default-image

কপোতাক্ষ নদের জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাস থেকে খুলনার কয়রার ফসল ও মানুষকে রক্ষা করতে গত শতকের ষাটের দশকে গড়ে তোলা হয় প্রায় ১২০ কিলোমিটার লম্বা একটি বাঁধ। তারপর ৬০ বছর পার হয়ে গেছে। সমন্বিতভাবে বাঁধটি কখনোই আর মেরামত করা হয়নি। এর বদলে যা হয়েছে, সোজা বাংলায় সেটাকে বলে জোড়াতালি। কোথাও হয়তো ফাটল ধরেছে, সারাই করে দাও। কোথায় রাস্তাটা ভেঙে গেছে, মাটি ভরাট করে দাও। জোড়াতালির মেরামতের ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। বাঁধের প্রস্থ যেখানে থাকার কথা ১৪ ফুট, ভেঙে কোথাও কোথাও সেটা ৩-৪ ফুটে এসে ঠেকেছে। আর তার অবস্থাও এত নাজুক যে ওপর দিয়ে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাও দায়।

এ নাজুক দশার কারণেই ২০০৯ সালে আইলায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকায় লোনাপানি ঢুকেছে। তখনো পানি উন্নয়ন বোর্ডের টনক নড়েনি, দায়সারাভাবে কাজ সারে তারা। ২০২০ সালের এপ্রিলে দশালিয়ায় বেড়িবাঁধ উপচে কপোতাক্ষের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সেবার স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করেন। কিন্তু এই মেরামতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। আম্পানে বাঁধ ভেঙে গেছে, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। তারপর পার হয়েছে আরও ১১ মাস। কিন্তু এখনো কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। আরও জীর্ণ হয়েছে বাঁধ। দশালিয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তার দশা সবচেয়ে খারাপ। খাঁড়ার ঘা হয়ে এই রাস্তার আরও বারোটা বাজিয়েছেন চিংড়িঘেরচাষিরা। নদ থেকে ঘেরে পানি আনতে বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়েছেন। সেই কাটা দিয়ে কয়েক দিন ধরে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। দেখার কেউ নেই। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েকবার দায়ী ব্যক্তিদের নামের তালিকা করেছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই, কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যেই চলে এসেছে ঝড়বাদলের মৌসুম। বাঁধ ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা। তিন কিলোমিটার এলাকার বাঁধ ভাঙলে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হবে। জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজন জরুরি ভিত্তিতে কাজ করে পানি ঢোকা আপাতত বন্ধ করেছে। কিন্তু এভাবে জোড়াতালি দিয়ে আর কত দিন? পুরো বাঁধটি সংস্কারে একটা সমন্বিত প্রকল্প কেন নেওয়া হচ্ছে না? বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত না হওয়া পর্যন্ত কি কর্তৃপক্ষের হুঁশ হবে না?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন