বিজ্ঞাপন

এই যখন অবস্থা, তখন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্র মনোতোষ ত্রিপুরার মাথায় দারুণ একটা বুদ্ধি এল। আচ্ছা, গ্রামের সব তরুণ-তরুণী মিলে সবার ধান যদি কেটে দিই। তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে গ্রামবাসীকে প্রস্তাবটা দিলেন মনোতোষ। প্রস্তাবটা লুফে নিলেন মঙ্গলচানপাড়াবাসী। এমন একটা সমাধান তাঁদের মাথায় কেন আসেনি? ধান কাটা হয়ে যাবে, অথচ বাইরে থেকে লোকও পাড়ায় ঢুকবে না। প্রথমে কাজটা তরুণ-তরুণীরা শুরু করলেও পরে তাঁদের সঙ্গে গ্রামের সব বয়সী লোকজনই যোগ দেন। ৮-১০ জনের দলে ভাগ হয়ে পর্যায়ক্রমে সবারই ধান কেটে দেন তাঁরা। শুধু ধান কাটা নয়, মাড়াই করে ঘরেও তুলে দিয়েছেন তাঁরা। আর কাজটার জন্য টাকা তো দূরের কথা, নাশতার খরচটা পর্যন্ত নেননি তাঁরা।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলোর এই উদ্যোগ আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল, করোনার সংক্রমণ রোধে আমরা তথাকথিত অগ্রসর শহরবাসী, বিশেষ করে রাজধানীবাসী কতটা নিরুদ্যম। সম্মিলিতভাবে বিষয়টাকে আমরা কখনো গুরুত্বের সঙ্গেই নিইনি। নইলে মাস্ক পরার মতো অতি সহজ অথচ দারুণ কার্যকর একটি ব্যবস্থা পালনেও কেন আমাদের এত অনীহা? এই চরম অসচেতনতার পরও যে পার্শ্ববর্তী দেশের মতো করুণ অবস্থা আমাদের হয়নি, তার কারণ এই নয় যে আমরা খুব কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করছি বা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা খুব শক্তিশালী ও অক্সিজেন পর্যাপ্ত আছে। বরং এখন পর্যন্ত যে তেমনভাবে আমরা আক্রান্ত হইনি, তাতে আমাদের অবদান সামান্যই, বেশিটাই আসলে প্রকৃতির খামখেয়াল বা আমাদের অজ্ঞাত কোনো যোগ্যতা। এই রোগকে ঠেকানোর জন্য মঙ্গলচানপাড়ার মতো সচেতনতা ও উদ্যম যদি এখনো আমাদের মধ্যে না আসে, তাহলে তৃতীয় বা চতুর্থ ঢেউ থেকে কে আমাদের বাঁচাবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন