বিজ্ঞাপন

এ ঘোষণার পর হাতে নেওয়া হয় বিশেষ একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। সবচেয়ে বড় এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য কক্সবাজার থেকে সাত কিলোমিটার উত্তরে খুরুশকুলে অধিগ্রহণ করা হয় প্রায় ২৫৩ একর খাসজমি। ১৩৭টি পাঁচতলা ভবন উঠবে এ জমিতে, প্রতিটিতে থাকবে ৬৫০ বর্গফুটের ৩২টি ফ্ল্যাট। ২০ লাখ টাকা মূল্যমানের একেকটি ফ্ল্যাটের জন্য একটি উদ্বাস্তু পরিবারকে দিতে হবে মাত্র ১ হাজার ১ টাকা।

২০টি ভবনের কাজ এর মধ্যে শেষও হয়ে গেছে। ৬০০ পরিবারের আড়াই হাজার মানুষ ফ্ল্যাটে উঠেও গেছে। এঁরা কেউ জেলে, কেউ শুঁটকিশ্রমিক, রিকশা বা ভ্যানচালক, কেউ আবার ভিক্ষুক। ঝড়-বৃষ্টি-রোদে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুপড়িতে কাটত যাদের জীবন, তাদের মাথার ওপর এখন শক্ত ছাদ। গরমে মাথার ওপরে ঘোরে ফ্যান, শীতের কনকনে বাতাস ঠেকায় ইটের দেয়াল। জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তা হয়তো কাটেনি, এরপরও মাথা গোঁজার একটা স্থায়ী ঠিকানা তো হয়েছে।

বড় সমস্যা একটাই—পানি। প্রতিটি ফ্ল্যাটেই পানির লাইন আছে, কিন্তু অধিকাংশ সময়ই পানি থাকে না। তার ওপর এই পানি আবার লোনা, খাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে তাই গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করছে তারা। সকাল, বিকেল, রাত—প্রতি বেলাই পানি আনতে ছুটতে হচ্ছে দুই-তিন কিলোমিটার। তার মধ্যে বখাটের উৎপাতে সন্ধ্যার পর দূরের গ্রাম থেকে পানি আনাও মেয়েদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রকল্প এলাকায় সত্বর তাই অন্তত ১০টি নলকূপ স্থাপন জরুরি হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি পুরো প্রকল্প চালু হলে পানির চাহিদা কীভাবে মিটবে, এখনই সেটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবা উচিত। নইলে লোকজনকে ধরে রাখা কঠিন হবে, মাঠে মারা যাবে এত ব্যয়বহুল ও জনহিতকর একটা প্রকল্প। মনে রাখবেন, পানির অভাবে মোগল সম্রাট আকবরের ফতেহপুর সিক্রির মতো সুন্দর শহরও বিরান হয়ে গিয়েছিল।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন