বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিবির তেজগাঁও অঞ্চলের একজন সদস্য ছদ্মবেশে পরীক্ষার্থী সেজে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা রাইসুল ইসলাম ওরফে স্বপনকে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করলে পরীক্ষার্থীকে বুথে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরীক্ষার উত্তরপত্রসহ রাইসুলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। রাইসুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূল হোতা মো. মুক্তারুজ্জামান রয়েলসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর বাড্ডা, বসুন্ধরা, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, রূপনগর, মিরপুর, মাতুয়াইল, শেওড়াপাড়া, শেরেবাংলা নগর ও পল্লবী এলাকায় বুথ (যেখানে পরীক্ষার পাঁচ–ছয় ঘণ্টা আগে নিজস্ব লোকের মাধ্যমে) বসিয়ে পরীক্ষার্থীদের ফাঁস করা প্রশ্ন ও উত্তরপত্র মুখস্থ করানো হয়।

ডিবির অনুসন্ধানী দল যেভাবে হাতেনাতে জালিয়াত চক্রকে ধরেছে, সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতে হয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ১০ থেকে ২০টি পরীক্ষা হয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায়ও যে অনুরূপ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি, তার নিশ্চয়তা কী? অতএব, সব নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে সুলুকসন্ধান করা প্রয়োজন। তরুণদের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে যাঁরা জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে এবং মেধাবীদের বঞ্চিত করছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত শনিবার অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেছে। এতে তাঁদের চেষ্টা নস্যাৎ হবে, যাঁরা অসাধু উপায়ে পরীক্ষায় পাস করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর যে ভোগান্তি হলো, তার প্রতিকার কী। কর্তৃপক্ষের উচিত হবে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়া। এর আগে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি পেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়। সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন