বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানায়, স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ১৯৯৫ সালে ২৫ শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে চালু করা হয় বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও প্রসবসেবা কার্যক্রম। সে সময় ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে একজন রোগী এক সপ্তাহের ওষুধসহ চিকিৎসা নিতে পারতেন। ৭৫ টাকা দিয়ে নিবন্ধন করে ১০ মাসব্যাপী সেবা পেতেন প্রসূতিরা। নিঃসন্দেহে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দারুণ একটি উদ্যোগ ছিল এটি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাসপাতালটিকে মাসিক এক লাখ টাকা চুক্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয় রাজশাহী সিটি করপোরেশন। তখন সেটির সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। এরপর ১০০ টাকা টিকিট নিয়ে বহির্বিভাগে রোগী দেখা হতো। প্রায় এক বছর চালানোর পর গত বছরের মার্চে তঁারা হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। হাসপাতালের ৬০ থেকে ৬৫ জন কর্মচারী ছিলেন। আসবাব ও সরঞ্জাম নিয়ে ঝকঝকে–তকতকে হাসপাতালটি এখন পড়ে আছে। সেটি থেকে নগরবাসী কোনো সেবা পাচ্ছে না।

হাসপাতাল ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান জানাল, করোনা শুরু হলে গত বছরের মার্চে তিন মাসের জন্য হাসপাতালটি বন্ধ রাখতে বলে সিটি করপোরেশনএরপর করোনায় চিকিৎসকও পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রসূতিদের সুবিধার্থে অনুরোধ করা হলে হাসপাতালের সামনের ভাঙাচোরা রাস্তাটিও মেরামত করেনি তারা। ফলে হাসপাতাল আবার চালু করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটির জায়গায় দুটি আলাদা ভবন করা হবে। এ জন্য তাঁরা ৪৫ থেকে ৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তুত করেছেন। প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে অনেক সময়ের ব্যাপার। হাসপাতালটি চালু থাকলে প্রতিদিন প্রসূতিসহ অনেক রোগী নিয়মিত সেবা পেতেন। মূলত বড় বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা মনোযোগী বেশি। তাই এক বছর ধরে হাসপাতাল বন্ধ থাকা নিয়ে তাঁদের কোনো মাথাব্যথা নেই। রাস্তা সংস্কারসহ হাসপাতালটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করুন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন