য পরীক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে প্রয়োজন কোভিড চিকিৎসার মান উন্নত করার দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া। বিশেষত ঢাকার বাইরে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা, বিশেষত আইসিইউ সেবা ও অক্সিজেনের প্রাপ্যতায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। এদিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন