default-image

শরতের শেষ থেকে শোনা যাচ্ছে, শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণও বাড়তে পারে। এ রকম আশঙ্কার প্রধান কারণ ইউরোপ–আমেরিকায় দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ; কোনো কোনো দেশে এলাকাভিত্তিক লকডাউন ইত্যাদি খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অন্তত তিন সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানেও নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশেও আসন্ন শীতকালে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই।

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিসংখ্যান থেকে সুস্পষ্টভাবে সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ ৮ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর গড় হার ছিল ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এটা এর আগের ৯ সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্তের সর্বোচ্চ হার। আর গতকাল দুপুরে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৪৬৯ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ১১১ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে শনাক্ত রোগীর শতকরা হার দাঁড়াচ্ছে ১২ দশমিক শূন্য ৮২। এর দুদিন আগে শনাক্তের হার ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে এটা ইতিমধ্যে পরিষ্কার যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। অবশ্য এই বৃদ্ধির চিত্র থেকে অবশ্য এখনই বলা যাচ্ছে না যে বাংলাদেশে কোভিড–১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে আরও কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু শনাক্তকরণ পরীক্ষার দৈনিক সংখ্যা যেভাবে কমে গেছে, তাতে দেশব্যাপী নতুন করে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে না। সে জন্য পরীক্ষার সংখ্যা আরও অনেক বাড়াতে হবে। এই মুহূর্তে সারা দেশে সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১১৭টি কেন্দ্রে শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে। এতগুলো পরীক্ষাগারে কেন ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৬–১৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, কেন আরও বেশি করা হচ্ছে না, তা একটি যৌক্তিক প্রশ্ন। দৈনিক নমুনা সংগ্রহের সংখ্যাও এখন অনেক কম। এটা স্বাভাবিক যে কম নমুনা সংগ্রহ করা হলে পরীক্ষার সংখ্যাও কম হবে। তাই নমুনা সংগ্রহের ওপর এখন বেশি জোর দিতে হবে।

সমস্যা হলো জনসাধারণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কোভিড–১৯ মহামারির সঙ্গে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। জ্বর, গলাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও অধিকাংশ রোগী করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফেও পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে, কিন্তু আমরা কখনোই বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করিনি। ফলে আমাদের সারা দেশের কোভিড–১৯ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কিন্তু অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাস আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যের জন্য এখনো আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি ইতিমধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। শীতকালে এর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুর হার বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সে জন্য পরীক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে প্রয়োজন কোভিড চিকিৎসার মান উন্নত করার দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া। বিশেষত ঢাকার বাইরে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা, বিশেষত আইসিইউ সেবা ও অক্সিজেনের প্রাপ্যতায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। এদিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0