নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কালীগঞ্জে শত বছরের পুরোনো একটি খাল দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করে নালা তৈরির প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা যে বিক্ষোভ করছেন, তা যুক্তিসংগত। কারণ, খালটি ভরাট করা হলে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, ফলে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগের শিকার হতে হবে। তা ছাড়া, খাল–নদী–জলাশয় ভরাট করার বিষয়ে আইনি বিধিনিষেধ আছে, কেননা এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কালীগঞ্জ খালটিতে এক মাস আগে যন্ত্রের সাহায্যে বালু ফেলে দখল করে নেয় স্থানীয় একটি তেল কারখানার কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে তারা কারখানার তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য এক সপ্তাহ ধরে খালের ওপর প্লাস্টিকের পাইপ বসিয়ে ও ইটের গাঁথুনি দিয়ে নালা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতিকর কাজে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন, কিন্তু তাঁরা প্রতিকার পাননি। উল্টো দখলকারীরা নিরীহ গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা ও মারধর করার হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য হচ্ছে, খালটি দিয়ে আশপাশের ছয়টি গ্রামের মানুষের বাড়িঘরের বৃষ্টির পানি পার্শ্ববর্তী ব্রহ্মপুত্র নদে নিষ্কাশন হয়। খালটি দখল হয়ে গেলে এই ছয় গ্রামের মানুষ আগামী বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়বে।

শুধু কালীগঞ্জ খাল নয়, সারা দেশের এ রকম অনেক খাল, নদী দখলদারদের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। খাল ও নদীর তীরে স্থাপিত শিল্পকারখানার বর্জ্যে বিষাক্ত হচ্ছে পানি। অন্যদিকে তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় সংকুচিত হচ্ছে সেগুলো। ২০০০ সালে প্রণীত ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন’ অনুযায়ী নদী, খাল, বিল, দিঘি, ঝরনা বা জলাশয়, বন্যাপ্রবাহ এলাকা এবং বৃষ্টির পানি ধারণ করে, এমন কোনো ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। অর্থাৎ সেগুলো ভরাট করা যাবে না। আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় না।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় খাল-নদী রক্ষা করার কেউ নেই। যে যার ক্ষমতা অনুযায়ী খাল ও নদী ব্যবহার করছে। যাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে, তারা নদী ও খালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ কিংবা সমাজের দশজনের ক্ষতির পরোয়া করছে না। তবে আশার কথা হচ্ছে, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচির ফলে অনেক খাল ও নদী দখলমুক্ত হয়েছে।

কালীগঞ্জ খাল উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলন সাফল্যের মুখ দেখবে, আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করি। সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে এই খাল দখলমুক্ত করা।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন